ভাষাবিজ্ঞানীরা চীনা-তিব্বতি (Sino-Tibetan) পরিবারের ভাষাসমূহের বিস্তৃতি মধ্য এশিয়া থেকে দক্ষিণে মিয়ানমার (বার্মা) এবং বালিস্টান থেকে পিকিং (বেইজিং) পর্যন্ত পূর্ব গোলার্ধের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। এই পরিবারে প্রায় দুই থেকে তিনশ ভাষা রয়েছে। ভাষা পরিবারের নাম চীনা-তিব্বতি হলেও এই পরিবারের ভাষাগুলো তিব্বতি-বর্মি (Tibeto-Burman) নামে পরিচিত। ভারতবর্ষে এই ভাষা পরিবার দুটি ভাগে বিভক্ত। একটি চাইনিজ বা চীনা এবং অন্যটি তিব্বতি-বর্মি। তিব্বতি-বর্মি আবার দুইটি ভাগে বিভক্ত-একটি তিব্বতি- হিমালয়ান ও অপরটি আসাম-বার্মিজ। আসাম- বার্মিজ আবার কয়েকটি শাখায় বিভক্ত। যেমন বোড়ো, নাগা, কুকি-চীন, কাচিন, বার্মিজ ইত্যাদি।
ক. বোড়ো শাখা: বাংলাদেশে মান্দি বা গারো, কক্কোরক (ত্রিপুরা), প্রভৃতি ভাষাসমূহ এই শাখার অন্তর্ভুক্ত।
খ. কুকি-চীন শাখা: এই শাখার ভাষাগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে প্রচলিত আছে মেইতেই মণিপুরী, লুসাই, বম, খ্যাং, খুমি, ম্রো, পাংখো ইত্যাদি।
গ. সাক-লুইশ শাখা: বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার চাক ভাষা এবং বেদেদের ঠার বা ঠেট ভাষা এই শাখার অন্তর্ভুক্ত।
ঘ. তিব্বতী-বার্মিজ শাখা: বাংলাদেশের পার্বত্য জেলার মারমা এবং রাখাইন ভাষা এই শাখাভুক্ত। এই ভাষা অত্যন্ত প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ভাষা।
কাজ- ১ : পৃথিবীতে চীনা-তিব্বতি পরিবারের ভাষাসমূহের বিস্তৃতি কোন কোন অঞ্চলে? কাজ-২ : বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে চীনা-তিব্বতি ভাষা-পরিবারের সদস্য কারা? তাদের নাম লিখ। |
Read more