মান্দি নৃগোষ্ঠীর ওয়ানগালা উৎসব (পাঠ- ০৯)

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উৎসব - ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

293

'ওয়ানগালা' মান্দিদের প্রধান সামাজিক ও কৃষি উৎসব। মান্দিদের বিশ্বাস ফসলের ভাল ফলনের জন্য দেবতাদের আশীর্বাদ প্রয়োজন। দেব-দেবীর আশীর্বাদ ও ফসলের প্রতি তাদের সুদৃষ্টি না থাকলে যেমন আশানুরূপ ফসল পাওয়া যায় না তেমনি মানুষের শারীরিক অবস্থাও সবসময় ভাল থাকে না। তাই ওয়ানগালা দেব-দেবীদের সুদৃষ্টি কামনা এবং তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য পালিত প্রধান উৎসব। মিসি সালজং উর্বরতার দেবতা, রক্ষিমেমা ফসলের জননী, সুসিমে শস্য রক্ষাকারী ও ঐশ্বর্যের দেবী। তাই জীবন ধারণের জন্য এসব দেব-দেবীর আশীর্বাদ প্রয়োজন। অক্টোবর মাসের শেষে অথবা নভেম্বর মাসে ওয়ানগালা উৎসব পালিত হয়।

কোনো কোনো সময় এ উৎসব সপ্তাহকাল ধরে চলে। জুমখেতের সমস্ত ফসল তোলা হয়ে গেলে গারোরা গ্রামওয়ারী অথবা কোনো কোনো সময় কয়েকটি গ্রাম মিলে একসাথে এ উৎসব উদযাপন করে থাকে। শীতের আগমনের আগে মান্দি বর্ষ পঞ্জিকার সপ্তম (মতান্তরে দশম) মাস মেজাফাং (অক্টোবরের দ্বিতীয় থেকে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ) মাসে ওয়ানগালা উৎসব পালিত হয়ে থাকে। ওয়ানগালা শুরু ও শেষ করার সময় সম্পর্কে বলা হয়েছে, 'যখন বনের মেগং নামক পাহাড়ি ফুল ফুটতে শুরু করে তখনই ওয়ানগালা আয়োজনের সময় হয় এবং পূর্ণিমা চাঁদের আলো থাকতে থাকতেই ওয়ানগালা শেষ করতে হয়।' গ্রামে সকলের ফসল ঘরে তোলা হলে নকমা সকলকে ডেকে এনে ভোজে আপ্যায়ন করেন এবং ওয়ানগালার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তুতি শুরু করেন। ওয়ানগালা অনুষ্ঠান মূলত তিনটি পর্বে বিভক্ত। পর্বগুলো হলো- রুগালা, সা.সাৎ স.ওয়া এবং 'দামা গপাতা' বা 'জলওয়াৎতা' বা 'রুস্রতা'। রুগালা'র সারমর্ম হচ্ছে এই দিন রক্ষিমেমা ও রংদিক মিৎদিকে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে উপাসনা করা হয়। এরপর নকমার ঘরের মাঝখানে দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে রক্ষিত নতুন শস্য, শাক-সবজি, কৃষি সরঞ্জাম ও বাদ্যযন্ত্রগুলোর ওপর 'রুগালা' (অল্প পানীয় ঢেলে উৎসর্গ করা) করে দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে গ্রামের সবার বাড়িতে এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। দ্বিতীয় দিন হয় 'সা.সাৎ স.ওয়া' (ধুপারতি উৎসর্গ)। মিসি সালজং-এর উদ্দেশ্যে এই নৈবেদ্য উৎসর্গ করা হয়। তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠান হলো 'দামা গগাতা' বা 'জলওয়াত্তা' বা 'রুস্রতা'। এই অনুষ্ঠান শেষে ওয়ানগালা উৎসবে ব্যবহৃত দামা, গ্রাম, কাল, রং প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্রগুলো নকমার বাড়িতে এনে জমা দেওয়া হয়। তারপর নকমা সমবেত জনতার সামনে সালজং, মিৎদে ও রক্ষিমেমার উদ্দেশ্যে শেষবারের মতো মদিরা ও ধূপ উৎসর্গ করেন এবং প্রার্থনা শেষে তাদের বিদায় জানান। এর মধ্য দিয়েই ওয়ানগালা উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

কাজ- ১ : মান্দি জনগোষ্ঠীর ওয়ানগালা উৎসবের বিভিন্ন পর্বের নাম লিপিবদ্ধ কর।

কাজ-২ : মান্দি সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন দেব-দেবীর নামের একটি তালিকা তৈরি কর।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...