মারমা ও রাখাইন নৃগোষ্ঠীর সাংগ্রাই উৎসব (পাঠ- ০৩)

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উৎসব - ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

736

মারমা ও রাখাইন সমাজের প্রধান সামাজিক উৎসব হলো সাংগ্রাই (বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায়)। চৈত্র মাসের শেষ দু'দিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন (সাধারণত এপ্রিল মাসের ১৩ বা ১৪ তারিখ) এই উৎসব পালিত হয়। মারমা ও রাখাইন সমাজে এই উৎসবের ধর্মীয় গুরুত্বও কম নয়। সাংগ্রাই-এর প্রথম দিনে তরুণ- তরুণীরা সবাই মিলে এলাকার বৌদ্ধ মন্দিরগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে তোলে। সমাজের ছোট বড় সবাই মিলে বৌদ্ধ মন্দিরে যায় এবং তারা প্রদীপ জ্বালিয়ে জগতের সকল প্রাণীর মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করে। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য পরম ভক্তি ও যত্নের সাথে সকাল ও দুপুরের ছোয়াইং (খাবার) দান করা হয়। এছাড়া মন্দিরের বুদ্ধমূর্তিগুলোকে শোভাযাত্রা সহকারে নদীতীরে নিয়ে গিয়ে স্নান করানো হয়। এ সময় লোকজন চন্দনের জল ও ডাবের পানি সাথে করে নিয়ে যায়। বুদ্ধমূর্তিগুলোকে বাঁশের তৈরি সুসজ্জিত একটি মঞ্চে রাখা হয়। এরপর ভক্তরা চন্দন ও ডাবের পানি বুদ্ধমূর্তিগুলোর উপর ঢেলে দেয়। ঢেলে দেওয়া এসব পানি লোকজন সংরক্ষণ করে রাখে। এই পানি খেলে রোগ-ব্যাধির নিরাময় ঘটে বলে তাদের বিশ্বাস। স্নানের পর বুদ্ধমূর্তিগুলোকে নতুন চীবর পরিয়ে দিয়ে শোভাযাত্রা সহকারে পুনরায় মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়। প্রার্থনার সময় সাধারণত যেসব প্রদীপ জ্বালানো হয় তার বাইরেও অনেকে ঐদিন হাজার বাতি জ্বালিয়ে থাকে। এর পরবর্তী দুই দিনও মহাসমারোহে সাংগ্রাই উৎসবটি পালিত হয়। এই দিনগুলোতে ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন প্রকারের পিঠাসহ বিশেষ উপাদেয় খাবার তৈরির ধুম পড়ে যায়।

বয়োজ্যেষ্ঠদেরকে পূজার মধ্য দিয়ে সমাজের প্রবীণ ব্যক্তিদের সম্মান জানানো হয়। মৈত্রী পানি বর্ষণ সাংগ্রাই উৎসবের একটি বিশেষ অনুষ্ঠান। এজন্য বড় কোনো মাঠে একটি মন্ডপ বানানো হয়। মন্ডপের দুই দিকে দুটি বড় পানিভর্তি নৌকা রাখা হয়। তরুণ ও তরুণীদের আলাদা দু'টি দল দুই নৌকার পাশে অবস্থান নেয়। এরপর তারা পরস্পরের দিকে নৌকায় রাখা পানি ক্রমাগত ছুড়তে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না পানিটা ফুরিয়ে যায়। খালি নৌকাটি পুনরায় পানি দিয়ে ভরানো হয়। একটা দল খেলা শেষ করলে নতুন আরেকটা দল এসে খেলা শুরু করে। ঐতিহ্যবাহী এই জলকেলি ছাড়াও সাংগ্রাই উপলক্ষে মারমা ও রাখাইন সমাজে একসময় নৌকাবাইচ, বলীখেলা প্রভৃতি প্রচলিত ছিল।

কাজ- ১ : মারমা ও ত্রিপুরা নৃগোষ্ঠীর চৈত্র সংক্রান্তি বা বৈসাবি উৎসব পালনের মধ্যে যেসব মিল ও অমিল রয়েছে সেগুলো খুঁজে বের কর এবং নীচের টেবিলে সাজাও।

ত্রিপুরা নৃগোষ্ঠীর চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব - বৈসু

মারমা নৃগোষ্ঠীর চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব-সাংগ্রাই

মিল

অমিল

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...