উৎপত্তির দিক থেকে বিচার করলে অনেক ভাষাই একে অপরের সাথে সংযুক্ত। বিভিন্ন ভাষার মানুষের মধ্যে প্রচুর আদানপ্রদানও দেখা যায়। তারপরও প্রতিটি ভাষা ভাব প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে অনন্য ও অতুলনীয়। যে কোনো মানুষের পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো তার মাতৃভাষা। শুধুমাত্র সৃজনশীলতা ও ভাবপ্রকাশের জন্যই ভাষা অপরিহার্য তা নয়, প্রতিটি ভাষাই সাংস্কৃতিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে ধারণ করে। ভাষাগত আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বৈচিত্র্যে আমরা সবাই সমৃদ্ধ হতে পারি।
বাংলাদেশের নৃগোষ্ঠীরা প্রধানত চারটি ভিন্ন ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, যথা: (১) ইন্দো-ইউরোপীয়, (২) তিব্বতি-বর্মি, (৩) অস্ট্রো-এশিয়াটিক এবং (৪) দ্রাবিড় ভাষাগোষ্ঠী। এ অঞ্চলের সবচেয়ে পুরনো ভাষা হল অস্ট্রো-এশিয়াটিক পরিবারের অন্তর্ভুক্ত মুন্ডারি শাখার ভাষাসমূহ। বর্তমানে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমে বসবাসকারী সাঁওতাল, হো, মুন্ডা, মাহলে এবং সিলেটের খাসি নৃগোষ্ঠীর মানুষ এই অস্ট্রো-এশিয়াটিক পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ভাষায় কথা বলে। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমে দিনাজপুর, রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, রংপুর এলাকায় তাই অস্ট্রো-এশিয়াটিক ভাষাগোষ্ঠীর সাঁওতালি ও মুন্ডা ভাষার ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়। উত্তর-পশ্চিমের ওরাঁও এবং পাহাড়িয়া নৃগোষ্ঠীর কুঁডুখ ভাষা মূলত দ্রাবিড় পরিবারভুক্ত। তিব্বতি-বর্মি ভাষাগোষ্ঠীর লোকেরা আসে প্রায় ছয় থেকে আট হাজার বছর আগে। বাংলাদেশের উত্তরের মান্দি (গারো), সিলেটের মেইতেই মণিপুরী ও পাঙ্গান মণিপুরী, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর যেমন মারমা, ত্রিপুরা, খুমি, বম্, ম্রো প্রভৃতি নৃগোষ্ঠীর ভাষা তিব্বতি-বর্মি ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ইন্দো- ইউরোপীয় পরিবারের আর্য জনগোষ্ঠীর আগমন প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে। এই পরিবারের অন্তর্গত বাংলা ভাষা-ভাষী লোকেরা বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই বসবাস করে। তবে বাঙালি ছাড়াও চাকমা, সিলেটের বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী এবং উত্তরবঙ্গের সাদরি ভাষাগোষ্ঠীর লোকেরা ইন্দো-ইউরোপীয় পরিবারভুক্ত।

| কাজ- ১ : বাংলাদেশের একটা মানচিত্র আঁক। তারপর সেই মানচিত্রে ভিন্ন ভিন্ন রং ব্যবহার করে বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীর বসতি চিহ্নিত কর। |
Read more