বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মানচিত্র (পাঠ- ০৩)

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিচিতি - ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

616

বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলেই কয়েকটি নৃগোষ্ঠীর মানুষদের একসাথে বসবাস করতে দেখা যায়। সকল নৃগোষ্ঠীর বসবাসের অঞ্চলগুলো বাংলাদেশের মানচিত্রে চিহ্নিত করে আমরা এ বৈচিত্র্য দেখতে পারি। এভাবে আমরা বাংলাদেশের একটা সাংস্কৃতিক মানচিত্র অংকন করতে পারি। শুধু তাই নয়, সাংস্কৃতিক মানচিত্রে আমরা বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী সম্পর্কে নানা তথ্যও উপস্থাপন করতে পারি। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণের জন্য এ ধরনের মানচিত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।

সাংস্কৃতিক মানচিত্রে দেশের বিভিন্ন জায়গার ভৌগোলিক সীমারেখার সাথে সাংস্কৃতিক তথ্যের সরাসরি সংযোগ ঘটানো যায়। বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মাঝে কারা পরস্পরের কাছাকাছি বা প্রতিবেশী ও কারা পরস্পরের দূরবর্তী তা শনাক্ত করতে সাহায্য করবে এ মানচিত্র। একই সাথে আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে নৃগোষ্ঠীগত তুলনা করতে পারব। তাই সাংস্কৃতিক মানচিত্রের মাধ্যমে আমরা যেমন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও স্থানসমূহ চিনতে পারব, তেমনিভাবে দেশের মানুষ ও সংস্কৃতিকে জানতে পারব।
বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও রাজশাহী অঞ্চলে সাঁওতাল, ওরাঁও, মাহলে, রাজোয়াড়, গরাত, তুড়ি, রাজবংশী, মুণ্ডাসহ আরও অনেক নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে। আবার খুলনা বিভাগে মুণ্ডা ছাড়াও বুনো ও বাগদি নৃগোষ্ঠীর মানুষ দেখা যায়। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলা তিনটিতে অনেকগুলো ভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে, যেমন: ম্রো, খ্যাং, লুসাই, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, খুমি, তঞ্চঙ্গ্যা, চাক, পাচ্ছো এবং বম্ প্রভৃতি। মান্দি বা গারো নৃগোষ্ঠীর লোকদের বসতি বাংলাদেশের নানা জায়গায় ছড়িয়ে আছে। তবে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, গাজীপুরে মান্দি বা গারোদের দেখা পাওয়া যায় বেশি। ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুরে আরও যে নৃগোষ্ঠীগুলোর বসতি দেখা যায় তারা হলো- হাজং, কোচ, ডালু, রাজবংশী প্রভৃতি। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে সিলেটের জৈন্তা পাহাড়ে খাসি নৃগোষ্ঠীর বসতি রয়েছে। এছাড়াও সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ এলাকায় বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী, মেইতেই মণিপুরী এবং পাঙ্গান মণিপুরীদের বসবাস। পটুয়াখালী, বরগুনা ও কক্সবাজার জেলায় রয়েছে রাখাইন নৃগোষ্ঠীর বাস।

বাংলাদেশের মানচিত্রে বিভিন্ন অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বিবরণ সুনির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে তোমরা নিজেরাই সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ম্যাপ তৈরি করতে পার। অর্থাৎ, বাংলাদেশের যেকোনো একটি নির্দিষ্ট থানা, উপজেলা বা জেলার চৌহদ্দি মানচিত্রে চিহ্নিত করার পর সেখানে দেখানো যায় কোন্ কোন্ নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে। মানচিত্রে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর উপস্থিতি বোঝানোর জন্য তোমরা বিভিন্ন ধরনের চিহ্ন, রং বা সঙ্কেতের ব্যবহার করতে পার। এ প্রক্রিয়ায় একটি উপজেলা থেকে শুরু করে একটি জেলা বা বিভাগ হয়ে পুরো বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য মানচিত্রে ধারণ করা যায়। মানচিত্রে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর উপস্থিতি ও অবস্থানকে আলাদা রঙে সাজানো হলে তোমরা একটি ঝলমলে রঙিন বাংলাদেশ পাবে। তোমরা দেখতে পাবে আমাদের দেশ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে কতটাই রঙিন ও সমৃদ্ধ। শুধু মানচিত্রেই নয়, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আমাদের জীবনেও আনে রঙের ছোঁয়া। বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সাথে আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে আমরা সবাই সমৃদ্ধ হতে পারি। সকল সংস্কৃতির ঐক্য আর সম্প্রীতির ভিত্তিতে আমরা ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে আরও রঙিন ও সুন্দর করে তুলতে পারব।

কাজ- ১ ঃ সাংস্কৃতিক মানচিত্র কী? সাংস্কৃতিক মানচিত্রের প্রয়োজনীয়তা কী?

কাজ-২ ঃ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মানচিত্র অঙ্কন কর।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...