বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ভাষা ও ভাষা পরিবার (পাঠ-০১)

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা পরিচয় - ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

428

ভাষা মানুষের এক অনন্য সাংস্কৃতিক অর্জন। ভাষার মাধ্যমে মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করে। তবে আদিকালে মানুষ আমাদের মতো এত সুন্দর করে ভাষার ব্যবহার শেখেনি। তারা তখন ইঙ্গিত বা ইশারার মাধ্যমে তাদের মনের কথা বা ভাব প্রকাশ করত। আসলে এভাবেই একসময় মুখ থেকে উচ্চারিত ধ্বনিগুলোকে অর্থপূর্ণভাবে সাজিয়ে ভাষার সৃষ্টি হয়। ভাষার এই সৃষ্টি কিন্তু একদিনে হয়নি। হাজার হাজার বছরের পরিবর্তন এবং মানব সভ্যতার বিকাশের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ভাষার।
ভাষা উৎপত্তির সময়কাল থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলের ও সংস্কৃতির মানুষ বিচিত্র ধরনের ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করেছে। ভাষার এই ভিন্নতাই ভাষাবিজ্ঞানীদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন 'ভাষা পরিবার' ধারণার জন্ম দিয়েছে। বর্তমান পৃথিবীর জীবিত ও মৃত অসংখ্য ভাষার মধ্যে কোনো কোনোটির সঙ্গে অন্যগুলোর মিল দেখা যায়। আবার বিপরীত চিত্রও রয়েছে।
বর্তমান পৃথিবীতে কতগুলো ভাষা প্রচলিত রয়েছে তা সঠিকভাবে নির্ণয় করা এখনও সম্ভব হয়নি। তবে ভাষাবিজ্ঞানীগণ মনে করেন বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় ছয় হাজার ভাষা প্রচলিত রয়েছে। পৃথিবীতে প্রচলিত প্রধান ভাষাগুলোর একটি সম্পর্ক লক্ষ্য করে ভাষাবিজ্ঞানীরা এদেরকে পরিবারভুক্ত করেছেন। এই ধারায় বাংলা, চাকমা, ইংরেজি, হিন্দি, ফারসি, ফরাসি, নেপালি ইত্যাদি ভাষাগুলো হচ্ছে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা বংশের অন্তর্ভুক্ত। দক্ষিণ ভারতের তামিল, তেলেগু, মালয়ালাম, কন্নড় এমনকি সিংহলিও দ্রাবিড় ভাষা বংশের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের খাসি, মুন্ডা, সাঁওতালির মতো ফিলিপাইন, মালয়, নিউজিল্যান্ড, হাওয়াই ফিজি প্রভৃতি দেশে প্রচলিত রয়েছে অন্ত্রিক ভাষা বংশের শাখা। আমাদের দেশের মারমা, মান্দি, ত্রিপুরা, চাক, খুমি, পাংখো প্রভৃতি; চীন, থাইল্যান্ড, মায়ানমার এবং তিব্বত অঞ্চলের ভাষাসমূহ হচ্ছে তিব্বতি-বার্মা গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।

বাংলাদেশে বিভিন্ন ভাষা-পরিবার ও পরিবারের ভাষাসমূহ

ভাষা-পরিবার

শাখা

নৃগোষ্ঠীসমূহ

১. অস্ট্রো-এশিয়াটিক

মোন-খমের

খাসি।

মুন্ডারি

সাঁওতাল, মুন্ডা ইত্যাদি।

২. চীনা-তিব্বতি

বোড়ো

মান্দি (গারো), ককবরক, কোচ, পলিয়া, রাজবংশী ইত্যাদি।

কুকি-চীন

মেইতেই, খুমি, বম, খেয়াং, পাংখো, লুসাই, ম্রো ইত্যাদি।

সাক্-লুইশ

চাক, ঠার বা থেক।

তিব্বতি-বার্মিজ

মারমা, রাখাইন ইত্যাদি।

৩. দ্রাবিড়

কুঁড়ুখ ও আদি মালতো (বর্তমানে প্রায় লুপ্ত)।

৪. ইন্দো-ইউরোপীয়

বাংলা, চাকমা (তঞ্চঙ্গ্যা), বিষ্ণুপ্রিয়া, সাদরি, হাজং ইত্যাদি।

কাজ- ১ : বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা-পরিবারের তালিকা তৈরি কর।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...