পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি মানুষের মাতৃভাষা হলো ইন্দো-ইউরোপীয় পরিবারভুক্ত। বাংলাদেশে ইন্দো- ইউরোপীয় ভাষা পরিবারভুক্ত ভাষার মধ্যে বাংলা উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশে চাকমা ভাষা এবং ওরাঁওদের ব্যবহৃত সাদরি ভাষা এই পরিবারভুক্ত ভাষা। এছাড়া বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরিদের ভাষা এই পরিবারের ভাষা। অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর মধ্যে তঞ্চঙ্গ্যা ও রাজবংশী ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিরারের অন্তর্গত। ধারণা করা হয় আর্যরা ভারতবর্ষে এই ভাষার প্রবর্তন করেছিল।
প্রায় ৫০০০ বছর আগে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ ভারতবর্ষে এসেছিল। তাদের আগমনের সাথে সাথে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার প্রচলন হয়। ঋগ্বেদ এই ভাষার প্রাচীনতম লিখিত নিদর্শন। ঋগ্বেদের ভাষা তথা বৈদিক ভাষা পরবর্তীকালে সংস্কৃত ভাষায় রূপান্তরিত হয়।
আর এরই আর একটি রূপ কালক্রমে লোকমুখে বিকৃত হতে হতে প্রাকৃত ভাষার রূপ নেয়। লোকমুখে প্রচলিত এই ভাষার নানারূপ পরিবর্তন হতে থাকে এবং তা বিভিন্ন ভাষার সংস্পর্শে আসে। এই প্রাকৃত ভাষা থেকেই অপভ্রংশ হয়ে নব্য ভারতীয় ভাষাসমূহের সৃষ্টি হয়। এভাবে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ইন্দো- ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের নানা ভাষার প্রচলন হয়।
ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত বাংলা ভাষা বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত ভাষা। ৮০০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ সময়কালে বাংলা ভাষার উৎপত্তি। মাগধী-প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষা ক্রমে উদ্ভুত হয়েছিল। চর্যাপদ একটি বৌদ্ধ ধর্মীয় পদাবলির সংকলন যা অষ্টম থেকে ১২শ শতকের মধ্যে রচিত হয়েছিল। এই চর্যাপদ বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন। সেই সময়কার বাংলা ভাষা এরপর বহু পরিবর্তন ও বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন সময় ও স্থানভেদে ভাষা বিভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করে। আর তাই ভাষাকে বহমান নদীর সাথে তুলনা করা হয়।
| কাজ-১ : বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের তালিকা তৈরি করা । |
Read more