সিলেটের জৈন্তাপুর অঞ্চলে খাসি রাজাদের রাজ্য ছিল। সিলেট বিভাগীয় শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে জৈন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে জৈন্তাপুর অবস্থিত। এর উত্তর ও পূর্ব পার্শ্বে রয়েছে বেশ কয়েকটি উঁচু-নীচু পাহাড়ের সারি এবং উপত্যকা, দক্ষিণ ও পশ্চিম পার্শ্বে আছে অসংখ্য হাওর বাঁওড়ে পরিপূর্ণ সমতল ভূমি। এখানে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে আছে জৈন্তিয়া রাজাদের প্রাচীন রাজপ্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ। এসব ধ্বংসাবশেষের মধ্যে রয়েছে রাজার রাজদরবার, পাথরের তৈরি বিশাল বেদী, জৈন্তেশ্বরী মন্দির, সমাধিক্ষেত্র, স্মৃতিফলক আর প্রাচীন পাথরখন্ড দিয়ে তৈরি বাড়িঘরের বড় বড় স্তম্ভ। খ্রিস্টীয় ১৬৮০ সালে জৈন্তিয়া রাজা লক্ষ্মী সিংহ দ্বারা নির্মিত রাজপ্রাসাদটি বর্তমানে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলা যায়।

খাসিদের জৈন্তাপুর রাজ্যের প্রাচীন নিদর্শন বৃহত্তর
সিলেটের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে পাওয়া গেছে।
এসব নিদর্শনের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য অংশগুলো হলো রাজদরবার, স্মৃতিসৌধ, মন্দির, পাথরে উৎকীর্ণ ঘোষণাপত্র, বিভিন্ন নক্শা যেমন ত্রিশুল, পদ্মফুল, ধর্মচক্র, বাসগৃহ প্রভৃতি। অস্ট্রো-এশিয়াটিক জনধারার খাসি জনগোষ্ঠীর সিলেট অঞ্চলে আগমন ঘটে নব্য প্রস্তর যুগের শেষদিকে। বর্তমান ভারতের খাসিয়া পাহাড়ে খ্রিস্টপূর্ব তের শতকের প্রত্ননিদর্শন পাওয়া গেছে। সেই হিসেবে বাংলাদেশের জৈন্তাপুরে আবিষ্কৃত খাসি প্রত্ননিদর্শনগুলোরও যোগসূত্র আছে বলে অনুমান করা যায়।
| কাজ- ১ : জৈন্তাপুর কেন বিখ্যাত বিস্তারিত তুলে ধরো। |
Read more