দ্রাবিড় ভাষা পরিবার (পাঠ-০৫)

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা পরিচয় - ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

377

আর্যদের আগমনের বহু পূর্বেই এই দ্রাবিড় ভাষাসমূহ সমগ্র ভারতবর্ষে প্রচলিত ছিল। বাংলাদেশে দ্রাবিড় ভাষা পরিবারের ভাষাসমূহের মধ্যে কুঁডুখ উল্লেখযোগ্য। যদিও পাহাড়িয়া, মালতো প্রভৃতি নৃগোষ্ঠীর মধ্যে একসময়ে দ্রাবিড় ভাষা প্রচলিত ছিল, বর্তমানে তা লুপ্ত এবং তারা সাদরি ভাষা ব্যবহার করে।
কুঁডুখ ভাষা: বাংলাদেশে উত্তরবঙ্গের প্রায় সবকটি জেলাতেই একসময় ওরাঁও বা কুঁডুখ ভাষা-ভাষীদের বসবাস থাকলেও বর্তমানে শুধুমাত্র রংপুর ও দিনাজপুর জেলাতে কুঁডুখ-ভাষী ওরাঁওগণ বাস করে। এছাড়াও সিলেটের চা বাগানে অল্প কিছু ওরাঁও বাস করে। বর্তমানে বাংলাদেশে এদের মোট সংখ্যা প্রায় ২৫,০০০।
কুঁডুখ ভাষাটি আদি ও কথ্য ভাষা। এই ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই। বাংলাদেশের আদিবাসীদের মধ্যে বর্তমানে একমাত্র ওরাঁওরাই দ্রাবিড়ীয় ভাষা বংশের সদস্য।
পাহাড়িয়া ভাষা: বাংলাদেশের রাজশাহী, জয়পুরহাট, দিনাজপুর জেলায় প্রায় ৮০০০ পাহাড়িয়া নৃগোষ্ঠীর লোক বাস করে। পাহাড়িয়া নৃগোষ্ঠীর দুটি শাখা রয়েছে। এদের একটি শাওরিয়া পাহাড়িয়া এবং অন্যটি মাল/ মাড় পাহাড়িয়া। বাংলাদেশে মাল পাহাড়িয়াদের সংখ্যা কম। এদের ভাষাকে মালতো বলা হলেও আসলে মিশ্র ভাষা এবং দীর্ঘদিন বাঙালিদের পাশাপাশি বসবাসের ফলে মূল ভাষা হারিয়ে গেছে।
মাহলে ভাষা: উত্তরবঙ্গের মাহলে নৃগোষ্ঠীর ভাষার নাম মাহলে ভাষা। এদের ভাষার মূল রূপটি বর্তমানে বিলুপ্ত হয়েছে যা দ্রাবিড় ভাষা-পরিবারভুক্ত ছিল। বর্তমানে এদের কথ্য ভাষায় মূল মাহলে ভাষার শুধু কিছু কিছু শব্দাবলির প্রচলন লক্ষ্য করা যায়। যেমন- দাঃক্ (পানি), ইর (ধান), দাকা (ভাত), ডাংরা (গরু, বলদ) ইত্যাদি।

কাজ- ১ : দ্রাবিড় পরিবারের ভাষাসমূহের বিস্তৃতির অঞ্চলসমূহের নাম লিখ।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...