বিবাহ-পরবর্তী বাসস্থানের ধরন (পাঠ-০৮)

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজ জীবন - ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

253

সংস্কৃতিভেদে বিবাহ-পরবর্তী বসবাসের ধরনেরও ভিন্নতা দেখা যায়। যেমন, মান্দি ও খাসি সমাজে বিবাহের পর বর কনের বাড়িতে বসবাস করে। কিন্তু চাকমা বা সাঁওতাল সমাজে বরের বাড়িতে কনে বসবাস করে। সুতরাং আমরা দেখতে পাই, বিবাহের পরে স্বামী-স্ত্রীর বসবাসের ধরন বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছে:

বাসস্থানের নাম

বসবাসের ধরন

নৃগোষ্ঠীর উদাহরণ

পিতৃ নিবাস

বিবাহের পরে স্ত্রী স্বামীর বাড়িতে বসবাস করে।

বাঙালি, চাকমা, মারমাসহ বাংলাদেশের অধিকাংশ নৃগোষ্ঠীর মাঝে এ ব্যবস্থা বিদ্যমান।

মাতৃ নিবাস

বিবাহের পরে একজন স্বামী তার স্ত্রীর বাড়িতে বসবাস করে এবং সেখানেই পরিবার গড়ে তুলে।

মান্দি ও খাসি।

দ্বৈত নিবাস

বিবাহের পরে স্ত্রীর অথবা স্বামীর পিতা-মাতার বাড়ির নিকট নবদম্পতি বসবাস করে।

হোপি (আমেরিকান ইন্ডিয়ান একটি নৃগোষ্ঠী)।

নয়া নিবাস

বিবাহের পরে নবদম্পতি তাদের আত্মীয়-স্বজন হতে আলাদা নিজেদের বাড়িতে বসবাস করে।

আধুনিক ও শিল্পোন্নত সমাজে দেখা যায়।

মাতুলীয় নিবাস

বিবাহের পরে নবদম্পতি বরের মামার সাথে বসবাস করে।

ট্রব্রিয়ান্ড সমাজে (প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে)।

বিবাহ-পরবর্তী বাসস্থানের ধরন প্রত্যেকটি সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিবাহ-পরবর্তী বাসস্থান যদি পিতৃ নিবাসীয় হয়, তাহলে বিবাহিত ছেলে তার বাবা-চাচার বংশের আত্মীয়দের সাথে অর্থনৈতিক কাজ যেমন চাষাবাদের কাজ করে। কিন্তু মাতৃ নিবাস হলে বিবাহিত ছেলে তার স্ত্রীর বংশের আত্মীয়দের সাথে চাষাবাদের কাজ করে। বিবাহ-পরবর্তী বাসস্থানের নিয়মের দ্বারা সন্তানেরা কোন ধরনের আত্মীয়দের সাথে ঘনিষ্ঠ হবে এবং কী সামাজিক দায়িত্ব পালন করবে তার অনেকটা নির্ধারিত হয়ে থাকে।

কাজ- ১ : বিবাহ-পরবর্তী বাসস্থান বলতে কী বোঝায়?

কাজ-২ : বিবাহ-পরবর্তী বসবাসের ধরনগুলো কী? তোমার সমাজে বিবাহ পরবর্তী বাসস্থান কী ধরনের হয়ে থাকে?

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...