বিভিন্ন ধরনের বিবাহব্যবস্থা (পাঠ- ০৬)

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজ জীবন - ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

291

মানব সমাজে বিবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রতিষ্ঠান। বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠিত হয়। পরিবারে শিশুরা প্রতিপালিত হয় এবং সমাজ টিকে থাকে। বিভিন্ন সমাজ তার নিজস্ব আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করে থাকে। আমাদের নিজ নিজ সমাজে বিবাহ প্রথার যে ধরন আমরা দেখতে পাই, তা সর্বত্র একইভাবে প্রচলিত ভাবার কোনো কারণ নেই। কেননা, সংস্কৃতিভেদে বিবাহের ধরন ও প্রক্রিয়া নানা ধরনের হতে পারে।
বিয়ে হচ্ছে সন্তান জন্মদান ও লালন-পালনের জন্য নারী ও পুরুষের মাঝে এক ধরনের সামাজিক বন্ধন। ধরনে ভিন্নতা থাকলেও সকল সমাজেই বিবাহরীতি বিদ্যমান। বিয়ের বন্ধনের মধ্য দিয়ে একটি পরিবার সুচিত হয়। সেই পরিবারের সকল কাজ সদস্যরা ভাগ করে নেয়। আবার বিয়ের ফলে বর ও কনের পরিবারগুলোর মাধ্যমে দুটি বংশের সম্পর্ক স্থাপিত হয়। বিয়ের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন পরিবার, বংশ, গোত্র ও অন্যান্য আত্মীয়তার দলগুলোর মধ্যে সম্প্রীতি এবং বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এভাবে অনেক সময় সমাজের বিভিন্ন দ্বন্দ্ব, বিরোধ বা সংঘাতের অবসান ঘটে। তাই মানুষের সাথে মানুষের বন্ধন দৃঢ় করতে ও মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে বিয়ের গুরুত্ব আমাদের সমাজ জীবনে অপরিসীম।

বিবাহের প্রকারভেদ: সমাজভেদে বিভিন্ন ধরনের বিবাহের প্রচলন থাকলেও এখানে আমরা গুরুত্বপূর্ণ দুটি দিক থেকে বিবাহের ধরন নিয়ে আলোচনা করব। বিবাহের বর ও কনে নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমাজে সবচেয়ে প্রচলিত দুটি নিয়ম হলো: (১) বর ও কনের সামাজিক দলের পরিচিতি এবং (২) স্বামী ও স্ত্রীর সংখ্যা।

(১) সামাজিক দলভিত্তিক বিবাহ :
দলের ভিতরে বিবাহ: এ ধরনের বিবাহব্যবস্থায় বর ও কনে নির্বাচন একই সামাজিক দলের মধ্যে হয়ে থাকে। অর্থাৎ একটি বৃহৎ সামাজিক দলের সদস্যরা নিজেদের মাঝে বিয়ে করে। এ প্রথাকে অন্তঃবিবাহও বলা হয়। দলের বাইরে বিবাহ: একই নৃগোষ্ঠীর অন্তর্গত ছোট ছোট সামাজিক দলগুলো সাধারণত নিজ দলের বাইরে বিয়ে করে। অর্থাৎ, যেকোনো দুটি ছোট সামাজিক দলের মধ্য থেকে বর ও কনে নির্বাচন করা হয়। এ ধরনের বিয়েতে বর-কনে ও তাদের দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সামাজিক বিধিনিষেধ মেনে চলা হয়। নিজের দলের বাইরে বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় বলে এ ধরনের বিয়েকে বহিঃর্বিবাহ বলা হয়। যেমন, প্রায় সব সমাজেই একই পরিবারের সদস্যদের মাঝে বিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সুতরাং বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় দুটি পরিবার কিংবা দুটি বংশের সদস্যদের মাঝে।

(২) স্বামী ও স্ত্রীর সংখ্যাভিত্তিক বিবাহ:
এক বিবাহ: একজন মহিলা এবং একজন পুরুষের মধ্যে যে বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় তাকে বলা হয় এক বিবাহ। বর্তমান সময়ের পৃথিবীতে এ ধরনের বিয়ের প্রচলন সবচেয়ে বেশি।
বহু বিবাহ: এ ধরনের বিবাহব্যবস্থায় একজন পুরুষ একাধিক মহিলাকে অথবা একজন মহিলা একাধিক পুরুষকে বিয়ে করে। এ ধরনের সমাজে একাধিক স্বামী বা স্ত্রী নিয়ে পরিবার গঠিত হয়। যেমন, মুসলিম সমাজে একজন পুরুষ একাধিক মহিলাকে বিয়ে করতে দেখা যায়। আবার নেপাল ও তিব্বতের কিছু নৃগোষ্ঠীর সমাজে একজন মহিলার একাধিক স্বামী থাকে। এসব সমাজে পরিবারের সব ক'জন ভাইয়ের সাথে একজন মহিলার বিয়ে হতে পারে।

কাজ- ১ : আমাদের সমাজ জীবনে বিয়ে কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কাজ-২ : বিয়ের প্রকারভেদে কী ধরনের ভিন্নতা দেখা যায়? তোমার সমাজে কী ধরনের বিয়ে দেখা যায়?

Content added || updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...