প্রত্যেক সংস্কৃতিই অনন্য ও আলাদা। তথাপি বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে আমরা কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই। এই সকল বৈশিষ্ট্য জানার মাধ্যমেই কেবল আমরা সংস্কৃতি সম্বন্ধে পরিষ্কার ধারণা লাভ করতে পারি। এখানে সংস্কৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করা হলো:
১. সংস্কৃতি শিখতে হয়: মানুষ সংস্কৃতি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে না। বরং সে জন্মের পর থেকে নিজের
সংস্কৃতি বিষয়ে ক্রমাগত শিক্ষালাভ করে। মায়ের হাত ধরেই একটি শিশু সংস্কৃতির প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ শুরু করে। এরপর তার আশপাশের সব কিছু থেকে তার নিজস্ব সংস্কৃতি সম্পর্কে জানে। ধীরে ধীরে সেই শিশু কথা বলতে শেখে তার মাতৃভাষায়। শিশুটি তার নিজ পরিবারের সদস্যদের অনুসরণ ও অনুকরণ করার মাধ্যমেই তার পূর্বপুরুষের সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হয়। ধারাবাহিকভাবে এই শিক্ষা গ্রহণ চলতে থাকে আত্মীয়স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশী, স্কুলকলেজ ও সমাজের অন্যদের কাছ থেকে।
২. সংস্কৃতি আমাদের সবার একই সংস্কৃতির সদস্যরা সবাই এর অংশীদার। সংস্কৃতি মানুষ একা অর্জন
করতে পারে না। একই সংস্কৃতির সদস্যদের মাঝে বিনিময় ও আদানপ্রদানের মধ্য দিয়ে সেই সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, অর্থবহ হয় ও পূর্ণতা পায়। যেমন, বাংলা ভাষার জ্ঞান বাঙালি সংস্কৃতির সবার মাঝেই ছড়ানো আছে। বিশেষক্ষেত্র ব্যতিত একজন ভিনদেশি মানুষ বাংলা কথা বুঝতে পারবে না এবং বাংলা লেখাও পড়তে পারবে না। আবার আমাদের দেশেই বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর আলাদা মাতৃভাষা আছে। এক নৃগোষ্ঠীর মানুষ অন্য নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা অনেক সময়ই বুঝতে বা বলতে পারে না। যেমন, একজন বাঙালি সাঁওতালী ভাষা বুঝতে বা বলতে পারে না।
৩. সংস্কৃতি প্রবাহিত হয়: সংস্কৃতির উপাদানগুলো প্রধানত ভাষা, আচরণ, বিশ্বাস, ধর্ম প্রভৃতি এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে প্রবাহিত হয় আদান-প্রদানের মাধ্যমে। বাবা-মা তাদের সন্তানদের সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় শেখায় এবং তারাও তাদের সন্তানদের শেখায়। আর এভাবেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সংস্কৃতি সঞ্চারিত হয়।
৪. সংস্কৃতি অখন্ড যা বিচ্ছিন্ন করা যায় না: সংস্কৃতির উপাদানগুলো পরস্পরের উপর নির্ভরশীল। যেমন,
সংস্কৃতির উপাদান সংগীত, শিল্পকলা, ভাষা, সাহিত্য, বিশ্বাস, রীতি-নীতি ইত্যাদির একটিকে অন্যগুলোর থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। একটি সংস্কৃতিকে অর্থবহ করতে এর প্রত্যেকটি উপাদানই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেকোনো একটি উপাদানের পরিবর্তন অন্য উপাদানগুলোকেও প্রভাবিত করে। তাই প্রত্যেকটি উপাদান নিয়েই সামগ্রিকভাবে মানুষের সংস্কৃতি গড়ে উঠে।
৫. সময়ের সাথে সংস্কৃতির পরিবর্তন হয়: পারস্পরিক আদান-প্রদান, নিত্য নতুন উদ্ভাবন কিংবা স্থানান্তরের
মধ্য দিয়ে সংস্কৃতির ক্রমাগত পরিবর্তন হয়। যেমন, বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারের সাথে সাথে সংস্কৃতি পরিবর্তিত হয়। টেলিভিশন, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ইত্যাদি আমাদের জীবনযাত্রায় অনেক পরিবর্তন এনেছে।
| কাজ- ১ ঃ সংস্কৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ কর। |
Read more