আমাদের সুন্দর জীবন গঠনে যীশুর শৈশবের উদাহরণ (পাঠ ৪)

মুক্তিদাতা যীশুর জন্ম ও শৈশব - খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

203

শৈশবকালে সকলের জীবনেই মহান ব্যক্তিদের আদর্শ অনেক সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। আমাদের সামনে সবচেয়ে সুন্দর আদর্শ হলেন বালক যীশু। তাঁর শৈশবের ঘটনাগুলো থেকে আমরা আমাদের জীবনের জন্য সুন্দর আদর্শ গ্রহণ করতে পারি।

Content added By

যীশু বারো বছর বয়সে মন্দিরে গিয়েছিলেন যোসেফ ও মারীয়ার সাথে। মারীয়া ও যোসেফ নিজ নিজ দলের সাথে বাড়ির পথে অনেক দূর চলে এসেছিলেন। যীশু মন্দিরে রয়ে গিয়েছিলেন। তাঁরা আবার মন্দিরে গিয়ে যীশুকে ফিরে পেলেন। মারীয়া যীশুকে বলেছিলেন, 'খোকা, এটা তোমার কেমন ব্যবহার? ভেবে দেখ তো, তোমার বাবা ও আমি কত উদ্বিগ্ন হয়েই না তোমাকে খুঁজছিলাম!' কিন্তু যীশু উত্তর দিয়েছিলেন, 'তোমরা কেন খুঁজছিলে আমাকে? তোমরা কি জানতে না যে আমাকে আমার পিতার গৃহেই থাকতে হবে?' এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি, স্বর্গীয় পিতার কাছ থেকে তিনি এসেছেন। সেই পিতার সঙ্গে সময় কাটানোতে বালক যীশুর অনেক আগ্রহ ছিল। পিতার প্রতি তাঁর একটা আকর্ষণ ছিল।

আমাদেরও একই রকম আগ্রহ থাকা প্রয়োজন। আমরাও পিতার কাছ থেকে এসেছি। একদিন আমরা আবার পিতার কাছে ফিরে যাব। এই পৃথিবীতে আমরা যত দিন থাকি, আমরা যেন পিতার সাথে প্রতিদিন সময় কাটাই। অর্থাৎ আমরা যেন প্রতিদিনই বাড়িতে প্রার্থনা করি। যদি বাড়িতে এই রীতি না থেকে থাকে, তবে আমরা যেন মা-বাবাকে নিয়ে প্রতিদিনই প্রার্থনা করার অভ্যাস গড়ে তুলি।

Content added By

মন্দিরে বালক যীশু পণ্ডিতদের সঙ্গে বসে ধর্মীয় বিষয়ে বক্তব্য শুনছিলেন। তাঁদের তিনি বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করছিলেন ও তাঁদের উত্তর শুনছিলেন। এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি, ধর্মীয় বিষয়ে জানার জন্য যীশুর কত আগ্রহ ছিল। ধর্ম বিষয়ে তাঁর এত জ্ঞান দেখে সকলেই আশ্চর্য হয়েছিলেন। আমরাও ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান লাভের অনেক সুযোগ পেয়ে থাকি। আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতে পবিত্র বাইবেল আছে। যদি না থাকে তবে আমরা একটা সংগ্রহ করতে পারি। প্রতিদিন বাইবেল পাঠ করতে পারি। এছাড়া সাধুসাধ্বীদের জীবনী বা অন্যান্য আধ্যাত্মিক বইও সংগ্রহ করে পাঠ করতে পারি। নিজের ধর্ম সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান থাকা একান্ত প্রয়োজন। আমরা বালক যীশুর কাছ থেকে এই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি।

Content added By

মন্দিরে যোসেফ ও মারীয়ার কাছে যীশু বলেছিলেন, তাঁকে পিতার গৃহে থাকতে হবে। তবুও তিনি তাঁদের সাথে নাজারেথে তাঁদের বাড়িতে ফিরে গেলেন। সেখানে তিনি তাঁদের বাধ্য হয়ে থাকতে লাগলেন। সারা জীবন পিতার ইচ্ছা পালন করাই যীশুর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।

মা-বাবা, শিক্ষক ও গুরুজনদের প্রতি বাধ্যতা আমাদেরও অবশ্যই থাকতে হবে। বাধ্যতা আমাদের জীবনে মঙ্গল বয়ে আনে। বাধ্য থাকলে আমরা জীবনে অনেক উন্নতি করতে পারি। অনেক বিপদ-আপদ থেকেও আমরা রক্ষা পেতে পারি বাধ্যতার মাধ্যমে। বালক যীশু আমাদের সামনে এ বিষয়ে অনেক সুন্দর আদর্শ দেখাতে পারেন।

Content added By

যোসেফ ও মারীয়ার প্রতি বালক যীশুর গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছিল। মায়ের গর্ভে তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন, তাঁর স্নেহ-ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন। এই মাকে তিনি গভীরভাবে ভালোবেসেছেন। যে পালক পিতা তাঁকে ভরণপোষণ করেছেন, বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেছেন, আদর-যত্ন করেছেন, তাঁকে তিনি অবশ্যই শ্রদ্ধা করেছেন ও ভালোবেসেছেন।

বালক যীশুর মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আমাদের জন্য একটি আদর্শ। আমাদেরও অবশ্যই নিজ নিজ মা-বাবাকে শ্রদ্ধা করতে হবে ও ভালোবাসতে হবে। ঈশ্বর আমাদেরকে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তাঁদের মধ্য দিয়ে। তাঁদের আদর-যত্ন, স্নেহ-ভালোবাসা না পেলে আমরা বাঁচতে পারতাম না। তাই তাঁদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা যেন সর্বদা অটুট থাকে।

Content added By

যীশু তাঁর মা-বাবার প্রতি বাধ্যতা ও ভালোবাসা শুধু কথার মধ্য দিয়ে দেখাননি। তিনি কাজের মধ্য দিয়ে এগুলো প্রকাশ করেছেন। তিনি ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত বাড়িতে কাটিয়েছেন। এ সময়ে নিশ্চয়ই তিনি মা-বাবার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। বাড়িতে তিনি কোনোক্রমেই শুয়ে-বসে কাটাননি। মা-বাবাকে তিনি তাঁদের কাজে সহায়তা করেছেন। দৈনন্দিন কাজকে তিনি কখনো ঘৃণা বা অবহেলা করেননি।

আমাদের জীবনেও এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে আমরা যেন মা-বাবাকে তাঁদের কাজে যথাসাধ্য সাহায্য করি। এতে আমাদের সম্মান কমে যাবে না বরং দৈহিক পরিশ্রম আমাদের দেহ ও মনের স্বাস্থ্য অটুট রাখবে। তাতে পড়াশোনায়ও আমাদের মন বসবে। কাজে সহায়তা করে আমরা মা-বাবার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বাধ্যতার প্রমাণ দিতে পারি।

কাজ: বালক যীশুর কোন কোন গুণ তোমার কাছে অনুকরণীয় মনে হয় তার একটি তালিকা প্রস্তুত কর।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...