খ্রীষ্টমণ্ডলীর জন্ম ও প্রেরণকর্ম (অষ্টম অধ্যায়)

খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

364

জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে থাকি। খ্রীষ্টমণ্ডলী সম্পর্কে আমরা পূর্বে আংশিক জ্ঞান লাভ করেছি। আমরা এখন খ্রীষ্টমণ্ডলী, এর জন্মের ইতিহাস ও প্রেরণকর্ম সম্পর্কে জানব, আরও বিস্তারিত জ্ঞান লাভ করব। এসব বিষয়ে আলোচনা করার মাধ্যমে আমরা মণ্ডলীর প্রেরণকর্মে সক্রিয় অংশগ্রহণ করার বিষয়টি নিয়েও ভাবতে চেষ্টা করব।

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা:

  • খ্রীষ্টমণ্ডলীর ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • খ্রীষ্টমণ্ডলীর জন্মের ইতিহাস বর্ণনা করতে পারব
  • খ্রীষ্টমণ্ডলীর প্রেরণকর্মগুলো ও তার প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব
  • খ্রীষ্টমণ্ডলীর প্রেরণকাজ দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলব
  • সমাজে উন্নয়নমূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে উদ্বুদ্ধ হবো।
Content added By

সাধারণত 'মণ্ডলী' শব্দ দ্বারা বোঝায় জনসমাবেশ বা জমায়েত। আর 'খ্রীষ্টমণ্ডলী' বলতে বোঝায় যীশু খ্রীষ্টের নামে দীক্ষিত মিলিত খ্রীষ্টবিশ্বাসী জনগণের সমাজ। প্রেরিত শিষ্যদের ঐশবাণী প্রচার ও প্রেরণকাজের দ্বারা এই জনগণ মণ্ডলীভুক্ত হয়েছে। খ্রীষ্টমণ্ডলী শব্দটিকে হিব্রু ভাষায় বলে 'কাহাল'। এর অর্থ 'ঐশ জনগণ', যাঁরা ঈশ্বরের উপাসনার জন্য একত্রে সম্মিলিত হয়। সুতরাং বলা যায়, খ্রীষ্টমণ্ডলী হলো খ্রীষ্টবিশ্বাসীদের একটি জনসমাজ। এই খ্রীষ্টমণ্ডলীর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের সেবা করা। তাদের সেবাকাজের অনুপ্রেরণার মূল উৎস হলো যীশুর জীবন ও কাজ অর্থাৎ মঙ্গলসমাচার। মঙ্গলসমাচারের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে খ্রীষ্টভক্তগণ বিভিন্ন সাক্রামেন্ত গ্রহণ করেন। এগুলোও তাদেরকে সেবাকাজে অংশগ্রহণ করার শক্তি যোগায়। এই সেবাকাজগুলো হলো মণ্ডলীর জীবন। অর্থাৎ এগুলো মণ্ডলীকে সচল ও জীবন্ত রাখে। খ্রীষ্টের সাথে সংযুক্ত থাকার মাধ্যমে মণ্ডলী ফলপ্রসূ হয়। নিচে উল্লিখিত বিভিন্ন উদাহরণের মাধ্যমে মণ্ডলীর অর্থ আমাদের কাছে আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

Content added By

মণ্ডলীকে যীশু খ্রীষ্ট নিজেই দ্রাক্ষালতার সাথে তুলনা করেছেন। তিনি হলেন সত্যিকারের দ্রাক্ষালতা। আর তাঁর অনুসারীরা হলো শাখাপ্রশাখা। দ্রাক্ষালতাটি পরিচর্যা করেন তাঁর পিতা। যীশুর যে শাখায় ফল ধরে না, পিতা তা কেটে ফেলেন। আর যে শাখায় ফল ধরে, পিতা তা ছেঁটে দেন। দ্রাক্ষালতার সঙ্গে যুক্ত না থাকলে শাখা যেমন নিজে থেকে ফল দিতে পারে না, তেমনি যীশু খ্রীষ্টের সঙ্গে সংযুক্ত না থাকলে মণ্ডলীর জনগণও ফলশালী হতে পারে না।

Content added By

সাধু পল খ্রীষ্টমণ্ডলীকে তুলনা করেন একটি মানবদেহের সাথে। তিনি বলেন, আমাদের দেহ এক, অথচ তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অনেক এবং দেহের অঙ্গগুলো অনেক হয়েও সবক'টি মিলে এক দেহ-ই হয়। সাধু পলের কথা অনুসারে আমরা সবাই মিলে খ্রীষ্টেরই দেহ: আমরা একেকজন সেই দেহেরই এক একটি অঙ্গ। একেকটি অঙ্গের যেমন একেকটি কাজ থাকে তেমনি আমাদেরও বিভিন্ন জনের বিভিন্ন গুণ আছে। সকলের গুণ এক রকম না হলেও আমরা সবার গুণ দিয়ে একটি মাত্র দেহ অর্থাৎ মণ্ডলীকে গড়ে তুলি।

Content added By

শেষ ভোজের সময় যীশু একজন একজন করে তাঁর সব শিষ্যদের পা ধুয়ে দিয়েছিলেন। এর পর যীশু প্রেরিত শিষ্যদের বললেন, 'প্রভু ও গুরু হয়ে আমি যখন তোমাদের পা ধুয়ে দিলাম, তখন তোমাদেরও পরস্পরের পা ধুয়ে দেওয়া উচিত। আমি তো এখন তোমাদের সামনে একটি আদর্শই তুলে ধরলাম; আমি তোমাদের জন্যে যেমনটি করলাম, আমি চাই, তোমরাও ঠিক তেমনটি কর'। পরস্পরের পা ধুয়ে দেওয়ার অর্থ হলো পরস্পরের সেবা করা।

Content added By

স্বর্গারোহণের পূর্বে প্রভু যীশু খ্রীষ্ট তাঁর প্রেরিতশিষ্যদের নির্দেশ দিলেন, 'তোমরা জগতের সর্বত্রই যাও; বিশ্বসৃষ্টির কাছে তোমরা ঘোষণা কর মঙ্গলসমাচার। যে বিশ্বাস করবে আর দীক্ষাস্নাত হবে, সে পরিত্রাণ পাবে। যে বিশ্বাস করবে না, সে কিন্তু শাস্তিই পাবে। যাঁরা বিশ্বাস করবে, তাঁদের সমর্থনে তখন ঘটতে থাকবে এই সব অলৌকিক ঘটনা: তাঁরা আমার নামে অপদূত তাড়াবে, তাঁরা নতুন নতুন ভাষায় কথা বলবে, তাঁরা হাতে করে সাপ তুলবে আর মারাত্মক বিষ খেলেও তাঁদের কোনো ক্ষতি হবে না। তাঁরা রোগীদের ওপর হাত রাখলেই রোগীরা ভালো হয়ে উঠবে।' এর মাধ্যমে যীশু খ্রীষ্ট তাঁর মণ্ডলীকে নির্দেশ দেন যেন সকল খ্রীষ্টবিশ্বাসী মঙ্গলবাণী প্রচার কাজে অংশগ্রহণ করে।

কাজ: ব্রীষ্টমণ্ডলীর প্রতীক হিসেবে যেকোনো ছবি অঙ্কন কর এবং শ্রেণির সবাইকে তা দেখাও।
Content added By

যীশুর শিষ্যদের মধ্যে পিতরের বিশ্বাস খুব দৃঢ় ছিল। একবার যীশু শিষ্যদের কাছে নিজের নির্যাতিত হয়ে মৃত্যুবরণ করার কথা বলছিলেন। তখন পিতর বলেছিলেন, তিনি তাঁর জীবন থাকতে যীশুকে নির্যাতিত হতে দিবেন না। তিনিই যীশুকে সবার আগে খ্রীষ্ট বলে চিনতে পেরেছিলেন। তাঁর গভীর বিশ্বাস দেখে যীশু বলেছিলেন, 'তুমি পিতর অর্থাৎ পাথর, আর এই পাথরের উপরেই আমি আমার মণ্ডলী স্থাপন করব। পৃথিবীর কোনো শক্তিই তার উপর বিজয়ী হতে পারবে না।' আর একবার যীশু পিতরকে জিজ্ঞেস করলেন 'তুমি কি আমাকে ভালোবাস?' পিতর উত্তর দিয়েছিলেন, 'হ্যাঁ, আপনি তো জানেন, আমি আপনাকে ভালোবাসি।' যীশু পিতরকে তখন বলেছিলেন, আমার মেষদের দেখাশোনা কর। যীশু পর পর তিনবার পিতরকে এই কথা বলেছিলেন।

পুনরুত্থানের পর যীশু তাঁর শিষ্যদের কাছে বারবার দেখা দিয়েছিলেন। তিনি তাঁদের উপর ফুঁ দিয়ে বলেছিলেন, 'তোমরা পবিত্র আত্মাকে গ্রহণ কর। যাদের পাপ তোমরা ক্ষমা করবে, তাদের পাপ ক্ষমা করা হবে। যাদের পাপ ধরে রাখবে, তাদের পাপ ধরেই রাখা হবে।' স্বর্গে চলে যাবার আগে যীশু তাঁর এগারো জন প্রেরিতশিষ্যকে নিয়ে গালিলেয়ায় সমবেত হলেন। সেখানে তিনি তাঁর শিষ্যদের প্রেরণকর্ম সম্পর্কে নির্দেশ দিলেন। তিনি তাঁদের বললেন, স্বর্গে ও পৃথিবীতে পূর্ণ অধিকার আমাকে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা জগতের সর্বত্রই যাও। বিশ্বসৃষ্টির কাছে তোমরা ঘোষণা কর মঙ্গলসমাচার। তোমাদের আমি যা কিছু আদেশ দিয়েছি, তাদের তা পালন করতে শেখাও। সকল জাতির মানুষকে আমার শিষ্য কর। পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে তাদের দীক্ষাস্নাত কর। যে বিশ্বাস করবে আর দীক্ষাস্নাত হবে, সে পরিত্রাণ পাবে। বিশ্বাসীরা আমার নামে অপদূত তাড়াবে, তারা নতুন নতুন ভাষায় কথা বলবে, তাঁরা রোগীদের উপর হাত রাখলেই রোগীরা ভালো হয়ে যাবে। আর জেনে রাখ, জগতের অন্তিমকাল পর্যন্ত আমি সর্বদাই তোমাদের সঙ্গে আছি।

তিনি তাঁদের কাছে আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি স্বর্গ থেকে পিতার প্রতিশ্রুত দান অর্থাৎ পবিত্র আত্মাকে পাঠাবেন। স্বর্গ থেকে নেমে আসা পবিত্র আত্মার শক্তিতে তখন তাঁরা আচ্ছাদিত হবেন। পবিত্র আত্মা তাঁদের উপর নেমে না আসা পর্যন্ত তাঁদেরকে তিনি গালিলেয়া শহরেই অপেক্ষা করতে বললেন।

প্রভু যীশু তাঁর শিষ্যদের প্রতি যে বিশেষ বাণীগুলো রেখেছেন তার অর্থ এ রকম:

Content added By

খ্রীষ্টের মণ্ডলী দেখাশোনা ও বাণী প্রচার করার জন্য প্রেরিতশিষ্যদের অন্তরের বিশ্বাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। পিতর হলেন সেই বিশ্বাসী প্রেরিতদের মধ্যে প্রধান। তাঁকে যীশু মণ্ডলী দেখাশোনা করার প্রধান দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

Content added By

যীশু তাঁর শিষ্যদের পাপ ক্ষমা করার অধিকার দিলেন। এই পাপ তাঁরা ক্ষমা করবেন পবিত্র আত্মার শক্তিতে। শিষ্যদের মধ্য দিয়ে ঈশ্বর মানুষের পাপ ক্ষমা করবেন।

Content added By

তিনি শিষ্যদের নিশ্চিত করতে চান যে তাঁরা যীশুর বিশেষ ক্ষমতা লাভকরবেন। জগতের সমস্ত কিছুই তাঁর অধীনস্থ। মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো মৃত্যু। কিন্তু সেই মৃত্যু তিনি নিজে বরণ করেছেন এবং সেই শক্তিশালী মৃত্যুকে তিনি জয় করেছেন। কাজেই সমস্ত শক্তিই তাঁর পদতলে। তিনি সকল শক্তির প্রভু। খ্রীষ্টের প্রভুত্ব নিয়ে এখন আর কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ নেই।

Content added By

যীশু তাঁর কাজগুলো করার জন্য শিষ্যদেরকে সারা জগতে পাঠালেন। তিনি তাঁদের যা কিছু শিক্ষা দিয়েছেন তা সকল জাতির মানুষের কাছে শিক্ষা দিতে বললেন। সকল জাতির মানুষকে তাঁর শিষ্য করতে বললেন। তিনি যেসব শিক্ষা দিয়েছেন অর্থাৎ মঙ্গলসমাচারে যে শিক্ষা বা মূল্যবোধগুলো আমরা পাই, তা সকল মানুষ যেন শিখে ও সেই অনুসারে জীবন যাপন করে।

Content added By

যীশুর মৃত্যুর পর শিষ্যগণ ভেবেছিলেন, ঐ শত্রুরা হয়ত যীশুর মতো করে তাঁদেরও হত্যা করবে। এই ভীতিজনক অবস্থায় শিষ্যগণ তাঁদের গুরুকে ছাড়া জগতের সর্বত্র যাওয়ার সাহস পাবেন না। কারণ তাঁর কাজে সহায়তা করার জন্যই তো তিনি তাঁদের ডেকেছিলেন। আর তাঁরাও সবকিছু ত্যাগ করে তাঁর সঙ্গ নিয়েছিলেন। তাঁদের সাথে তাঁর একটা বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। তিনি তাঁদেরকে ভালোবাসেন। তাঁরাও তাঁদের গুরুকে ভালোবাসেন। কাজেই তিনি তাঁর প্রিয় শিষ্যদেরকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেননি।

Content added By

এরপর প্রভু যীশু স্বর্গারোহণ করলেন। শিষ্যগণ প্রভু যীশুর নির্দেশমতো গালিলেয়া শহরেই অপেক্ষা করতে লাগলেন। সেখানে তাঁরা পবিত্র আত্মার অবতরণের অপেক্ষায় রইলেন।

Content added By

একটি শিশু যেদিন মায়ের গর্ভে আসে, সেদিন তার জীবনের অস্তিত্ব শুরু হয়। কিন্তু নয় মাস পরে সে ভূমিষ্ঠ হয়, যদিও ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিনটাকেই আমরা শিশুর জন্মদিন বলে থাকি। খ্রীষ্টমণ্ডলীর বেলায়ও কথাটি প্রয়োগ করা যেতে পারে। খ্রীষ্টমণ্ডলীর জন্ম ধরা যায় পৃথিবীতে যীশু খ্রীষ্টের জন্মের সময়টাকেই। আর যেদিন পবিত্র আত্মার অবতরণ হলো সেদিনটাই মণ্ডলীর প্রকৃত জন্মদিন।

যীশুর মৃত্যুর পর তাঁর শিষ্যগণ ভয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। কিন্তু তিন দিন পরেই যীশু খ্রীষ্ট মৃত্যু থেকে পুনর্জীবিত হয়ে উঠলেন। এরপর তিনি শিষ্যদের কাছে বারবার দেখা দিলেন। যীশু যে বেঁচে উঠবেন, এটা তাঁরা আগে বুঝতে পারেননি। এখন জীবিত যীশুকে দেখতে পেয়ে শিষ্যদের মনে খুব সাহস হলো।
কিন্তু যীশু পুনরুত্থানের চল্লিশ দিন পর স্বর্গে চলে গেলেন। যাওয়ার আগে যীশু তাঁর প্রেরিতশিষ্যদের কাছে কথা দিলেন, তিনি একজন সহায়ক আত্মাকে তাঁদের জন্য পাঠিয়ে দিবেন। সেই আত্মা এসে তাঁদের সান্ত্বনা, সাহস ও সবরকম সহায়তা দিবেন। তাঁর সেই আত্মা যত দিন না আসেন তত দিন তিনি শিষ্যদের ঐ শহরে থাকতে বললেন। এর পর যীশু স্বর্গে চলে গেলেন। এদিকে শিষ্যগণ যীশুর আত্মার অপেক্ষায় থাকতে লাগলেন। সেই দিনটি খুব তাড়াতাড়ি ঘনিয়ে এলো।

স্বর্গারোহণের পর যীশুর শিষ্যগণ একটি বদ্ধ ঘরে সমবেত হয়ে প্রার্থনা করছিলেন। আর সেই সময় হঠাৎ প্রচণ্ড বেগে বাতাস বইয়ে যাওয়ার মতো একটা শব্দ হলো। যে বাড়িতে তাঁরা সমবেত হয়ে প্রার্থনা করছিলেন সেই বাড়িটা শব্দে ভরে গেল। তাঁরা দেখতে পেলেন, কতকগুলো আগুনের জিহ্বা আলাদা আলাদা হয়ে তাঁদের মাথার উপর নেমে আসছে। এভাবে তাঁরা পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হলেন। পবিত্র আত্মা তাঁদের একেকজনকে একেক ভাষায় কথা বলার শক্তি দিলেন। আগে তাঁরা যে ভাষা জানতেন না, সেই ভাষায়ই তাঁরা এখন কথা বলার শক্তি পেলেন। সেই নতুন শক্তি অনুসারে তাঁরা কথা বলতে লাগলেন।

এরপর তাঁরা আর ভয়ে ঘরে লুকিয়ে থাকলেন না। তাঁরা রাস্তায় বের হয়ে পড়লেন। পবিত্র আত্মা তাঁদের যে রকম বিভিন্ন ভাষায় কথা বলার শক্তি দিয়েছিলেন, তাঁরা সেভাবে কথা বলতে লাগলেন। রাস্তায় তখন নানান দেশ থেকে আগত বিভিন্ন ভাষার লোক ছিল। তারা শিষ্যদেরকে ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলতে শুনে আশ্চর্য হয়ে গেল। কারণ তাঁরা নিজ নিজ ভাষায় শিষ্যদের কথাগুলো বুঝতে পেরেছিল। কিন্তু তাঁরা এই ঘটনার কোন অর্থ বুঝতে পারছিল না।

তারা মনে করল, শিষ্যরা মদ খেয়ে মাতাল হয়েছেন। তাই তাঁরা অমনভাবে কথা বলছেন। এভাবে লোকেরা শিষ্যদের নিয়ে ঠাট্টা করতে লাগল। পিতর ছিলেন শিষ্যদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাহসী। তিনি লোকদের উদ্দেশে একটা ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, শিষ্যরা মদ খেয়ে মাতাল হননি। এই ঘটনা যে ঘটবে তা বহু আগে প্রবক্তা (নবী) যোয়েলের মধ্য দিয়ে ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। ঈশ্বর এই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে পবিত্র আত্মা এভাবে আসবেন ও তাঁর জনগণকে আশীর্বাদ ও সহায়তা করবেন। তিনি তাঁদের আরও বললেন যে ইহুদিরা মুক্তিদাতা যীশুকে নির্মমভাবে হত্যা করে পাপ করেছে। এভাবে তাঁরা ঈশ্বরের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কাজ করেছে।

পিতরের কথাগুলো লোকদের হৃদয় স্পর্শ করল। তাই তাঁরা পিতর ও অন্য শিষ্যদের জিজ্ঞেস করলেন, এখন তাঁদের কী করা উচিত। পিতর তখন বললেন, এখন তাদের পাপ থেকে মন ফেরাতে হবে ও যীশুর নামে দীক্ষাস্নান গ্রহণ করতে হবে। যদি তাঁরা তা করে, তবে তাঁদের উপর পবিত্র আত্মা নেমে আসবেন এবং তাঁরা পবিত্র আত্মার দান গ্রহণ করবে। একথা শুনে সেদিন তিন হাজার লোক মন পরিবর্তন করল ও যীশুর নামে দীক্ষাস্নান গ্রহণ করল। এভাবে তাঁরা সেদিন যীশুর মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের উপাসনা করতে শুরু করল ও একটা নতুন সমাজ গঠন করল। দিনে দিনে নতুন নতুন লোক এই দলে যোগদান করতে লাগল। এভাবে খ্রীষ্টমণ্ডলীর যাত্রা শুরু হলো।

Content added By

যীশু খ্রীষ্ট তাঁর শিষ্যদেরকে কাজ করার জন্য পৃথিবীর সকল জাতির সকল মানুষের কাছে প্রেরণ করেছেন। তাই শিষ্যদেরকে আমরা বলি প্রেরিতশিষ্য। যে কাজগুলো তিনি শিষ্যদের করতে প্রেরণ করেছেন, সেগুলো হলো প্রেরণকর্ম। তাঁরা যীশুর শিক্ষাগুলো নানা জাতির মানুষের কাছে প্রচার করতে শুরু করেছেন। মানুষ যেন যীশুকে পথ, সত্য ও জীবন হিসেবে চিনতে ও গ্রহণ করতে পারে, সেজন্য তাঁরা প্রচার করতে লাগলেন। তাঁরা মৃত্যুর আগে আরও অনেককে এই কাজ চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দিয়ে গেলেন। এভাবে আজও যীশুর কাজগুলো চলছে। পরিচালনা করছে যীশুরই স্থাপিত মণ্ডলী। বর্তমান যুগে মণ্ডলী যে কাজগুলো করে চলছে সেগুলো নিম্নরূপ:

Content added By

আমরা জানি, মানুষ মুখের কথা বা উপদেশের চেয়ে কাজ দেখতে চায় বেশি। যারা
শুধু মুখে কথা বলে কিন্তু কাজে তা প্রয়োগ করে না সেই ধরনের লোকদের কেউ পছন্দ করে না। তাই খ্রীষ্টমণ্ডলী শুধু উপদেশ দিয়ে নয় কাজের মধ্য দিয়েও সাক্ষ্যদান করে যাচ্ছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং এ রকম আরও নানাভাবে মণ্ডলী জগতের মানুষের কাছে সাক্ষ্যদান করে যাচ্ছে। এই দায়িত্ব শুধু মণ্ডলীর পরিচালকদেরই নয় বরং প্রত্যেক খ্রীষ্টভক্তেরই। তাই খ্রীষ্টভক্তগণ যার যার সাধ্য অনুসারে গরিব-দুঃখী, অভাবী, দুঃখক্লিষ্ট মানুষের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে খ্রীষ্টীয় সাক্ষ্যদান করে যাচ্ছে ।

Content added By

মণ্ডলীর প্রেরণকর্মের প্রধান বিষয় মঙ্গলবাণী ঘোষণা করা। ঈশ্বর মানুষকে ভালোবাসেন ও মানুষের পরিত্রাণের জন্যই তিনি তাঁর একমাত্র পুত্র যীশুকে এ জগতে প্রেরণ করেছেন। যীশু খ্রীষ্ট যাতনাভোগ ও মৃত্যুবরণ করেছেন। এরপর তিনি পুনরুত্থানও করেছেন। এটি জগতের মানুষের জন্য একটি সুখবর। কারণ মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে তিনি সকল মানুষের মুক্তিদাতা হয়েছেন। এ বিষয়টি সকল মানুষকে জানানোর জন্য মণ্ডলীর অনেক বিশপ, যাজক, ডিকন, ব্রাদার, সিস্টার, কাটেখিস্ট নিজ নিজ জীবন উৎসর্গের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে কাজ করে যাচ্ছেন। অনেকে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জীবন পর্যন্ত বির্সজন দিচ্ছেন। এই দায়িত্বটি সকল খ্রীষ্টভক্তেরও। যে যেখানে আছে সেখানেই নিজ নিজ জীবনের আদর্শ দ্বারা এই কাজটি করার জন্য সকলকেই খ্রীষ্ট আহ্বান করছেন।

Content added By

প্রভু যীশু তাঁর শিষ্যদের নিয়ে প্রচারকাজ শুরু করেছেন। তিনি বলতেন,সময় হয়ে এসেছে; তোমরা মন ফেরাও এবং মঙ্গলসমাচারে বিশ্বাস কর। তাঁর শুরু করা কাজগুলো চালিয়ে নেবার দায়িত্ব দিয়ে তিনি শিষ্যদের প্রেরণ করেছেন। প্রেরিতশিষ্যগণও সকল মানুষকে জীবন পরিবর্তন করে পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে দীক্ষা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান। খ্রীষ্টমণ্ডলী আজও মানুষকে মন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দীক্ষাস্নান গ্রহণ করার আহ্বান জানান। এর মাধ্যমে মানুষ নতুন জীবন লাভ করতে পারে। মন পরিবর্তন ও দীক্ষাস্নান-এই দুটি বিষয় একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। যারা মন পরিবর্তন করে, তারা দীক্ষাস্নানও গ্রহণ করে।

সকল খ্রীষ্টবিশ্বাসীকেও এই দায়িত্বটি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে খ্রীষ্টবিশ্বাসীরা অন্যদের কাছে আমন্ত্রণ জানাবে খ্রীষ্টের উপর বিশ্বাসী হতে ও দীক্ষাস্নাত হতে। তবে মনে রাখতে হবে, সকলেরই নিজ নিজ ধর্ম পালন করার অধিকার আছে। কারও বিশ্বাসে যেন আঘাত না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পবিত্র আত্মা যাদের অন্তরে বিশ্বাস জাগিয়ে তুলবেন, তারা মন পরিবর্তন করবে ও দীক্ষাস্নাত হবে।

কাজ: তুমি কী কী জীবনাচরণ দিয়ে খ্রীষ্টের সাক্ষ্য হয়ে উঠতে পার তা জোড়ায় জোড়ায় আলোচনা কর।
Content added By

একটি বীজকে মাটিতে রোপণ করলে ঐ মাটিতেই বীজটির চারা গজায় ও বড় গাছে পরিণত হয়। এরপর সে ফুল ও ফল দেয়। একইভাবে প্রত্যেক দেশের খ্রীষ্টমণ্ডলী ঐ দেশেই রোপিত হয়েছে। সে ঐ দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতি অনুসারে বিস্তারলাভ করে এবং ফল দান করে। অর্থাৎ সে নিজ দেশে বিশ্বাসে পরিপক্ক হয় ও খ্রীষ্টের সাক্ষ্য বহন করে। নিজ দেশের মানুষের কাছে সে খ্রীষ্টের আলো ছড়ায়। খ্রীষ্টের অনুসারী হিসেবে সে নিজ দেশে একটি মিলনসমাজ গড়ে তোলে। এভাবে সে নিজ দেশে একটি স্থানীয় মণ্ডলী হিসেবে গড়ে উঠে। প্রত্যেক দেশের স্থানীয় মণ্ডলী আবার বিশ্বমণ্ডলীর সাথেও সংযুক্ত। সারা পৃথিবীর সকল খ্রীষ্টভক্তদের সাথে সে এক পরিবারের মতো যুক্ত থাকে।

Content added By

আমাদের ধর্মীয় বিষয় নিয়ে যখন অন্যান্য ধর্মের ভাই-বোনদের সাথে আলোচনা করি, তখন সেটাকে আমরা ধর্মীয় সংলাপ বলি। এর মধ্য দিয়ে আমরা পরস্পরের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের আদান-প্রদান করি। ফলে একে অপরের ধর্ম ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে সম্মান করতে শিখি। এই ধর্মীয় সংলাপ বা আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা অন্য ধর্মানুসারীদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করি। আবার তাদের কাছে খ্রিষ্টীয় মূল্যবোধগুলোকে তুলে ধরতে পারি।

Content added By

খ্রীষ্টমণ্ডলীর মূল দায়িত্ব হলো মঙ্গলসমাচারের মূল্যবোধ অনুসারে মানুষের বিবেক গঠন করা। মানুষের ঘুমন্ত বিবেককে জাগ্রত করা। এর মধ্য দিয়ে মানুষকে খাঁটি মানুষ হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করা। খ্রীষ্টমণ্ডলী স্কুল, কলেজ, কারিগরি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র এবং এ ধরনের অন্যান্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে। এগুলোর মাধ্যমে মণ্ডলী মানুষের সুস্থ বিবেক গঠন, চিন্তাধারা ও আচার আচরণের উন্নয়ন করে থাকে।

খ্রীষ্টভক্তকে ব্যক্তিগত এবং সামাজিকভাবে এই দায়িত্বটি পালন করতে দেওয়া হয়েছে। আমরা ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধগুলো অনুসারে জীবন যাপন করার মাধ্যমে এই দায়িত্ব পালন করতে পারি। কারণ এই ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধগুলো দ্বারা আমরা একে অপরকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করতে শিখি। একে অন্যকে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে সত্যিকার ভাই-বোন হয়ে উঠার অনুপ্রেরণাও লাভ করি।

Content added || updated By

প্রভু যীশু তাঁর প্রচার জীবনে দরিদ্র, অভাবী, নির্যাতিত ভাই-বোনদের পক্ষ সমর্থন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি আমাদেরকে তাদের পাশে দাঁড়াবার শিক্ষা দিয়েছেন। আমরা সবাই ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্ট। খ্রীষ্টমণ্ডলীও যীশুর শিক্ষা অনুসরণ করে দীন-দরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াবার আহ্বান পেয়েছে। আমাদের দায়িত্ব হলো দরিদ্রদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা। আমাদের যাজক, ব্রতধারী-ব্রতধারিণী ও সকল ভক্তজনগণ অনেক সেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের অমূল্য সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য দূরীকরণ, কুষ্ঠাশ্রম, প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্র, বয়স্ক সেবাকেন্দ্র ইত্যাদির মাধ্যমে তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আমরাও যেন আমাদের যার যার কর্মস্থলে থেকে দরিদ্র ও অভাবী ভাই-বোনদের সেবা করি। এভাবে যেন যীশুর ভালোবাসা অন্যের কাছে তুলে ধরি।

কাজ: তুমি তোমার জীবনে কখনো দরিদ্র ও অভাবীদের জন্য কোনো দয়ার কাজ করে থাকলে তা দলে অন্যদের সাথে সহভাগিতা কর।
Content added By

ভালো গাছ যেমন ভালো ফল দেয়, তেমনি ভালো কাজেরও ভালো ফল আছে। ঈশ্বরের কাজের ফল তো অবশ্যই ভালো হবে। ঈশ্বরের পুত্র যীশু খ্রীষ্ট মণ্ডলী স্থাপন করেছেন। তিনি নিজে মণ্ডলীর মস্তক। তাঁর অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে অর্থাৎ তাঁর শিষ্যদের ও সকল ভক্তদেরকে তিনি প্রেরণকাজের দায়িত্ব দিয়েছেন। একেকজনকে একেক দায়িত্ব দিয়ে তিনি প্রেরণ করেছেন। এই প্রেরণকাজগুলো সম্পর্কে আমরা ইতিমধ্যেই আলোচনা করেছি। আমাদের দেশে খ্রীষ্টের প্রেরণকাজগুলো করার জন্য ক্যাথলিক ও প্রটেস্টান্ট মণ্ডলীগুলোতে দেশি ও বিদেশি অনেক কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে ৩৫০ জনেরও অধিক যাজক, ১০০ জনেরও বেশি ব্রাদার, ১১০০ জনেরও বেশি সিস্টার কাজ করছেন। এছাড়া অসংখ্য খ্রীষ্টভক্ত এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশ সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। খ্রীষ্টের প্রেরণকাজগুলোর প্রভাব বা ফলগুলো কী, সেসব বিষয়ে আমরা এবার আলোচনা করব। আমরা দেখবো স্কুল-কলেজের শিক্ষা, যুব গঠন, মূল্যবোধ গঠন, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়ন, পারিবারিক উন্নয়ন এবং এ রকম আরও অনেক বিষয়ে মণ্ডলীর কাজের প্রভাব বিস্তৃত হচ্ছে।

Content added By

খ্রীষ্টমণ্ডলী সারা দেশে প্রায় ২৫০টি প্রাইমারি স্কুল, ৫০টির অধিক হাইস্কুল, বেশ কয়েকটি কলেজ ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, প্রায় ৫০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অনাথাশ্রম এবং অনেক হস্তশিল্প শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালনা করে আসছে। খুব শীঘ্রই মণ্ডলী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার বিষয়ও চিন্তাভাবনা করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বহুদিন যাবৎ শিক্ষা বিস্তার কাজে ব্যাপৃত রয়েছে। এগুলোর মধ্য দিয়ে প্রতিবছর আমাদের দেশের অগণিত শিক্ষার্থী যথাযথ জ্ঞান লাভ করার সুযোগ পাচ্ছে। এরপর তারা দেশে ও বিদেশে উচ্চ শিক্ষা লাভ করে মেধার বিকাশ ঘটাতে পারছে। তারা দেশ ও বিশ্বের সম্পদ হিসেবে বৃদ্ধি লাভ করতে পারছে।

Content added By

খ্রীষ্টমণ্ডলী দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের সার্বিক গঠনের উপর জোর দিয়ে থাকে। এখানে জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি মানবীয় ও নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় আরও নানান মূল্যবোধের শিক্ষা দিয়ে থাকে। মানুষকে প্রকৃত মানুষ হওয়ার উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

Content added By

দেশের শহর ও গ্রামের বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য মণ্ডলী ৭০টিরও বেশি হাসপাতাল, ডিসপেন্সারি, ক্লিনিক, কুষ্ঠাশ্রম, রোগীদের আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করে আসছে। এগুলোর মধ্য দিয়ে প্রতিদিন অগণিত দরিদ্র মানুষ বিনা পয়সায় এবং কোন কোন ক্ষেত্রে নামে মাত্র খরচে চিকিৎসা পেয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে এই মানুষেরা সামান্য হলেও যীশুর নিরাময়কারী স্পর্শ পেতে পারছে।

Content added By

খ্রীষ্টমণ্ডলী আমাদের দেশে বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। এর মধ্যে কারিতাস, সিসিডিবি ও কৈননিয়া প্রধান। আর্থিক উন্নয়নের জন্য ক্রেডিট ইউনিয়ন ও কাল্বের নাম উল্লেখযোগ্য। সামাজিক উন্নয়নের জন্য খ্রীষ্টান হাউজিং সোসাইটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে আরও অসংখ্য প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এগুলোর মাধ্যমে দেশের আর্থিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রতিবছর অগণিত মানুষ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা পেয়ে চলছে। ক্রেডিট ইউনিয়ন ও কাল্ব অসংখ্য দীন-দরিদ্র মানুষের জীবনে উন্নয়ন এনে দিচ্ছে।

Content added By

খ্রীষ্টমণ্ডলীর পরিচালনায় সুন্দর পরিবার গঠনের উপর জোর দেওয়া হয়। সারা দেশে হাজার হাজার পরিবারে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যেকার সুসম্পর্ক বজায় রাখার কাজে মণ্ডলী অবিরাম সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এভাবে খ্রীষ্টমণ্ডলী দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

কাজ: যেকোনো একটি সেবাকাজ, যা মণ্ডলী করছে, কয়েকজন মিলে তা অভিনয় করে দেখাও।
Content added By

শূন্যস্থান পূরণ কর:

১. তোমরা ………………………. সর্বত্রই যাও।
২. খ্রীষ্ট বিশ্বাসী ………………………. প্রচার কাজে অংশগ্রহণ করে।
৩. যীশু পর পর ………………………. পিতরকে এই কথা বলেছিলেন।
8. ঈশ্বর মানুষের ………………………. ক্ষমা করবেন।
৫. যীশুর নামে দীক্ষাস্নান ………………………. করল।

বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশের বাক্যাংশের মিল কর:

বাম পাশডান পাশ

১. যীশু খ্রীষ্ট যাতনাভোগ ও

২. জগতের মানুষের জন্য

৩. তোমরা মন ফেরাও এবং

৪. যারা মন পরিবর্তন করে

৫. মানুষের ঘুমন্ত বিবেককে

  • মঙ্গলসমাচার বিশ্বাস কর
  • তারা দীক্ষাস্নানও গ্রহণ করে
  • মৃত্যুবরণ করেছেন
  • জাগ্রত করা
  • একটি সুখবর
  • দায়িত্ব পালন করতে পারি

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন


১. হিব্রু ভাষার 'কাহাল' শব্দটির বাংলা অর্থ-
ক. জনগণ
খ. ঐশ জনগণ
গ. খ্রীষ্টীয় পরিবার
ঘ. ধর্মপল্লী

২. খ্রীষ্টমণ্ডলীর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
ক. বাপ্তিস্ম দেওয়া
খ. দান করা
গ. সেবা করা
ঘ. বাণী প্রচার করা

৩. খ্রীষ্টমণ্ডলীর সেবা কাজের দায়িত্ব কাদের?
ক. শুধু মণ্ডলীর পরিচালকদের
খ. ফাদার, ব্রাদার, সিস্টার ও কাটেখিস্টদের
গ. প্রত্যেক খ্রীষ্টভক্তের
ঘ. শুধু মা-বাবাদের

নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৪ ও ৫ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:

জন, রানা ও আকাশ তিন ধর্মের তিন বন্ধু টিফিন পিরিয়ডের সময় আলাপ করছে। জন বলল, এবার বড়দিনে আমি আমার উপহারের টাকা দিয়ে একজন গরিব মেয়েকে একটি খাতা কিনে দিয়েছি। রানা বলল, আমিও এবার কোরবানি ঈদে আমাদের পাশের বাড়ির একজন ছেলেকে শার্ট দিয়েছি। তখন আনন্দের সাথে আকাশও বলল, এবার পুজোয় আমি কিছু খাবার কিনে একজন গরিব বাচ্চাকে সাহায্য করেছি। তারা তখন একে অপরের সাথে তাদের ধর্মীয় উৎসবগুলো কীভাবে পালিত হয়, তাও আনন্দের সাথে সহভাগিতা করতে লাগল।

৪. তিন বন্ধুর ধর্মীয় সংলাপ আমাদের যে শিক্ষা দেয় তা হলো-
i. প্রতিটি ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা
ii. ধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধি
iii. ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও iii
ঘ. i, ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. সাগর একজন নামকরা ও সুপরিচিত প্রচারক। কোন এক বড় সভায় তিনি মন পরিবর্তন সম্পর্কে প্রচার করলেন। তাঁর প্রচার শুনে অনেকেই মন পরিবর্তন করল ও দীক্ষাস্নান গ্রহণ করল। তিনি প্রার্থনার মাধ্যমে রোগীদেরও সুস্থ করলেন।
ক. যীশুর কোন শিষ্যের মধ্যে দৃঢ়বিশ্বাস ছিল?
খ. কীভাবে পরিত্রাণ লাভ করা যায়?
গ. তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন শিক্ষার আলোকে সাগর এ ধরনের কাজ করেছিলেন?
ঘ. 'সাগরের প্রচারকাজ ও প্রেরিত শিষ্যদের প্রচারকাজ যেন একই সূত্রে গাঁথা' .... উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

২. শুভ খ্রীষ্টান সমাজের একজন বড় কর্মকর্তা। নিজের চেষ্টায় একটি সংস্থা গঠন করলেন। দিনরাত তিনি কাজ করেছেন এ সংস্থার জন্য। এ সংস্থার মাধ্যমে মানুষের জীবনে উন্নয়ন এনে দিয়েছে। শিক্ষা বিস্তারেও কাজ করছে।
ক. যীশু কাদের নিয়ে তাঁর প্রচার কাজ শুরু করেন?
খ. কখন মণ্ডলীর জনগণ ফলহীন হয়ে পড়ে?
গ. শুভ কোন শিক্ষায় অনুপ্রাণিত হয়ে সংস্থাটি গঠন করেন?
ঘ. শুভর সংস্থা যেন খ্রীষ্টমণ্ডলীর মতো মূল্যায়ন কর।

সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন

১. মণ্ডলী কী?
২. যীশুর স্বর্গারোহণের পর শিষ্যগণ কোথায় ছিলেন?
৩. পবিত্র আত্মাকে লাভ করে শিষ্যদের কী অবস্থা হয়েছিল?
8. পিতরের বক্তব্য শুনে উপস্থিত লোকদের অবস্থা কেমন হয়েছিল?
৫. যীশু তাঁর শিষ্যদের কেন প্রেরণ করেছিলেন?

বর্ণনামূলক প্রশ্ন

১. খ্রীষ্টমণ্ডলীর জন্মের কাহিনীটি বর্ণনা কর।
২. খ্রীষ্টমণ্ডলীর যেকোনো দুটি প্রেরণকর্ম বর্ণনা কর।
৩. শিক্ষাবিস্তার ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে মণ্ডলীর প্রভাব বর্ণনা কর।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...