প্রতি মুহূর্তে আমাদের কাছে পাপের প্রলোভন আসে। প্রলোভনগুলো কখনও আমাদের কাছে ভালো কাজ করার বা ভালো পথে চলার পরামর্শ দেয় না। এগুলো আমাদেরকে ক্ষণিকের আনন্দ উপভোগের দিকে নিয়ে যায়। কিন্তু সেই আনন্দ আমাদেরকে ঈশ্বরের পথ থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। এর পরে আমাদের কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়। কিন্তু অন্য দিকে ঈশ্বর আমাদের সামনে রেখেছেন তাঁর পথে চলার বাণী। তাঁর বাণী মেনে চললে আমরা তাঁর মতো পবিত্র পথে চলতে পারি। এভাবে মৃত্যুর পরে আমরা তাঁর সাথে থাকতে পারি। কাজেই ঈশ্বর আমাদের স্বাধীন ইচ্ছা দিয়েছেন। এর দ্বারা আমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের পথ আমরা নিজেরাই বেছে নিতে পারি।
প্রলোভনগুলো জয় করতে পারা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার পূর্বে প্রলোভনগুলোর উৎস সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকা দরকার। প্রলোভনের সবচেয়ে প্রধান উৎসটি হলো আমাদের নিজেদের ভিতরেই। আমাদের সকলেরই 'প্রবৃত্তি' আছে। প্রবৃত্তিগুলো হলো আবেগ ও ইন্দ্রিয়ের ক্ষুধা। আমাদের পাঁচটি ইন্দ্রিয় আছে। যথা: চোখ, কান, নাক, জিহ্বা ও ত্বক। এগুলোর মধ্য দিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক সময় ভালো কল্পনা আসে আবার কখনো কখনো মন্দ কল্পনা আসে। ভালো কল্পনার দ্বারা আমরা ভালো কাজের দিকে চলি। কিন্তু মন্দ কল্পনার দ্বারা মন্দ কাজের দিকে আকৃষ্ট হই। এখন প্রশ্ন হলো, প্রবৃত্তিগুলো কোথা থেকে আসে? এগুলো আসে আমাদের হৃদয় থেকে। প্রভু যীশু বলেছেন-'অন্তর থেকেই তো, মানুষের হৃদয় থেকেই তো বেরিয়ে আসে এমন-সব অসৎ অভিপ্রায়, যার ফলে শুরু হয় অবৈধ সংসর্গ, চুরি, নরহত্যা, ব্যভিচার, লোলুপতা, দুষ্টতা, প্রতারণা, যৌন উচ্ছৃঙ্খলতা, ঈর্ষা, পরনিন্দা, অহংকার ও মতিভ্রম। এ সমস্ত দুষ্টতা মানুষের অন্তর থেকেই বেরিয়ে আসে। আর এই সবই মানুষকে অশুচি করে তোলে' (মার্ক ৭:২১-২৩)।
আমাদের ভালো প্রবৃত্তিও আছে। সবচেয়ে ভালো প্রবৃত্তি হলো ভালোবাসা। এর উৎপত্তি হয় মানুষের মঙ্গল করার আকর্ষণ থেকে। সাধু আগস্টিন বলেন, 'ভালোবাসা হচ্ছে অন্যের মঙ্গল বাসনা বা কামনা করা।'
পাপের প্রলোভন জয় করার পথ আমাদের সকলেরই জানা থাকা দরকার। আমাদের এই বয়সে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কিছু প্রয়োজনীয় অভ্যাস গড়ে তোলা। ভালো অভ্যাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সহায়ক হলো আধ্যাত্মিক অভ্যাস। এর পাশাপাশি দেহের ইন্দ্রিয়গুলোকেও দমনে রাখা। ভালো অভ্যাসগুলো মানুষকে ভালো পথে চলতে সহায়তা করে। এগুলো সমস্ত প্রলোভন জয় করে আমাদেরকে রেললাইনের মতো সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে। প্রলোভন জয় করার কয়েকটি পথ উল্লেখ করা হলো:
- পাপ পরিত্যাগ করার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা করা;
- নিয়মিত প্রার্থনার অভ্যাস গড়ে তোলা। প্রলোভন জয় করার জন্য প্রার্থনায় ঈশ্বরের কাছে কৃপা, শক্তি ও সাহস চাওয়া;
- নিয়মিত পাপস্বীকার সাক্রামেন্ত গ্রহণ করা;
- নিয়মিত খ্রীষ্টযাগে যোগ দেওয়া ও পবিত্র খ্রীষ্টপ্রসাদ গ্রহণ করা;
- পবিত্র আত্মার শক্তিতে বিশ্বাস করা;
- শয়তানের শক্তিকে অস্বীকার করা:
- ভালো ও পবিত্র মানুষের সাহায্য ও পরামর্শ গ্রহণ করা;
- পবিত্র বাইবেল পাঠ ও ধ্যান করা;
- নিয়মিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করা ও নির্মল আনন্দে যোগদান করা;
- পরিবার, সমাজ ও মণ্ডলীর বিভিন্ন কাজেকর্মে অংশগ্রহণ করা;
- দরিদ্র ও অভাবী ভাইবোনদের সেবা করা;
- সব সময় ভালো বন্ধুদের সাথে মেলামেশা করা ও অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করে চলা।
পাপের প্রলোভন ত্যাগ করার জন্য আমাদের সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। ভালো বা মন্দ সঠিকভাবে বিবেচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এরপর সঠিক পথে চলার জন্য সর্বান্তকরণে চেষ্টা করতে হবে।
| কাজ: ১। তুমি তোমার জীবনে কখনো প্রলোভন জয় করে থাকলে তা দলে সকলের সাথে সহভাগিতা কর। কাজ: ২। তোমার অসৎ বন্ধুদের প্রলোভনে সাড়া না দিয়ে তুমি কীভাবে তাদের সৎ আদর্শ দেখাবে তা একটি দলে অভিনয় করে দেখাও। |
Read more