প্রবক্তা ইসাইয়া একজন খাঁটি মানুষ ছিলেন। তিনি একজন খাঁটি ঈশ্বরভক্তও ছিলেন। এই পাঠে আমরা দেখব ইসাইয়া স্বর্গের একটি দৃশ্য দেখতে পেয়েছিলেন। সেখানে তিনি ঈশ্বরকে দেখেছেন। ঈশ্বরের কাছ থেকে কথা শুনেছেন। ঈশ্বরের দূত তাঁকে শুচি করেছেন। বিশেষ কাজের জন্য ঈশ্বর তাঁকে ডেকেছেন এবং তিনিও তাতে সাড়া দিয়েছেন।
ইসাইয়ার স্বর্গের দৃশ্য দর্শন
রাজা উজ্জিয়া যে বছর মারা গেলেন, সেই বছরে আমি একদিন দেখতে পেলাম, উঁচুতে বসানো এক মহাসিংহাসনে প্রভু বসে আছেন। তাঁর বসনের সুদীর্ঘ প্রান্তভাগ গোটা পুণ্যস্থান জুড়েই ছড়িয়ে রয়েছে। ঊর্ধ্বে রয়েছেন একদল সেরাফদূত। তাঁরা চিৎকার করে পরস্পরকে বলছেন: 'পুণ্য, পুণ্য, পুণ্য বিশ্বপ্রভু পরমেশ্বর! সারা পৃথিবী জুড়েই তাঁর মহিমা প্রকাশ!' তাঁরা একের পর এক এই যে চিৎকার করছিলেন, তাঁদের স্বর-ধ্বনিতে তখন মন্দিরের প্রবেশদ্বারের ভিত কেঁপে কেঁপে উঠছিল। আর সেই সঙ্গে মন্দিরটি ধোঁয়ায় ভরে উঠছিল। আমি তখন বলে উঠলাম: 'এবার আমার সর্বনাশ হলো! আর আমার রক্ষা নেই। অশুচি-মুখ মানুষ আমি, আবার বাস করি অশুচি-মুখ এক জাতিরই মাঝখানে! আর সেই আমি কি না নিজের চোখ দিয়ে স্বয়ং রাজা, সেই বিশ্বপ্রভু পরমেশ্বরকেই দেখে ফেললাম!'
তখন সেরাফদের একজন আমার কাছে উড়ে এলেন। তাঁর হাতে ছিল এক টুকরো জ্বলন্ত অঙ্গার। তা তিনি চিমটে দিয়ে যজ্ঞবেদির ওপর থেকেই তুলে এনেছিলেন। আমার মুখে সেই অঙ্গার একবার স্পর্শ করিয়ে তিনি বললেন: 'এই দেখ, এটা তোমার ঠোঁট স্পর্শ করছে। তোমার অপরাধও দূর করা হয়েছে। তোমার পাপও মুছে ফেলা হয়েছে।' তখন আমি শুনতে পেলাম, প্রভু বলছেন: 'কাকে পাঠাব আমি? আমাদের দূত হয়ে কে যাবে?' আমি উত্তর দিলাম: 'আমি তো রয়েছি! আমাকেই পাঠাও!'
ইসাইয়া স্বর্গের দৃশ্যে দেখেছিলেন
ক) স্বর্গের সিংহাসনে ঈশ্বর উপবিষ্ট আছেন।
খ) ঈশ্বরের গৌরবগান করছেন সেরাফদূতগণ। তাঁরা ধূপারতি দিয়ে ঈশ্বরের প্রশংসা করছিলেন। তাঁদের প্রশংসায় মন্দিরের প্রবেশদ্বার কেঁপে উঠছিল।
ইসাইয়ার প্রতিক্রিয়া: ঈশ্বরকে দেখে ইসাইয়া ভয় পেলেন। কারণ তখনকার মানুষ মনে করত ঈশ্বরকে দেখা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ মানুষ অপবিত্র কিন্তু ঈশ্বর পবিত্র। তাই ইসাইয়া মনে করলেন, এবার বোধ হয় তিনি মারাই যাবেন।
ইসাইয়ার শুচীকরণ: ইসাইয়া বললেন, তাঁর মুখ ও চোখ অশুচি বা অপবিত্র। তিনি ঈশ্বরের কাছে সম্পূর্ণ অযোগ্য। কিন্তু ঈশ্বরের একজন দূত আগুন দিয়ে তাঁর মুখ পবিত্র করে তুললেন। এরপর দূত তাঁকে নিশ্চিন্ত হতে বললেন, কারণ এখন থেকে তিনি পবিত্র এক মানুষ বলে গণ্য হবেন।
ইসাইয়াকে ঈশ্বর আহ্বান করেন : ইসাইয়া শুচি হওয়ার পর ঈশ্বর একটি প্রশ্ন রাখলেন। ঈশ্বর বললেন: 'কাকে পাঠাব আমি? আমাদের দূত হয়ে কে যাবে?' এই প্রশ্নের মাধ্যমে ঈশ্বর ইসাইয়াকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিলেন। তিনি তাঁর কাজে যাওয়ার জন্য ইসাইয়াকে জোর করলেন না।
ইসাইয়ার উত্তর: প্রবক্তা ইসাইয়া ঈশ্বরের প্রশ্ন নিয়ে চিন্তা করলেন। এরপর তাঁর মনে ও হৃদয়ে ঈশ্বরের সেবাকাজ করার জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা জেগে উঠল। উত্তরে তিনি বললেন, 'আমি তো রয়েছি! আমাকেই পাঠাও!'
এভাবে ইসাইয়া প্রবক্তা হওয়ার জন্য ঈশ্বরের কাছ থেকে আহ্বান পেলেন। তিনি স্বাধীনভাবে ঈশ্বরের আহ্বানে সাড়া দিলেন। ঈশ্বর প্রবক্তা ইসাইয়াকে শুচি বা পবিত্র করলেন ইসাইয়ার নিজের জন্য নয়। বরং তিনি যেন ঈশ্বরের কাজ করতে পারেন, সে জন্যে ঈশ্বর তাঁকে পবিত্রতার এই সুন্দর গুণটি দিয়েছেন।
| কাজ: ১। ঈশ্বর তোমাকে কোনো বিশেষ কাজের জন্য আহ্বান করছেন কিনা সে বিষয়ে তোমার অনুভূতি সম্পর্কে লেখ। কাজ: ২। ইসাইয়ার স্বর্গের দৃশ্য দর্শন একটি দলে অভিনয় করে দেখাও। |