সত্যবাদী হওয়ার উপায় (পাঠ ২)

সত্যবাদিতা, শৃঙ্খলা ও সেবা - খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

530

ঈশ্বর সকল সত্যের উৎস। অর্থাৎ তাঁর কাছ থেকেই সত্য আসে। তাঁর বাক্য সত্য। তিনি পবিত্র বাইবেলে যা বলেছেন, সবই সত্য। পবিত্র বাইবেলের মাধ্যমে তিনি আমাদের জন্য যে আজ্ঞাগুলো দিয়েছেন তার সবই সত্য। তিনি চিরকাল বিশ্বস্ত। অর্থাৎ তাঁকে বিশ্বাস করা যায় কারণ তিনি যা বলেন তা করেন। যেহেতু ঈশ্বর সত্য, সেহেতু তিনি তাঁর সকল জনগণকে সত্য জীবন যাপন করার আহ্বান জানান। যেমন: ইস্রায়েল জাতিকে তিনি আজ্ঞাগুলো দিয়ে বলেছিলেন, তারা যদি তাঁর আজ্ঞাগুলো মেনে চলে, তবে তিনি তাঁদের সবসময় রক্ষা করবেন। তিনি তাঁর সেই কথা রেখেছিলেন। সব সময় তিনি তাঁদের পাশে পাশে ছিলেন।

খ্রীষ্টের মধ্যেই ঈশ্বরের সকল সত্য প্রকাশিত হয়েছে। খ্রীষ্ট এসেছেন জগতের আলো হয়ে। তিনি বলেন, যারা তাঁর প্রতি বিশ্বাসী, তাঁরা অন্ধকারে থাকতে পারে না। অন্ধকারের পথ হলো মন্দতার পথ। আলোর পথ হলো পবিত্রতার পথ। তিনি সত্যে পরিপূর্ণ। তিনি পরম সত্য। তিনি বলেন, তোমরা সত্যকে জানতে পারবে, আর সত্য তোমাদের মুক্ত করবে। যীশুকে অনুসরণ করার অর্থ হলো সত্যময় আত্মা, অর্থাৎ পবিত্র আত্মার দ্বারা চালিত হয়ে জীবন যাপন করা। যীশু খ্রীষ্ট হলেন ঈশ্বরের পুত্র। তাঁকে পিতা ঈশ্বর পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। খ্রীষ্ট আমাদেরকে সত্যের পথে পরিচালনা করেন।
একজন শিক্ষার্থীকে সত্যবাদী বলা যায় যখন সেঃ

ক) নিজের বাড়ির কাজ সঠিকভাবে ও যথাসময়ে করে।
খ) বাড়ির কাজ করেছে কি না, সেই বিষয়ে বন্ধুর সাথে সত্য কথা বলে।
গ) বাড়ির কাজ করতে না পারলে শিক্ষকের কাছে তার প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করে।
ঘ) পরীক্ষার সময় নকল করে না, নিজে যা জানে তা-ই লিখে, অন্য কারও খাতার দিকে তাকায় না।
ঙ) বিদ্যালয়ে কোনো দায়িত্ব পালনের কথা থাকলে তা যথাযথভাবে করে।
চ) কেউ ভুল করে বেশি টাকা বা জিনিস দিলে তা ফেরত দেয়।
ছ) ভুল করলে অকপটে তা স্বীকার করে।
জ) বন্ধুর কোনো গোপন কথা অন্য কারও কাছে বলে না।
ঝ) কারও টাকা পেলে তা অফিসে জমা দেয়, যেন প্রকৃত মালিক তা পেতে পারে।

প্রত্যেক মানুষকে ঈশ্বর বিবেক দিয়েছেন। সেই বিবেক দ্বারা মানুষ বুঝতে পারে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা। বিবেক মানুষের অন্তরের মধ্যে কথা বলে। যারা বিবেকের কণ্ঠস্বর শোনে ও সেইমতো কাজ করে, তারা সব সময় সত্য কথা বলতে পারে। তারা সত্য মানুষ হয়।

সব মানুষ সত্যময় সমাজে বাস করতে চায়। কারণ সত্যের সমাজে প্রকৃত সুখ ও আনন্দ পাওয়া যায়। মিথ্যার সমাজে সব সময় ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি, পরস্পরকে দোষ দেওয়া এবং এ রকম বিভিন্ন কিছু লেগেই থাকে। সাধু টমাস আকুইনাস বলেছেন, যারা একে অন্যের প্রতি সত্যবাদী, তারা পরস্পরের উপর আস্থা রাখে। সত্যবাদী মানুষেরাই একসাথে সুন্দর সমাজ গড়তে পারে। অনেক সময় ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত উদ্যোগে নানা সংঘ-সমিতি ও প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। যেগুলো সত্যবাদী মানুষেরা পরিচালনা করে, সেগুলো টিকে থাকে। কিন্তু যেসব সংঘ-সমিতি ও প্রতিষ্ঠানে পরিচালকদের মধ্যে অসত্য ও অন্যায় প্রাধান্য পায় সেগুলো বেশিদিন টিকে না।

কাজ: ১. কীভাবে সত্যময় জীবন গঠন করা যায় তা ছোট ছোট দলে আলোচনা কর।
কাজ: ২. চারজন চারজন করে দলে বসে খুঁজে বের করবে কোন কোন পথ আলোর পথ, আর কোন কোন পথ অন্ধকারের পথ।

অধিকতর সত্যবাদী হওয়ার দশটি উপায়

ক) সত্যবাদী হওয়ার জন্য নিজে নিজে অঙ্গীকার বা প্রতিজ্ঞা কর এবং তা মেনে চল।
খ) একজন গুরুকে বেছে নাও। তুমি যে অঙ্গীকার বা প্রতিজ্ঞা মেনে চলার চেষ্টা করছ এবং কতখানি উন্নতি হচ্ছে তা তাঁকে জানাও।
গ) কখনো কোন স্থানে বা কারও কাছে কোনো অসত্য কথা, ব্যাখ্যা বলার পূর্বে কয়েকবার চিন্তা কর।
ঘ) কথা বা তথ্য অতিরঞ্জিত করা, কাউকে আঘাত দিয়ে কথা বলা, কটুক্তি করা ইত্যাদির ব্যাপারে সাবধান হও।
ঙ) সত্যকে মিথ্যা বানিয়ে বলা বা অর্ধেক সত্য ও অর্ধেক মিথ্যাজাতীয় কথা বলার ব্যাপারে সাবধান থাক।
চ) মিথ্যা দিয়ে সত্যকে ঢাকার চেষ্টা কোরো না।
ছ) আনন্দের জন্য হলেও কোনো মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাক।
জ) যখন সত্য কথা বলা দরকার, তখন নীরব থেকো না। মিথ্যাকে প্রশ্রয় দিও না।
বা) যদি কখনো মিথ্যা বলেছ বলে মনে কর, তবে সঙ্গে সঙ্গে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ কর ও সত্য কথা বল।
ঞ) নির্জনে নিজের মনের সাথে নিজে আলাপ করে ঠিক কর কোন সময় কোন কাজটি করা তোমার জন্য সবচেয়ে ভালো।

কাজ : দলের মধ্যে 'সত্যের জয়' অথবা 'অনেস্টি ইজ দ্য বেস্ট পলিসি'- এর ওপর একটা ছোট অভিনয় প্রস্তুত কর ও ক্লাসে প্রদর্শন কর।
Content added || updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...