স্বর্গদূত ও মানুষের পতন: পরিত্রাণের প্রতিশ্রুতি (চতুর্থ অধ্যায়)

খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

201

ঈশ্বর অসীম দয়ালু ও মঙ্গলময়। তিনি চেয়েছিলেন, তাঁর সৃষ্টি বিশেষভাবে স্বর্গদূত ও মানুষ তাঁকে ভালোবাসবে, তাঁকে গভীরভাবে জানবে, তাঁর আরাধনা করবে এবং তাঁর বাধ্য থাকবে। তাই ঈশ্বর তাদেরকে স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রথমে সেই স্বর্গদূতদের কয়েকজন অহংকার করে তারই সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করল। তারা শয়তানে পরিণত হলো। এরপর তারা মানুষকেও পাপে ফেলার চেষ্টায় উঠেপড়ে লাগল। মানুষ শয়তানের প্রলোভনে পড়ে ঈশ্বরের অবাধ্য হলো। তাঁরা স্বাধীনতার অপব্যবহার করল। মানুষের সেই পাপটিকে আমরা বলি আদিপাপ। এই পাপ মানুষের ইতিহাসে প্রবেশ করল। কিন্তু অসীম দয়ালু ঈশ্বর তাঁর নিজের হাতে সৃষ্ট মানুষকে ধ্বংস করে ফেললেন না। তিনি তাদের কথা দিলেন যে তিনি তাদের জন্য একজন ত্রাণকর্তাকে পাঠিয়ে দিবেন।

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা:

  • পতিত স্বর্গদূতদের সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব
  • শয়তানের প্রলোভনে কীভাবে মানুষের পতন
  • ঘটেছিল তা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • আদিপাপের অর্থ ব্যাখ্যা করতে পারব
  • পাপের প্রলোভন জয় করার উপায় বর্ণনা করতে পারব
  • পাপকর্ম থেকে বিরত থাকতে শিখব
  • অসৎ সঙ্গ থেকে দূরে থেকে সৎ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ হবো।
Content added By

সর্বশক্তিমান ঈশ্বর স্বর্গদূতদের সৃষ্টি করেছেন তাঁর আরাধনা করার জন্য। ঈশ্বরের মতো তাঁদেরও শুধু আত্মা আছে, দেহ নেই। তাঁদেরকে ঈশ্বর স্বাধীন ইচ্ছা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাঁদেরকে তিনি সর্বোত্তমরূপে সৃষ্টি করেছেন। তাঁরা সারাক্ষণ ঈশ্বরের প্রশংসায় মেতে থাকেন এবং থাকেন সবচেয়ে সুখের স্থানে। তাঁদের মধ্য থেকে একজনের নাম ছিল লুসিফের। সে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল। তার দলে আরও কয়েকজন যোগ দিল। এভাবে তারা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করল এবং তাদের পতন হলো। যাদের পতন হলো তারা শয়তানে পরিণত হলো। শয়তান লুসিফেরকে এখন দিয়াবল নামে ডাকা হয়।
শয়তান বা দিয়াবলের পতনের মূল কারণ হলো, সে ঈশ্বরের রাজত্বকে মেনে নিতে চায়নি। তার দলে যারা যোগ দিয়েছিল, তারাও একইভাবে অহংকার করেছিল ও ঈশ্বরের অবাধ্য হয়েছিল। তাই ঈশ্বর তাঁদের জন্য একটি জ্বলন্ত আগুনের নরক প্রস্তুত করে সেখানে নিক্ষেপ করেছেন। সেখানে তারা অনন্তকাল জ্বলেপুড়ে কষ্ট পেতে থাকবে। তাদের পতনের মূল কারণ হলো, তাদেরকে ঈশ্বর যে স্বাধীন ইচ্ছা দিয়েছেন, তার অপব্যবহার করে তাঁরা ঈশ্বরকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা নিজেদের বড় মনে করেছিল। তারা ঈশ্বরের সমান হয়ে উঠতে চেয়েছিল এবং ঈশ্বরের বিরোধিতা করেছিল।

দিয়াবল বা শয়তান আমাদের আদি পিতা-মাতাকে পাপের প্রলোভন দেখিয়েছিল। শয়তানের ধ্বংসাত্মক কাজের মধ্যে এই প্রলোভনটি ছিল সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী। আমাদের আদি পিতা-মাতা সেই প্রলোভন জয় করতে না পেরে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করেছিলেন। দিয়াবল বলেছিল- 'তোমরা যদি এই গাছের ফল খাও, তবে তোমরা ঈশ্বরের মতোই হয়ে উঠবে, তোমরা ভালো-মন্দ জ্ঞান লাভ করবে।' তার এই কথার মধ্যে আমরা দেখতে পাই, সে একটা মস্ত বড় মিথ্যাবাদী। সমস্ত মিথ্যার জন্মদাতাও এই দিরাবল।
বিদ্রোহী স্বর্গদূতেরা তাদের পতনের পূর্বে তাদের স্বাধীন ইচ্ছার দ্বারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই কারণে তাদের পাপ ক্ষমার অযোগ্য। তাদের পতনের পর সেখানে ঈশ্বর স্বর্গদূতদের জন্য অনুতাপের কোনো সুযোগ দেননি।
আদি থেকেই তার নাম দেওয়া হয়েছে নরঘাতক। সে এতই ধ্বংসাত্মক যে, সে যীশুকেও পাপে ফেলার চেষ্টা করেছিল। যীশুকে সে স্বর্গীয় পিতার অবাধ্য হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। যীশু পিতার কাছ থেকে যে কাজের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন, শয়তান সেই কাজ থেকে তাঁকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
সাধু যোহন তাঁর প্রথম পত্রে বলেছেন- 'যে পাপকাজ করে, সে শয়তানেরই লোক। কারণ শয়তান সেই আদি থেকেই পাপ করে আসছে। শয়তান যা-কিছু করেছে, পরমেশ্বরের পুত্র তা নিষ্ফল করে দেবার জন্যই এজগতে এসেছিলেন' (১ যোহন ৩:৮)।
তবে আমরা জানি, ঈশ্বর সর্বশক্তিমান। শয়তানের কাজ কোনোক্রমেই সীমাহীন নয়। সে তো একজন সৃষ্টজীব মাত্র। আর ঈশ্বর হলেন তার সৃষ্টিকর্তা। প্রভু যীশু যে ঐশরাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে এ জগতে এসেছিলেন, তা শয়তান কোনোক্রমেই দমিয়ে রাখতে পারবে না। আমরা স্পষ্টই দেখতে পাই যে শয়তান এই জগতে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করে থাকে। খ্রীষ্ট যে ঐশরাজ্যের কাজ শুরু করেছেন তা বিনষ্ট করার জন্যও শয়তান সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে। কারণ সে ঈশ্বরের রাজ্যের বিস্তারকাজ সহ্য করতে পারে না। শয়তান মানুষকেও পাপে ফেলার জন্য সর্বদা চেষ্টা করছে। এভাবে সে মানুষের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত করছে। তবে যারা ঈশ্বরকে ভালোবাসে তারা শয়তানকে পরিত্যাগ করবে। এভাবে শয়তানের কাজকে তারা একদিন ব্যর্থ করে দিবে।

কাজ: বর্তমান জগতে আমরা শয়তানের কী কী কাজ দেখতে পাই? কাজগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত কর।
শয়তানের কাজ পরিহার করার জন্য তোমার করণীয় কী কী?
Content added By

ঈশ্বর তাঁর নিজের প্রতিমূর্তিতে গড়া মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছিলেন। তাঁকে শ্রেষ্ঠ করে সৃষ্টি করেছিলেন। তাকে দিয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ দান স্বাধীনতা। রেখেছিলেন পরম পবিত্র ও আনন্দময় স্থান স্বর্গের এদেন বাগানে। কিন্তু মানুষ পাপ করে যে কত সুখের স্থান হারালো, তা সে তখন বুঝতে পারেনি।
ঈশ্বর আমাদের আদি পিতা-মাতাকে তাঁর সৃষ্ট নতুন পৃথিবীর সবকিছু দেখাশোনা করার দায়িত্ব দিলেন। তিনি তাদের গাছপালা, পশু-পাখি ও জলচর সবকিছুর যত্ন নিতে বললেন। তিনি তাঁদেরকে একটি সুন্দর বাগানে রেখেছিলেন। সেখানে তাঁদেরকে সবকিছু উপভোগ করতে বললেন। তবে একটি মাত্র বিষয়ে তাদের বারণ করলেন। বাগানে ভালো-মন্দ জ্ঞানের একটি বিশেষ ফল গাছ ছিল। ঈশ্বর তাঁদের সেই গাছের ফল খেতে নিষেধ করলেন। তিনি তাদের বললেন যে, ঐ গাছের ফল খেলে তোমরা মারা যাবে। তাঁরা ঈশ্বরের আদেশ অনুসারে দিন যাপন করছিলেন।
শয়তান ঈশ্বরকে ঘৃণা করত। সে ঈশ্বরের প্রস্তুত করা এই সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করতে চাইল। সে ভাবলো, যদি সে মানুষকে পাপে ফেলতে পারে, তবে ঈশ্বর মনে মনে খুবই কষ্ট পাবেন। এভাবে শয়তান ঈশ্বরের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজতে লাগল। সে প্রথমে হবাকে প্রলোভনে ফেলার চেষ্টা করল। হবাকে সে বলল, এই ভালো-মন্দ জ্ঞানের গাছের ফল খুব মিষ্টি। কিন্তু হবা বললেন, না, এটা খাওয়া আমাদের নিষেধ। শয়তান বলল, ঈশ্বর কেন তোমাদের এটা খেতে নিষেধ করেছেন, জানো? এই ফল খেলে
তোমরা ঈশ্বরের মতো জ্ঞানী ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
সাপের কথা হবা বিশ্বাস করলেন। তাঁর মন গলে গেল। তিনি ফলের দিকে তাকিয়ে ঈশ্বরের নিষেধের কথা ভুলে গেলেন। তিনি ভুলে গেলেন ঈশ্বর যে তাঁদের দুজনকে কত ভালোবাসেন। হবা ঈশ্বরের মতো জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান হতে চাইলেন। ঈশ্বরের কথানুসারে না চলে তিনি নিজের ইচ্ছামতোই কাজ করতে চাইলেন। হবা হাত বাড়িয়ে শয়তানের কাছ থেকে একটা ফল নিলেন। তা তিনি নিজে খেলেন ও আদমকেও একটু দিলেন। আদম হবার পরামর্শ শুনে তা খেলেন। তখন থেকেই সবকিছু অন্যরকম হয়ে গেল। তাঁরা বুঝতে পারলেন, তাঁরা উলঙ্গ। তখন তাঁরা গাছের লতাপাতা দিয়ে পোশাক তৈরি করলেন ও তা পরিধান করলেন। ঈশ্বরকেও তাঁরা ভয় পেতে শুরু করলেন।
আদম ও হবা ঈশ্বরের কথা অমান্য করেছেন। তাঁরা ঈশ্বরের অমূল্য দান স্বাধীনতার অপব্যবহার করলেন। শয়তানের কথা শুনে তাঁরা ঈশ্বরের অবাধ্য হলেন। এভাবে আদি পিতা-মাতার পতন হলো। পাপের কারণে মানুষের জীবনে মৃত্যু প্রবেশ করল। ঈশ্বর তাঁদের শাস্তি দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিলেন। পৃথিবীতে এসে তারা কষ্টকর জীবনযাপন করতে লাগলেন।

কাজ: ছোট ছোট দলে আলোচনা কর: শিক্ষার্থীদের জীবনে কী কী প্রলোভন এসে থাকে? কীভাবে এসব প্রলোভন জয় করা যায়?
Content added By

আদম ও হবার আত্মা ছিল ঈশ্বরের মতো পবিত্র। সেই আত্মার শক্তিতে তাঁরা দেহকে দমন করতে পারতেন। আর তাঁদের স্বাধীনতা দ্বারা তাঁরা নিজের ভবিষ্যতের জন্য নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা তাঁদের জন্য একটা বড় পরীক্ষা ছিল। কিন্তু মানুষ সেই পরীক্ষায় হেরে গেলেন। শয়তানের প্রলোভনটি তাঁদের জন্য ছিল মারাত্মক। তাঁরা সেই প্রলোভনকে জয় করতে পারলেন না। তাঁরা শয়তানের কথাকে ঈশ্বরের কথার চাইতে বেশি আকর্ষণীয় মনে করলেন। তাঁদের লোভ হলো ঈশ্বরের মতো হওয়ার। তাই তাঁরা সব জেনেশুনে ঈশ্বরের অবাধ্য হলেন। এটাই হলো প্রথম মানুষের দ্বারা প্রথম পাপ। তাই এটাকে আমরা বলি আদিপাপ।

আদি পাপের অন্তর্নিহিত অর্থ
(১) আদি পাপের দ্বারা মানুষ ঈশ্বরের কাজ নিজেই করতে চাইলেন;
(২) ঈশ্বরকে মানুষ অবজ্ঞা করলেন;
(৩) মানুষ নিজের অমঙ্গল নিজে ডেকে আনলেন;
(৪) আদি পবিত্রতার কৃপা হারিয়ে ফেললেন;
(৫) তাঁরা ঈশ্বরকে ভয় পেতে শুরু করলেন;
(৬) ঈশ্বর সম্বন্ধে খারাপ (বিকৃত) ধারণা গ্রহণ করলেন;
(৭) ঈশ্বরের সাথে তাঁদের সুসম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেল;
(৮) তাঁরা দেহের উপর আত্মার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললেন;
(৯) তাঁদের দুজনের মধ্যে এলো কাম-লালসা;
(১০) সৃষ্টির সাথে তাঁদের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেল;
(১১) আদি পাপের মধ্য দিয়ে মানুষের ইতিহাসে মৃত্যু প্রবেশ করল;
(১২) এতে সকল মানুষের মধ্যে আদি পাপ প্রবেশ করল।

কাজ: আদম ও হবা কীভাবে শয়তানের প্রলোভনে পড়ে পাপ করেছিলেন তা অভিনয় করে দেখাও।
Content added By

প্রতি মুহূর্তে আমাদের কাছে পাপের প্রলোভন আসে। প্রলোভনগুলো কখনও আমাদের কাছে ভালো কাজ করার বা ভালো পথে চলার পরামর্শ দেয় না। এগুলো আমাদেরকে ক্ষণিকের আনন্দ উপভোগের দিকে নিয়ে যায়। কিন্তু সেই আনন্দ আমাদেরকে ঈশ্বরের পথ থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। এর পরে আমাদের কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়। কিন্তু অন্য দিকে ঈশ্বর আমাদের সামনে রেখেছেন তাঁর পথে চলার বাণী। তাঁর বাণী মেনে চললে আমরা তাঁর মতো পবিত্র পথে চলতে পারি। এভাবে মৃত্যুর পরে আমরা তাঁর সাথে থাকতে পারি। কাজেই ঈশ্বর আমাদের স্বাধীন ইচ্ছা দিয়েছেন। এর দ্বারা আমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের পথ আমরা নিজেরাই বেছে নিতে পারি।

প্রলোভনগুলো জয় করতে পারা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার পূর্বে প্রলোভনগুলোর উৎস সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকা দরকার। প্রলোভনের সবচেয়ে প্রধান উৎসটি হলো আমাদের নিজেদের ভিতরেই। আমাদের সকলেরই 'প্রবৃত্তি' আছে। প্রবৃত্তিগুলো হলো আবেগ ও ইন্দ্রিয়ের ক্ষুধা। আমাদের পাঁচটি ইন্দ্রিয় আছে। যথা: চোখ, কান, নাক, জিহ্বা ও ত্বক। এগুলোর মধ্য দিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক সময় ভালো কল্পনা আসে আবার কখনো কখনো মন্দ কল্পনা আসে। ভালো কল্পনার দ্বারা আমরা ভালো কাজের দিকে চলি। কিন্তু মন্দ কল্পনার দ্বারা মন্দ কাজের দিকে আকৃষ্ট হই। এখন প্রশ্ন হলো, প্রবৃত্তিগুলো কোথা থেকে আসে? এগুলো আসে আমাদের হৃদয় থেকে। প্রভু যীশু বলেছেন-'অন্তর থেকেই তো, মানুষের হৃদয় থেকেই তো বেরিয়ে আসে এমন-সব অসৎ অভিপ্রায়, যার ফলে শুরু হয় অবৈধ সংসর্গ, চুরি, নরহত্যা, ব্যভিচার, লোলুপতা, দুষ্টতা, প্রতারণা, যৌন উচ্ছৃঙ্খলতা, ঈর্ষা, পরনিন্দা, অহংকার ও মতিভ্রম। এ সমস্ত দুষ্টতা মানুষের অন্তর থেকেই বেরিয়ে আসে। আর এই সবই মানুষকে অশুচি করে তোলে' (মার্ক ৭:২১-২৩)।

আমাদের ভালো প্রবৃত্তিও আছে। সবচেয়ে ভালো প্রবৃত্তি হলো ভালোবাসা। এর উৎপত্তি হয় মানুষের মঙ্গল করার আকর্ষণ থেকে। সাধু আগস্টিন বলেন, 'ভালোবাসা হচ্ছে অন্যের মঙ্গল বাসনা বা কামনা করা।'
পাপের প্রলোভন জয় করার পথ আমাদের সকলেরই জানা থাকা দরকার। আমাদের এই বয়সে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কিছু প্রয়োজনীয় অভ্যাস গড়ে তোলা। ভালো অভ্যাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সহায়ক হলো আধ্যাত্মিক অভ্যাস। এর পাশাপাশি দেহের ইন্দ্রিয়গুলোকেও দমনে রাখা। ভালো অভ্যাসগুলো মানুষকে ভালো পথে চলতে সহায়তা করে। এগুলো সমস্ত প্রলোভন জয় করে আমাদেরকে রেললাইনের মতো সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে। প্রলোভন জয় করার কয়েকটি পথ উল্লেখ করা হলো:

  • পাপ পরিত্যাগ করার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা করা;
  • নিয়মিত প্রার্থনার অভ্যাস গড়ে তোলা। প্রলোভন জয় করার জন্য প্রার্থনায় ঈশ্বরের কাছে কৃপা, শক্তি ও সাহস চাওয়া;
  • নিয়মিত পাপস্বীকার সাক্রামেন্ত গ্রহণ করা;
  • নিয়মিত খ্রীষ্টযাগে যোগ দেওয়া ও পবিত্র খ্রীষ্টপ্রসাদ গ্রহণ করা;
  • পবিত্র আত্মার শক্তিতে বিশ্বাস করা;
  • শয়তানের শক্তিকে অস্বীকার করা:
  • ভালো ও পবিত্র মানুষের সাহায্য ও পরামর্শ গ্রহণ করা;
  • পবিত্র বাইবেল পাঠ ও ধ্যান করা;
  • নিয়মিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করা ও নির্মল আনন্দে যোগদান করা;
  • পরিবার, সমাজ ও মণ্ডলীর বিভিন্ন কাজেকর্মে অংশগ্রহণ করা;
  • দরিদ্র ও অভাবী ভাইবোনদের সেবা করা;
  • সব সময় ভালো বন্ধুদের সাথে মেলামেশা করা ও অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করে চলা।

পাপের প্রলোভন ত্যাগ করার জন্য আমাদের সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। ভালো বা মন্দ সঠিকভাবে বিবেচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এরপর সঠিক পথে চলার জন্য সর্বান্তকরণে চেষ্টা করতে হবে।

কাজ: ১। তুমি তোমার জীবনে কখনো প্রলোভন জয় করে থাকলে তা দলে সকলের সাথে সহভাগিতা কর।
কাজ: ২। তোমার অসৎ বন্ধুদের প্রলোভনে সাড়া না দিয়ে তুমি কীভাবে তাদের সৎ আদর্শ দেখাবে তা একটি দলে অভিনয় করে দেখাও।
Content added || updated By

শূন্যস্থান পূরণ কর:

১. ঈশ্বর অসীম ………………. ।
২. মানুষ ও স্বর্গদূত ………………. অপব্যবহার করলেন।
৩. যে পাপকাজ করে, সে ………………. লোক।
8. ………………. পাপের দ্বারা মানুষ ঈশ্বরের কাজ নিজেই করতে চাইলেন।
৫. সবচেয়ে ভালো প্রবৃত্তি হলো ……………….।

বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশের বাক্যাংশের মিল কর:

বাম পাশডান পাশ

১. নিয়মিত প্রার্থনার অভ্যাস

২. শয়তানের শক্তিকে

৩. প্রবৃত্তিগুলো হলো

৪. সৃষ্টির সাথে তাদের

৫. ঈশ্বরকে মানুষ

  • অস্বীকার করা
  • আবেগ ও ইন্দ্রিয়ের ক্ষুধা
  • সুসম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেল
  • গড়ে তোলা
  • আদি পাপ প্রবেশ করেছে
  • অবজ্ঞা করলেন

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. মানুষের প্রথম পাপকে কী বলা হয়?
ক. প্রথম পাপ
খ. আদি পাপ
গ. মহাপাপ
ঘ. গুরুপাপ

২. স্বর্গদূতদের সৃষ্টি করার কারণ কী?
ক. ঈশ্বরের আরাধনার জন্য
খ. মানুষের সেবার জন্য
গ. নিজেদের গৌরবের জন্য
ঘ. কর্তৃত্ব করার জন্য

নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
মধুপুর মণ্ডলী ঈশ্বরের আশীর্বাদে ও ফাদারের সঠিক পরিচালনায় বড় হতে লাগল। সজল কয়েকজনকে একত্র করে ফাদারের বিরোধিতা করে। ফলে তাকে মণ্ডলী থেকে বের করে দেওয়া হয়।

৩. সজলের এ স্বভাব পরিবর্তনের জন্য যা করা উচিত-
ক. ফাদারের প্রশংসা করবে
খ. স্বর্গদূতের আরাধনা করবে
গ. ঈশ্বরের রাজত্বকে মেনে নিবে
ঘ. সকলের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে

৪. সজলের পতনের মূল কারণ হলো-
i. স্বাধীন ইচ্ছার অপব্যবহার
ii. ঈশ্বরের বিরোধিতা করা
iii. অন্যের প্ররোচনা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. তপু : তনয় তোমার মোবাইলটা দেখতে তো খুব সুন্দর। কোথায় পেলে?
তনয় : আমি যে দোকানে কাজ করি, সেখান থেকে না বলে এটা নিয়ে এসেছি। তুমি যদি চাও তোমাকেও গোপনে একটা এনে দিতে পারি। কেউ দেখবে না।
তপু : চলো যাই তনয়, এক্ষুণি নিয়ে আসি।
তনয় : চলো।
ক. লুসিফেরকে কী নামে ডাকা হয়?
খ. মানুষ কেন ঈশ্বরের অবাধ্য হলো?
গ. কোন শিক্ষার আলোকে তনয় তার এ অবস্থা থেকে ফিরে আসতে পারবে?
ঘ. তনয়ের প্রলোভনের পরিণতি ও মানুষের পতন তুলনামূলক আলোচনা কর।

২. সুজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। সে খেলাধুলা, পড়াশোনা, অভিনয় সবকিছুতেই খুবই পারদর্শী। সে জন্য সে নিজেকে খুব বড় ভাবতে লাগল। স্কুলের দুর্বল শিক্ষার্থীদের সে নানাভাবে তিরস্কার করত। মাঝে মাঝে সে শিক্ষকদের কথাও শুনতে চায় না। এতে করে সে সবার ঘৃণার পাত্র হয়ে উঠল। একদিন শিক্ষককে বলল যে তাদের চেয়েও সে বেশি জানে। এ কথা যখন প্রধান শিক্ষকের কানে গেল, তখন তাকে স্কুল থেকে ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়া হলো।
ক. কোন স্বর্গীয় দূত ঈশ্বরের বিদ্রোহ করেছিল?
খ. কীভাবে শয়তানের পতন হয়েছিল?
গ. সুজনের আচরণ দ্বারা কী প্রকাশ পায়- তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
ঘ. স্বর্গদূতের পতন ও সুজনের পতনের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা কর।

সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন

১. মানুষের প্রবৃত্তি গুলো কী?
২. আদি পিতা-মাতাকে প্রলোভন দেখিয়েছিল কে?
৩. মানুষের ইন্দ্রিয় কয়টি ও কী কী?
8. আধ্যাত্মিক অভ্যাসের পাশাপাশি আর কিসের দমন রাখা প্রয়োজন?
৫. কোন স্বর্গদূত ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল?

বর্ণনামূলক প্রশ্ন
১. আদি পাপের অন্তর্নিহিত অর্থগুলো লেখ।
২. প্রলোভন থেকে রক্ষা পাবার উপায়গুলো লেখ।
৩. শিক্ষার্থীদের কী কী প্রলোভন হতে পারে, তার একটি তালিকা তৈরি কর।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...