নতুন নিয়মে ঈশ্বরের ভালোবাসার প্রকাশ (৩.২)

ঈশ্বরকে জানা - খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

174

পবিত্র বাইবেলের নতুন নিয়মের মূলভাবটিই হলো ভালোবাসা। সাধু যোহন বলেন, "আমাদের প্রতি পরমেশ্বরের ভালোবাসা এতই প্রকাশিত হয়েছে যে তিনি তাঁর একমাত্র পুত্রকে এ জগতে পাঠিয়েছিলেন, যাতে তাঁর দ্বারাই আমরা জীবন লাভ করি। এই তো তাঁর সেই ভালোবাসার মূলকথা: আমরা যে পরমেশ্বরকে ভালোবেসেছিলাম, তা নয়; তিনিই আমাদের ভালোবাসলেন, আর তাঁর আপন পুত্রকে আমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্তবলি হওয়ার জন্য পাঠালেন। প্রীতিভাজনেরা, পরমেশ্বর যদি আমাদের এমনিভাবেই ভালোবেসে থাকেন, তাহলে আমাদেরও উচিত পরস্পরকে ভালোবাসা। পরমেশ্বরকে কেউ কোনোদিন দেখেনি, তবে আমরা যদি পরস্পরকে ভালোবাসি, তাহলে পরমেশ্বর নিশ্চয়ই আমাদের অন্তরে রয়েছেন এবং ঈশ্বর-প্রেমও আমাদের অন্তরে পূর্ণতা লাভ করেছে" (১ যোহন ৪:৯-১২)।

ঈশ্বর প্রথমে মানুষকে ভালোবেসেছেন। তথাপি মানুষ তাঁর মর্যাদা দেয়নি। মানুষ বারবার পাপ করে ঈশ্বরের কাছ থেকে দূরে চলে যায়। কিন্তু ঈশ্বর আবার তাঁকে ক্ষমা করেন ও কাছে টেনে নেন। তিনি মানুষকে উদ্ধার করার জন্য নিজের পুত্রকে এ জগতে পাঠিয়ে তাঁর ভালোবাসার সর্বোচ্চ প্রমাণ দিলেন।
যীশু খ্রীষ্ট আমাদের কাছে পবিত্র ত্রিত্বকে তুলে ধরেন। পিতা, পুত্র ও আত্মার মধ্যেকার গভীর ভালোবাসার কথা তিনি আমাদের হৃদয়ে লিখে দিতে চান। পিতা ও পুত্র যেমন পরস্পরকে ভালোবাসেন এবং এক থাকেন, তাঁর শিষ্যগণও যেন তেমনি করে একে অপরকে ভালোবাসে ও এক থাকে।
ক্ষমাশীল পিতা, হারানো ছেলে ও কঠিন-হৃদয় ভাইয়ের উপমা কাহিনীর (লুক ১৫:১১-৩২) মধ্য দিয়ে যীশু ঐশ ভালোবাসার একটি সুন্দর চিত্র তুলে ধরেন। যীশু আমাদেরকে বলেন, আমরা যেন সবাইকে ভালোবাসি, এমনকি শত্রুদেরও। তিনি যে ভালোবাসার কথা বলেন তা তিনি নিজের জীবনে প্রয়োগ করেন। ক্রুশের উপর যন্ত্রণাভোগের সময় তিনি তাঁর শত্রুদের ক্ষমা করে দিয়ে ঈশ্বরের ভালোবাসার চূড়ান্ত প্রমাণ দিলেন।

কাজ: ঈশ্বরের ভালোবাসা তুমি কাদের মধ্য দিয়ে কীভাবে পেয়েছ, তা দলে অন্যদের সাথে সহভাগিতা কর।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...