সত্য কোনো দিন গোপন থাকে না। কারণ সত্য হলো আলোর মতো। আলো জ্বালালে যেমন অন্ধকার দূর হয়ে যায়, তেমনি সত্য প্রকাশ পেলে মিথ্যাও টিকতে পারে না। সত্যবাদিতা ব্যক্তিজীবনের জন্য একটি অন্যতম মহান গুণ। সমাজে সত্যবাদী ব্যক্তিকে সবাই শ্রদ্ধা করে। সত্যবাদী ব্যক্তি যেকোনো সমাজের মুকুটস্বরূপ। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সত্যবাদিতার গুরুত্ব আবশ্যক। আজকে যে শিক্ষার্থী, কাল সে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করবে। ব্যক্তি নিজের, সমাজের এবং রাষ্ট্রের জন্য নিম্নোক্তভাবে সত্যবাদিতার বীজ বপন করতে পারে:
ক) প্রার্থনাপূর্ণ জীবনযাপনের মাধ্যমে মন পবিত্র রেখে।
খ) চিন্তা ও কাজের মাধ্যমে সত্যবাদিতা প্রকাশ করে।
গ) ঘরে-বাইরে সব সময় সত্য কথা বলে।
ঘ) নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটায়, লেনদেনে সততার প্রমাণ দিয়ে।
ঙ) নিজের যেকোনো দোষ অকপটে স্বীকার করে।
চ) সমাজের সবার সাথে সুন্দর আচরণ করে।
ছ) সমাজে সত্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিরামহীনভাবে কাজ করার মাধ্যমে।
জ) রাষ্ট্রের কোনো কাজে ঘুষ বা কমিশন দেওয়া ও নেওয়া থেকে বিরত থেকে।
ঝ) সৎ জীবিকা দ্বারা সংসার চালনা করে।
ঞ) রাষ্ট্রের নিয়মকানুন মেনে সবকিছুতে সত্য স্থাপনে আগ্রহী হয়ে।
মিঃ সুরেশ উপশহর এলাকায় একজন মধ্যমানের মুদি দোকানদার। তিনি সুনামের সাথে দীর্ঘ পনের বছর ধরে এই ব্যবসা করছেন। আশেপাশে একই ধরনের অনেক দোকান থাকা সত্ত্বেও লোকজন সুরেশদার দোকান থেকেই কেনাকাটা বেশি করেন। মজার ও অবাক হওয়ার ঘটনা ঘটে প্রতি রবিবার দিন। সুরেশদা রবিবার সকালের খ্রীষ্টযাগে যোগদান করে, তাই দোকান খুলতে সকাল আটটা বেজে যায়। তিনি দোকানে এসে দেখতে পান অনেক ক্রেতা দোকান খোলার অপেক্ষায় আছেন। তাদের মধ্যে কেউ এক ঘন্টার বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। সুরেশদা দোকান চালাতে কোনো ম্যাজিক জানেন না অথচ অনেক ক্রেতা তার দোকানে। কেন? এই রহস্য জানতে সুরেশের স্কুলজীবনের বন্ধু রনি তাকে প্রশ্ন করেছিল, কী কারণে এত বেশি ক্রেতা তোমার দোকানে আসে? উত্তরে সুরেশদা বলেন, 'আমি ক্রেতাদের কাছ থেকে সঠিক দাম রাখি, মাপ ঠিক দেই এবং সততার সাথে ব্যবসা করি।'
সত্যবাদিতার পুরস্কার ঈশ্বর আমাদের প্রচুর পরিমাণে দেন, যেমনটি সুরেশদাকে দিয়েছেন। সত্যের জয় একদিন হয়ই। সত্যবাদিতায় জীবনযাপন করে আমরাও এর সুফল জীবনে গ্রহণ করব।
| কাজ: সমাজে ও রাষ্ট্রে সত্যবাদিতা প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের কোন ধরনের কাজ এখন থেকেই করতে হবে? |
Read more