সত্যবাদিতা, শৃঙ্খলা ও সেবা (নবম অধ্যায়)

খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

474

সত্যবাদিতা, শৃঙ্খলা ও সেবা এগুলো হলো মূল্যবোধ। 'মূল্যবোধ' কথার অর্থ মূল্যবান, মর্যাদাবান বা শক্তিশালী হওয়া। আমাদের আগেকার জানা বিষয়ের চেয়ে বেশি মূল্যবান বা বেশি প্রিয় বিষয়গুলো আমাদের জন্য মূল্যবোধ। মূল্যবোধের মধ্যে গুণ আছে বলেই আমরা এটাকে ভালোবাসি। এর মধ্যে যা থাকে তা এত বেশি মূল্যবান যে এইগুণকে আমরা নিজের জীবনের জন্য ধরে রাখতে চাই। মূল্যবোধ ধরে রাখার জন্য মানুষ কষ্টভোগ করতে রাজি হয়, এমনকি প্রয়োজনবোধে জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকে। আমরা খ্রীষ্টীয় মূল্যবোধের শিক্ষায় জীবন গঠন করতে চাই। কারণ এগুলো শিক্ষার মধ্য দিয়ে আমরা ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সকল মানুষকে ভালোবাসতে ও শ্রদ্ধা করতে ইচ্ছা করি। এই শিক্ষা লাভ করে আমরা নিঃস্বার্থভাবে দেশ ও জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করতে চাই।

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা

  • সত্যবাদিতা সম্পর্কে পবিত্র বাইবেলের শিক্ষা বর্ণনা করতে পারব
  • সত্যবাদী হওয়ার দশটি উপায় বর্ণনা করতে পারব
  • ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সত্যবাদিতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • শৃঙ্খলা সম্পর্কে পবিত্র বাইবেলের শিক্ষা বর্ণনা বলতে পারব
  • শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন গঠন করার উপায় বর্ণনা করতে পারব
  • শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের উপকারিতা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • সেবা সম্পর্কে পবিত্র বাইবেলের শিক্ষা বর্ণনা করতে পারব
  • পরিবার, সমাজ, মণ্ডলী ও রাষ্ট্রে সেবার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব
  • পরিবার, সমাজ, মণ্ডলী ও রাষ্ট্রের সেবা করার উপায় বর্ণনা করতে পারব
  • চিন্তায়, কথায় ও কাজে সত্যবাদী হবো
  • সুশৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হবো
  • গরিব-দুঃখী ও অসহায়দের প্রতি সেবার মনোভাব গড়ে তুলব।
Content added By

সত্যবাদিতা অর্থ হলো সত্য কথা বলা। সত্যবাদিতা বলতে বিশ্বস্ত, বিশ্বাসযোগ্য, মর্যাদাবান, পক্ষপাতহীন, খাঁটি ও আচরণে সরল মানুষকে বোঝায়।

ঈশ্বরের দশ আজ্ঞার অষ্টম আজ্ঞায় আছে: 'তোমার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যাসাক্ষ্য দিবে না' (যাত্রা ২০:১৬)। মিথ্যাসাক্ষ্য না দেওয়ার মাধ্যমে বোঝায় সত্যবাদিতা, অর্থাৎ সর্বদা সত্য কথা বলা। যে ব্যক্তি সত্য কথা বলে সে সত্য মানুষ হয়। যে মানুষ সত্য, সে সর্বদা সত্য কথা বলে। ঈশ্বর সত্যময়। আমাদের জানা ও পরিচিত সত্য বিষয়গুলো সত্যময় ঈশ্বরের কাছ থেকে আসে। যারা সত্য কথা বলে তারা সত্যময় ঈশ্বরের সাক্ষ্য দেয়। তাঁরা নিজের জীবনে সত্য কামনা করে। সত্য কামনা করার অর্থ হলো সর্বদা সত্যকে ভালোবাসা। সত্যকে ভালোবাসার অর্থ হলো সত্য কথা বলার বা সত্য মানুষ হওয়ার ফল গ্রহণ করা। অর্থাৎ সত্যকে ভালোবাসার ফলে যদি পুরস্কার পাওয়া যায়, তা তো আমরা অবশ্যই গ্রহণ করি। কিন্তু যদি আমাদের অপমান বা অত্যাচার সহ্য করতে হয়, তবে তা-ও গ্রহণ করতে হবে।

যারা মিথ্যা কথা বলে বা মিথ্যার আশ্রয় নেয়, তারা সত্যের বিরুদ্ধে পাপ করে। তারা সত্যময় ঈশ্বরের অপমান করে। মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার অর্থ অনৈতিক কাজ করা। যে কাজগুলো তাদের করা উচিত নয়, তারা তা-ই করে। এভাবে তারা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে অবিশ্বস্ত হয়। এর মাধ্যমে ঈশ্বরের সাথে তাদের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়।

একজন সত্যবাদী শিক্ষার্থী:

ক) সর্বদা সত্য কথা বলে, এর ফলে তার কোনো কষ্ট ভোগ করতে হবে কি না তা নিয়ে সে চিন্তা করে না।
খ) নিজের অনুভূতি অন্যের সাথে সহভাগিতা করে।
গ) নিজের মতামত প্রকাশের সময় অন্যেরা যেন আঘাত না পায় এমন সুরে কথা বলে।
ঘ) ইতিবাচকভাবে এবং একই সাথে ভালো ও মন্দ- দুই দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে নিজের মতামত প্রকাশ করে।
৬) শুধু প্রয়োজন হলে অন্যের বিরুদ্ধে মতামত প্রকাশ করে।
চ) সত্য কথা বলার পর তার ভিতরে কোন অপরাধবোধ থাকে না।
ছ) সহপাঠীদের ও শিক্ষকদের ভালো করে জানে ও তাদের জন্য সেবার কাজ করে।

উদাহরণ: সান্ত্বনা নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ছিল। সে একদিন তার স্কুলের টিফিনের সময় বারান্দায় একটি সুন্দর ঘড়ি পেল। সেটা পেয়ে সে তার শিক্ষকের কাছে জমা দিল। ক্লাস চলাকালে শেলী কান্নাকাটি করছিল। কারণ সে একটা ঘড়ি হারিয়ে ফেলেছে। ঐ ঘড়িটা তার মা তাকে বড়দিনের উপহার হিসেবে দিয়েছিল। শিক্ষক বুঝতে পারলেন ঐ ঘড়িটা শেলীরই। তখন তিনি শেলীকে ঘড়িটা দিলেন। তাতে তার কান্নাও থেমে গেল। শিক্ষক শেলীকে বললেন সে যেন সান্ত্বনাকে ঘড়িটা পেয়ে জমা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানায়। শেলী সান্ত্বনাকে জড়িয়ে ধরে তাকে ধন্যবাদ দিল ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল।

সত্য মানুষ সমাজের অন্যান্য মানুষের সাথে সুসম্পর্ক রচনা করতে পারে। যারা সত্য বলে তাদের অন্তরে কোনো ভয় থাকে না। কিন্তু যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় তারা ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে। সত্যের প্রতি ভালোবাসা যত বৃদ্ধি পায়, মানুষের মনের ভয়ও তত পরিমাণে দূরীভূত হয়।

উদাহরণ: সুব্রত আর জনি একই ক্লাসে পড়ে। তাদের শিক্ষক তাদেরকে ক্লাসরুমে সব বিষয় খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দেন। কিন্তু জনি তার মা-বাবাকে বলল যে তার শিক্ষক স্কুলে ভালো করে পড়ান না। তাই তার প্রাইভেট পড়তে হবে। তার বাবা তাকে প্রতি মাসে টাকা দিত। সে তা নিয়ে বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে জুয়া খেলত। ক্লাসে এসে সে খুব চুপচাপ থাকত। অন্য কারও সাথে মেলামেশা করত না। তার চোখেমুখে তাকালে বোঝা যেত যে সে সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকে। অন্যদিকে সুব্রত এ রকম কোনো কাজ করত না। সে সবসময় হাসিখুশি থাকত। সকলের সাথে সে মেলামেশা করতে পারত। তার মনে কোনো ভয় ছিল না।

কাজ: কোন কোন কাজকে মিথ্যার কাজ আর কোন কোন কাজকে সত্যের কাজ বলা যায় তা প্রথমে নিজের খাতায় তালিকাবদ্ধ কর এবং পরে ছোট ছোট দলে অন্যদের সাথে সহভাগিতা কর।
Content added By

ঈশ্বর সকল সত্যের উৎস। অর্থাৎ তাঁর কাছ থেকেই সত্য আসে। তাঁর বাক্য সত্য। তিনি পবিত্র বাইবেলে যা বলেছেন, সবই সত্য। পবিত্র বাইবেলের মাধ্যমে তিনি আমাদের জন্য যে আজ্ঞাগুলো দিয়েছেন তার সবই সত্য। তিনি চিরকাল বিশ্বস্ত। অর্থাৎ তাঁকে বিশ্বাস করা যায় কারণ তিনি যা বলেন তা করেন। যেহেতু ঈশ্বর সত্য, সেহেতু তিনি তাঁর সকল জনগণকে সত্য জীবন যাপন করার আহ্বান জানান। যেমন: ইস্রায়েল জাতিকে তিনি আজ্ঞাগুলো দিয়ে বলেছিলেন, তারা যদি তাঁর আজ্ঞাগুলো মেনে চলে, তবে তিনি তাঁদের সবসময় রক্ষা করবেন। তিনি তাঁর সেই কথা রেখেছিলেন। সব সময় তিনি তাঁদের পাশে পাশে ছিলেন।

খ্রীষ্টের মধ্যেই ঈশ্বরের সকল সত্য প্রকাশিত হয়েছে। খ্রীষ্ট এসেছেন জগতের আলো হয়ে। তিনি বলেন, যারা তাঁর প্রতি বিশ্বাসী, তাঁরা অন্ধকারে থাকতে পারে না। অন্ধকারের পথ হলো মন্দতার পথ। আলোর পথ হলো পবিত্রতার পথ। তিনি সত্যে পরিপূর্ণ। তিনি পরম সত্য। তিনি বলেন, তোমরা সত্যকে জানতে পারবে, আর সত্য তোমাদের মুক্ত করবে। যীশুকে অনুসরণ করার অর্থ হলো সত্যময় আত্মা, অর্থাৎ পবিত্র আত্মার দ্বারা চালিত হয়ে জীবন যাপন করা। যীশু খ্রীষ্ট হলেন ঈশ্বরের পুত্র। তাঁকে পিতা ঈশ্বর পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। খ্রীষ্ট আমাদেরকে সত্যের পথে পরিচালনা করেন।
একজন শিক্ষার্থীকে সত্যবাদী বলা যায় যখন সেঃ

ক) নিজের বাড়ির কাজ সঠিকভাবে ও যথাসময়ে করে।
খ) বাড়ির কাজ করেছে কি না, সেই বিষয়ে বন্ধুর সাথে সত্য কথা বলে।
গ) বাড়ির কাজ করতে না পারলে শিক্ষকের কাছে তার প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করে।
ঘ) পরীক্ষার সময় নকল করে না, নিজে যা জানে তা-ই লিখে, অন্য কারও খাতার দিকে তাকায় না।
ঙ) বিদ্যালয়ে কোনো দায়িত্ব পালনের কথা থাকলে তা যথাযথভাবে করে।
চ) কেউ ভুল করে বেশি টাকা বা জিনিস দিলে তা ফেরত দেয়।
ছ) ভুল করলে অকপটে তা স্বীকার করে।
জ) বন্ধুর কোনো গোপন কথা অন্য কারও কাছে বলে না।
ঝ) কারও টাকা পেলে তা অফিসে জমা দেয়, যেন প্রকৃত মালিক তা পেতে পারে।

প্রত্যেক মানুষকে ঈশ্বর বিবেক দিয়েছেন। সেই বিবেক দ্বারা মানুষ বুঝতে পারে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা। বিবেক মানুষের অন্তরের মধ্যে কথা বলে। যারা বিবেকের কণ্ঠস্বর শোনে ও সেইমতো কাজ করে, তারা সব সময় সত্য কথা বলতে পারে। তারা সত্য মানুষ হয়।

সব মানুষ সত্যময় সমাজে বাস করতে চায়। কারণ সত্যের সমাজে প্রকৃত সুখ ও আনন্দ পাওয়া যায়। মিথ্যার সমাজে সব সময় ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি, পরস্পরকে দোষ দেওয়া এবং এ রকম বিভিন্ন কিছু লেগেই থাকে। সাধু টমাস আকুইনাস বলেছেন, যারা একে অন্যের প্রতি সত্যবাদী, তারা পরস্পরের উপর আস্থা রাখে। সত্যবাদী মানুষেরাই একসাথে সুন্দর সমাজ গড়তে পারে। অনেক সময় ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত উদ্যোগে নানা সংঘ-সমিতি ও প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। যেগুলো সত্যবাদী মানুষেরা পরিচালনা করে, সেগুলো টিকে থাকে। কিন্তু যেসব সংঘ-সমিতি ও প্রতিষ্ঠানে পরিচালকদের মধ্যে অসত্য ও অন্যায় প্রাধান্য পায় সেগুলো বেশিদিন টিকে না।

কাজ: ১. কীভাবে সত্যময় জীবন গঠন করা যায় তা ছোট ছোট দলে আলোচনা কর।
কাজ: ২. চারজন চারজন করে দলে বসে খুঁজে বের করবে কোন কোন পথ আলোর পথ, আর কোন কোন পথ অন্ধকারের পথ।

অধিকতর সত্যবাদী হওয়ার দশটি উপায়

ক) সত্যবাদী হওয়ার জন্য নিজে নিজে অঙ্গীকার বা প্রতিজ্ঞা কর এবং তা মেনে চল।
খ) একজন গুরুকে বেছে নাও। তুমি যে অঙ্গীকার বা প্রতিজ্ঞা মেনে চলার চেষ্টা করছ এবং কতখানি উন্নতি হচ্ছে তা তাঁকে জানাও।
গ) কখনো কোন স্থানে বা কারও কাছে কোনো অসত্য কথা, ব্যাখ্যা বলার পূর্বে কয়েকবার চিন্তা কর।
ঘ) কথা বা তথ্য অতিরঞ্জিত করা, কাউকে আঘাত দিয়ে কথা বলা, কটুক্তি করা ইত্যাদির ব্যাপারে সাবধান হও।
ঙ) সত্যকে মিথ্যা বানিয়ে বলা বা অর্ধেক সত্য ও অর্ধেক মিথ্যাজাতীয় কথা বলার ব্যাপারে সাবধান থাক।
চ) মিথ্যা দিয়ে সত্যকে ঢাকার চেষ্টা কোরো না।
ছ) আনন্দের জন্য হলেও কোনো মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাক।
জ) যখন সত্য কথা বলা দরকার, তখন নীরব থেকো না। মিথ্যাকে প্রশ্রয় দিও না।
বা) যদি কখনো মিথ্যা বলেছ বলে মনে কর, তবে সঙ্গে সঙ্গে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ কর ও সত্য কথা বল।
ঞ) নির্জনে নিজের মনের সাথে নিজে আলাপ করে ঠিক কর কোন সময় কোন কাজটি করা তোমার জন্য সবচেয়ে ভালো।

কাজ : দলের মধ্যে 'সত্যের জয়' অথবা 'অনেস্টি ইজ দ্য বেস্ট পলিসি'- এর ওপর একটা ছোট অভিনয় প্রস্তুত কর ও ক্লাসে প্রদর্শন কর।
Content added || updated By

সত্য কোনো দিন গোপন থাকে না। কারণ সত্য হলো আলোর মতো। আলো জ্বালালে যেমন অন্ধকার দূর হয়ে যায়, তেমনি সত্য প্রকাশ পেলে মিথ্যাও টিকতে পারে না। সত্যবাদিতা ব্যক্তিজীবনের জন্য একটি অন্যতম মহান গুণ। সমাজে সত্যবাদী ব্যক্তিকে সবাই শ্রদ্ধা করে। সত্যবাদী ব্যক্তি যেকোনো সমাজের মুকুটস্বরূপ। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সত্যবাদিতার গুরুত্ব আবশ্যক। আজকে যে শিক্ষার্থী, কাল সে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করবে। ব্যক্তি নিজের, সমাজের এবং রাষ্ট্রের জন্য নিম্নোক্তভাবে সত্যবাদিতার বীজ বপন করতে পারে:

ক) প্রার্থনাপূর্ণ জীবনযাপনের মাধ্যমে মন পবিত্র রেখে।
খ) চিন্তা ও কাজের মাধ্যমে সত্যবাদিতা প্রকাশ করে।
গ) ঘরে-বাইরে সব সময় সত্য কথা বলে।
ঘ) নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটায়, লেনদেনে সততার প্রমাণ দিয়ে।
ঙ) নিজের যেকোনো দোষ অকপটে স্বীকার করে।
চ) সমাজের সবার সাথে সুন্দর আচরণ করে।
ছ) সমাজে সত্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিরামহীনভাবে কাজ করার মাধ্যমে।
জ) রাষ্ট্রের কোনো কাজে ঘুষ বা কমিশন দেওয়া ও নেওয়া থেকে বিরত থেকে।
ঝ) সৎ জীবিকা দ্বারা সংসার চালনা করে।
ঞ) রাষ্ট্রের নিয়মকানুন মেনে সবকিছুতে সত্য স্থাপনে আগ্রহী হয়ে।

মিঃ সুরেশ উপশহর এলাকায় একজন মধ্যমানের মুদি দোকানদার। তিনি সুনামের সাথে দীর্ঘ পনের বছর ধরে এই ব্যবসা করছেন। আশেপাশে একই ধরনের অনেক দোকান থাকা সত্ত্বেও লোকজন সুরেশদার দোকান থেকেই কেনাকাটা বেশি করেন। মজার ও অবাক হওয়ার ঘটনা ঘটে প্রতি রবিবার দিন। সুরেশদা রবিবার সকালের খ্রীষ্টযাগে যোগদান করে, তাই দোকান খুলতে সকাল আটটা বেজে যায়। তিনি দোকানে এসে দেখতে পান অনেক ক্রেতা দোকান খোলার অপেক্ষায় আছেন। তাদের মধ্যে কেউ এক ঘন্টার বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। সুরেশদা দোকান চালাতে কোনো ম্যাজিক জানেন না অথচ অনেক ক্রেতা তার দোকানে। কেন? এই রহস্য জানতে সুরেশের স্কুলজীবনের বন্ধু রনি তাকে প্রশ্ন করেছিল, কী কারণে এত বেশি ক্রেতা তোমার দোকানে আসে? উত্তরে সুরেশদা বলেন, 'আমি ক্রেতাদের কাছ থেকে সঠিক দাম রাখি, মাপ ঠিক দেই এবং সততার সাথে ব্যবসা করি।'

সত্যবাদিতার পুরস্কার ঈশ্বর আমাদের প্রচুর পরিমাণে দেন, যেমনটি সুরেশদাকে দিয়েছেন। সত্যের জয় একদিন হয়ই। সত্যবাদিতায় জীবনযাপন করে আমরাও এর সুফল জীবনে গ্রহণ করব।

কাজ: সমাজে ও রাষ্ট্রে সত্যবাদিতা প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের কোন ধরনের কাজ এখন থেকেই করতে হবে?
Content added By

শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন আমাদের সকলের জন্যই অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের জীবন আমাদের অবশ্যই গঠন করতে হবে। কিন্তু তা গঠনের পূর্বে আমাদের একটু ভালো করে শৃঙ্খলাবোধ সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। শৃঙ্খলাবোধ বলতে বোঝায় আত্মসংযম, আত্মশাসন, আত্মনিয়ন্ত্রণ। এর দ্বারা আমরা আরও বুঝি আত্মনির্ভরতা ও স্বাধীনতা। সেই সব শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবোধ আছে যারা:
ক) যথাসময়ে ও সঠিকভাবে তাদের বাড়ির কাজ সম্পন্ন করে।
খ) একটা কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত লেগে থাকে।
গ) একটা কাজ শেষ হলে আরেকটা কাজ যোগাড় করে নেয়।
ঘ) নিজের ব্যক্তিগত জীবন সঠিক পথে পরিচালনা করে।
ঙ) যাদের সাথে বাস করে সেই সমাজের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে।
চ) একবার কাজে সফলতা না আসলে বারবার চেষ্টা করে।
ছ) বন্ধুদের চাপে পড়ে কোনো কাজ করে না, বরং নিজের বিবেক যা বলে তা মেনে চলে।
জ) উৎপাদনশীল কাজে অর্থাৎ যে কাজ দিয়ে নিজের ও সমাজের উন্নয়ন হয়, তা করে।
ঝ) ধ্বংসাত্মক কাজ অর্থাৎ যে কাজ নিজের ও সমাজের ধ্বংস ডেকে আনে, তা পরিহার করে চলে।
ঞ) নিজের মেজাজ ঠান্ডা রেখে চলে।

আমরা যদি দৃঢ় শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন গড়ে তুলতে ইচ্ছা করি, তবে আমাদের নিম্নোক্ত কাজগুলো করা দরকার:
ক) দৃঢ়সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর যে তুমি অবশ্যই একজন দৃঢ় শৃঙ্খলাপূর্ণ মানুষ হতে ইচ্ছা কর। তোমার এই আকাঙ্ক্ষাই তোমাকে শৃঙ্খলার পথে চলতে অনুপ্রাণিত করবে।
খ) ব্যক্তিগতভাবে প্রতিজ্ঞা কর যে তুমি প্রতিদিন নিজের মধ্যে কিছু কিছু গুণ বপন করবে এবং সেগুলো শক্তিশালী করে তুলবে।
গ) কোনটা ভালো ও সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং কোনটা মন্দ ও সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়, তা ভালো করে জানতে থাক।
ঘ) কর্তৃপক্ষের কাছে সব সময় জবাবদিহি করার অভ্যাস রাখ। নিজের ভালো বা মন্দ কাজের যেকোনো ফল গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাক। নিজের ভুলের জন্য অন্যকে দোষারোপ কোরো না।
ঙ) শৃঙ্খলা চর্চা বা অনুশীলন করতে থাক। কারণ অনুশীলন করতে করতে মানুষ উন্নতি করতে পারে। সারা দিনের জন্য একটা রুটিন প্রস্তুত কর এবং সে অনুসারে চলার আপ্রাণ চেষ্টা কর।
চ) ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার করে চল। উদাহরণস্বরূপ মন্দ বই পড়া, মন্দ ফিল্ম দেখা, মন্দ বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক রাখা, ধূমপান করা ইত্যাদি থেকে বিরত থাক।
ছ) যারা তোমার মতো শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন ভালোবাসে, তাদের সাথে বন্ধুত্ব কর ও মাঝে মাঝে তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা কর।

Content added By

শৃঙ্খলা আমাদের প্রত্যেকের জীবনে প্রয়োজন। ঈশ্বর বিশ্ব সৃষ্টি করে এখানে একটা নিয়ম-শৃঙ্খলা দিয়ে দিয়েছেন। তাঁর সেই শৃঙ্খলা মেনে চলে সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ-নক্ষত্র, সকল জীবজন্তু, প্রকৃতি ইত্যাদি। আমাদের দেহটাও তাঁর দেওয়া নিয়মের বাইরে গেলে অসুস্থ হয়ে যায়। কাজেই ঈশ্বরের নির্দেশে সবকিছু চলছে। তিনি পবিত্র বাইবেলে আমাদের জীবনটাকে শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে পরিচালনার জন্য যথাযথ বাণী রেখেছেন। আমরা এখন সেগুলো নিয়ে আলোচনা করব। ঈশ্বরভক্তদের জীবনে বিভিন্ন ধরনের কষ্ট এসে থাকে। সেগুলো হলো: ঈশ্বরের কাছ থেকে শাসন ও তিরস্কার, ঈশ্বরের ন্যায়বিচার, পরিশোধনকারী পরীক্ষা ও দুঃখ-কষ্ট।

প্রথমত, ঈশ্বরের শাসন ও তিরস্কার। হিব্রুদের কাছে ধর্মপত্রে বলা হয়েছে 'সন্তান আমার, প্রভুর শাসন তুচ্ছ কোরো না, তিনি তোমাকে ভর্ৎসনা করলে তুমি নিরাশ হয়ো না; কারণ প্রভু যাকে ভালোবাসেন, তাকে শাসন করেন, সন্তান বলে যাকে গ্রহণ করেন, তাকে শাস্তি দেন' (হিব্রু ১২:৫-৬)। আমাদের মা-বাবা আমাদের শাসন করেন, কারণ তারা আমাদের মঙ্গল চান। ঈশ্বর আমাদের শাসন করেন যেন আমাদের জীবন সুন্দর হয়; যেন আমরা তাঁর পথে চলি ও তাঁর মতো পবিত্র হই। শাসন আমাদের কাছে কখনো মিষ্টি লাগে না। কিন্তু পরে আমরা বুঝি যে তা আমাদের কল্যাণের জন্যই হয়েছে। তাই যোব-এর গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'ঈশ্বর যাকে শাসন করেন, ধন্য ধন্য সেই মানুষ! তাই বলছি, সর্বশক্তিমানের দেওয়া শিক্ষা তুমি তুচ্ছ কোরো না। তিনি না হয় আঘাত করেন, কিন্তু ক্ষতস্থান বেঁধেও দেন। তিনি না হয় ব্যথা-ই দেন, কিন্তু সে ব্যথা সারিয়েও তোলেন' (যোব ৫:১৭-১৮)। প্রবচন গ্রন্থে আরও বলা হয়েছে: 'নিজের পিতার দেওয়া সৎ শিক্ষা যে উপেক্ষা করে, সে তো নির্বোধ; সতর্কবাণীতে যে কান দেয়, সে বিচক্ষণ মানুষ' (প্রবচন ১৫:৫)। সাধু পলের মধ্য দিয়ে ঈশ্বর বলেন: 'প্রভু যখন আমাদের বিচার করেন, তখন আমাদের শাসন করেন, যেন আমরা জগতের সঙ্গে বিচারাধীন না হই' (১করি ১১:৩২)।

দ্বিতীয়ত, আমরা যখন কোনো পাপ করি, তখন আমাদের বিবেকের মধ্য দিয়ে ঈশ্বর কথা বলেন। তিনি আমাদের দোষটা ধরিয়ে দেন। তাই সাধু পল বলেন, 'নিজেদের ভুলিয়ো না, ঈশ্বরের সঙ্গে চালাকি করা চলে না। আসলে মানুষ যেমন বীজ বুনবে, ঠিক তেমন ফসলই পাবে' (গালা ৬:৭)। তিনি আরও বলেন, ঈশ্বর মঙ্গলময়, আবার একই সাথে তিনি কঠোর। অর্থাৎ তিনি সবকিছুই আমাদের মঙ্গলের জন্যই করেন। আমরা পাপ করলে শাস্তি পাই। এটা আমাদের পাপময় জীবনের পরিশোধন করার জন্য ঘটে। আবার মন পরিবর্তন করলে আনন্দের জীবনে ফিরে আসি।

কাজ: তোমার বিবেকের মধ্য দিয়ে তুমি কখনো ঈশ্বরের তিরস্কার শুনে থাকলে তা দলের সকলের সাথে সহভাগিতা কর।
Content added By

শৃঙ্খলাবিহীন জীবন রাডারবিহীন জাহাজের মতো। সমুদ্রে জাহাজে রাডার থাকলে যেমন জাহাজটি সঠিক স্থানে পৌছতে পারে, তেমনি জীবনে শৃঙ্খলা থাকলে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব হয়। শৃঙ্খলা থাকলে জীবনের অন্যান্য গুণগুলোও যথাযথভাবে প্রকাশ করা যায়, সেগুলো দিয়ে জীবন বিকশিত করা যায়। জীবনে সফল হতে হলে শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন গড়তে হবে। এরকম জীবনের ধারণা আমরা পেয়েছি পৃথিবীর মহান ব্যক্তিদের কাছ থেকে। তাঁদের জীবনে শৃঙ্খলা ছিল বলে তাঁরা মহান হতে পেরেছেন। যে খেলোয়াড়েরা শৃঙ্খলা মেনে খেলে, তাঁদের জয়ের আশা বেশি থাকে। কিন্তু খেলাধুলায় পারদর্শী হয়েও যাঁরা বিশৃঙ্খলভাবে খেলে, তাঁদের হেরে যেতে হয়। যে বিদ্যালয়ের নিয়মশৃঙ্খলা ঠিকমতো চলে, সেখানে বার্ষিক ফলাফলও ভালো হয়। যে শিক্ষার্থী তার শিক্ষকের কথা মেনে চলে, সে শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যক্তি হতে পারে। পড়াশোনায় সে কৃতকার্যতা লাভ করতে পারবে। কিন্তু যে শিক্ষার্থী শিক্ষকের সুপরামর্শ অনুসারে চলে না, জীবনে তাকে ভীষণ কষ্টভোগ করতে হয়। যে কলকারখানা শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে চলে, তাতে উৎপাদন বেশি হয়। রাস্তাঘাটে নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চললে দুর্ঘটনা কম হয়। সেনাবাহিনী নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চললে যুদ্ধে জয়ের আশা বেশি থাকে। সুস্বাস্থ্যের জন্যও নিয়মশৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, বিশ্রাম, ব্যায়াম পরিশ্রম ইত্যাদি নিয়ম মেনে চলে, তাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। যে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন করে, তাঁরা দেশের সুনাগরিক হতে পারে। সমাজে সুখী হতে হলে জীবনে শৃঙ্খলা আনতে হয়। আমরা যদি যার যার মতো করে চলি তবে সমাজটা একটা বিশৃঙ্খলপূর্ণ সমাজে পরিণত হবে। তখন সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তি এবং সমাজ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে, পতনের মুখে পড়বে। আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধন করতে হলেও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়। আত্মদমন বা আত্মশাসনের মাধ্যমে আত্মার মুক্তি আনয়ন সম্ভব। কারণ এর মাধ্যমে মানুষ তার সকল প্রকার কামনা-বাসনা জয় করতে পারে। স্বর্গে গিয়ে ঈশ্বরের সাথে মিলনের জন্য শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন করতে হবে।

Content added By

একবার ফরিসিরা ও শাস্ত্রগুরুরা দল বেঁধে যীশুর কাছে এলেন তাঁকে কথার ফাঁদে ফেলার জন্য। তারা যীশুকে জিজ্ঞেস করলেন, সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আদেশ কোনটি? যীশু উত্তরে বললেন, প্রথম আজ্ঞাটি হলো: তুমি তোমার ঈশ্বর প্রভুকে তোমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে, তোমার সমস্ত প্রাণ দিয়ে ও তোমার সমন্ত মন দিয়ে ভালোবাসবে। আর দ্বিতীয়টি হলো: তুমি তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসবে।

সাধু পল বলেন, 'ভাইয়েরা আমার, তোমরা স্বাধীনতার জন্যই আহুত হয়েছ। শুধু দেখ, এই স্বাধীনতা যেন তোমাদের নিম্নতর স্বভাবটিকে কোন রকম সুযোগ না দেয় বরং ভালোবাসার মাধ্যমে পরস্পরের সেবা কর' (গালা ৫:১৩)।

উপরের দুটি শাস্ত্রাংশ অনুসারে আমরা বুঝতে পারি, ভালোবাসলে দায়িত্ব নিতে হয়। আর দায়িত্ব নেওয়ার অর্থই হলো সেবা করা। আমাদের সেবা হবে ঈশ্বরের ও প্রতিবেশীদের প্রতি। আমাদের প্রতিবেশী কে? এর উত্তর দিতে গিয়ে যীশু বলেছেন দয়ালু সামারীয়ের গল্প। সেই সামারীয় লোকটির মতোই আমাদের হতে হবে অন্যের সেবক। ভালোবাসা ও সেবা যে পরস্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত, তা যীশু শুধু কথায় নয়, কাজেও দেখিয়েছেন। শিষ্যদের নিয়ে শেষ ভোজে বসে যীশু সেবার মহান আদর্শ দেখিয়ে গেছেন। তিনি শিষ্যদের প্রত্যেকের কাছে গিয়ে তাঁদের পা ধুয়ে দিয়েছেন। তিনি তাঁদের বলেছেন, তোমাদের পা যদি আমি ধুয়ে না দিই তবে তোমাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্কই থাকে না। পা ধুয়ে দিয়ে তিনি তাঁদের একটি নতুন আদেশ দিলেন। তিনি তাঁদের প্রত্যেককে ভালোবাসতে বললেন, ঠিক যেমনটি করে তিনি তাঁদের ভালোবেসেছেন। এই আদর্শ দিয়েও তিনি দেখিয়েছেন, আমরা যদি পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে চাই তবে পরস্পরকে সেবা করতে হবে।

ভালোবাসা ও তার প্রকাশস্বরূপ সেবার উপর যীশু সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর শিক্ষানুসারে সেবার ভিত্তিতেই মৃত্যুর পর আমাদের শেষ বিচার হবে। তাই তিনি বলেছেন- যারা ক্ষুধার্তকে আহার দিবে, তৃষ্ণার্তকে পানীয় দিবে, আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দিবে, বস্ত্রহীনকে পোশাক দিবে, অসুস্থকে সেবা করবে, বন্দীকে দেখতে যাবে-সে-ই স্বর্গে যেতে পারবে। যারা এগুলো করবে না, তারা স্বর্গে যাবার অধিকার হারাবে।
প্রভু যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন- 'তোমাদের মধ্যে যে-কেউ বড় হতে চায়, তাকে তোমাদের সেবক হতে হবে, আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ প্রধান হতে চায়, তাকে হতে হবে তোমাদের দাস, ঠিক যেমন মানবপুত্র সেবা পেতে আসেননি, কিন্তু এসেছেন সেবা করতে ও তোমাদের মুক্তিমূল্য রূপে নিজের প্রাণ দিতে' (মথি ২০:২৬-২৮)।

সাধু পিতরকে প্রভু যীশু খ্রীষ্ট দায়িত্ব দিয়ে গেছেন তাঁর মেষদের দেখাশোনা করতে। মণ্ডলীর প্রধান হিসেবে সাধু পিতর বুঝতে পেরেছিলেন ভালোবাসার গুরুত্ব। তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, সেবার মধ্য দিয়েই ভালোবাসার সবচেয়ে উত্তম প্রকাশ ঘটানো সম্ভব। তাই তিনি মণ্ডলীর সবার উদ্দেশে বললেন, তোমরা পবিত্র আত্মার কাছ থেকে যে যেমন দান পেয়েছ, সে তত বেশি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির মতো সকলের সেবা কোরো।

কাজ: তুমি কী কী সেবাকাজের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করতে পার, তা দলের অন্যদের সাথে সহভাগিতা কর।
Content added By

সেবার বিষয়ে বাইবেলের শিক্ষা থেকে আমরা পরিষ্কার ভাবে বুঝতে পারি যে, যীশুখ্রীষ্ট তার পরিবারে, সমাজে ও রাষ্ট্রের সেবাকাজ করেছেন। তাঁর এই আদর্শ আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে যেন আমরাও একই সেবাকাজ চালিয়ে যেতে পারি। ক) পরিবার যীশু ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত তাঁর মা-বাবার সাথে থেকেছেন এবং তাঁদের সব ধরনের কাজে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। তাদের বাধ্য এবং অনুগত থেকেছেন। মারীয়ার সাথে ঘরের কাজে এবং যোসেফের সাথে মিস্ত্রীর কাজে প্রতিনিয়ত সহায়তা করে তাদের সেবা যত্ন করেছেন। আমরাও সন্তান হিসেবে মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয় পরিজনদের সেবা যত্ন করতে পারি। তাঁদের পরামর্শ অনুসরণ করে সঠিকভাবে কাজ কর্ম সমাধা করে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা পোষণ করতে পারি।

খ) সমাজ: যীশু তার জীবনের বিভিন্ন আশ্চর্য কাজের মাধ্যমে সমাজের জনগণের সেবা করে গেছেন। আমরাও যীশুর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজের বিভিন্ন সেবামূলক কাজে যেমন- অসুস্থ্যদের সেবাদান, গরিব-দুঃখীদের সাহায্য দান এবং নির্যাতিত-নিপীড়িত যারা তাদের সান্ত্বনা দান করে যেতে পারি।

গ) মণ্ডলী: যীশু মন্ডলীতে বা সমাজ ঘরে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দানের মাধ্যমে সেবা করেছেন। আমরাও নিয়মিত খ্রীষ্টযাগ বা প্রার্থনা অনুষ্ঠানে যোগদান করে এবং মন্ডলীর উন্নয়নমূলক কাজে বা মন্ডলীতে সেবারতদের জন্য টাকা-পয়সা দান করে মন্ডলীর বিভিন্ন সেবা কাজে অংশ নিতে পারি।

ঘ) রাষ্ট্র: যীশু গোটা মানবজাতির পরিত্রাণের জন্য তার জীবন পর্যন্ত দান করেছেন। আমরা প্রতিদিনকার কর্মজীবনে রাষ্ট্রের জনগণের জন্য কাজ করতে পারি। আমাদের কর্মজীবনে বিশ্বস্ত ও আদর্শ জীবন যাপন করে, ধনী-গরীব ভেদাভেদ সৃষ্টি না করে, সবার সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করে আমরা রাষ্ট্রের সেবামূলক কাজে অংশ নিতে পারি।

যীশুর আদর্শ অনুসরণ করতেই আমরা আহুত হয়েছি। তাঁকে অনুসরণ করার অর্থ হলো তিনি যেভাবে জীবনযাপন করেছেন সেই একই আদর্শ নিজ জীবনে বাস্তবায়িত করা। তাই বলা যায় পরিবার, সমাজ, মন্ডলী বা রাষ্ট্রের সেবার জন্য যেন আমাদের জীবন ব্যয় করি, আর তাতেই আমাদের জীবন হবে সুন্দর, সার্থক ও মঙ্গলময় ।

Content added By

শূন্যস্থান পূরণ কর:

১. তোমার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে দিবে না।
২. সত্য কামনা করার অর্থ হলো সর্বদা সত্যকে 1
৩. আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধন করতে হলেও মেনে চলতে হয়।
8. তোমাদের মধ্যে যে কেউ বড় হতে চায়, তাকে তোমাদের হতে হবে।
৫. মণ্ডলীর প্রধান হিসেবে সাধু পিতর বুঝতে পেরেছিলেন গুরুত্ব।

বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশের বাক্যাংশের মিল কর:

বাম পাশডান পাশ
১. আমরা খ্রীষ্টীয় মূল্যবোধের
২. খ্রীষ্টের মধ্যেই ঈশ্বরের
৩. যে মানুষ সত্য
8. সব মানুষ সত্যময়
৫. শৃঙ্খলাবিহীন জীবন
  • সে সর্বদা সত্য কথা বলে
  • সমাজে বাস করতে চায়
  • সকল সত্য প্রকাশিত হয়েছে
  • নিয়ম-শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
  • শিক্ষায় জীবন গঠন করতে চাই
  • রাডার বিহীন জাহাজের মতো

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন


১. শৃঙ্খলাবোধ বলতে কী বোঝায়?
ক. আত্মসংযম
খ. আত্মবোধ
গ. আত্মরক্ষা
ঘ. আত্মমূল্যায়ন

২. প্রত্যেক মানুষকে ঈশ্বর বিবেক দিয়েছেন কেন?
ক. ঈশ্বরকে মনে রাখতে
খ. ভালোমন্দ বিচার করতে
গ. বাস্তবতায় প্রবেশ করতে
ঘ. আনন্দিত হতে

নিচের অনুচ্ছেটি পড় এবং ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
রবিন বরাবরই ক্লাসে ভদ্র ও নম্র আচরণ করে। সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে একদিন রবিন ও তাঁর সহপাঠী প্রবীণের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জানতে চাইলে রবিন অকপটে অপরাধ স্বীকার করে এবং তাঁর কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চায়।

৩. রবিনের আচরণে কোন গুণটি প্রকাশ পেয়েছে?
ক. সাহসিকতা
খ. পরনির্ভরশীলতা
গ. সত্যবাদিতা
ঘ. ন্যায্যতা

8. রবিনের এসব গুণের কারণে সমাজের লোকেরা তাকে-
i. শ্রদ্ধা করবে
ii. ভালোবাসবে
iii. অনুসরণ করবে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. iii
ঘ. i, ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. দশম শ্রেণির ছাত্র প্রদীপ পড়ালেখায় খুব ভালো। ক্লাসের কোনো ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরকে আন্তরিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করে ছাত্রদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে দুর্বল ছাত্রদের বেতন প্রদানে সহযোগিতা করে। তাঁর এসব কাজ দ্বারা সে সবার মন জয় করে নিয়েছে। সে এম, এ, এম, এড ডিগ্রি লাভ করে ঐ স্কুলেই শিক্ষকতায় প্রবেশ করে। ম্যানিজিং কমিটি তাঁর কাজে খুশি হয়ে তাকে কয়েক বছর পর প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দিলেন।

ক. সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আদেশ কয়টি?
খ. স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য শৃঙ্খলা গুরুত্বপূর্ণ কেন?
গ. সুন্দর জীবন গঠনে প্রদীপ খ্রীষ্টধর্মের কোন শিক্ষা গ্রহণ করেছে বর্ণনা কর।
ঘ. 'প্রদীপ যেন সাধু পিতরেরই মূর্তপ্রতীক' এ বিষয়টির সাথে তুমি কী একমত পোষণ কর? তোমার মতামত দাও।

২. পিয়াল পড়ালেখায় মনোযোগ দেয় এবং প্রতিনিয়তই সে অধ্যবসায় করে। কিন্তু তাঁর স্মরণশক্তি কম থাকায় সে কোনো বিষয় পড়ায় দুর্বল হলেও সে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া-আসা করা, ক্লাসে উপস্থিত থেকে শিক্ষকদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা ও প্রতিদিনের পাঠ শেষ করা, বাড়ির কাজ করা, পিতা-মাতার আদেশ মান্য করা, সময়মত ঘুম থেকে ওঠা ইত্যাদি কাজগুলো আন্তরিকতার সাথে করে থাকে। যেহেতু সামনেই তার বার্ষিক পরীক্ষা। তাই সে ঈশ্বরের কাছে নিয়মিত প্রার্থনা করতে লাগল। পরিশেষে বার্ষিক পরীক্ষায় সে ভালো ফলাফল করল।
ক. ঈশ্বর তাঁর কোন আজ্ঞায় মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে নিষেধ করেছেন?
খ. মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে ঈশ্বর নিষেধ করেছেন কেন?
গ. পিয়ালের আচরণে পাঠ্যপুস্তকের কোন শিক্ষা ফুটে উঠেছে বর্ণনা কর।
ঘ. তুমি কি মনে কর পিয়ালের এ ধরনের জীবনযাপন তার জীবনে অনেক সুফল বয়ে নিয়ে আসবে? উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন

১. সত্যবাদিতা অর্থ কী?
২. যারা সত্য বলে তাদের অন্তরে কী থাকে না?
৩. শৃঙ্খলা বলতে কী বোঝায়?
8. সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য কী প্রয়োজন?
৫. সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আদেশগুলো কী কী?

বর্ণনামূলক প্রশ্ন

১. ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সত্যবাদিতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।
২. শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন গঠনের উপায় বর্ণনা কর।
৩. সেবা সম্পর্কে পবিত্র বাইবেলের শিক্ষা বর্ণনা কর।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...