মানুষ সৃষ্টি (তৃতীয় অধ্যায়)

খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

262

সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সব সৃষ্টির শেষে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। এই অধ্যায়ে আমরা বিশদভাবে আলোচনা করব তিনটি বিষয়: (ক) মানুষকে কেন ঈশ্বর এত সুন্দর করে ও নিজের মতো করে সৃষ্টি করলেন; (খ) কেনই বা তিনি মানুষকে পুরুষ ও নারী করে সৃষ্টি করলেন, (গ) আবার কেনই বা তাকে স্বাধীন ইচ্ছা দিলেন। এগুলো আলোচনা করতে করতে আমরা নিজেদেরকে আরও ভালোভাবে চিনতে শুরু করব। অন্যদের আরও গভীরভাবে ভালোবাসব।

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা:

  • ঈশ্বরের নিজের প্রতিমূর্তিতে মানুষ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য ও অর্থ ব্যাখ্যা করতে পারব
  • নারী ও পুরুষের মর্যাদা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • ঈশ্বর মানুষকে স্বাধীনতা ও দায়িত্ব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন তা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • বড়দের শ্রদ্ধা এবং ছোটদের স্নেহ করা ও ভালোবাসতে শিখব।
Content added By

ঈশ্বরের সব কাজই মহান, সবই সুন্দর ও ভালো। তবে সব সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো মানুষ। মানুষ কেন শ্রেষ্ঠ? এর প্রধান কারণ হলো: ঈশ্বর মানুষকে নিজের প্রতিমূর্তিতে অর্থাৎ নিজের মতো করে সৃষ্টি করেছেন। অন্য কোনো সৃষ্টিকে তিনি এমন করে সৃষ্টি করেননি। তাঁর প্রতিমূর্তিতে সৃষ্ট হওয়ার অর্থ তাঁর মতো আত্মা লাভ করা। আমাদের কাছে হয়তো প্রশ্ন জাগতে পারে, ঈশ্বর কেন মানুষকে এভাবে সৃষ্টি করলেন? এর উত্তরে বলতেই হয়, ঈশ্বর মানুষকে ভালোবাসেন। অন্যান্য বিষয়ে আলোচনার পূর্বে এটি আমাদের আরও পরিষ্কারভাবে জানা ও বোঝা দরকার।
আমরা এই পৃথিবীতে এসেছি ঈশ্বরের জন্য। ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছেন তাঁর আনন্দ ও গৌরবের জন্য। আমরা যেন তাঁকে জানতে পারি, ভালোবাসতে পারি ও চিরদিন তাঁর পথে চলতে পারি। আমাদের আত্মা অমর। তাই আমাদের দেহের মৃত্যুর পরেও আত্মা চিরদিন জীবিত থাকবে। কাজেই আমরা চিরদিন তাঁর প্রশংসা ও গৌরব করব। ঈশ্বরের একান্ত ইচ্ছা, আমরা যেন তাঁর সাথে একটা গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলি। এই গভীর সম্পর্কটি যেন এখন ও চিরকাল টিকে থাকে। এই কারণেই তিনি আমাদেরকে তাঁর নিজের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র বাইবেলে এ কথা বলা হয়েছে: 'আমাদের ঈশ্বর প্রভুই একমাত্র প্রভু! আর তোমার ঈশ্বর স্বয়ং প্রভু যিনি, তাঁকে তুমি ভালোবাসবে তোমার সমস্ত অন্তর দিয়ে, তোমার সমস্ত প্রাণ দিয়ে, তোমার সমস্ত মন দিয়ে, আর তোমার সমস্ত শক্তি দিয়ে' (মার্ক ১২:২৯-৩০)।

ঈশ্বর আমাদের দেহ, মন ও আত্মা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। আত্মাকে আমরা হৃদয় এবং অন্তরও বলে থাকি। তিনি আমাদের স্বাধীন ইচ্ছাও দিয়েছেন। তিনি এগুলো দিয়েছেন মানুষ যেন ঈশ্বরকে জানতে, ভালোবাসতে ও তাঁর কথা মেনে চলতে পারে। আমাদের মন, আত্মা (হৃদয় ও অন্তর) এবং স্বাধীন ইচ্ছার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তির প্রকাশ ঘটে। এবার আমরা এগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।
১.১ ঈশ্বর মানুষকে একটি মন দিয়েছেন যেন মানুষ ঈশ্বরকে জানতে পারে। ঈশ্বর যেভাবে চিন্তা করেন তা যেন মানুষ বুঝতে পারে। মানুষের মনে ঈশ্বর গভীর চিন্তাশক্তি দিয়েছেন, মানুষের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করার জন্য। আমরা জানি, আব্রাহাম ঈশ্বরকে ব্যক্তিগতভাবে জানতে পেরেছিলেন। তাই তাঁর সাথে তিনি বন্ধুত্ব করেছেন। এভাবে আমরাও আমাদের মন দিয়ে ঈশ্বরকে জানতে ও তাঁর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারি।
১.২ মানুষকে সৃষ্টি করে ঈশ্বর তার মধ্যে দিয়েছেন আত্মা (হৃদয় বা অন্তর)। হৃদয় দিয়ে আমরা অনেক কিছু অনুভব করি। এই হৃদয়ে জন্ম হয় ভালো, ঘৃণা, আনন্দ, বেদনা, সহানুভূতি ও এরকম বিভিন্ন অনুভূতির। আমাদের জন্য ঈশ্বর হৃদয় দিয়েছেন, যেন আমরা ঈশ্বরকে ভালোবাসতে পারি। ঈশ্বরের ইচ্ছা এই, তিনি যা ভালোবাসেন ও ঘৃণা করেন, তাঁর সৃষ্ট মানুষও যেন তা ভালোবাসে ও ঘৃণা করে। তিনি চান, যেন আমরা সমস্ত অন্তর দিয়ে তাঁকে ভালোবাসি। তাই তিনি তাঁর নিজের মতো করে মানুষ সৃষ্টি করেছেন।
১.৩ ঈশ্বর তাঁর নিজের মতো করে সৃষ্ট মানুষের মধ্যে দিয়েছেন ইচ্ছাশক্তি। এ কারণে প্রতিটি ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় যে পথ বেছে নেয়, সেই পথে তিনি তাকে চলতে দেন। এতে তিনি কোনো বাধা দেন না। তিনি চাইলে এমনভাবে মানুষকে সৃষ্টি করতে পারতেন, যেন মানুষ কেবল তাঁর ইচ্ছা অনুসারেই চলবে, তাঁর দেখানো পথেই চলবে। তিনি হয়তো চাইতে পারতেন, মানুষ যেন অন্য কোনো পথে পা না বাড়ায়। কিন্তু তাতে মানুষ হয়ে যেত একেকটি পুতুল, রোবট বা কারখানায় তৈরি কোনো পণ্য। তাহলে তো তার স্বাধীনতা থাকতো না। মানুষ হলো তাঁর একটি বিশেষ সৃষ্টি। তিনি আমাদেরকে তাঁর নিজের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তিনি খুশি হন যদি মানুষ স্বাধীনভাবে তাঁকে ভালোবাসা ও উপাসনা করার পথটি বেছে নেয়।

তিনি মানুষকে একটি মহান দায়িত্ব দিয়েছেন। দায়িত্বটি হলো মানুষ নিজের ইচ্ছায় বেছে নিবে সে কি ঈশ্বরের পথে চলবে, নাকি শয়তানের পথে চলবে। সে কি ঈশ্বরের বাণী মেনে চলবে, নাকি তা অবজ্ঞা করবে। ঈশ্বর কাউকে তাঁর বাণীতে বিশ্বাস করতে ও তা মেনে চলতে বাধ্য করেন না। কারণ তিনি মানুষকে ভালোবাসেন। তিনি চান, মানুষ স্বাধীন ইচ্ছায় হৃদয় থেকে তাঁকে ভালোবাসুক। কারণ জোর করে কারও সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক সৃষ্টি করা যায় না। তবে যুগের শেষ দিনে মানুষের বিচার হবে। মানুষ নিজের ইচ্ছায় যে পথটি বেছে নেবে, সেই অনুসারে বিচারে তার পুরস্কার বা শাস্তি হবে।

আমরা যেন এরকম মনে না করি যে আমরা ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্ট বলে আমরা ঈশ্বরের সমান। অথবা এ-ও যেন মনে না করি যে আমাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ঈশ্বরের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সমান। তা কিন্তু ঠিক নয়। ঈশ্বর হলেন অসীম অর্থাৎ তিনি একই সাথে বিশ্বের সর্বত্রই বিরাজমান। কোনো কিছুতেই তাঁর সীমাবদ্ধতা নেই। আর মানুষ হলো সসীম। অর্থাৎ মানুষের সবকিছুতেই সীমাবদ্ধতা আছে। উদাহরণস্বরূপ, মানুষ একসাথে শুধু একটা স্থানেই উপস্থিত থাকতে পারে।
ঈশ্বর হলেন চিরজীবন্ত। তাঁর কোনো আদি বা অন্ত নেই। তিনি ছিলেন, আছেন ও চিরদিন থাকবেন। তিনি আমাদের এমন মন, হৃদয় ও ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন, যেন আমরা তাঁর সাথে একটি জীবন্ত সম্পর্ক গড়ে তুলি এবং সেই সম্পর্কের মধ্যে বাস করি। তিনি আমাদেরকে অন্যান্য প্রাণীর মতো করে সৃষ্টি করেননি। কারণ অন্য প্রাণীরা মানুষের মতো করে ঈশ্বরের সাথে জীবন্ত সম্পর্ক গড়তে পারে না। কিন্তু আমরা পারি। কারণ আমরা তাঁর প্রতিমূর্তিতে গড়া।

কাজ: তিন থেকে পাঁচজন করে এক একটি দলে বস। এবার তোমার ডান পাশের ব্যক্তির মধ্যে ঈশ্বরের কোন গুণের প্রকাশ দেখতে পাও তা সবার সাথে সহভাগিতা কর।
Content added By

আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি, ঈশ্বর অদৃশ্য। তাঁর দেহ নেই, আছে শুধু আত্মা। কিন্তু আমাদের আছে দেহ, মন ও আত্মা। ঈশ্বর মানুষের কোন অংশটুকু তাঁর নিজের প্রতিমূর্তিতে বা নিজের মতো করে গড়েছেন? তিনি নিজের মতো করে আমাদের দেহ ও মনের মধ্যে আত্মা দিয়েছেন। এবার আমরা বলতে পারি, আমাদের আত্মা হলো ঈশ্বরের মতো। এর অর্থ, আমরা আমাদের অন্তরে ঈশ্বরের কিছু কিছু গুণ পেয়েছি। সেই গুণগুলো কী?

Content added By

ঈশ্বর নিজেই ভালোবাসা। তিনি ভালোবাসেন বলেই মানুষ এবং বিশ্বের সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের খুব ভালোবাসেন। তিনি আমাদের মধ্যেও সেই ভালোবাসার গুণটি দিয়েছেন। তাই আমরা মা-বাবা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব, সহপাঠী, গরিব-দুঃখী, অসুস্থ ও অসহায় মানুষদের ভালোবাসি। আমরাও ইচ্ছা করলে ঈশ্বরের মতো নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে পারি।

Content added By

আমরা বলতে পারি, মানুষের মধ্যে সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের সৃজনশীল গুণ আছে। সেই কারণে মানুষ সৃজনশীল চিন্তা ও কাজ করতে পারে। নতুন ধারণা প্রকাশ করতে পারে। নতুন নতুন শিল্প সৃষ্টি করতে পারে। অনেক নতুন যন্ত্রপাতি, জীবন রক্ষাকারী ঔষধ, আরও অনেক কিছু আবিষ্কার করতে পারে। ঈশ্বর মানুষকে নিজের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করেছেন, যেন সে ঈশ্বরের সৃষ্টি দেখাশোনা করার কাজের সহকর্মী হয়। মানবজাতির জন্য ঈশ্বরের যে পরিকল্পনা আছে তা-ও মানুষ জানবে এবং তা বাস্তবায়নেও অংশগ্রহণ করবে। এভাবে সে ঈশ্বরের সহকর্মী হয়ে উঠবে।

কাজ: তুমি কী কী সৃজনশীল কাজ করতে পার তা জোড়ায় জোড়ায় বসে আলোচনা কর।
Content added By

ঈশ্বর তাঁর মুখের কথায় সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তাঁর কথায় অসীম শক্তি আছে। কারণ তিনি সর্বশক্তিমান। মানুষের কথায়ও শক্তি আছে। তবে মানুষের শক্তি সসীম। মা-বাবা, শিক্ষক বা গুরু ব্যক্তিরা আমাদেরকে ভালো মানুষ হতে বলেন। আমরা তাঁদের কথা শুনি ও ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে থাকি। এমনিভাবে অনেক কিছু করার জন্য ঈশ্বর মানুষকে শক্তি দিয়েছেন। মানুষ ঈশ্বরের কাছ থেকে সৃষ্টি করার গুণ পেয়েছে। তবে ঈশ্বরের সাথে আমাদের পার্থক্য হলো, ঈশ্বর শূন্য থেকে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু মানুষ ঈশ্বরের শক্তিতে ও ঈশ্বরের দানগুলো দিয়েই আরও নতুন কিছু সৃষ্টি করে চলছে। এর অর্থ হলো, মানুষ শুধু ঈশ্বরের সৃষ্টির রূপান্তর ঘটিয়ে থাকে।

Content added By

ঈশ্বর হলেন রক্ষা ও পালনকারী। তিনি সমস্ত বিপদ-আপদ থেকে আমাদের রক্ষা করেন। মানুষ ঈশ্বরের কাছ থেকে এই গুণটি পেয়েছে। একজন মানুষ অন্য একজন মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়াতে পারে এবং বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। সমস্যা থেকে মুক্তির পথ দেখাতে পারে। ভয়ের সময় অভয় দিতে পারে। দুঃখের সময় আনন্দ দিতে পারে। ব্যস্ততার সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। এভাবে মানুষ মুক্তিদায়ী ও রক্ষাকারীর ভূমিকা পালন করে। প্রলোভনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার পথ দেখাতে পারে। চিকিৎসক রোগীকে রোগমুক্ত করতে পারে। ঈশ্বর তাঁর পুত্র যীশুকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন মানুষের মুক্তির জন্য। মুক্তিদাতা যীশুর সাথে আমাদের উদ্ধার বা মুক্তিকাজের পার্থক্য হলো: তিনি আমাদেরকে পাপের হাত থেকে পরিত্রাণ দিয়েছেন। আমরা কিন্তু সেই পরিত্রাণ বা মুক্তি দিতে পারি না। তবে যীশুর মুক্তির বার্তাটিই আমরা মানুষের কাছে পৌঁছে দিই। পবিত্র আত্মা যে দানগুলো আমাদের দিয়েছেন, সেগুলো দিয়ে আমরা অন্যদের সহায়তা করতে পারি। কিন্তু আমরা সেই গুণগুলো অন্য মানুষকে দিতে পারি না।

কাজ: জোড়ায় জোড়ায় বসে আলাপ কর তুমি কীভাবে অন্যদের উদ্ধার বা রক্ষা করতে পার।
Content added By

ঈশ্বর পবিত্র। তিনি মানুষের মধ্যে পবিত্র হওয়ার আকাঙ্ক্ষা দিয়েছেন। ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে মানুষের সৃষ্ট হওয়ার অর্থ হলো ঈশ্বর মানুষকে ভালোবাসেন। তিনি পরিকল্পনা করেছেন, তাঁর সৃষ্ট মানুষ তাঁর ঐশ্বরিক জীবনের অর্থাৎ তাঁর পবিত্রতার অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে। ঈশ্বর সবকিছু মানুষের জন্য সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু প্রতিদানে মানুষ ঈশ্বরকে ভালোবাসবে, সেবা করবে ও সমস্ত সৃষ্টিকে তাঁর কাছে উৎসর্গ করবে।

Content added By

ঈশ্বর সকল ভালোর উৎস। তিনি মানুষের মধ্যে বিবেক অর্থাৎ ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতা দিয়েছেন। এ কারণে মানুষ ভালো কাজ করলে অন্তরে পরিতৃপ্তি লাভ করে। অন্যদিকে মন্দ কাজ করলে তার অন্তরে পাপের চেতনা হয়। তখন সে ক্ষমা লাভ করে ঈশ্বরের পবিত্রতা লাভ করতে আকাঙ্ক্ষা করে।

Content added By

ঈশ্বর ক্ষমাশীল। ঈশ্বরপুত্র যীশু ক্ষমাশীল পিতার উদাহরণ দিয়ে ঈশ্বরের ক্ষমার বিষয়টি আমাদের কাছে স্পষ্ট করে তুলেছেন। আমরাও ঈশ্বরের কাছ থেকে ক্ষমা করার শক্তি লাভ করেছি। আমরা ক্ষমা করতে পারি বলেই এক পরিবার, সমাজ ও পৃথিবীতে শান্তিতে বাস করতে পারি।
কাজেই আমরা এখন বলতে পারি, মানুষকে ঈশ্বর অনেক গুণ বা ঐশ্বরিক শক্তি দিয়েছেন। যেমন: দয়া, সহানুভূতি, ধৈর্য, যত্ন, প্রশংসা ইত্যাদি গুণ আমরা ঈশ্বরের কাছ থেকে পেয়েছি। এগুলো আমরা সীমিত আকারে বাড়িয়ে তুলতে পারি। তখন আমাদের মধ্যে ঐশ্বরিক গুণগুলো দেখা যায়। এই কারণে বলা যায়, মানুষ হলো ঈশ্বরের ঐশ্বরিকতার আয়না।

কাজ : তোমার খাতায় দুটি কলাম তৈরি কর। বাম পাশের কলামে লেখ ঈশ্বরের কী কী গুণ তুমি দেখতে পাও। ডান পাশের কলামে লেখ ঈশ্বরের কোন কোন গুণ তুমি পেয়েছ।

সামসংগীত: ৮: ৫-৬

মানুষকে তুমি তো করেছ প্রায় দেবতার সমান,

তাকে পরিয়েছ গৌরব আর মহিমার মুকুট!

তোমার সমস্ত সৃষ্টির প্রভুত্ব দিয়েছ তুমি তাকে,

রেখেছ নিখিল বিশ্ব তার পদতলে।

Content added || updated By

৩.১ ঈশ্বর তাঁর নিজের প্রতিমূর্তিতে মানুষকে গড়েছেন। এ কথার অর্থ এই নয় যে আমরা ঈশ্বরের মতো দেহ পেয়েছি। বরং এর অর্থ হলো, আমরা তাঁর মতো আত্ম্য ও বিভিন্ন গুণ পেয়েছি। কারণ ঈশ্বর হলেন নিরাকার, শুধু আত্মা। প্রতিটি মানুষ, হোক সে পুরুষ বা নারী সকলেই ঈশ্বরের এক একজন প্রতিমূর্তি। তাঁরা প্রত্যেকেই এক একজন আলাদা ব্যক্তি। তাই ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি হিসেবে প্রত্যেক নারী ও পুরুষ সমান ব্যক্তি-মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য ও অধিকারী। ঈশ্বর কাউকে কম বা কাউকে বেশি মর্যাদা দেননি।

পুরুষ ও নারী উভয়ের সমান আত্মজ্ঞান ও অধিকার আছে, কারণ তারা দুইজনেই ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি। নারী ও পুরুষ উভয়ই ঈশ্বরের সাথে এবং অন্যান্য ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করার অধিকারী। দুজনের মধ্যেই শ্রদ্ধাবোধ, ক্ষমা করা, নম্র হওয়া, পবিত্র হওয়া, জ্ঞান অর্জন করা ইত্যাদি গুণাবলি সমানভাবে রয়েছে। এ কারণে আমাদের মনে এই প্রশ্ন আসা উচিত নয়, সমাজে কে বেশি মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, পুরুষ ও নারী উভয়ের মধ্যেই ঈশ্বর আছেন। উভয়কেই ঈশ্বর দিয়েছেন তাঁর আত্মা।

মানুষ সামাজিক জীব। একা একা বাস করার জন্য সে সৃষ্ট হয়নি। তাই আমরা দেখি, ঈশ্বর প্রথম মানব আদমকে সৃষ্টি করে এদেন/এদন বাগানে অন্যান্য

কাজ: নারী ও পুরুষের সমান মর্যাদা দেখিয়ে দলীয়ভাবে একটি ছোট অভিনয় কর।

প্রাণীদের সাথে রেখেছিলেন। তিনি ছিলেন তখন একমাত্র মানুষ। পুরো বাগানে তিনি ছিলেন একা। তাঁর সম্পর্ক তখন ছিল শুধু গাছপালা, লতাপাতা আর অন্যান্য প্রাণীদের সাথে। এতে তিনি সুখী হলেন না। কারণ সামাজিক প্রাণী হিসেবে তিনি ছিলেন অসম্পূর্ণ। সমাজবদ্ধ হয়ে বাস করতে হলে তাঁর দরকার অন্তত একজন সঙ্গী। তাই ঈশ্বর প্রথম মানবের সঙ্গী হওয়ার জন্য একজন নারীকে সৃষ্টি করলেন। প্রথম নারী হবা হলেন তাঁর হাড়ের হাড় ও মাংসের মাংস। নারীর মধ্য দিয়ে প্রথম মানুষ পূর্ণ হলেন। পূর্ণতা পেয়ে তিনি সুখী মানুষ হলেন।
পুরুষ ও নারী শুধু ব্যক্তি হিসেবে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি নয়, তাঁরা পরিবার হিসেবেও ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি। অর্থাৎ পুরুষ ও নারী উভয়ে মিলে যখন একটি পরিবার গঠন করে, তখন সেখানে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি প্রকাশ পায়। ঈশ্বর হলেন পিতা, পুত্র ও আত্মা। মানুষ পুরুষ ও নারী মিলে পরিবার গঠন করে, সন্তানের জন্মদান করে। তাঁদের মধ্যে একটা একাত্মতা গড়ে ওঠে। পারিবারিক একাত্মতার মধ্য দিয়ে তাঁরা ঈশ্বরের ত্রিব্যক্তির একতা প্রকাশ করে।

সমাজ, দেশ এবং জাতি গঠনেও নারী ও পুরুষ দুজনেরই ভূমিকা রয়েছে। নারী ও পুরুষ সাইকেলের দুই চাকার মতো। সাইকেলের একটি চাকা নষ্ট হলে অন্যটি একা একা চলতে পারে না। তখন পুরো সাইকেলটিই অচল হয়ে পড়ে। তেমনি সমাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের ভূমিকা না থাকলে সমাজ দুর্বল হয়ে যায়। তাই আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন:
বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি, চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

কাজ: তোমার বাবা ও মায়ের গুণগুলো আলাদাভাবে লেখ।

৩.২ স্বাধীনতা ও দায়িত্ব:
ঈশ্বর আদম হবাকে সৃষ্টি করে এদেন বাগানে সুখের রাজ্যে স্থান করে দিয়েছেন। বাগানের সবরকম সুযোগ সুবিধা ভোগ করার ও পারস্পরিক ভালোবাসার মধ্যে জীবনযাপন করার জন্য সুন্দর মন, ইচ্ছা ও দায়িত্ব দিয়েছেন। আদম ও হবা সেই স্বাধীন ইচ্ছার সঠিক ব্যবহার না করে ঈশ্বরের কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছিল। তাদের এই ভুলের জন্য গোটা মানবজাতি আজ দাসত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। ঈশ্বর ইস্রায়েল জাতিকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন রাজা ফারাওর হাত থেকে রক্ষা করে। তিনি গোটা মানব জাতিকে পাপের দাসত্ব থেকে রক্ষা করার জন্য তাঁর একমাত্র পুত্রকে পাঠিয়েছেন। যিনি ক্রুশে প্রাণত্যাগ করে আমাদেরকে মুক্ত ও স্বাধীন মানুষ করে তুলেছেন। আদম হবার মত ঈশ্বর আমাদেরকেও স্বাধীন ইচ্ছা দিয়ে এ পৃথিবীর সব কিছু ভোগ করার সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু দুর্বল মানুষ হিসেবে আমাদের স্বাধীন ইচ্ছার অপব্যবহার করে এবং পবিত্র দায়িত্বের কথা ভুলে গিয়ে প্রতিনিয়ত পাপে পতিত হই। ঈশ্বর কিন্তু তারপরও আমাদের ভুলে যাননি বা আমাদের স্বাধীনতা খর্ব করেননি। আমরা যেন প্রতিনিয়ত পাপ পাঙ্কিলতা থেকে উদ্ধার পেতে পারি তার ব্যবস্থা করেছেন তাঁর পুত্রের প্রতিনিধি হিসেবে যাজকদের মাধ্যমে। ঈশ্বর চান আমরা যেন যাজকদের মাধ্যমে পাপের দাসত্ব থেকে মুক্তি লাভ করে স্বাধীন ও পবিত্র ভাবে জীবনযাপন করি।

Content added || updated By

যীশু, মারীয়া ও যোসেফের পরিবার হলো পবিত্র পরিবার। আমরা এই পরিবার থেকে বিভিন্ন শিক্ষা গ্রহণ করি। সকল নারী ও পুরুষের জন্য পবিত্র পরিবারের শিক্ষা ও আদর্শ অনুকরণীয়। মারীয়া ও যোসেফের মধ্যে গভীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মর্যাদাবোধ ও ভালোবাসা ছিল। তাঁরা কীভাবে এই গুণগুলো অর্জন করেছিলেন, তা নিয়ে আমরা এখানে আলোচনা করব।

৪.১ ঈশ্বরের প্রতি মারীয়ার ছিল গভীর বিশ্বাস। মহাদূত গাব্রিয়েল সংবাদ দিয়ে তাঁকে বলেছিলেন যে তিনি ঈশ্বর পুত্রের মা হবেন। তখন তিনি খুব ভয় পেয়েছিলেন। কারণ তখনও তাঁর বিয়ে হয়নি। কিন্তু দূত তাঁকে বলেছিলেন, তাঁর গর্ভধারণ হবে পবিত্র আত্মার প্রভাবে। এতে তিনি রাজি হয়েছিলেন। তিনি সমাজের কাছে অপমানিত হতে পারেন এবং যোসেফের সাথে তাঁর বিয়ে ভেঙে যেতে পারে, এই ভয় তাঁর ছিল। তবুও তিনি সবই গ্রহণ করেছিলেন। কারণ সেটি ছিল ঈশ্বরের আহ্বান। এতে আমরা বুঝতে পারি, মারীয়ার মধ্যে ঈশ্বরের প্রতি গভীর বিশ্বাস ও আস্থা ছিল। ঈশ্বরের প্রতি এই বিশ্বাস, আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধ থেকেই তিনি যোসেফ এবং অন্য সকল মানুষের শ্রদ্ধা ও সম্মানবোধ অর্জন করেছিলেন।
৪.২ মারীয়ার প্রতি যোসেফের গভীর শ্রদ্ধা ছিল। বিয়ের অনেক আগে মারীয়ার সাথে যোসেফের বাগদান হয়েছিল। এরপর যোসেফ জানতে পারলেন যে মারীয়া গর্ভবতী। তাই তিনি মারীয়াকে গোপনে ত্যাগ করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কারণ তিনি মারীয়াকে সমাজের কাছে লজ্জায় ফেলতে চাননি। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, মারীয়ার প্রতি যোসেফের কত গভীর শ্রদ্ধা ছিল।

৪.৩ যোসেফের মধ্যেও ঈশ্বরের প্রতি গভীর বিশ্বাস, আস্থা ও শ্রদ্ধা ছিল। যোসেফ যখন মারীয়াকে ত্যাগ করার কথা ভাবছিলেন, তখন স্বর্গদূত স্বপ্নে যোসেফকে দেখা দিয়ে বললেন, মারীয়ার গর্ভে যা এসেছে তা পবিত্র আত্মারই প্রভাবে। তাই যোসেফ যেন মারীয়াকে ঘরে তুলতে ভয় না পান। যোসেফ সেই নির্দেশ গভীর বিশ্বাস নিয়ে গ্রহণ করলেন। তিনি মারীয়াকে জীবনের সঙ্গী হিসেবে বরণ করে নিলেন। এতে আমরা বুঝতে পারি যোসেফের মধ্যে ঈশ্বরের প্রতি কত গভীর বিশ্বাস, ভক্তি ও বাধ্যতার মনোভাব ছিল। এই মনোভাব তাঁকে মারীয়া ও অন্য সকলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তুলেছিল।

৪.৪ মারীয়া ও যোসেফের মনের মধ্যে গভীর ভালোবাসা ও মনের মিল ছিল। এ জন্য কষ্টের সময় তাঁরা পরস্পরের পাশে থাকতে পেরেছিলেন। যীশুর জন্মের সময় কাছে এসে গেল। অথচ স্বামী হয়ে যোসেফ তাঁর স্ত্রী মারীয়ার জন্য বেথেলহেমে কোথাও একটি ভালো স্থান খুঁজে পেলেন না। মারীয়া তাঁর স্বামী যোসেফের অবস্থা বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি তাঁর স্বামীকে কোনোরকম দোষারোপ বা তিরস্কার করেননি, বরং খুশি মনে সবকিছু গ্রহণ করেছেন। এতে আমরা বুঝতে পারি তাঁরা পরস্পরকে কত শ্রদ্ধা ও সম্মান করতেন।
৪.৫ যোসেফ ও মারীয়া উভয়ের মধ্যেই গভীর ধর্মীয় ভাব ছিল। প্রতিবছর যোসেফ ও মারীয়া যেরুসালেম (জেরুজালেম) মন্দিরে যেতেন। সেখানে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ পথ তাঁদের হাঁটতে হতো। তাঁদের গ্রামের সকলে দল বেঁধে একত্রে হাঁটতে হাঁটতে সেখানে যেতেন। সব কাজ ফেলে রেখে যোসেফ ও মারীয়া একত্রে প্রতিবছর পর্ব পালন করতে যেতেন। এর মধ্য দিয়ে আমরা বুঝতে পারি, তাঁদের অন্তরে ছিল গভীর ধর্মীয় ভাব ও ঐশ্বরিক বিশ্বাস। এ কারণেই তাঁরা পরস্পরকে ভালোবাসতে, শ্রদ্ধা ও সম্মান করতে পেরেছিলেন।

৪.৫ যোসেফ ও মারীয়া উভয়ের মধ্যেই গভীর ধর্মীয় ভাব ছিল। প্রতিবছর যোসেফ ও মারীয়া যেরুসালেম (জেরুজালেম) মন্দিরে যেতেন। সেখানে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ পথ তাঁদের হাঁটতে হতো। তাঁদের গ্রামের সকলে দল বেঁধে একত্রে হাঁটতে হাঁটতে সেখানে যেতেন। সব কাজ ফেলে রেখে যোসেফ ও মারীয়া একত্রে প্রতিবছর পর্ব পালন করতে যেতেন। এর মধ্য দিয়ে আমরা বুঝতে পারি, তাঁদের অন্তরে ছিল গভীর ধর্মীয় ভাব ও ঐশ্বরিক বিশ্বাস। এ কারণেই তাঁরা পরস্পরকে ভালোবাসতে, শ্রদ্ধা ও সম্মান করতে পেরেছিলেন।
৪.৬ তাঁদের মধ্যে একতা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ ছিল। সন্তানের প্রতিও তাঁদের ছিল অপরিসীম স্নেহ ও ভালোবাসা। যেরুসালেম মন্দিরে যীশু হারিয়ে যাওয়ার পর মারীয়া ও যোসেফ যীশুর খোঁজ করেছেন ও তাঁকে ফিরে পেয়েছেন। দুঃখ-বিপদের সময় তাঁরা পরস্পরের পাশে থেকেছেন। কেউ কাউকে দোষারোপ করে দায়িত্ব অন্যজনের উপর চাপিয়ে দেননি। ভালোবাসার কারণেই তাঁরা যেরুসালেমে ফিরে এসে যীশুকে খুঁজে পেয়েছিলেন।

কাজ: পবিত্র পরিবার ও তোমার পরিবারের মধ্যেকার মিলগুলো নিজের খাতায় দুটি কলামে লেখ।
Content added || updated By

শূন্যস্থান পূরণ কর:

১. সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো ………………. ।
২. ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছেন ………………., মন ও ………………. ।
৩. আমরা এই পৃথিবীতে এসেছি ………………. জন্য।

বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশের বাক্যাংশের মিল কর:

বাম পাশডান পাশ

১. ঈশ্বর নিজের প্রতিমূর্তিতে

২. পুরুষ ও নারী মিলে

৩. ঈশ্বরের প্রতি মারীয়ার ছিল

৪. যীশু হারিয়ে গিয়েছিলেন

৫. ঈশ্বর হলেন

  • যেরুসালেম মন্দিরে
  • মানুষ সৃষ্টি করেছেন
  • পরিবার গঠন করে
  • গভীর বিশ্বাস
  • পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা
  • সুখী মানুষ

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১. নারী ও পুরুষের মিলিত রূপ কী গঠন করে-
ক. সমাজ
খ. পরিবার
গ. ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি
ঘ. মানুষের প্রতিমূর্তি

২. ঈশ্বর কেন মানুষের জন্য সবকিছু সৃষ্টি করেছেন?
ক. ঈশ্বরকে সেবা করতে
খ. ঈশ্বরকে ভালোবাসতে ও সেবা করতে
গ. নিজে ভোগ করতে
ঘ. নিজে ভোগ করতে ও ঈশ্বরের কাছে উৎসর্গ করতে

নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
'অঙ্কন ও অদ্রি দুই ভাইবোন। অদ্রি তার ভাইয়ের একটা বই লুকিয়ে রেখে মজা করতে থাকে। অদ্রি তার মন্দ কাজের ভুল বুঝতে পেরে বইটি ফিরিয়ে দেয়। অঙ্কন ধৈর্য ধরে বোনকে ক্ষমা করে দেয়।
৩. অদ্রি তার কাজের দ্বারা লাভ করতে পারে-
ক. অন্তরে পরিতৃপ্তি
খ. ঈশ্বরের পবিত্রতা
গ. বিবেকের উন্নতি
ঘ. সকলের ভালোবাসা

৪. অঙ্কনের কাজের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়-
i. ঐশ্বরিক গুণাবলি
ii. মানবীয় গুণাবলি
iii. মাণ্ডলিক গুণাবলি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i
গ. i ও ii
খ. ii
ঘ. ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. ডীনা ও দীপের পরিবার একটি আদর্শ পরিবার। তাঁরা একে অপরকে খুবই ভালোবাসে। দুজনের মধ্যেই রয়েছে শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ। দীপের স্ত্রী ডীনা একদিন অসুস্থ হয়ে পড়ল। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে ডাক্তার দেখাতে পারেনি। শুধু তাঁর স্ত্রীর পাশে থেকে সারাক্ষণই তার সেবা ও প্রার্থনা করেছে। কেননা দুজনের জীবনই ছিল প্রার্থনাশীল। ঈশ্বরের প্রতি ছিল ডীনার গভীর বিশ্বাস। তাই ডীনা কখনো তাঁর স্বামীকে দোষারোপ বা তিরস্কার করেনি। দুঃখ ও বিপদের সময় দুজনে এক হয়ে সমাধানের পথ খুঁজছে। একে অপরকে বিশ্বাস ও ভালোবাসার কারণে তাঁরা সব কিছুর সমাধান করতে পেরেছে।
ক. ঈশ্বরের ঐশ্বরিকতার আয়না কে?
খ. আমরা কীভাবে ঈশ্বরের মতো নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে পারি?
গ. ডীনা ও দীপের পরিবার কী ধরনের পরিবার ব্যাখ্যা কর।
ঘ. 'ডীনার ছিল ঈশ্বরের প্রতি গভীর বিশ্বাস' উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

২. বৃষ্টির জন্ম হলো শীতে। পরিবারের সকলেই খুব খুশি। তার সরল ও পবিত্র হাসি সবাইকে আনন্দ দেয়। বৃষ্টি সকলের আদর-যত্নে লেখাপড়া শিখে দেশের নামকরা একজন চিকিৎসক ও সমাজকর্মী হলো। মানুষের জন্য তার অসীম মায়া, মমতা ও ভালোবাসা। তাঁর মুখের আন্তরিক কথায় অর্ধেক সুস্থ হয়ে যায় রোগীরা। অন্যদিকে তাঁর স্বামী নামকরা একজন গবেষক। তিনি নিজের সাধনায় গবেষণা করে মানুষের চিকিৎসার জন্য ঔষধ তৈরি করেন এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি করেন, যা দিয়ে মানুষের রোগ নির্ণয় করা হয়।
ক. মানুষকে কার প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছে?
খ. আমরা কীভাবে ভালো-মন্দের পথ বেছে নিই?
গ. বৃষ্টির স্বামীর মধ্যে ঈশ্বরের কোন গুণটি প্রকাশ পেয়েছে তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
ঘ. 'বৃষ্টির মধ্যে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তির প্রকাশ'- উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন

১. ঈশ্বর সব শেষে কী সৃষ্টি করলেন?
২. ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছেন কেন?
৩. ঈশ্বর মানুষকে কী কী দিয়ে সৃষ্টি করেছেন?
8. আমাদের অন্তরে ঈশ্বরের গুণগুলো কী কী?
৫. ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে মানুষের সৃষ্টি হওয়ার অর্থ কী?

বর্ণনামূলক প্রশ্ন

১. ঈশ্বর নারী ও পুরুষের সমান অধিকার দিয়েছেন কীভাবে?
২. পবিত্র পরিবার সম্পর্কে লেখ।
৩. ঈশ্বর কেন মানুষকে স্বাধীনতা ও দায়িত্ব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন?

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...