সৃষ্টির মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা (পাঠ ৪)

ঈশ্বরকে জানা - খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

379

সামসংগীত ৮ পাঠ করলে আমরা দেখতে পাই, সৃষ্টির মধ্যে কীভাবে ঈশ্বর উপস্থিত রয়েছেন। সামসংগীত রচয়িতা বলেন:

হে ঈশ্বর, হে আমাদের প্রভু,

সমস্ত পৃথিবীজুড়ে কী মহিমময় তোমার নাম!

মাহাত্ম্য তোমার নভোলোকের ঊর্ধ্বে বিরাজমান!

তোমার আঙুলের রচনা ওই নভোলোকের দিকে

আমি তাকাই যখন,

তাকাই যখন তোমার ওই যথাস্থানে সাজিয়ে রাখা

চাঁদ আর নক্ষত্রের দিকে--

আহা, মানুষ কে যে তার কথা মনে রাখবে তুমি?

কে-ই বা মানবসন্তান যে তুমি যত্ন নেবে তার?

তবু তাকেই করেছ তুমি প্রায় দেবতার সমান,

তাকেই পরিয়েছ গৌরব আর মহিমার মুকুট!

তোমার সমস্ত সৃষ্টির প্রভুত্ব দিয়েছ তুমি তাকে,

রেখেছ নিখিল বিশ্ব তার পদতলে!

এই সামসংগীতটিতে আমরা দেখতে পাই যে ঈশ্বর তাঁর সব সৃষ্টির মধ্যেই উপস্থিত আছেন। সব সৃষ্টিই তাঁর মহিমা ঘোষণা করছে।
ঈশ্বর নিজেই সব সৃষ্টিকে ভালোবাসেন। প্রজ্ঞাপুস্তকে বলা হয়েছে: 'যা-কিছু আছে, তুমি সেসব ভালোবাস; যা- কিছু গড়েছ, সেগুলোর তুমি কিছুই ঘৃণা কোরো না; যেহেতু কোনোকিছুর প্রতি যদি তোমার ঘৃণা থাকত, তা তুমি গড়তে না! তুমি ইচ্ছা না করলে কেমন করেই বা কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকতে পারবে? অস্তিত্বের উদ্দেশ্যে তোমার আহ্বান না থাকলে তা কেমন করেই বা বেঁচে থাকবে? তুমি বরং সবকিছু বাঁচাও, কারণ, হে জীবন প্রেমিক প্রভু, সবই তোমার (প্রজ্ঞা ১১:২৪-২৬)।
ঈশ্বর তাঁর প্রিয় সৃষ্টির তত্ত্বাবধান করেন। তবে তাঁর তত্ত্বাবধান কাজে সহভাগী হওয়ার জন্য ঈশ্বর দায়িত্ব দিয়েছেন মানুষকে। তিনি মানুষকে এগুলো বশীভূত করার ও তার উপর কর্তৃত্ব করার দায়িত্ব দিয়েছেন। ঈশ্বর আমাদের প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে ভালোবাসেন। তাঁকে জানতে হলে তাঁকে আমাদের ভালোবাসতে হবে। তাঁকে তো আমরা দেখি না, কারণ তিনি অদৃশ্য। তবে আমরা কীভাবে তাঁকে ভালোবাসবো? আমরা তাঁকে দেখতে পাই সৃষ্টির মধ্যে, সকল মানুষের মধ্যে। সাধু যোহন বলেন, 'কেউ যদি বলে, সে পরমেশ্বরকে ভালোবাসে, আর তবুও সে যদি নিজের ভাইকে ঘৃণা করে, তবে সে মিথ্যাবাদী; কারণ যাকে সে দেখতে পায়, তার সেই ভাইকে সে যখন ভালোবাসে না, তখন যে পরমেশ্বরকে সে দেখতে পায় না, তাঁকে সে তো ভালোবাসতেই পারে না। আর আমরা তো যীশুর কাছ থেকে এই আদেশই পেয়েছি: পরমেশ্বরকে যে ভালোবাসে, তাকে নিজের ভাইকেও ভালোবাসতে হবে' (১ যোহন ৪:২০-২১)। যীশু খ্রীষ্ট শেষ ভোজে বসে শিষ্যদের পা ধুয়ে দিয়ে সেবার মাধ্যমে ভালোবাসার আদর্শ দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমরাও যেন এভাবে পরস্পকে সেবা করি। সেবার মাধ্যমে যেন পরস্পরকে ভালোবাসি।

উপরের কথাগুলো থেকে আমরা বুঝি, ঈশ্বর সৃষ্টির মধ্যে বিরাজমান। তিনি আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেও উপস্থিত। কাজেই আমরা যদি সৃষ্টিকে এবং বিশেষ করে মানুষকে ভালোবাসি, তবে আমরা সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরকেই ভালোবাসতে পারি।

নিম্নলিখিতভাবে আমরা সৃষ্টির যত্ন নিতে পারি:
১। মা-বাবা, ভাইবোন ও প্রতিবেশীদেরকে ভালোবেসে ও তাদের সেবা করে।
২। ক্ষুধার্তকে খাবার, তৃষ্ণার্তকে জল, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র, রোগীকে সেবা, আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দিয়ে।
৩। অন্যদের সাথে টিফিন সহভাগিতা করে।
৪। পড়াশোনায় দুর্বল শিক্ষার্থীদেরকে সাহায্য করে।
৫। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বাসায় গিয়ে সেবা করে ও সান্ত্বনা দিয়ে।
৬। যারা মনমরা হয়ে বসে থাকে, তাদেরকে উৎসাহ দিয়ে।
৭। যেসব শিক্ষার্থীদের শীতের পোশাক নেই, তাদেরকে শীতের পোশাক দান করে।
৮। পরিবেশ রক্ষার জন্য গাছপালার যত্ন নিয়ে।
৯। অযথা গাছপালা নষ্ট না করে।
১০। নতুন নতুন গাছ লাগিয়ে।
১১। অযথা পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ইত্যাদি অপচয় না করে।
১২। পশুপাখি ও অন্যান্য জীবজন্তু বিনা কারণে হত্যা না করে।
১৩। পলিথিন ব্যাগ বা প্লাস্টিক জাতীয় জিনিস ব্যবহার না করে।

কাজ: 'আহা কী অপরূপ সৃষ্টি তোমার ভাবি যখন বারে বারে .....' এই গানটি অথবা সৃষ্টি সম্পর্কিত অনুরূপ একটি গান সবাই মিলে গাও।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...