পরিবার, সমাজ, মন্ডলী ও রাষ্ট্রে সেবার গুরুত্ব (পাঠ ৮)

সত্যবাদিতা, শৃঙ্খলা ও সেবা - খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

206

সেবার বিষয়ে বাইবেলের শিক্ষা থেকে আমরা পরিষ্কার ভাবে বুঝতে পারি যে, যীশুখ্রীষ্ট তার পরিবারে, সমাজে ও রাষ্ট্রের সেবাকাজ করেছেন। তাঁর এই আদর্শ আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে যেন আমরাও একই সেবাকাজ চালিয়ে যেতে পারি। ক) পরিবার যীশু ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত তাঁর মা-বাবার সাথে থেকেছেন এবং তাঁদের সব ধরনের কাজে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। তাদের বাধ্য এবং অনুগত থেকেছেন। মারীয়ার সাথে ঘরের কাজে এবং যোসেফের সাথে মিস্ত্রীর কাজে প্রতিনিয়ত সহায়তা করে তাদের সেবা যত্ন করেছেন। আমরাও সন্তান হিসেবে মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয় পরিজনদের সেবা যত্ন করতে পারি। তাঁদের পরামর্শ অনুসরণ করে সঠিকভাবে কাজ কর্ম সমাধা করে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা পোষণ করতে পারি।

খ) সমাজ: যীশু তার জীবনের বিভিন্ন আশ্চর্য কাজের মাধ্যমে সমাজের জনগণের সেবা করে গেছেন। আমরাও যীশুর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজের বিভিন্ন সেবামূলক কাজে যেমন- অসুস্থ্যদের সেবাদান, গরিব-দুঃখীদের সাহায্য দান এবং নির্যাতিত-নিপীড়িত যারা তাদের সান্ত্বনা দান করে যেতে পারি।

গ) মণ্ডলী: যীশু মন্ডলীতে বা সমাজ ঘরে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দানের মাধ্যমে সেবা করেছেন। আমরাও নিয়মিত খ্রীষ্টযাগ বা প্রার্থনা অনুষ্ঠানে যোগদান করে এবং মন্ডলীর উন্নয়নমূলক কাজে বা মন্ডলীতে সেবারতদের জন্য টাকা-পয়সা দান করে মন্ডলীর বিভিন্ন সেবা কাজে অংশ নিতে পারি।

ঘ) রাষ্ট্র: যীশু গোটা মানবজাতির পরিত্রাণের জন্য তার জীবন পর্যন্ত দান করেছেন। আমরা প্রতিদিনকার কর্মজীবনে রাষ্ট্রের জনগণের জন্য কাজ করতে পারি। আমাদের কর্মজীবনে বিশ্বস্ত ও আদর্শ জীবন যাপন করে, ধনী-গরীব ভেদাভেদ সৃষ্টি না করে, সবার সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করে আমরা রাষ্ট্রের সেবামূলক কাজে অংশ নিতে পারি।

যীশুর আদর্শ অনুসরণ করতেই আমরা আহুত হয়েছি। তাঁকে অনুসরণ করার অর্থ হলো তিনি যেভাবে জীবনযাপন করেছেন সেই একই আদর্শ নিজ জীবনে বাস্তবায়িত করা। তাই বলা যায় পরিবার, সমাজ, মন্ডলী বা রাষ্ট্রের সেবার জন্য যেন আমাদের জীবন ব্যয় করি, আর তাতেই আমাদের জীবন হবে সুন্দর, সার্থক ও মঙ্গলময় ।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...