পৃথিবীতে মুক্তিদাতা যীশুর আগমনের উদ্দেশ্য (পাঠ ১)

মুক্তিদাতা যীশুর জন্ম ও শৈশব - খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

221

ঈশ্বর সমগ্র বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা। তিনি সর্বশক্তিমান ও একই সময়ে তিনি সব জায়গায় বিদ্যমান। তিনি সকল ভালো, মঙ্গলময়তা, পবিত্রতা ও জ্ঞানের উৎস। তিনি তাঁর সৃষ্ট জগতের সকল জীবের মধ্যে, বিশেষভাবে মানুষের মধ্যে জ্ঞান ও শক্তি দিয়েছেন যেন তারা তাঁর পরিচয় পেতে পারে। ঈশ্বর মানুষকে সকল সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ মানুষকে তিনি বিবেক ও আত্মা দিয়েছেন। তাকে দিয়েছেন স্বাধীন ইচ্ছা ও ভালোবাসা।

Content added By

আমরা জানি, আমাদের আদি পিতা-মাতা আদম ও হবা ঈশ্বরের অবাধ্য হয়ে পাপ করেছিলেন। তাই ঈশ্বর তাঁদেরকে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করেছিলেন ও পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এভাবে স্বর্গ থেকে আমাদের আদি পিতা-মাতার পতন হলো। অর্থাৎ পাপের ফলে স্বর্গীয় সুখ ও শান্তি থেকে তাঁরা বঞ্চিত হলেন। ঈশ্বর মানুষকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। তাদের দিয়েছিলেন ভালো ও মন্দ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা। মানুষ ভালোটাকে বেছে না নিয়ে মন্দটাকেই বেছে নিল। ঈশ্বর মানুষের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করেননি। তাই তিনি খুবই দুঃখ পেলেন। স্বর্গীয় উদ্যানে অর্থাৎ ঈশ্বরের সান্নিধ্যে মানুষের থাকা আর সম্ভব হলো না।

স্বাধীন ইচ্ছার বলে এমন সিদ্ধান্তের কারণেই মানুষের উপর নেমে এলো শাস্তি। তবুও অসীম দয়ালু ও প্রেমময় ঈশ্বর রাগ করে তাদেরকে চরম শাস্তি দিলেন না। অর্থাৎ তাঁদেরকে একেবারে ধ্বংস করে ফেললেন না। বরং তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন যে তিনি পতিত মানুষকে মুক্ত করার জন্য জগতে একজন মুক্তিদাতাকে পাঠিয়ে দিবেন। ঈশ্বর তাঁর প্রতিজ্ঞা রক্ষা করলেন। তিনি নিজের পুত্রকে আমাদের জন্য পাঠালেন। এভাবে মুক্তিদাতা যীশু খ্রীষ্ট পৃথিবীতে এলেন।

দুই হাজার বছরেরও আগে মুক্তিদাতা যীশু খ্রীষ্ট এ পৃথিবীতে এসেছেন। অদৃশ্য ঈশ্বর দৃশ্যমান হয়েছেন। তিনি মানুষেরই মতো দেহধারণ করেছেন, আমাদের খুব কাছে এসেছেন। আমাদের মতোই জীবন যাপন করেছেন। মানবজাতির মুক্তির উদ্দেশ্যে ঈশ্বরের পরিকল্পনার কথা তিনি জানিয়েছেন।

Content added || updated By

আদি পিতা-মাতার পাপের ফলে পৃথিবীর সমগ্র মানবজাতি পাপের ছায়ায় বাস করছিল। মানুষ অসত্যের অর্থাৎ শয়তানের কবলে পড়েছিল। সেই অসত্যের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য যীশু পৃথিবীতে এলেন। তিনি মানবজাতিকে এতই ভালোবাসলেন যে তাদেরকে পাপ থেকে রক্ষা করার জন্য তিনি জীবন দিলেন। যীশু বলেন, 'আমি আলো হয়েই এই জগতে এসেছি, যাঁরা আমার প্রতি বিশ্বাসী, তাঁরা যেন অন্ধকারে না থাকে' (যোহন ১২:৪৬)।

কাজ:
শিক্ষার্থীরা কীভাবে শয়তানের কবলে পড়ে, তা ছোট ছোট দলে বসে সহভাগিতা কর। শয়তানের হাত থেকে যীশু তোমাকে কীভাবে রক্ষা করেন, তাও সহভাগিতা কর।
Content added By

যীশু নিজেই এ জগতে তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছেন। যোহনের লিখিত মঙ্গলসমাচারে (৬:৩৮) তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আমার নিজের ইচ্ছা পালন করতে নয়, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁর ইচ্ছা পালন করতে আমি স্বর্গ থেকে নেমে এসেছি।' পিতার ইচ্ছা হলো: পিতা তাঁর হাতে যাদের তুলে দিয়েছেন তাঁদের সকলকে পাপ থেকে মুক্ত করা। ঈশ্বরের সাথে মানুষের বিচ্ছিন্ন সম্পর্ক পুনরায় গড়ার জন্য তিনি জীবন দিলেন।

Content added By

যীশু নিজে তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও বলেন, 'প্রকৃতপক্ষে যা হারিয়ে গেছে, তা খুঁজতে ও পরিত্রাণ করতেই মানবপুত্র এসেছেন' (লুক ১৯:১০)। পাপের ফলে আমরা সকলেই ঈশ্বরের ভালোর আশ্রয় থেকে হারিয়ে গিয়েছিলাম। তিনি আমাদেরকে সেই ভালোর বন্ধনে ফিরিয়ে আনার জন্যই পৃথিবীতে এসেছেন।

Content added By

যীশু বলেন, 'আমি পথ, সত্য ও জীবন।' তাঁর মধ্য দিয়ে আমরা ঈশ্বরের কাছ থেকে কৃপা ও আশীর্বাদ লাভ করি। তিনি এখন পিতা ঈশ্বর ও জগতের মানুষের মাঝখানে মধ্যস্থতাকারী হয়েছেন। আমাদের সকল প্রয়োজনের কথা তিনি পিতার কাছে তুলে ধরেন। আবার পিতার কৃপা-আশীর্বাদ তিনি আমাদের কাছে দান করেন।

কাজ: তুমি কীভাবে ঈশ্বরের কাছ থেকে হারিয়ে যাও এবং কীভাবে ঈশ্বরের সাথে পুনর্মিলিত হও তা জোড়ায় জোড়ায় আলোচনা কর।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...