প্রিয়নাথ বৈরাগীর সংগীতমালা (পাঠ ২)

প্রিয়নাথ বৈরাগী - খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

277

প্রিয়নাথ বৈরাগীর বংশের প্রত্যেকেই সাহিত্য ও সংগীতপ্রেমী ছিলেন। সবাই নিজ নিজ প্রতিভায় ও চেষ্টায় গুণী ও প্রতিভাবান হিসাবে সমাজে পরিচিতি লাভ করেছেন। তবে খ্রীষ্টীয় সাহিত্য ও সংগীতে আগে থেকেই তাঁদের বংশের আগ্রহ ও দরদ ছিল উল্লেখ করার মতো। প্রিয়নাথ বৈরাগী আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে বিশেষভাবে পিতা ঈশ্বরের কাছ থেকে অনুগ্রহ প্রাপ্ত হয়েছিলেন, যার প্রমাণ তার রচিত খ্রীষ্টীয় আধ্যাত্মিক সংগীতের বিশাল ভাণ্ডার।

সংগীতপ্রেমী প্রিয়নাথ বুঝতে পেরেছিলেন অথৈ দুঃখের মাঝে ভক্তিমূলক নির্মল খ্রীষ্ট-প্রেমের গান আত্মার খোরাক যোগায়। সংগীত মনে জাগায় সাহস এবং ঈশ্বরপ্রেমে নিমগ্ন হলে মনের মধ্যে প্রভু যীশুর দেখানো পথে চলা সহজ হয়। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন জগতের সকল কিছুই ক্ষণস্থায়ী। তিনি প্রভু যীশুকে একমাত্র সত্য বলে মেনে নিয়ে এক অমর গান রচনা করেন, যার বাণী অমর, যার সুর স্রষ্টার সান্নিধ্যে নিয়ে যেতে পারে। প্রিয়নাথের অনেক গানের মধ্যে একটি গান হলো-

আমার জুড়ালো প্রাণ এসে যীশুর পায়।
এসে দয়াল যীশুর শ্রীচরণ তলে আমার ঘুচলো ভবের ভয়।
ঐ চরণে নাইরে দুঃখ-ক্লেশ, নাইরে ভবের জ্বালা, পাপ অশান্তির লেশ
বুঝি দুগ্ধ মধু প্রবাহী সেই দেশ আছে ঐ চরণ তলায়।

খ্রীষ্টপ্রেমী সংগীত সাধক প্রিয়নাথের প্রতিটি গানের বাণীর মধ্যে লুকিয়ে আছে জীবনের পরম শান্তি। এ গান যে মানুষটি রচনা করতে পেরেছেন, তার হৃদয় যে প্রভুর প্রেমে কতখানি বিগলিত হয়েছিল তা প্রকৃতই ভাববার বিষয়। খ্রীষ্টীয় সংগীত সাধক প্রিয়নাথ বৈরাগীর গানের গভীরে গেলে যেকোনো মানুষের হৃদয় ঈশ্বরের মহিমা ও প্রশংসা গানে নেচে উঠে। প্রতিটি প্রাণ সকাতর ও চঞ্চল হয়ে ওঠে প্রভুর সান্নিধ্য লাভের আশায়। তাইতো আমরা এই গানটিতে খুঁজে পাই তাঁর সকরুণ আর্তি:

তোমার জয় হোক, জয় হোক, হে মহারাজ, হোক মহিমা কীর্তন এ মহীতলে।
ভবে যত নরনারী এসে সারি সারি লুটাক তোমার ঐ চরণতলে।
বসে স্বর্গের সিংহাসনে চেয়ে আছ জগৎ পানে
কোথায় কে কাঁদে অভাজন, করে হাত প্রসারণ
কর হে ধারণ, তুলে কোলে।

সংগীতের নিপুণ কারিগর প্রিয়নাথ প্রভু যীশুর নিকট নিজেকে সঁপে দিতে পেরেছিলেন। তাইতো তিনি দুঃখের সময় যীশুকে ডেকেছেন, আবার আনন্দের সময় যীশুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে হয়েছেন অন্তঃপ্রাণ। মনের আনন্দে আজ ডাকি তোমারে।

ওহে যীশু দয়াময়, যারা তোমার দয়া পায় তারা ধন্য হয় এই সংসারে।
আমার নয়নের জল, তুমি কখন এসে মুছে দিলে আমি জানি না দয়াল।
এখন যে দিকেতে চাই, সুখের কূল-কিনারা নাই, সংসার ভরা সুখের জোয়ারে।

এমনিভাবে প্রভু যীশুর ভক্ত সংগীত পাগল মহান এই মানুষটির হৃদয় ভরা ছিল স্বর্গীয় ভালোবাসায়। বরিশাল, ফরিদপুর অঞ্চলের মানুষের মাঝে কত সহজ ও সাবলীল ভাব ও ভঙ্গি, তাল-লয়-সুর ও ছন্দের মাধ্যমে খ্রীষ্টকে প্রচার করেছেন তা আশ্চর্য প্রদীপের ন্যায় আলো দিয়েছে সহস্র মনে। এই আলো খ্রীষ্টের ভালোবাসার আলো।

কাজ: প্রিয়নাথ বৈরাগীর যে কোন দু'টি গান দুই দলে বিভক্ত হয়ে গেয়ে শুনাও।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...