ঈশ্বর নিজের ইচ্ছায় ইসাইয়ার কাছে নিজেকে প্রকাশ করলেন। কিন্তু ইসাইয়া ঈশ্বরের সাথে দেখা করতে ভীত ও দ্বিধাগ্রস্ত হলেন। তাঁর নিজের ব্যক্তিগত অপবিত্রতা ও অযোগ্যতা এবং সমগ্র ইস্রায়েল জাতির পাপময়তা ছিল তাঁর এই ভয় ও দ্বিধার প্রধান কারণ। তাই তিনি বললেন, তিনি অশুচি। আর অন্যদিকে ঈশ্বর তাঁকে শুচি বা পবিত্র করে নিলেন। এরপর ঈশ্বর তাঁকে বিশেষ কাজের দায়িত্ব দিলেন। এখানে আমরা কয়েকটি ধাপ দেখতে পাই:
ক) ঈশ্বর তাঁর কাজের জন্য ইসাইয়াকে ডাকেন। তাই তিনি ইসাইয়ার কাছে দেখা দেন।
খ) ইসাইয়া ঈশ্বরের কাজ করতে দ্বিধাবোধ করেন। কারণ তিনি নিজেকে দুর্বল, পাপী ও অশুচি বলে মনে করেন। এতে তাঁর অনুতাপ প্রকাশ পায়।
গ) ঈশ্বর ইসাইয়ার অনুতপ্ত হৃদয়ের পাপ ক্ষমা করেন, তাঁকে পবিত্র করেন।
ঘ) এরপর ইসাইয়া ঈশ্বরের সাথে আলাপ করতে নিজেকে প্রস্তুত মনে করেন।
ঙ) ঈশ্বর ইসাইয়ার সামনে একটা বিশেষ দায়িত্বের কথা বলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, 'কাকে পাঠাব? কে যাবে?'
চ) ইসাইয়া জানতেন, এই বিশেষ কাজটি বেশ কঠিন। তবুও তিনি ঈশ্বরের আহ্বানে সাড়া দিলেন। তিনি ঈশ্বরের বাণীপ্রচার কাজে আত্মনিবেদন করলেন।
মানুষের শুচিতার বিষয়ে প্রভু যীশুর শিক্ষা
ঈশ্বরের কাজ করার জন্য মানুষের শুচিতার ব্যাপারে প্রভু যীশুর কয়েকটি উক্তি নিম্নরূপ:
- যীশু অষ্টকল্যাণ বাণীতে বলেন, ‘অন্তরে যাঁরা পবিত্র, ধন্য তাঁরা- তাঁরাই পরমেশ্বরকে দেখতে পাবে।’
- ‘আমি তোমাদের বলে রাখছি, শাস্ত্রী ও ফরিসিদের চেয়ে তোমাদের ধর্মনিষ্ঠা যদি গভীরতর না হয়, তাহলে তোমরা কখনো স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না।’
- 'তোমাদের স্বর্গনিবাসী পিতা যেমন সম্পূর্ণ পবিত্র, তেমনি তোমাদেরও হতে হবে সম্পূর্ণ পবিত্র।'
বাস্তব জীবনে আমরা দেখতে পাই
১। ইসাইয়ার মতো আমাদের সকলের অন্তরেও পবিত্র হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে। আমরা যখন পাপ করি, তখন নিজেকে অপবিত্র বা অশুচি মনে করি।
২। আমরা প্রতিবছর বড়দিনে মুক্তিদাতা যীশুকে বরণ করার পূর্বে আগমনকাল পালন করি। তখন নিজেদের পরিবর্তিত করে দেহ-মন-আত্মায় পবিত্রতা এনে প্রস্তুত হই। এভাবে আমাদের বড়দিন আনন্দের হয়। যীশুর পুনরুত্থান পর্ব পালন করার আগেও আমরা তপস্যাকাল পালন করি। কপালে ছাই মেখে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি শুরু করি। এর মাধ্যমে নিজেদের পবিত্রতা বা শুচিতা ফিরিয়ে আনি।
৩। দীক্ষাস্নান গ্রহণের মাধ্যমে আমরা আদিপাপের ক্ষমা পাই। পবিত্রভাবে খ্রীষ্টপ্রসাদ গ্রহণের পূর্বে আমরা পাপস্বীকার সাক্রামেন্ত গ্রহণ করি। তাছাড়া খ্রীষ্টযাগে যোগ দিয়ে প্রথমে আমরা ক্ষমা প্রার্থনা করে নিই। হস্তার্পণ, বিবাহ ও যাজকবরণ প্রভৃতি সাক্রামেন্ত মানুষ পবিত্রভাবে গ্রহণ করে।
৪। গ্রামের প্রার্থনা পরিচালকগণ, কুমারী মারীয়ার সন্তানগণ, সাধু আন্তনীর গানের দলের সদস্যগণ পবিত্র জীবন যাপন করার চেষ্টা করেন।
৫। ব্রতধারীগণ ও ঈশ্বরের বাণীপ্রচার কাজে আত্মনিবেদিত ব্যক্তিগণ পবিত্র জীবন যাপন করার সাধনা করেন।
৬। যজ্ঞ উৎসর্গকারী যাজকগণ পবিত্র জীবন যাপন করার ও পবিত্রভাবে যজ্ঞ উৎসর্গ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন।
প্রবক্তা ইসাইয়া ঈশ্বরের কাজ করার জন্য নিজেকে পবিত্র হওয়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। ঈশ্বর তাঁকে পবিত্র করে বিশেষ কাজের আহ্বান দিয়েছিলেন। আমরাও যদি ঈশ্বরের বিশেষ কাজের আহ্বানে সাড়া দিতে চাই, আমাদেরও তেমনি পবিত্র জীবন যাপন করতে হবে।
| কাজ: পবিত্র জীবন যাপন করার জন্য তোমার কী কী করণীয় তা নিজের খাতায় লেখ ও ছোট দলে আলোচনা কর। |