ঈশ্বর মানুষকে দায়িত্ব দিয়েছেন সৃষ্টির যত্ন নিতে ও তাঁর উপর প্রভুত্ব করতে। প্রভুত্ব করার অর্থ পালন ও রক্ষা করা, ধ্বংস করা নয়। উদাহরণস্বরূপ, ঈশ্বর আমাদের প্রভু। তিনি আমাদের রক্ষা ও পালন করেন, ধ্বংস করেন না। সৃষ্টির উপর প্রভুত্ব করার অর্থ হলো আমরা যেন সৃষ্টিকে রক্ষা ও পালন করি-এই দায়িত্বই ঈশ্বর আমাদের দিয়েছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মানুষকে অবশ্যই সর্বপ্রথমে মনে রাখতে হবে যে ঈশ্বর সব সৃষ্টিকে উত্তম করে সৃষ্টি করেছেন। তাই মানুষ যেন তার নিজের উত্তমতা সুদৃঢ় রাখে। নতুবা সে অন্যান্য উত্তম সৃষ্টিকে উত্তমতার পথে পরিচালিত ও যত্ন করতে পারবে না। সৃষ্টিকে যত্ন করার দায়িত্ব একটি পবিত্র দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমরা ঈশ্বরের দাস হই না, বরং তাঁর সৃষ্টিকর্ম দেখাশোনার কাজে সহকর্মী হই। মানুষ সৃষ্টির যত্ন নিবে। আবার সৃষ্টিও মানুষের যত্ন নিবে। কারণ সৃষ্টিকে ঈশ্বর এই উদ্দেশ্যেই রচনা করেছেন। সৃষ্টির কাছ থেকে মানুষ সেবা নিবে, অন্তত এই কারণে হলেও মানুষ যেন সৃষ্টির যত্ন নেয়।
মানুষ যেন লোভ ও ভোগ-বিলাসিতার উদ্দেশ্যে ভূমি, জল, বায়ু ইত্যাদি প্রাকৃতিক সম্পদকে শোষণ ও অপব্যবহার না করে। পৃথিবীর জন্য এগুলোর প্রয়োজন ও গুরুত্ব আছে। একেকটা সৃষ্টির একেকটা নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে, নিজস্ব জীবন আছে।
সৃষ্টিগুলোর এই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও জীবন রক্ষা করার দায়িত্ব মানুষের উপর। ভূমি, জল, বায়ু ইত্যাদি প্রাকৃতিক সম্পদ নিজেদেরকে বিলিয়ে দিচ্ছে অপরের জন্য, নিজের জন্য নয়।
কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রকৃতিকে নানাভাবে অত্যাচার, নির্যাতন ও শোষণ করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃতিতে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বর্তমান যুগ হলো শিল্পায়নের যুগ। এই যুগে ভূমি, জল, বায়ু ইত্যাদি প্রাকৃতিক সম্পদের বিশ্রাম প্রয়োজন। যদি এই সম্পদগুলো বিশ্রাম নিতে পারে, তবে এগুলো আরও ধনশালী হবে। তখন এগুলো মানুষেরই উপকারে আসবে। তাই কবি যথার্থই বলেছেন:
নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল,
তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল।
গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান,
কাষ্ঠ দগ্ধ হয়ে করে পরে অন্ন দান।
প্রকৃতির সম্পদ ব্যবহার করে মানুষ ভোগ-বিলাসিতার সামগ্রী উৎপাদন করে। এই বিষয়টি সীমিত রাখা বা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। এই কারণে মানুষের জীবনযাপন যেন আরও সহজ-সরল হয়। মানুষ যত পরিমাণে সহজ-সরল জীবনযাপন করবে, প্রাকৃতিক সম্পদও তত পরিমাণে রক্ষা পাবে। কিন্তু আজকাল ভূমি, জল, বায়ু অত্যধিক পরিমাণে দুষিত হয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিবেশ তার ভারসাম্য হারাচ্ছে। এর দ্বারা মানুষের সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন হারিয়ে যাচ্ছে।

| কাজ: ১. তোমার প্রতিবেশী কেউ অসুস্থ হলে কীভাবে তার সেবা করবে লেখ। কাজ: ২. ক্লাসের অংশ হিসেবে গাছ লাগানোর কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে। |