সৃষ্টির পূর্বে জগত গভীর অন্ধকারময় ছিল। জগত ছিল শূন্য, খালি বা ফাঁকা। তখন জগতে কোন কিছুরই অস্তিত্ব ছিল না। এই অস্তিত্বহীন শূণ্যতাকে ঈশ্বর পূর্ণতা দিয়েছেন বিশ্বভ্রমান্ড সৃষ্টির মাধ্যমে। তিনি বিশ্বভ্রমান্ডের অধিশ্বর একমাত্র সৃষ্টিকর্তা। এই সৃষ্টিকর্মের কাহিনী পবিত্র বাইবেলের প্রথম গ্রন্থ আদিপুস্তকের প্রথম তিনটি অধ্যায়ে বিশদভাবে বর্ণনা আছে। এখানে বর্ণনা করা হয়েছে যে ঈশ্বর ছয় দিনে সমস্ত সৃষ্টি সমাপ্ত করেছেন। সপ্তম দিনে তিনি বিশ্রাম করেছেন। কাজেই আমরা দৃঢ়বিশ্বাস সহকারে বলতে পারি, সমস্ত সৃষ্টির পূর্ব থেকেই ঈশ্বর আছেন। তিনিই সমস্ত সৃষ্টির উৎপত্তি। তিনিই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা। সমস্তই সৃষ্ট হয়েছে তাঁর দ্বারা এবং তাঁর ইচ্ছায়। নিজের পূর্ণতার জন্য তিনি সৃষ্টি করেননি। বরং জগতের পূর্ণতার জন্য তিনি এসব করেছেন। সেই সৃষ্টির মাধ্যমে ঈশ্বর তাঁর সর্বময় ক্ষমতা প্রকাশ করেছেন। সকল সৃষ্টির পিছনে তাঁর মূল কারণ ছিল ভালো এবং মঙ্গলময়তা। এই মঙ্গলময়তার মধ্যেই তাঁর গৌরব প্রকাশিত হয়। প্রতিদিনের সৃষ্টির পর ঈশ্বর বলেছেন, 'উত্তম' হয়েছে। ষষ্ঠ দিনে সব সৃষ্টি শেষ হওয়ার পর তিনি বলেছেন, 'সবই অতি উত্তম হয়েছে।' সপ্তম দিনে তিনি সৃষ্টিকর্ম থেকে বিরতি নিয়েছেন। তিনি বিশ্রাম করেছেন। তাঁর বিশ্রামের দিনটি পবিত্র। এই দিনটি প্রভুর উদ্দেশে নিবেদিত। এই বিশ্রামদিনে আমরা সৃষ্টিকে নিয়ে ধ্যান করার সুযোগ পাই।
সৃষ্টিকে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে আমরা সৃষ্টিকর্তাকে ভালোবাসার সুযোগ পাই। তাই সৃষ্টিকে নিয়ে আমাদের ধ্যান করার প্রয়োজন আছে। আমাদের জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম গানের মধ্যে বলেছেন:
অনাদিকাল হ'তে অনন্ত লোক গাহে তোমারই জয়।
আকাশ বাতাস রবি গ্রহ তারা চাঁদ
হে প্রেমময় গাহে তোমারি জয়।।
সমুদ্র-কল্লোল, নির্ঝর-কলতান, হে বিরাট, তোমারি উদার জয়গান
ধ্যান-গম্ভীর কত শত হিমালয় তোমারি জয়, গাহে তোমারি জয়।।
ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্মের উদ্দেশ্য
তব নামের বীণা বাজায় বনের পল্লব
জনহীন প্রান্তর স্তব করে নীরব
সকল জাতির কোটি উপাসনালয় গাহে তোমারি জয়।।
আলোকের উল্লাসে আঁধারের তন্দ্রায় তব জয়গান বাজে অপরূপ মহিমায়
কোটি যুগ যুগান্ত সৃষ্টি প্রলয় তোমারি জয়, গাহে তোমারি জয়।।
| কাজ: সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের প্রশংসার জন্য তোমার খাতায় একটি প্রশংসামূলক প্রার্থনা লেখ। |