ভালো গাছ যেমন ভালো ফল দেয়, তেমনি ভালো কাজেরও ভালো ফল আছে। ঈশ্বরের কাজের ফল তো অবশ্যই ভালো হবে। ঈশ্বরের পুত্র যীশু খ্রীষ্ট মণ্ডলী স্থাপন করেছেন। তিনি নিজে মণ্ডলীর মস্তক। তাঁর অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে অর্থাৎ তাঁর শিষ্যদের ও সকল ভক্তদেরকে তিনি প্রেরণকাজের দায়িত্ব দিয়েছেন। একেকজনকে একেক দায়িত্ব দিয়ে তিনি প্রেরণ করেছেন। এই প্রেরণকাজগুলো সম্পর্কে আমরা ইতিমধ্যেই আলোচনা করেছি। আমাদের দেশে খ্রীষ্টের প্রেরণকাজগুলো করার জন্য ক্যাথলিক ও প্রটেস্টান্ট মণ্ডলীগুলোতে দেশি ও বিদেশি অনেক কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে ৩৫০ জনেরও অধিক যাজক, ১০০ জনেরও বেশি ব্রাদার, ১১০০ জনেরও বেশি সিস্টার কাজ করছেন। এছাড়া অসংখ্য খ্রীষ্টভক্ত এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশ সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। খ্রীষ্টের প্রেরণকাজগুলোর প্রভাব বা ফলগুলো কী, সেসব বিষয়ে আমরা এবার আলোচনা করব। আমরা দেখবো স্কুল-কলেজের শিক্ষা, যুব গঠন, মূল্যবোধ গঠন, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়ন, পারিবারিক উন্নয়ন এবং এ রকম আরও অনেক বিষয়ে মণ্ডলীর কাজের প্রভাব বিস্তৃত হচ্ছে।
খ্রীষ্টমণ্ডলী সারা দেশে প্রায় ২৫০টি প্রাইমারি স্কুল, ৫০টির অধিক হাইস্কুল, বেশ কয়েকটি কলেজ ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, প্রায় ৫০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অনাথাশ্রম এবং অনেক হস্তশিল্প শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালনা করে আসছে। খুব শীঘ্রই মণ্ডলী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার বিষয়ও চিন্তাভাবনা করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বহুদিন যাবৎ শিক্ষা বিস্তার কাজে ব্যাপৃত রয়েছে। এগুলোর মধ্য দিয়ে প্রতিবছর আমাদের দেশের অগণিত শিক্ষার্থী যথাযথ জ্ঞান লাভ করার সুযোগ পাচ্ছে। এরপর তারা দেশে ও বিদেশে উচ্চ শিক্ষা লাভ করে মেধার বিকাশ ঘটাতে পারছে। তারা দেশ ও বিশ্বের সম্পদ হিসেবে বৃদ্ধি লাভ করতে পারছে।
খ্রীষ্টমণ্ডলী দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের সার্বিক গঠনের উপর জোর দিয়ে থাকে। এখানে জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি মানবীয় ও নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় আরও নানান মূল্যবোধের শিক্ষা দিয়ে থাকে। মানুষকে প্রকৃত মানুষ হওয়ার উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
দেশের শহর ও গ্রামের বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য মণ্ডলী ৭০টিরও বেশি হাসপাতাল, ডিসপেন্সারি, ক্লিনিক, কুষ্ঠাশ্রম, রোগীদের আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করে আসছে। এগুলোর মধ্য দিয়ে প্রতিদিন অগণিত দরিদ্র মানুষ বিনা পয়সায় এবং কোন কোন ক্ষেত্রে নামে মাত্র খরচে চিকিৎসা পেয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে এই মানুষেরা সামান্য হলেও যীশুর নিরাময়কারী স্পর্শ পেতে পারছে।
খ্রীষ্টমণ্ডলী আমাদের দেশে বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। এর মধ্যে কারিতাস, সিসিডিবি ও কৈননিয়া প্রধান। আর্থিক উন্নয়নের জন্য ক্রেডিট ইউনিয়ন ও কাল্বের নাম উল্লেখযোগ্য। সামাজিক উন্নয়নের জন্য খ্রীষ্টান হাউজিং সোসাইটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে আরও অসংখ্য প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এগুলোর মাধ্যমে দেশের আর্থিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রতিবছর অগণিত মানুষ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা পেয়ে চলছে। ক্রেডিট ইউনিয়ন ও কাল্ব অসংখ্য দীন-দরিদ্র মানুষের জীবনে উন্নয়ন এনে দিচ্ছে।
খ্রীষ্টমণ্ডলীর পরিচালনায় সুন্দর পরিবার গঠনের উপর জোর দেওয়া হয়। সারা দেশে হাজার হাজার পরিবারে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যেকার সুসম্পর্ক বজায় রাখার কাজে মণ্ডলী অবিরাম সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এভাবে খ্রীষ্টমণ্ডলী দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
| কাজ: যেকোনো একটি সেবাকাজ, যা মণ্ডলী করছে, কয়েকজন মিলে তা অভিনয় করে দেখাও। |
Read more