ঈশ্বর সবকিছু সৃষ্টি করার পর নিজের প্রতিমূর্তিতে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে দিয়েছেন সমস্ত কিছুর উপর কর্তৃত্ব ও প্রভুত্ব করার অধিকার। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মানুষের দায়িত্ব রয়েছে সৃষ্টিকর্তাকে জানার। তাঁকে জানার জন্য মানুষের দিক থেকেও আকাঙ্ক্ষা থাকা প্রয়োজন। কারণ ঈশ্বর তাকে সকল সৃষ্টির মধ্যে উত্তম করে সৃষ্টি করেছেন। তাকে দিয়েছেন অনেক গুণ। চারদিকের বিচিত্র সৃষ্টি দেখার ও উপভোগ করার সুযোগ দিয়েছেন। এমন প্রিয় ঈশ্বরকে জানা মানুষের একান্ত প্রয়োজন।
ছোটবেলায় আমরা জেনেছি, ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছেন তাঁকে জানতে, মানতে, ভালোবাসতে এবং অনন্তকাল তাঁর সঙ্গে থেকে সুখী হতে। আমাদের জন্য এটা তাঁর একটি আহ্বান। তাঁকে জানতে হবে সত্যকে জানার মাধ্যমে। নিম্নলিখিত উপায়গুলো অনুসরণ করলে আমরা ঈশ্বরকে জানতে পারি:
- সৃষ্ট জীবজন্তু ও বস্তুর মধ্য দিয়ে;
- ব্যক্তিমানুষের মাধ্যমে;
- পবিত্র বাইবেলের মাধ্যমে;
- খ্রীষ্টমণ্ডলীর মাধ্যমে; এবং
- ঈশ্বরপুত্র যীশুর মাধ্যমে।
| কাজ: খাতাকলমসহ বাইরে গিয়ে চারদিকের সৃষ্টিগুলো দেখ। তোমার মতে কোন সৃষ্টির মাঝে ঈশ্বরের প্রকাশ সবচেয়ে ভালো করে বোঝা যায়, তা লিখে নিয়ে আস। এবার সকলের সাথে তা সহভাগিতা কর। |
ঈশ্বরকে জানার উপায়সমূহ
যারা এখনো খ্রীষ্টবিশ্বাসী হয়নি, তাদের সম্বন্ধে সাধু পল বলেছেন, ঈরের বিষয়ে যা জানা যেতে পারে, তা তাদের সামনেই আছে। ঈশ্বর নিজেই তাদের কাছে তা প্রকাশ করেছেন। তাঁর গুণ অদৃশ্য। তাঁর শক্তি চিরস্থায়ী। তাঁর আদি বা অন্ত নেই। তিনি সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা। জগতে তাঁর নানাবিধ সৃষ্টিকর্মের মধ্যে তিনি নিজেকে প্রকাশ করেছেন।
ক) সৃষ্ট জীবজন্তু ও বস্তুর মধ্য দিয়ে ঈশ্বরকে জানা: ঈশ্বর সকল সৃষ্টির উৎস। বিশ্বকে তিনি গতি দিয়েছেন। সেই গতি অনুসারে সারা বিশ্ব চলছে। বিশ্বপ্রকৃতির মধ্যে তিনি দিয়েছেন নিয়ম-শৃঙ্খলা। সবকিছু সেই নিয়ম অনুসারে চলছে। বিশ্বকে তিনি অত্যন্ত সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। এ সবই তাঁর নিপুণ হাতের রচনা। এই বিশ্বের সকল সৃষ্টির অপরূপ সৌন্দর্যের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের সৌন্দর্যকে আমরা জানতে পারি। এত সুন্দর করে যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, তিনিই সবচেয়ে বেশি সুন্দর। তিনি সবচেয়ে সুন্দর বলেই সব সৌন্দর্যের উৎসও তিনি।
খ) ব্যক্তিমানুষের মাধ্যমে ঈশ্বরকে জানা : জীবজন্তু ও সকল বস্তুর ন্যায় মানুষও ঈশ্বরের নিপুণ হাতের সৃষ্টি। ঈশ্বর তাঁর প্রতিমূর্তিতে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। প্রথমে তিনি আদমকে সৃষ্টি করেছেন। এরপর আদমের পাঁজর থেকে হাড় নিয়ে তিনি হবাকে সৃষ্টি করেছেন। তাঁরাই হলেন প্রথম মানব। মানুষের উৎস বা আদি হলেন ঈশ্বর। মানুষ ঈশ্বরের মতো ন্যায়বান, দয়ালু, সত্য, সুন্দর, পবিত্র, সৃজনশীল, সহানুভূতিশীল ইত্যাদি গুণ লাভ করবে, এটা ঈশ্বরের ইচ্ছা। কারণ তাকে তো ঈশ্বর নিজের মতো করে সৃষ্টি করেছেন। আমরা আমাদের ইচ্ছাশক্তি, জ্ঞান, বিবেক, নৈতিকতা এবং অপরের মঙ্গল করার ইচ্ছা দিয়ে ঈশ্বরকে আরও গভীরভাবে জানতে পারি। এভাবে আমরা দিনে দিনে তাঁর মতো হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারি।
সবকিছুর শুরু ও শেষ ঈশ্বরেরই হাতে। এসবের মধ্যে আর কারও হাত নেই। আমরা যেন তাঁকে জানতে পারি, সেজন্য তিনিই আমাদের কাছে আসেন। তিনিই নিজেকে বিভিন্নভাবে মানুষের কাছে প্রকাশ করেন, যেন মানুষ তাকে জানতে, মানতে ও ভালোবাসতে পারে। অবশেষে মানুষ যেন তাঁর সাথে চিরকাল সুখে বাস করতে পারে।
| কাজ: তোমার জীবনে মানুষের মধ্য দিয়ে তুমি কীভাবে ঈশ্বরের উপস্থিতি উপলব্ধি করেছ, তা দলের সকলের সাথে সহভাগিতা কর। |

গ) পবিত্র বাইবেলের মাধ্যমে ঈশ্বরকে জানা: পবিত্র বাইবেল হলো ঈশ্বরের বাণী। সৃষ্টি থেকে শুরু করে যীশুর মধ্য দিয়ে মানুষের পরিত্রাণ আনা পর্যন্ত ঈশ্বর নানাভাবে নিজেকে প্রকাশ করেছেন। সেই কথাগুলোই পবিত্র বাইবেলে লেখা আছে। আমরা ভক্তি, বিশ্বাস ও ভালোবাসা নিয়ে পবিত্র বাইবেল পাঠের মাধ্যমে ঈশ্বরকে জানতে পারি
ঘ) যীশুর মাধ্যমে ঈশ্বরকে জানা : ঈশ্বর সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেছেন নিজের পুত্র যীশুর মধ্য দিয়ে। আগে আমরা ঈশ্বরের কথা শুনতাম প্রবক্তাদের মুখ দিয়ে। কিন্তু প্রভু যীশু মানুষরূপে জন্ম নেওয়ার পর মানুষ ঈশ্বরকে দেখতে পেয়েছে নিজের চোখে। যীশু বলেন, 'যে আমাকে দেখেছে, সে পিতাকেও দেখেছে। কারণ, আমি পিতার মধ্যে আছি, আর পিতা আছেন আমার মধ্যে।' যীশুর মধ্য দিয়ে আমরা ঈশ্বরের শক্তি, ন্যায্যতা, দয়া, ভালোবাসা, ক্ষমা এ সবগুলোর পরিচয় পাই। যীশুকে স্পর্শ করার মধ্য দিয়ে আমরা পিতাকেই স্পর্শ করতে পারি। যীশুর মধ্য দিয়ে আমরা পিতার কথা শুনতে পাই।

ঙ) খ্রীষ্টমণ্ডলীর মাধ্যমে ঈশ্বরকে জানা: যীশু খ্রীষ্ট নিজে মণ্ডলী স্থাপন করেছেন। তিনি স্বর্গে গিয়ে পবিত্র আত্মাকে পাঠিয়ে দিয়েছেন। পবিত্র আত্মার অবতরণের দিন খ্রীষ্টমণ্ডলীর প্রকৃত জন্মদিন। সেদিন থেকেই পবিত্র আত্মা শিষ্যদের মধ্য দিয়ে মণ্ডলীকে পরিচালনা করে আসছেন। এখন মণ্ডলীর নেতৃবৃন্দের মধ্য দিয়ে আমরা ঈশ্বরকে ও তাঁর পরিকল্পনা জানতে পারি।
| কাজ: তুমি প্রতিদিন পড়াশোনা শুরুর আগে পবিত্র বাইবেলের একটি অংশ পাঠ করবে- এরকম একটি প্রতিজ্ঞা কর এবং সকলের সাথে তোমার প্রতিজ্ঞার কথা সহভাগিতা কর। |
Read more