সেবা সম্পর্কে পবিত্র বাইবেলের শিক্ষা (পাঠ ৭)

সত্যবাদিতা, শৃঙ্খলা ও সেবা - খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

306

একবার ফরিসিরা ও শাস্ত্রগুরুরা দল বেঁধে যীশুর কাছে এলেন তাঁকে কথার ফাঁদে ফেলার জন্য। তারা যীশুকে জিজ্ঞেস করলেন, সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আদেশ কোনটি? যীশু উত্তরে বললেন, প্রথম আজ্ঞাটি হলো: তুমি তোমার ঈশ্বর প্রভুকে তোমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে, তোমার সমস্ত প্রাণ দিয়ে ও তোমার সমন্ত মন দিয়ে ভালোবাসবে। আর দ্বিতীয়টি হলো: তুমি তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসবে।

সাধু পল বলেন, 'ভাইয়েরা আমার, তোমরা স্বাধীনতার জন্যই আহুত হয়েছ। শুধু দেখ, এই স্বাধীনতা যেন তোমাদের নিম্নতর স্বভাবটিকে কোন রকম সুযোগ না দেয় বরং ভালোবাসার মাধ্যমে পরস্পরের সেবা কর' (গালা ৫:১৩)।

উপরের দুটি শাস্ত্রাংশ অনুসারে আমরা বুঝতে পারি, ভালোবাসলে দায়িত্ব নিতে হয়। আর দায়িত্ব নেওয়ার অর্থই হলো সেবা করা। আমাদের সেবা হবে ঈশ্বরের ও প্রতিবেশীদের প্রতি। আমাদের প্রতিবেশী কে? এর উত্তর দিতে গিয়ে যীশু বলেছেন দয়ালু সামারীয়ের গল্প। সেই সামারীয় লোকটির মতোই আমাদের হতে হবে অন্যের সেবক। ভালোবাসা ও সেবা যে পরস্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত, তা যীশু শুধু কথায় নয়, কাজেও দেখিয়েছেন। শিষ্যদের নিয়ে শেষ ভোজে বসে যীশু সেবার মহান আদর্শ দেখিয়ে গেছেন। তিনি শিষ্যদের প্রত্যেকের কাছে গিয়ে তাঁদের পা ধুয়ে দিয়েছেন। তিনি তাঁদের বলেছেন, তোমাদের পা যদি আমি ধুয়ে না দিই তবে তোমাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্কই থাকে না। পা ধুয়ে দিয়ে তিনি তাঁদের একটি নতুন আদেশ দিলেন। তিনি তাঁদের প্রত্যেককে ভালোবাসতে বললেন, ঠিক যেমনটি করে তিনি তাঁদের ভালোবেসেছেন। এই আদর্শ দিয়েও তিনি দেখিয়েছেন, আমরা যদি পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে চাই তবে পরস্পরকে সেবা করতে হবে।

ভালোবাসা ও তার প্রকাশস্বরূপ সেবার উপর যীশু সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর শিক্ষানুসারে সেবার ভিত্তিতেই মৃত্যুর পর আমাদের শেষ বিচার হবে। তাই তিনি বলেছেন- যারা ক্ষুধার্তকে আহার দিবে, তৃষ্ণার্তকে পানীয় দিবে, আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দিবে, বস্ত্রহীনকে পোশাক দিবে, অসুস্থকে সেবা করবে, বন্দীকে দেখতে যাবে-সে-ই স্বর্গে যেতে পারবে। যারা এগুলো করবে না, তারা স্বর্গে যাবার অধিকার হারাবে।
প্রভু যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন- 'তোমাদের মধ্যে যে-কেউ বড় হতে চায়, তাকে তোমাদের সেবক হতে হবে, আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ প্রধান হতে চায়, তাকে হতে হবে তোমাদের দাস, ঠিক যেমন মানবপুত্র সেবা পেতে আসেননি, কিন্তু এসেছেন সেবা করতে ও তোমাদের মুক্তিমূল্য রূপে নিজের প্রাণ দিতে' (মথি ২০:২৬-২৮)।

সাধু পিতরকে প্রভু যীশু খ্রীষ্ট দায়িত্ব দিয়ে গেছেন তাঁর মেষদের দেখাশোনা করতে। মণ্ডলীর প্রধান হিসেবে সাধু পিতর বুঝতে পেরেছিলেন ভালোবাসার গুরুত্ব। তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, সেবার মধ্য দিয়েই ভালোবাসার সবচেয়ে উত্তম প্রকাশ ঘটানো সম্ভব। তাই তিনি মণ্ডলীর সবার উদ্দেশে বললেন, তোমরা পবিত্র আত্মার কাছ থেকে যে যেমন দান পেয়েছ, সে তত বেশি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির মতো সকলের সেবা কোরো।

কাজ: তুমি কী কী সেবাকাজের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করতে পার, তা দলের অন্যদের সাথে সহভাগিতা কর।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...