শৃঙ্খলাবিহীন জীবন রাডারবিহীন জাহাজের মতো। সমুদ্রে জাহাজে রাডার থাকলে যেমন জাহাজটি সঠিক স্থানে পৌছতে পারে, তেমনি জীবনে শৃঙ্খলা থাকলে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব হয়। শৃঙ্খলা থাকলে জীবনের অন্যান্য গুণগুলোও যথাযথভাবে প্রকাশ করা যায়, সেগুলো দিয়ে জীবন বিকশিত করা যায়। জীবনে সফল হতে হলে শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন গড়তে হবে। এরকম জীবনের ধারণা আমরা পেয়েছি পৃথিবীর মহান ব্যক্তিদের কাছ থেকে। তাঁদের জীবনে শৃঙ্খলা ছিল বলে তাঁরা মহান হতে পেরেছেন। যে খেলোয়াড়েরা শৃঙ্খলা মেনে খেলে, তাঁদের জয়ের আশা বেশি থাকে। কিন্তু খেলাধুলায় পারদর্শী হয়েও যাঁরা বিশৃঙ্খলভাবে খেলে, তাঁদের হেরে যেতে হয়। যে বিদ্যালয়ের নিয়মশৃঙ্খলা ঠিকমতো চলে, সেখানে বার্ষিক ফলাফলও ভালো হয়। যে শিক্ষার্থী তার শিক্ষকের কথা মেনে চলে, সে শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যক্তি হতে পারে। পড়াশোনায় সে কৃতকার্যতা লাভ করতে পারবে। কিন্তু যে শিক্ষার্থী শিক্ষকের সুপরামর্শ অনুসারে চলে না, জীবনে তাকে ভীষণ কষ্টভোগ করতে হয়। যে কলকারখানা শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে চলে, তাতে উৎপাদন বেশি হয়। রাস্তাঘাটে নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চললে দুর্ঘটনা কম হয়। সেনাবাহিনী নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চললে যুদ্ধে জয়ের আশা বেশি থাকে। সুস্বাস্থ্যের জন্যও নিয়মশৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, বিশ্রাম, ব্যায়াম পরিশ্রম ইত্যাদি নিয়ম মেনে চলে, তাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। যে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন করে, তাঁরা দেশের সুনাগরিক হতে পারে। সমাজে সুখী হতে হলে জীবনে শৃঙ্খলা আনতে হয়। আমরা যদি যার যার মতো করে চলি তবে সমাজটা একটা বিশৃঙ্খলপূর্ণ সমাজে পরিণত হবে। তখন সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তি এবং সমাজ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে, পতনের মুখে পড়বে। আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধন করতে হলেও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়। আত্মদমন বা আত্মশাসনের মাধ্যমে আত্মার মুক্তি আনয়ন সম্ভব। কারণ এর মাধ্যমে মানুষ তার সকল প্রকার কামনা-বাসনা জয় করতে পারে। স্বর্গে গিয়ে ঈশ্বরের সাথে মিলনের জন্য শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন করতে হবে।
Read more