পবিত্র বাইবেলের সর্বপ্রথম লাইনটিতে ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্মের কথা বলা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, 'আদিতে পরমেশ্বর আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির কাজ শুরু করলেন' (আদি ১:১)। এ কথার দ্বারা বলা হয়েছে যে পরমেশ্বর স্বর্গ ও মর্তের স্রষ্টা এবং দৃশ্য ও অদৃশ্য সবকিছুরই সৃষ্টিকর্তা। প্রথম অধ্যায়ে ঈশ্বর সম্বন্ধে আমরা জেনেছি। তিনি ধীরে ধীরে মানুষের কাছে নিজেকে প্রকাশ করেছেন, সে কথাও আমরা জেনেছি। এই অধ্যায়ে আমরা জানতে পারব তাঁর সৃষ্টিকর্মের উদ্দেশ্য ও রহস্য।
রহস্য কথার অর্থ হলো, এমন কোনো বিষয়, যা সহজে ও পুরোপুরিভাবে বোঝা বা ব্যাখ্যা করা যায় না। ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্ম আমাদের কাছে একটি রহস্য। তাই আমরা বলি ঈশ্বর এগুলো সৃষ্টি করেছেন তাঁরই গৌরবের জন্য। আমাদের খ্রীষ্টীয় জীবনে সৃষ্টির রহস্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই রহস্যটি আমাদের পরিত্রাণের সাথে সম্পর্কযুক্ত। কারণ সৃষ্টির শুরুতেই ঈশ্বর আমাদের মুক্তির জন্য একটি পরিকল্পনা করেছেন। ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্মের সাথে আমাদের মুক্তির ইতিহাসের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আমরা আগেই জেনেছি, ঈশ্বরের সব সৃষ্টিই উত্তম। কিন্তু মানুষ তাঁর পাপ দ্বারা সৃষ্টির সৌন্দর্য নষ্ট করে ফেলেছে। সৃষ্টি কলুষিত বা মলিন হয়েছে। আর এই বিনষ্টের হাত থেকে মানুষকে উদ্ধার করতেই ঈশ্বর তাঁর একমাত্র পুত্রকে প্রেরণ করেছেন। পুত্র ঈশ্বর এসে সৃষ্টির সৌন্দর্য আবার ফিরিয়ে এনেছেন। তাঁর আগমনে সৃষ্টির রহস্য পূর্ণ হয়েছে। সেই সৃষ্টির শুরু থেকেই ঈশ্বর স্থির করে রেখেছিলেন যে তিনি তাঁর পুত্রের মধ্য দিয়ে সমস্ত সৃষ্টি নতুন করে গড়ে তুলবেন। এভাবে তিনি সৃষ্টির রহস্য পূর্ণ করবেন। তাই দীক্ষাপ্রাপ্ত প্রত্যেক খ্রীষ্টভক্তের এই সৃষ্টির রহস্য জানা ও বোঝা দরকার।
ঈশ্বর সবকিছু নিপুণভাবে সাজিয়ে রেখেছেন। তাই এসব নিয়ে আমাদের কোনো কিছুই ভাবতে হয় না। আমাদের জানা দরকার, আমরা কোথা থেকে এসেছি আর কোথায় যাচ্ছি। আমাদের আরও জানা দরকার, এ জগতে দৃশ্য ও অদৃশ্য যা-কিছু আছে, সে-সবই বা কোথা থেকে আসে আর কোথায় যায়।

পবিত্র বাইবেলে এই সৃষ্টি সম্বন্ধে স্পষ্ট বর্ণনা করা হয়েছে। সৃষ্টি থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে ঈশ্বর নিজেকে মানুষের কাছে প্রকাশ করেছেন। নিজেকে আরও পরিপূর্ণভাবে প্রকাশের জন্য তিনি একটি জাতি গঠন করেছেন। সেই ঈশ্বরই একমাত্র ঈশ্বর। তিনিই সবকিছুর স্রষ্টা।
| কাজ: সৃষ্টির উপর নির্মিত একটি চলচ্চিত্র ক্লাসের সময় শিক্ষার্থীদের দেখানো যেতে পারে। নতুবা সৃষ্টি সম্পর্কিত কিছু ছবি দেখানো যেতে পারে। আর তাও সম্ভব না হলে বাইরে গিয়ে সৃষ্টির উপর একটি চিত্র অঙ্কন করতে দেওয়া যেতে পারে। |