ঈশ্বর নারী ও পুরুষ করে মানুষ সৃষ্টি করেছেন (পাঠ ৩)

মানুষ সৃষ্টি - খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

376

৩.১ ঈশ্বর তাঁর নিজের প্রতিমূর্তিতে মানুষকে গড়েছেন। এ কথার অর্থ এই নয় যে আমরা ঈশ্বরের মতো দেহ পেয়েছি। বরং এর অর্থ হলো, আমরা তাঁর মতো আত্ম্য ও বিভিন্ন গুণ পেয়েছি। কারণ ঈশ্বর হলেন নিরাকার, শুধু আত্মা। প্রতিটি মানুষ, হোক সে পুরুষ বা নারী সকলেই ঈশ্বরের এক একজন প্রতিমূর্তি। তাঁরা প্রত্যেকেই এক একজন আলাদা ব্যক্তি। তাই ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি হিসেবে প্রত্যেক নারী ও পুরুষ সমান ব্যক্তি-মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য ও অধিকারী। ঈশ্বর কাউকে কম বা কাউকে বেশি মর্যাদা দেননি।

পুরুষ ও নারী উভয়ের সমান আত্মজ্ঞান ও অধিকার আছে, কারণ তারা দুইজনেই ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি। নারী ও পুরুষ উভয়ই ঈশ্বরের সাথে এবং অন্যান্য ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করার অধিকারী। দুজনের মধ্যেই শ্রদ্ধাবোধ, ক্ষমা করা, নম্র হওয়া, পবিত্র হওয়া, জ্ঞান অর্জন করা ইত্যাদি গুণাবলি সমানভাবে রয়েছে। এ কারণে আমাদের মনে এই প্রশ্ন আসা উচিত নয়, সমাজে কে বেশি মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, পুরুষ ও নারী উভয়ের মধ্যেই ঈশ্বর আছেন। উভয়কেই ঈশ্বর দিয়েছেন তাঁর আত্মা।

মানুষ সামাজিক জীব। একা একা বাস করার জন্য সে সৃষ্ট হয়নি। তাই আমরা দেখি, ঈশ্বর প্রথম মানব আদমকে সৃষ্টি করে এদেন/এদন বাগানে অন্যান্য

কাজ: নারী ও পুরুষের সমান মর্যাদা দেখিয়ে দলীয়ভাবে একটি ছোট অভিনয় কর।

প্রাণীদের সাথে রেখেছিলেন। তিনি ছিলেন তখন একমাত্র মানুষ। পুরো বাগানে তিনি ছিলেন একা। তাঁর সম্পর্ক তখন ছিল শুধু গাছপালা, লতাপাতা আর অন্যান্য প্রাণীদের সাথে। এতে তিনি সুখী হলেন না। কারণ সামাজিক প্রাণী হিসেবে তিনি ছিলেন অসম্পূর্ণ। সমাজবদ্ধ হয়ে বাস করতে হলে তাঁর দরকার অন্তত একজন সঙ্গী। তাই ঈশ্বর প্রথম মানবের সঙ্গী হওয়ার জন্য একজন নারীকে সৃষ্টি করলেন। প্রথম নারী হবা হলেন তাঁর হাড়ের হাড় ও মাংসের মাংস। নারীর মধ্য দিয়ে প্রথম মানুষ পূর্ণ হলেন। পূর্ণতা পেয়ে তিনি সুখী মানুষ হলেন।
পুরুষ ও নারী শুধু ব্যক্তি হিসেবে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি নয়, তাঁরা পরিবার হিসেবেও ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি। অর্থাৎ পুরুষ ও নারী উভয়ে মিলে যখন একটি পরিবার গঠন করে, তখন সেখানে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি প্রকাশ পায়। ঈশ্বর হলেন পিতা, পুত্র ও আত্মা। মানুষ পুরুষ ও নারী মিলে পরিবার গঠন করে, সন্তানের জন্মদান করে। তাঁদের মধ্যে একটা একাত্মতা গড়ে ওঠে। পারিবারিক একাত্মতার মধ্য দিয়ে তাঁরা ঈশ্বরের ত্রিব্যক্তির একতা প্রকাশ করে।

সমাজ, দেশ এবং জাতি গঠনেও নারী ও পুরুষ দুজনেরই ভূমিকা রয়েছে। নারী ও পুরুষ সাইকেলের দুই চাকার মতো। সাইকেলের একটি চাকা নষ্ট হলে অন্যটি একা একা চলতে পারে না। তখন পুরো সাইকেলটিই অচল হয়ে পড়ে। তেমনি সমাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের ভূমিকা না থাকলে সমাজ দুর্বল হয়ে যায়। তাই আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন:
বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি, চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

কাজ: তোমার বাবা ও মায়ের গুণগুলো আলাদাভাবে লেখ।

৩.২ স্বাধীনতা ও দায়িত্ব:
ঈশ্বর আদম হবাকে সৃষ্টি করে এদেন বাগানে সুখের রাজ্যে স্থান করে দিয়েছেন। বাগানের সবরকম সুযোগ সুবিধা ভোগ করার ও পারস্পরিক ভালোবাসার মধ্যে জীবনযাপন করার জন্য সুন্দর মন, ইচ্ছা ও দায়িত্ব দিয়েছেন। আদম ও হবা সেই স্বাধীন ইচ্ছার সঠিক ব্যবহার না করে ঈশ্বরের কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছিল। তাদের এই ভুলের জন্য গোটা মানবজাতি আজ দাসত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। ঈশ্বর ইস্রায়েল জাতিকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন রাজা ফারাওর হাত থেকে রক্ষা করে। তিনি গোটা মানব জাতিকে পাপের দাসত্ব থেকে রক্ষা করার জন্য তাঁর একমাত্র পুত্রকে পাঠিয়েছেন। যিনি ক্রুশে প্রাণত্যাগ করে আমাদেরকে মুক্ত ও স্বাধীন মানুষ করে তুলেছেন। আদম হবার মত ঈশ্বর আমাদেরকেও স্বাধীন ইচ্ছা দিয়ে এ পৃথিবীর সব কিছু ভোগ করার সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু দুর্বল মানুষ হিসেবে আমাদের স্বাধীন ইচ্ছার অপব্যবহার করে এবং পবিত্র দায়িত্বের কথা ভুলে গিয়ে প্রতিনিয়ত পাপে পতিত হই। ঈশ্বর কিন্তু তারপরও আমাদের ভুলে যাননি বা আমাদের স্বাধীনতা খর্ব করেননি। আমরা যেন প্রতিনিয়ত পাপ পাঙ্কিলতা থেকে উদ্ধার পেতে পারি তার ব্যবস্থা করেছেন তাঁর পুত্রের প্রতিনিধি হিসেবে যাজকদের মাধ্যমে। ঈশ্বর চান আমরা যেন যাজকদের মাধ্যমে পাপের দাসত্ব থেকে মুক্তি লাভ করে স্বাধীন ও পবিত্র ভাবে জীবনযাপন করি।

Content added || updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...