ঈশ্বরকে জানা (প্রথম অধ্যায়)

খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

691

সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বিশ্বের দৃশ্য ও অদৃশ্য সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা। মানুষ হলো তাঁর সবচেয়ে উত্তম ও প্রিয় সৃষ্টি। জগতের ইতিহাসের প্রথম দিকে তিনি মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলতেন। মানুষের কাছে তিনি তাঁর পরিকল্পনা ও পথ নির্দেশনার কথা বলতেন। ধীরে ধীরে যুগের পরিবর্তন হতে লাগল। কখনো কখনো তিনি বিভিন্ন ঘটনা ও ব্যক্তির মাধ্যমে মানুষের কাছে নিজেকে প্রকাশ করেছেন। তিনি মানুষের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। ঈশ্বর চান, মানুষ যেন তাঁকে জানে, মেনে চলে ও ভালোবাসে। তারা যেন পরস্পরকে এবং অন্য সকল সৃষ্টিকেও ভালোবাসে ও তাদের যত্ন নেয়। ঈশ্বরের এই আহ্বানে সাড়া দেওয়া মানুষের কর্তব্য।

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা:

  • ঈশ্বরকে জানার উপায়সমূহ বর্ণনা করতে পারব
  • ঈশ্বর কীভাবে পর্যায়ক্রমে নিজেকে প্রকাশ করেন তা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • মানুষের প্রতি পিতা ঈশ্বরের ভালোবাসা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের উপায় বর্ণনা করতে পারব
  • বাবা-মা, ভাইবোন, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীকে ভালোবাসার মাধ্যমে ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারব।
Content added By

ঈশ্বর সবকিছু সৃষ্টি করার পর নিজের প্রতিমূর্তিতে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে দিয়েছেন সমস্ত কিছুর উপর কর্তৃত্ব ও প্রভুত্ব করার অধিকার। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মানুষের দায়িত্ব রয়েছে সৃষ্টিকর্তাকে জানার। তাঁকে জানার জন্য মানুষের দিক থেকেও আকাঙ্ক্ষা থাকা প্রয়োজন। কারণ ঈশ্বর তাকে সকল সৃষ্টির মধ্যে উত্তম করে সৃষ্টি করেছেন। তাকে দিয়েছেন অনেক গুণ। চারদিকের বিচিত্র সৃষ্টি দেখার ও উপভোগ করার সুযোগ দিয়েছেন। এমন প্রিয় ঈশ্বরকে জানা মানুষের একান্ত প্রয়োজন।
ছোটবেলায় আমরা জেনেছি, ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছেন তাঁকে জানতে, মানতে, ভালোবাসতে এবং অনন্তকাল তাঁর সঙ্গে থেকে সুখী হতে। আমাদের জন্য এটা তাঁর একটি আহ্বান। তাঁকে জানতে হবে সত্যকে জানার মাধ্যমে। নিম্নলিখিত উপায়গুলো অনুসরণ করলে আমরা ঈশ্বরকে জানতে পারি:

  • সৃষ্ট জীবজন্তু ও বস্তুর মধ্য দিয়ে;
  • ব্যক্তিমানুষের মাধ্যমে;
  • পবিত্র বাইবেলের মাধ্যমে;
  • খ্রীষ্টমণ্ডলীর মাধ্যমে; এবং
  • ঈশ্বরপুত্র যীশুর মাধ্যমে।
কাজ: খাতাকলমসহ বাইরে গিয়ে চারদিকের সৃষ্টিগুলো দেখ। তোমার মতে কোন সৃষ্টির মাঝে ঈশ্বরের প্রকাশ সবচেয়ে ভালো করে বোঝা যায়, তা লিখে নিয়ে আস। এবার সকলের সাথে তা সহভাগিতা কর।
ঈশ্বরকে জানার উপায়সমূহ

যারা এখনো খ্রীষ্টবিশ্বাসী হয়নি, তাদের সম্বন্ধে সাধু পল বলেছেন, ঈরের বিষয়ে যা জানা যেতে পারে, তা তাদের সামনেই আছে। ঈশ্বর নিজেই তাদের কাছে তা প্রকাশ করেছেন। তাঁর গুণ অদৃশ্য। তাঁর শক্তি চিরস্থায়ী। তাঁর আদি বা অন্ত নেই। তিনি সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা। জগতে তাঁর নানাবিধ সৃষ্টিকর্মের মধ্যে তিনি নিজেকে প্রকাশ করেছেন।

ক) সৃষ্ট জীবজন্তু ও বস্তুর মধ্য দিয়ে ঈশ্বরকে জানা: ঈশ্বর সকল সৃষ্টির উৎস। বিশ্বকে তিনি গতি দিয়েছেন। সেই গতি অনুসারে সারা বিশ্ব চলছে। বিশ্বপ্রকৃতির মধ্যে তিনি দিয়েছেন নিয়ম-শৃঙ্খলা। সবকিছু সেই নিয়ম অনুসারে চলছে। বিশ্বকে তিনি অত্যন্ত সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। এ সবই তাঁর নিপুণ হাতের রচনা। এই বিশ্বের সকল সৃষ্টির অপরূপ সৌন্দর্যের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের সৌন্দর্যকে আমরা জানতে পারি। এত সুন্দর করে যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, তিনিই সবচেয়ে বেশি সুন্দর। তিনি সবচেয়ে সুন্দর বলেই সব সৌন্দর্যের উৎসও তিনি।
খ) ব্যক্তিমানুষের মাধ্যমে ঈশ্বরকে জানা : জীবজন্তু ও সকল বস্তুর ন্যায় মানুষও ঈশ্বরের নিপুণ হাতের সৃষ্টি। ঈশ্বর তাঁর প্রতিমূর্তিতে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। প্রথমে তিনি আদমকে সৃষ্টি করেছেন। এরপর আদমের পাঁজর থেকে হাড় নিয়ে তিনি হবাকে সৃষ্টি করেছেন। তাঁরাই হলেন প্রথম মানব। মানুষের উৎস বা আদি হলেন ঈশ্বর। মানুষ ঈশ্বরের মতো ন্যায়বান, দয়ালু, সত্য, সুন্দর, পবিত্র, সৃজনশীল, সহানুভূতিশীল ইত্যাদি গুণ লাভ করবে, এটা ঈশ্বরের ইচ্ছা। কারণ তাকে তো ঈশ্বর নিজের মতো করে সৃষ্টি করেছেন। আমরা আমাদের ইচ্ছাশক্তি, জ্ঞান, বিবেক, নৈতিকতা এবং অপরের মঙ্গল করার ইচ্ছা দিয়ে ঈশ্বরকে আরও গভীরভাবে জানতে পারি। এভাবে আমরা দিনে দিনে তাঁর মতো হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারি।
সবকিছুর শুরু ও শেষ ঈশ্বরেরই হাতে। এসবের মধ্যে আর কারও হাত নেই। আমরা যেন তাঁকে জানতে পারি, সেজন্য তিনিই আমাদের কাছে আসেন। তিনিই নিজেকে বিভিন্নভাবে মানুষের কাছে প্রকাশ করেন, যেন মানুষ তাকে জানতে, মানতে ও ভালোবাসতে পারে। অবশেষে মানুষ যেন তাঁর সাথে চিরকাল সুখে বাস করতে পারে।

কাজ: তোমার জীবনে মানুষের মধ্য দিয়ে তুমি কীভাবে ঈশ্বরের উপস্থিতি উপলব্ধি করেছ, তা দলের সকলের সাথে সহভাগিতা কর।

গ) পবিত্র বাইবেলের মাধ্যমে ঈশ্বরকে জানা: পবিত্র বাইবেল হলো ঈশ্বরের বাণী। সৃষ্টি থেকে শুরু করে যীশুর মধ্য দিয়ে মানুষের পরিত্রাণ আনা পর্যন্ত ঈশ্বর নানাভাবে নিজেকে প্রকাশ করেছেন। সেই কথাগুলোই পবিত্র বাইবেলে লেখা আছে। আমরা ভক্তি, বিশ্বাস ও ভালোবাসা নিয়ে পবিত্র বাইবেল পাঠের মাধ্যমে ঈশ্বরকে জানতে পারি

ঘ) যীশুর মাধ্যমে ঈশ্বরকে জানা : ঈশ্বর সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেছেন নিজের পুত্র যীশুর মধ্য দিয়ে। আগে আমরা ঈশ্বরের কথা শুনতাম প্রবক্তাদের মুখ দিয়ে। কিন্তু প্রভু যীশু মানুষরূপে জন্ম নেওয়ার পর মানুষ ঈশ্বরকে দেখতে পেয়েছে নিজের চোখে। যীশু বলেন, 'যে আমাকে দেখেছে, সে পিতাকেও দেখেছে। কারণ, আমি পিতার মধ্যে আছি, আর পিতা আছেন আমার মধ্যে।' যীশুর মধ্য দিয়ে আমরা ঈশ্বরের শক্তি, ন্যায্যতা, দয়া, ভালোবাসা, ক্ষমা এ সবগুলোর পরিচয় পাই। যীশুকে স্পর্শ করার মধ্য দিয়ে আমরা পিতাকেই স্পর্শ করতে পারি। যীশুর মধ্য দিয়ে আমরা পিতার কথা শুনতে পাই।

ঙ) খ্রীষ্টমণ্ডলীর মাধ্যমে ঈশ্বরকে জানা: যীশু খ্রীষ্ট নিজে মণ্ডলী স্থাপন করেছেন। তিনি স্বর্গে গিয়ে পবিত্র আত্মাকে পাঠিয়ে দিয়েছেন। পবিত্র আত্মার অবতরণের দিন খ্রীষ্টমণ্ডলীর প্রকৃত জন্মদিন। সেদিন থেকেই পবিত্র আত্মা শিষ্যদের মধ্য দিয়ে মণ্ডলীকে পরিচালনা করে আসছেন। এখন মণ্ডলীর নেতৃবৃন্দের মধ্য দিয়ে আমরা ঈশ্বরকে ও তাঁর পরিকল্পনা জানতে পারি।

কাজ: তুমি প্রতিদিন পড়াশোনা শুরুর আগে পবিত্র বাইবেলের একটি অংশ পাঠ করবে- এরকম একটি প্রতিজ্ঞা কর এবং সকলের সাথে তোমার প্রতিজ্ঞার কথা সহভাগিতা কর।
Content added By

প্রেমময় ঈশ্বর তাঁর নিজের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্ট মানুষকে দিয়েছেন জ্ঞান-বুদ্ধি। তা দিয়ে মানুষ সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরকে জানতে চেষ্টা করে। তবে মানুষ শুধু তার নিজের চেষ্টায় ঈশ্বরকে পরিপূর্ণভাবে জানতে পারে না। কারণ মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি সীমিত। তাই ঈশ্বর নিজেই ইচ্ছা করেছেন মানুষের কাছে নিজেকে প্রকাশ করতে। তিনি তাঁর কাজ ও বাণীর মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রকাশ করেছেন। তাঁর উদ্দেশ্য হলো, মানুষ যেন তাঁকে জানতে, মানতে ও ভালোবাসতে পারে। এভাবে মানুষ যেন প্রকৃত সুখী জীবনযাপন করতে পারে।

ঈশ্বর মানুষের কাছে নিজেকে হঠাৎ করে প্রকাশ করেননি। সৃষ্টির আদি থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে তিনি মানুষের কাছে নিজেকে প্রকাশ করেছেন। মানুষ হয়ে জন্ম নেওয়ার মধ্য দিয়ে যীশুর আত্মপ্রকাশের পূর্ণতা পেয়েছে। নিচে আমরা ঈশ্বরের আত্মপ্রকাশের ধাপগুলো একের পর এক আলোচনা করব।
ক) সৃষ্টি: ঈশ্বর সৃষ্টিকর্তা ও সর্বশক্তিমান। তিনি সৃষ্টির মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রকাশ করেন। তিনিই ভালোবাসা। সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তিনি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে ইচ্ছা করেছেন। তাই তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। এসব সৃষ্টির মধ্য দিয়েই ঈশ্বরের প্রকাশ ঘটছে।

খ) আদি পিতা-মাতা: সৃষ্টির ষষ্ঠ দিনে ঈশ্বর মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন। এ কারণে তিনি মানুষকে নিজের সাথে মিলন বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন। ঈশ্বরের এই আত্মপ্রকাশের পথে মানুষের পাপ বাধা হয়ে দাঁড়াল। পাপের ফলে মানুষ শাস্তি পেলেন। মানুষের পতন হলো। স্বর্গ থেকে মানুষ প্রেরিত হলেন জগতে।
কিন্তু এই পতনের হাত থেকে মানুষকে উদ্ধার করার জন্য ঈশ্বর প্রতিশ্রুতি দিলেন। এই প্রতিশ্রুতি পালনে ঈশ্বর বিশ্বস্ত ছিলেন। তিনি শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। এভাবে সর্বদা মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে। যারা মুক্তির খোঁজ করে, তারা সবাই পরিত্রাণ পায়।
গ) নোয়া: ধীরে ধীরে পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকল। তারা বহু জাতি ও ভাষায় বিভক্ত হয়ে গেল। পৃথিবীতে পাপের পরিমাণও বেড়ে গেল। ঈশ্বরকে তারা ভুলেই গেল। একমাত্র নোয়া ও তাঁর পরিবার ঈশ্বরের অনুগত ছিলেন এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান দেখাতেন।

ঈশ্বর এক মহাপ্লাবনের মধ্য দিয়ে নোয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ছাড়া অন্য সকল মানুষকে ধ্বংস করে ফেললেন। নোয়ার সাথে এক জোড়া করে সমস্ত জীবজন্তু ঈশ্বর রক্ষা করেছিলেন। এই প্লাবনের মাধ্যমে পৃথিবীর পাপ ধুয়ে গেল। এরপর নোয়ার সাথে ঈশ্বরের একটি সন্ধি স্থাপিত হলো। নোয়ার মাধ্যমে তিনি এক নতুন মানবজাতি গড়ে তুললেন।

ঘ) আব্রাহাম: ঈশ্বর নিজেকে আরও প্রকাশ করার জন্য একজন ধর্মপ্রাণ ও বিশ্বাসী ভক্তকে বেছে নিলেন। তাঁর নাম হলো আব্রাম। পরে ঈশ্বর তাঁর নাম পরিবর্তন করে আব্রাহাম রেখেছিলেন। তিনি ঈশ্বরের খুব বাধ্য ছিলেন। আব্রাহামকে ঈশ্বর একটি আদেশ দিয়েছিলেন। তিনি আব্রাহামকে তাঁর পিতৃগৃহ, আত্মীয়স্বজন ও দেশ ছেড়ে কানান দেশে যেতে আহ্বান করেছিলেন। ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করলেন, আব্রাহামের বংশ থেকে সৃষ্টি হবে এক মহাজাতি। আব্রাহামের তখনো কোনো সন্তান ছিল না। তিনি ও তাঁর স্ত্রী সারা বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও আব্রাহাম ঈশ্বরের কথা বিশ্বাস করলেন। ঈশ্বরের সেই আদেশ পালন করে আব্রাহাম ঈশ্বরের নির্দেশিত দেশে চলে গেলেন। ঈশ্বর আব্রাহামের উপর খুব সন্তুষ্ট হলেন। ঈশ্বর তাঁকে প্রচুর আশীর্বাদ করলেন। তাঁর সাথে ঈশ্বর একটি সন্ধি স্থাপন করেছিলেন।

আব্রাহাম একটি সন্তান লাভ করলেন। তাঁর নাম ইসায়াক। ঈশ্বর আব্রাহামকে বলেছিলেন, তিনি যেন তাঁর প্রিয় সন্তান ইসায়াককে বলি দেন। আব্রাহাম তাই করতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু ঈশ্বর তাঁকে তা করতে দেননি। এভাবে তিনি ঈশ্বরের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার প্রমাণ দেন। ইসায়াক নিজে এবং তাঁর পুত্র যাকোবও ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন। ঈশ্বর যাকোবের নাম দিয়েছিলেন ইস্রায়েল।

ঙ) মোশী: ঈশ্বর নিজেকে প্রকাশ ও মুক্তিকর্ম বাস্তবায়নের জন্য ইস্রায়েল জাতিকে বেছে নিয়েছিলেন। তারা বাস করত কানান দেশে। অভাবের কারণে তারা মিশর দেশে এসে বসবাস করতে লাগল। ক্রমে তাঁরা ঐ দেশের দাসে পরিণত হলো। মিশর দেশের রাজা ফারাও তাঁদেরকে দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করাতেন। তাদেরকে শাস্তিও দিতেন প্রচুর। তাই তাঁরা ঈশ্বরের কাছে কান্নাকাটি করতে লাগল। ঈশ্বর মোশীকে আহ্বান করলেন ইস্রায়েল জাতিকে মুক্ত করে স্বাধীন দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

মোশী তাঁর ভাই আরোনের সহায়তায় ইস্রায়েল জাতিকে মুক্ত করলেন। তাদেরকে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে মরুভূমির মধ্য দিয়ে স্বাধীন দেশের দিকে নিয়ে গেলেন। পরে মোশীর মধ্য দিয়ে ঈশ্বর ইস্রায়েল জাতির জন্য দশ আজ্ঞা দিলেন। এভাবে মোশীর মধ্য দিয়ে ঈশ্বর নিজেকে আরও অনেকবার প্রকাশ করলেন।

চ) ইস্রায়েল জাতি: মোশীর নেতৃত্বে ঈশ্বর ইস্রায়েল জাতিকে প্রতিশ্রুত দেশে আনলেন। এই দেশ হলো দুধ আর মধুপ্রবাহী দেশ। অর্থাৎ থাকা-খাওয়াসহ সবকিছুর নিরাপত্তা পাওয়া গেল এখানে। তাদেরকে নিয়ে ঈশ্বর একটি বিশেষ জাতি গঠন করলেন। মোশীর মধ্য দিয়ে সিনাই পর্বতে ঈশ্বর ইস্রায়েল জাতির সাথে একটি সন্ধি স্থাপন করেন।

ঈশ্বর যে আজ্ঞাগুলো তাদের দিয়েছিলেন, সেগুলোর মাধ্যমে তারা ঈশ্বরকে ন্যায়বান, প্রেমময় ও মঙ্গলময় বলে আরও গভীরভাবে জানতে লাগল। তিনি তাঁদের আবার স্মরণ করিয়ে দিলেন যে তিনি তাদের জন্য একজন ত্রাণকর্তাকে পাঠিয়ে দিবেন। এভাবে ইস্রায়েলীয়রা হলো ঈশ্বরের মনোনীত জনসমাজ।

ছ) প্রবক্তাগণ: ঈশ্বরের মনোনীত জাতি বারে বারে ঈশ্বরের অবাধ্য ও অকৃতজ্ঞ হয়েছে। প্রতিশ্রুত দেশে তারা জাতিগতভাবে বসতি স্থাপন করে। সমাজ ও দেশে তারা শান্তি-শৃঙ্খলা চায়। তাই তারা ঈশ্বরের কাছে একজন রাজার জন্য প্রার্থনা করে। ঈশ্বর তাদেরকে রাজা দেন। সেই থেকে তাঁরা রাজাদের দ্বারা পরিচালিত হয়। সব রাজার জীবন একরকম ছিল না। কোনো কোনো রাজা ঈশ্বরকে ভুলে যান এবং অত্যাচারী হয়ে উঠেন। অনাচার, অন্যায্যতা, পাপ রাজাদের ও গোটা জাতিকে বিপথে নিয়ে যায়। ফলে ঈশ্বর তাদেরকে সুপথে ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন প্রবক্তা বা নবীকে পাঠান। প্রবক্তাগণ ঈশ্বরের কথাগুলো রাজাদের ও জাতির সব মানুষের কাছে বলতেন ও তাঁদের মন পরিবর্তনের আহ্বান জানাতেন। প্রবক্তাগণ তাদেরকে অসত্যের হাত থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতেন। তাঁরা খুব দৃঢ়তার সাথে ন্যায্যতা ও সত্যের কথা বলতেন। এভাবে প্রবক্তাদের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের প্রকাশ ঘটতে থাকে। ঈশ্বরকে প্রকাশ করার জন্য প্রবক্তাদের ভূমিকা ছিল খুবই বলিষ্ঠ।

জ) যীশু খ্রীষ্ট: ঈশ্বর একজন মুক্তিদাতাকে পাঠিয়ে দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বিভিন্ন প্রবক্তার মুখ দিয়ে সেই কথা ঈশ্বর মানুষকে বারে বারে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। ঈশ্বর সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনি তাঁর আপন পুত্রকেই এ জগতে পাঠাবেন। এ কাজের জন্য তিনি মারীয়া/মরিয়মকে বেছে নিলেন। মারীয়ার গর্ভে মুক্তিদাতার জন্ম ঘটিয়ে তাঁকে পৃথিবীতে পাঠাবার সিদ্ধান্ত নিলেন। ঈশ্বর মারীয়ার কাছে মহাদূত গাব্রিয়েলকে পাঠিয়ে দিলেন। দূত মারীয়াকে এই সংবাদ জানালেন, তিনি পবিত্র আত্মার প্রভাবে গর্ভধারণ করবেন ও মুক্তিদাতার জননী হবেন। মারীয়া ঈশ্বরের এই ইচ্ছার কাছে নিজেকে সমর্পণ করলেন। সময় পূর্ণ হলে পর মুক্তিদাতা যীশুর জন্ম হলো।

যীশু এসে মানুষের কাছে ঈশ্বরের পূর্ণ প্রকাশ ঘটালেন। ঈশ্বর যে মানুষকে ভালোবাসেন তা যীশুর মধ্য দিয়ে বাস্তবে প্রকাশিত হলো। তিনি সব মানুষকে ভালোবাসতে বলেছেন এবং নিজেও ভালোবেসেছেন। ক্রুশের উপর প্রাণ দিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন, তিনি মানুষকে ভালোবাসেন। যীশু আমাদের জন্য হলেন পথ, সত্য ও জীবন। তাঁর মধ্য দিয়ে আমরা পিতার কাছে যেতে পারি। আমাদের আদি পিতা-মাতার পাপের ফলে আমাদের জন্য স্বর্গের দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মুক্তিদাতা যীশুর মাধ্যমে পিতা তা খুলে দিলেন। এভাবে আমরা যীশুর মাধ্যমে ঈশ্বরের প্রকাশ দেখতে পেলাম।

ঝ) খ্রীষ্টমণ্ডলী: যীশু খ্রীষ্টের স্থাপিত মণ্ডলীর মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের প্রকাশ ঘটে চলছে। জগতের বাস্তব অবস্থায় পবিত্র আত্মা মণ্ডলীর পরিচালকগণের মাধ্যমে ঈশ্বর নিজেকে প্রকাশ করেন। পরিচালকদের মধ্য দিয়ে মণ্ডলীর জনগণ ঈশ্বরের প্রকাশ দেখতে পায়।

কাজ: প্রেমময় ঈশ্বর আমাদের কাছে নিজেকে প্রকাশ করেছেন বলে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি প্রার্থনা লেখ।
Content added By
Please, contribute by adding content to মানুষের প্রতি ঈশ্বরের ভালোবাসা.
Content

সৃষ্টির মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের ভালোবাসা অত্যন্ত সুন্দরভাবে প্রকাশিত হয়েছে। সৃষ্টিগুলোই ঈশ্বরের ভালোবাসার প্রকাশ। এগুলো নিয়ে বিশ্বাসপূর্ণভাবে ধ্যান করলে আমরা ঈশ্বরের ভালোবাসাপূর্ণ উপস্থিতি দেখতে পাই। মানুষের মধ্যে তিনি প্রাণবন্ত ভালোবাসা দিয়েছেন, যা মানুষ পরস্পরের জন্য প্রকাশ করতে পারে। এই ভালোবাসার মধ্য দিয়েই আমরা ঈশ্বরের ভালোবাসার অভিজ্ঞতা লাভ করি।
ক) আদমের একাকিত্ব দূর করার জন্য ঈশ্বর হবাকে সৃষ্টি করলেন। তিনি এমনই একজন সহকারীকে সৃষ্টি করলেন, যাকে আদম পছন্দ করবেন ও ভালোবাসবেন। এর মধ্য দিয়ে আমরা বুঝতে পারি, ঈশ্বর মানুষকে কত ভালোবাসেন; মানুষের প্রতি তিনি কত সহৃদয়। ঈশ্বর ভালোবাসেন বলে মানুষকে পুরুষ ও নারী করে সৃষ্টি করেছেন। তিনি পুরুষ ও নারী উভয়কেই সমানভাবে ভালোবাসেন।
খ) ঈশ্বর আব্রাহামকে অনেক ভালোবাসতেন। তাই তিনি বৃদ্ধ বয়সে আব্রাহামকে একটি পুত্রসন্তান দিলেন। আব্রাহামকে ঈশ্বর বলেন, তুমি তোমার প্রিয় পুত্র ইসায়াককে আমার উদ্দেশ্যে বলি দাও। এর মাধ্যমে ঈশ্বর তাঁর প্রতি আব্রাহামের ভালোবাসার গভীরতা পরীক্ষা করতে চেয়েছেন। আব্রাহাম ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসার প্রমাণ স্বরূপ নিজের পুত্রকে বলি দিতেও প্রস্তুত ছিলেন। ঈশ্বর মানুষের মধ্যে এভাবে তাঁর ভালোবাসার আদর্শ রেখেছেন।

গ) অর্পা ও রুথ দুজনই এক পরিবারের বউ ছিল। তাঁদের দুজনেরই স্বামী মারা গেল। তাঁদের শাশুড়ি নাওমী তাঁদের জিজ্ঞেস করলেন, তাঁরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাবে কি না। অর্পা তাঁর নিজ পিতার বাড়িতে চলে গেল। কিন্তু রুথ রয়ে গেল তাঁর বিধবা শাশুড়ির সাথে। শাশুড়িকে সে নিজ মায়ের মতো করেই দেখতে থাকল। তাঁদের পারিবারিক বন্ধনের মধ্য দিয়ে ঈশ্বর নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।

ঘ) ইস্রায়েল জাতিকে মনোনীত করে ঈশ্বর মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসার প্রকাশ ঘটালেন। মানুষ নিজের স্ত্রীকে যেভাবে ভালোবাসে, ঈশ্বরও ইস্রায়েল জাতিকে সেভাবে ভালোবাসলেন। ঈশ্বর চাইলেন, তাঁর আপন জাতির মানুষেরাও যেন তার সৃষ্টিকর্তাকে ভালোবাসে। তাই তিনি মোশীর মধ্য দিয়ে প্রদত্ত দশ আজ্ঞায় বলেছেন, 'তুমি তোমার আপন প্রভু ঈশ্বরকে ভালোবাসবে, কেবল তাঁরই সেবা করবে।' তিনি ইস্রায়েল জনমণ্ডলীকে আরও বলেন, 'তুমি তোমার সমস্ত হৃদয়, তোমার সমস্ত প্রাণ ও তোমার সমস্ত শক্তি দিয়ে তোমার আপন প্রভু ঈশ্বরকে ভালোবাসবে।'
ইস্রায়েল জাতি বারবার পাপ করে দূরে সরে গেলেও ঈশ্বর তাঁকে আবার ক্ষমা করে কাছে টেনে নেন। কারণ 'ঈশ্বর স্নেহশীল ও কৃপাময়, ক্রোধে ধীর এবং দয়া ও সত্যে মহান। সহস্র সহস্র পুরুষ পর্যন্ত তিনি দয়া দেখান, অপরাধ ক্ষমা করেন।' এভাবে ঈশ্বর তাঁর ভালোবাসার আদর্শ প্রকাশ করলেন।
ঙ) রাজা দাউদ গুরুতর পাপ করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁর পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। অনেক প্রায়শ্চিত্ত করলেন। আর ঈশ্বর সেই পাপের ক্ষমা দিলেন। কারণ ঈশ্বর দাউদকে ভালোবাসতেন। দাউদের রাজত্ব কোনোদিন ভেঙে যায়নি।

Content added By

পবিত্র বাইবেলের নতুন নিয়মের মূলভাবটিই হলো ভালোবাসা। সাধু যোহন বলেন, "আমাদের প্রতি পরমেশ্বরের ভালোবাসা এতই প্রকাশিত হয়েছে যে তিনি তাঁর একমাত্র পুত্রকে এ জগতে পাঠিয়েছিলেন, যাতে তাঁর দ্বারাই আমরা জীবন লাভ করি। এই তো তাঁর সেই ভালোবাসার মূলকথা: আমরা যে পরমেশ্বরকে ভালোবেসেছিলাম, তা নয়; তিনিই আমাদের ভালোবাসলেন, আর তাঁর আপন পুত্রকে আমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্তবলি হওয়ার জন্য পাঠালেন। প্রীতিভাজনেরা, পরমেশ্বর যদি আমাদের এমনিভাবেই ভালোবেসে থাকেন, তাহলে আমাদেরও উচিত পরস্পরকে ভালোবাসা। পরমেশ্বরকে কেউ কোনোদিন দেখেনি, তবে আমরা যদি পরস্পরকে ভালোবাসি, তাহলে পরমেশ্বর নিশ্চয়ই আমাদের অন্তরে রয়েছেন এবং ঈশ্বর-প্রেমও আমাদের অন্তরে পূর্ণতা লাভ করেছে" (১ যোহন ৪:৯-১২)।

ঈশ্বর প্রথমে মানুষকে ভালোবেসেছেন। তথাপি মানুষ তাঁর মর্যাদা দেয়নি। মানুষ বারবার পাপ করে ঈশ্বরের কাছ থেকে দূরে চলে যায়। কিন্তু ঈশ্বর আবার তাঁকে ক্ষমা করেন ও কাছে টেনে নেন। তিনি মানুষকে উদ্ধার করার জন্য নিজের পুত্রকে এ জগতে পাঠিয়ে তাঁর ভালোবাসার সর্বোচ্চ প্রমাণ দিলেন।
যীশু খ্রীষ্ট আমাদের কাছে পবিত্র ত্রিত্বকে তুলে ধরেন। পিতা, পুত্র ও আত্মার মধ্যেকার গভীর ভালোবাসার কথা তিনি আমাদের হৃদয়ে লিখে দিতে চান। পিতা ও পুত্র যেমন পরস্পরকে ভালোবাসেন এবং এক থাকেন, তাঁর শিষ্যগণও যেন তেমনি করে একে অপরকে ভালোবাসে ও এক থাকে।
ক্ষমাশীল পিতা, হারানো ছেলে ও কঠিন-হৃদয় ভাইয়ের উপমা কাহিনীর (লুক ১৫:১১-৩২) মধ্য দিয়ে যীশু ঐশ ভালোবাসার একটি সুন্দর চিত্র তুলে ধরেন। যীশু আমাদেরকে বলেন, আমরা যেন সবাইকে ভালোবাসি, এমনকি শত্রুদেরও। তিনি যে ভালোবাসার কথা বলেন তা তিনি নিজের জীবনে প্রয়োগ করেন। ক্রুশের উপর যন্ত্রণাভোগের সময় তিনি তাঁর শত্রুদের ক্ষমা করে দিয়ে ঈশ্বরের ভালোবাসার চূড়ান্ত প্রমাণ দিলেন।

কাজ: ঈশ্বরের ভালোবাসা তুমি কাদের মধ্য দিয়ে কীভাবে পেয়েছ, তা দলে অন্যদের সাথে সহভাগিতা কর।
Content added By

সামসংগীত ৮ পাঠ করলে আমরা দেখতে পাই, সৃষ্টির মধ্যে কীভাবে ঈশ্বর উপস্থিত রয়েছেন। সামসংগীত রচয়িতা বলেন:

হে ঈশ্বর, হে আমাদের প্রভু,

সমস্ত পৃথিবীজুড়ে কী মহিমময় তোমার নাম!

মাহাত্ম্য তোমার নভোলোকের ঊর্ধ্বে বিরাজমান!

তোমার আঙুলের রচনা ওই নভোলোকের দিকে

আমি তাকাই যখন,

তাকাই যখন তোমার ওই যথাস্থানে সাজিয়ে রাখা

চাঁদ আর নক্ষত্রের দিকে--

আহা, মানুষ কে যে তার কথা মনে রাখবে তুমি?

কে-ই বা মানবসন্তান যে তুমি যত্ন নেবে তার?

তবু তাকেই করেছ তুমি প্রায় দেবতার সমান,

তাকেই পরিয়েছ গৌরব আর মহিমার মুকুট!

তোমার সমস্ত সৃষ্টির প্রভুত্ব দিয়েছ তুমি তাকে,

রেখেছ নিখিল বিশ্ব তার পদতলে!

এই সামসংগীতটিতে আমরা দেখতে পাই যে ঈশ্বর তাঁর সব সৃষ্টির মধ্যেই উপস্থিত আছেন। সব সৃষ্টিই তাঁর মহিমা ঘোষণা করছে।
ঈশ্বর নিজেই সব সৃষ্টিকে ভালোবাসেন। প্রজ্ঞাপুস্তকে বলা হয়েছে: 'যা-কিছু আছে, তুমি সেসব ভালোবাস; যা- কিছু গড়েছ, সেগুলোর তুমি কিছুই ঘৃণা কোরো না; যেহেতু কোনোকিছুর প্রতি যদি তোমার ঘৃণা থাকত, তা তুমি গড়তে না! তুমি ইচ্ছা না করলে কেমন করেই বা কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকতে পারবে? অস্তিত্বের উদ্দেশ্যে তোমার আহ্বান না থাকলে তা কেমন করেই বা বেঁচে থাকবে? তুমি বরং সবকিছু বাঁচাও, কারণ, হে জীবন প্রেমিক প্রভু, সবই তোমার (প্রজ্ঞা ১১:২৪-২৬)।
ঈশ্বর তাঁর প্রিয় সৃষ্টির তত্ত্বাবধান করেন। তবে তাঁর তত্ত্বাবধান কাজে সহভাগী হওয়ার জন্য ঈশ্বর দায়িত্ব দিয়েছেন মানুষকে। তিনি মানুষকে এগুলো বশীভূত করার ও তার উপর কর্তৃত্ব করার দায়িত্ব দিয়েছেন। ঈশ্বর আমাদের প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে ভালোবাসেন। তাঁকে জানতে হলে তাঁকে আমাদের ভালোবাসতে হবে। তাঁকে তো আমরা দেখি না, কারণ তিনি অদৃশ্য। তবে আমরা কীভাবে তাঁকে ভালোবাসবো? আমরা তাঁকে দেখতে পাই সৃষ্টির মধ্যে, সকল মানুষের মধ্যে। সাধু যোহন বলেন, 'কেউ যদি বলে, সে পরমেশ্বরকে ভালোবাসে, আর তবুও সে যদি নিজের ভাইকে ঘৃণা করে, তবে সে মিথ্যাবাদী; কারণ যাকে সে দেখতে পায়, তার সেই ভাইকে সে যখন ভালোবাসে না, তখন যে পরমেশ্বরকে সে দেখতে পায় না, তাঁকে সে তো ভালোবাসতেই পারে না। আর আমরা তো যীশুর কাছ থেকে এই আদেশই পেয়েছি: পরমেশ্বরকে যে ভালোবাসে, তাকে নিজের ভাইকেও ভালোবাসতে হবে' (১ যোহন ৪:২০-২১)। যীশু খ্রীষ্ট শেষ ভোজে বসে শিষ্যদের পা ধুয়ে দিয়ে সেবার মাধ্যমে ভালোবাসার আদর্শ দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমরাও যেন এভাবে পরস্পকে সেবা করি। সেবার মাধ্যমে যেন পরস্পরকে ভালোবাসি।

উপরের কথাগুলো থেকে আমরা বুঝি, ঈশ্বর সৃষ্টির মধ্যে বিরাজমান। তিনি আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেও উপস্থিত। কাজেই আমরা যদি সৃষ্টিকে এবং বিশেষ করে মানুষকে ভালোবাসি, তবে আমরা সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরকেই ভালোবাসতে পারি।

নিম্নলিখিতভাবে আমরা সৃষ্টির যত্ন নিতে পারি:
১। মা-বাবা, ভাইবোন ও প্রতিবেশীদেরকে ভালোবেসে ও তাদের সেবা করে।
২। ক্ষুধার্তকে খাবার, তৃষ্ণার্তকে জল, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র, রোগীকে সেবা, আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দিয়ে।
৩। অন্যদের সাথে টিফিন সহভাগিতা করে।
৪। পড়াশোনায় দুর্বল শিক্ষার্থীদেরকে সাহায্য করে।
৫। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বাসায় গিয়ে সেবা করে ও সান্ত্বনা দিয়ে।
৬। যারা মনমরা হয়ে বসে থাকে, তাদেরকে উৎসাহ দিয়ে।
৭। যেসব শিক্ষার্থীদের শীতের পোশাক নেই, তাদেরকে শীতের পোশাক দান করে।
৮। পরিবেশ রক্ষার জন্য গাছপালার যত্ন নিয়ে।
৯। অযথা গাছপালা নষ্ট না করে।
১০। নতুন নতুন গাছ লাগিয়ে।
১১। অযথা পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ইত্যাদি অপচয় না করে।
১২। পশুপাখি ও অন্যান্য জীবজন্তু বিনা কারণে হত্যা না করে।
১৩। পলিথিন ব্যাগ বা প্লাস্টিক জাতীয় জিনিস ব্যবহার না করে।

কাজ: 'আহা কী অপরূপ সৃষ্টি তোমার ভাবি যখন বারে বারে .....' এই গানটি অথবা সৃষ্টি সম্পর্কিত অনুরূপ একটি গান সবাই মিলে গাও।
Content added By

শূন্যস্থান পূরণ কর:
১. মনোনীত জাতি বারবার ……………………. অবাধ্য হয়েছে।
২. ঈশ্বর মোশীকে ……………………. করলেন।
৩. ঈশ্বর ইস্রায়েল জাতির সাথে ……………………. স্থাপন করলেন।
৪. পৃথিবীতে পাপের ……………………. বেড়ে গেল।
৫. তারা ……………………. ভুলেই গেল।

বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশের বাক্যাংশের মিল কর:

বাম পাশডান পাশ

১. পবিত্র বাইবেল হলো

২. যে আমাকে দেখেছে

৩. যীশু খ্রীষ্ট নিজে

৪. পবিত্র আত্মার অবতরণের দিন

৫. যীশুর মধ্য দিয়ে আমরা

  • সে পিতাকেও দেখেছে
  • মণ্ডলী স্থাপন করেছেন
  • খ্রীষ্টমণ্ডলীর প্রকৃত জন্মদিন
  • পিতার কথা শুনতে পাই
  • তাঁর পরিকল্পনা জানতে পারি
  • ঈশ্বরের বাণী

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. সকল সৃষ্টির উৎস কে?
ক. ঈশ্বর
খ. স্বর্গদূত
গ. পিতা-মাতা
ঘ. মানুষ

২. ঈশ্বর চান মানুষ যেন -
i. ঈশ্বরকে জানে
ii. ঈশ্বরকে মেনে চলে
ঈশ্বরকে ভালোবাসে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:
সুমন একজন মেধাবী ছাত্র। একসময় সে খারাপ বন্ধুদের সঙ্গ পেয়ে পড়াশোনা ছেড়ে দেয় ও বিপথে চলে যায়। শিক্ষক তাঁকে তাঁর ভুল বুঝিয়ে দিয়ে আদর করে কাছে টেনে নেন। সুমন তাঁর শিক্ষকের ভালোবাসা গভীরভাবে বুঝতে পেরে সুপথে ফিরে আসে।
৩. যীশুর কোন গুণটি শিক্ষকের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে-
ক. ন্যায্যতা
খ. দয়া
গ. ক্ষমা
ঘ. স্নেহশীলতা
৪. সুমনের প্রতি শিক্ষকের উক্ত আচরণের কারণ-
i. পাপ থেকে মুক্ত করা
ii. ঐশ মহিমা প্রকাশ
iii. ছাত্রের প্রতি ভালোবাসা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. মিতা ও রমা দুই বান্ধবী। তাঁরা ভক্তি সহকারে বাইবেল পাঠ করে। কোথাও বেড়াতে গেলে মিতা গভীরভাবে তাঁর আশেপাশের গাছ, পাখি, ফুল, নদী ইত্যাদি অপরূপ সৃষ্টি খেয়াল করে। অপরদিকে রমার সমস্ত জীবজন্তুর প্রতি অসম্ভব দয়া। কেউ গাছ কাটলে সে বাধা দেয়। আশে পাশের পাখিকে নিয়মিত খাবার দেয়। প্রতিবেশী অসুস্থ হলে বা বিপদে পড়লে সাহায্য করতে এগিয়ে যায়।
ক. ঈশ্বর ষষ্ঠ দিনে কী সৃষ্টি করেছেন?
খ. ঈশ্বর কেন নোয়ার মাধ্যমে এক নতুন মানবজাতি গড়ে তুললেন?
গ. মিতা তাঁর কাজের মাধ্যমে কাকে জানতে চায়, ব্যাখ্যা কর।
ঘ. রমার মত তুমিও কীভাবে ঈশ্বরের আহ্বানে সাড়া দিতে পার, তা ব্যাখ্যা কর।

২. শ্যামল নিয়মিত তাঁর বাগানের যত্ন নিয়ে থাকে। তাঁর তত্ত্বাবধানে বাগানের গাছগুলো স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে এবং বাগানটি ফুল, ফলে পরিপূর্ণ হচ্ছে। সে তাঁর বাড়ির পশুপাখিদেরও যত্ন নেয়। শ্যামল মনে করে, এগুলোর যত্ন করার দায়িত্ব তাঁর। অন্যদিকে তাঁর ভাই অমল শ্যামলের সাথে খারাপ ব্যবহার করে এবং পাড়া প্রতিবেশী বিপদে পড়লে তাদের সেবায় এগিয়ে যায় না। সে একটি বাড়িতে একাই বসবাস করে এবং বলে সে ঈশ্বরকে ভালোবাসে।
ক. সৃষ্টির মধ্যে কে উপস্থিত আছেন?
খ. ঈশ্বর সৃষ্টির মাধ্যমে কী বোঝাতে চেয়েছেন?
গ. শ্যামল তাঁর কাজগুলোকে কেন নিজের দায়িত্ব মনে করে তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
ঘ. তুমি কি মনে কর অমল ঈশ্বরকে ভালোবাসে? তোমার মতের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন

১. ঈশ্বর মানুষকে কার প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করেছেন?
২. খ্রীষ্টমণ্ডলী কী?
৩. ঈশ্বর কেন মানুষ সৃষ্টি করেছেন?
8. পবিত্র বাইবেলে নতুন নিয়মের মূলভাব কী?
৫. রাজা দাউদ গুরুতর পাপ করলেও ঈশ্বর কেন তাকে ক্ষমা করলেন?

বর্ণনামূলক প্রশ্ন
১. ঈশ্বরকে জানার উপায়সমূহ বর্ণনা কর।
২. আব্রাহামের কাছে ঈশ্বর কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বর্ণনা কর।
৩. ঈশ্বর কেন তাঁর পুত্রকে মানুষের বেশে পৃথিবীতে পাঠালেন তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...