ঈশ্বরের আহ্বানে ইসাইয়ার সাড়াদান (পঞ্চম অধ্যায়)

খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

240

ঈশ্বর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তিকে তাঁর বাণী মানুষের কাছে প্রচার করার জন্য আহ্বান করেছেন। আর যাঁদেরকে তিনি ডাক দিয়েছেন, তাঁরা সবকিছু ছেড়ে ঈশ্বরের কাজে জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁরা এই আহ্বানকে কর্তব্যমূলক বলে মনে করেছেন। তাঁর নিজের সৃষ্টিকর্তা তাঁকে ডেকেছেন বলে তাঁরা সেই আহ্বানে আনন্দের সাথে সাড়া দিয়েছেন। এই অধ্যায়ে আমরা দেখব ঈশ্বর কীভাবে প্রবক্তা ইসাইয়াকে আহ্বান করেছেন এবং ঈশ্বরের ডাকে তিনি কীভাবে সাড়া দিয়েছেন।

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-

  • মানুষের প্রতি ঈশ্বরের আহ্বানের অর্থ ব্যাখ্যা করতে পারব
  • ইসাইয়া স্বর্গের যে দৃশ্যটি দেখেছিলেন তা বর্ণনা করতে পারব
  • ঈশ্বর কর্তৃক ইসাইয়ার শুচীকরণের ঘটনা বর্ণনা করতে পারব
  • ঈশ্বর কর্তৃক ইসাইয়াকে আহ্বান ও ইসাইয়ার সাড়া দানের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে পারব
  • ঈশ্বরের কাজে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে মানুষের শুচিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বর্ণনা করতে পারব
  • ঈশ্বরের উপর ইসাইয়ার গভীর বিশ্বাস উপলব্ধি করে নিজে ঈশ্বরের উপর বিশ্বাসী হবো।
Content added By

আহ্বান কথার অর্থ হলো ডাক। ঈশ্বর অদৃশ্য হলেও মানুষের সাথে তাঁর একটা অন্তরের যোগাযোগ আছে। তিনি মানুষকে দেহ, মন ও আত্মা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। মানুষের দেহটা দেখা যায়, কিন্তু তার মন ও আত্মা দেখা যায় না। সেই অদৃশ্য মন ও আত্মা দিয়ে মানুষ ঈশ্বরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। প্রার্থনা ও নীরব ধ্যানের মাধ্যমে সে ঈশ্বরের কথা শুনতে পায়। মানুষের অদৃশ্য মন ও আত্মার মধ্যে বিবেক বলে একটা শক্তি বা ক্ষমতা ঈশ্বর দিয়েছেন। সেই বিবেক দ্বারা বিবেচনা করে সে ঈশ্বরের ডাকে সাড়া দিবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ঈশ্বর মানুষকে ডাকেন মানুষের মতো মানুষ হতে, প্রকৃত খ্রীষ্টান হতে এবং বিশেষ জীবনে প্রবেশ করতে। এই পাঠে আমরা সেগুলো নিয়ে আলোচনা করি।

Content added By

ঈশ্বর আমাদেরকে মানব পরিবারে জন্ম দিয়েছেন। আমাদের সকলেরই দেহ, মন ও আত্মা আছে। দেহের মধ্যে যেসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থাকার কথা তার সবই আছে। তবুও আমাদেরকে ঈশ্বর মানুষ হওয়ার জন্য ডাকেন। এর অর্থই কী? আমাদের মা-বাবাও অনেক সময় আমাদেরকে বলেন, 'মানুষ হও'। তারা এর দ্বারা কী বুঝাতে চান তা আমরা জানি। তাঁরা আমাদেরকে মানবিক গুণ ও মূল্যবোধগুলো অর্জন করতে বলেন। ঈশ্বর আমাদের সামনে উদাহরণ হিসেবে তাঁর পুত্র যীশুকে রেখেছেন। যীশু একই সঙ্গে পূর্ণ ঈশ্বর এবং পূর্ণ মানব। যীশুর মধ্যে মনুষ্যত্বের সবগুলো গুণ ছিল। আমরা তাঁকে অনুসরণ করলে খাঁটি মানুষ হতে পারি। অর্জিত গুণ ও মূল্যবোধগুলো আমরা যতই অপরের কল্যাণে ব্যবহার করি, ততই আমরা দিন দিন 'মানুষের মতো মানুষ' হতে থাকি।

Content added By

আমরা ঈশ্বরের কাছ থেকে দ্বিতীয় একটি আহ্বান পেয়েছি। সেটি হলো খ্রীষ্টান বা খ্রীষ্টের অনুসারী হওয়ার আহ্বান। খ্রীষ্টান পরিবারে জন্ম নিলেই এবং দীক্ষাস্নানসহ অন্যান্য সাক্রামেন্তগুলো গ্রহণ করলেই একজনকে খ্রীষ্টান বলা যায় না। যেমন করে আমাদের মা-বাবা আমাদেরকে মানুষ হতে বলেন, তেমনি আমাদেরকে দিনে দিনে খ্রীষ্টান হতে হবে। খ্রীষ্টান বা খ্রীষ্টের অনুসারী হতে হলে আগে খাঁটি মনুষ্যত্ব অর্জন করতে হবে। খাঁটি মনুষ্যত্বের গুণগুলো আয়ত্ত করতে না পারলে আমরা খাঁটি খ্রীষ্টানও হতে পারি না। যতই আমরা ধীরে ধীরে মানুষের মতো মানুষ হবো ততই আমরা খাঁটি খ্রীষ্টান হবো। খ্রীষ্টকে অনুসরণ করার মাধ্যমে আমরা প্রকৃত খ্রীষ্টান হওয়ার আহ্বানে সাড়া দিতে পারি।

Content added By

যারা খাঁটি মানুষ ও খাঁটি খ্রীষ্টান হতে পারে, তাদের মধ্য থেকে ঈশ্বর কাউকে কাউকে বিশেষ আহ্বান দিয়ে থাকেন। যেমন কেউ কেউ ঈশ্বরের আহ্বান পায় যাজক, পালক, ব্রাদার, সিস্টার, কাটেখিস্ট হওয়ার জন্য। এগুলোকে বিশেষ আহ্বান বলা হয় এই কারণে যে এই ধরনের জীবনের জন্য ঈশ্বর মানুষকে তাঁর বাণী প্রচার করার জন্য আহ্বান করেন। পবিত্র বাইবেলে আমরা এ রকম অনেক মানুষকে বিশেষ আহ্বান পেতে দেখেছি। তাঁদের কয়েকজনের নাম আমরা উল্লেখ করতে পারি। যেমন: আব্রাহাম, মোশী, এলিয়, ইসাইয়া, দানিয়েল, রুথ, এসথের, দেবোরা, দীক্ষাগুরু যোহন, মারীয়া, আন্না, মারীয়া মান্দালেনা, পিতর, পল এবং আরও অনেকে। যাঁরা ঈশ্বরের বিশেষ আহ্বান পেয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই খাঁটি মানুষ ও ঈশ্বরভক্ত ছিলেন।

বিশেষ আহ্বানের ব্যাপারে আমাদের মনে রাখা দরকার:

ক) ঈশ্বরের আহ্বান মানুষের জন্য একটি অত্যন্ত গৌরবজনক বিষয়। এই আহ্বানটি এতই গৌরবজনক যে এটি আসে ঈশ্বরের কাছ থেকে।
খ) কোনো একটি বিশেষ কাজ করার উদ্দেশ্যে ঈশ্বর এই আহ্বান করেন। তিনি একটি কাজ দিয়ে আহূত ব্যক্তিকে পাঠান।
গ) আহূত ব্যক্তিদের মনে রাখতে হবে যে ঈশ্বর তাদের ডেকেছেন ঈশ্বরের ও মানুষের সেবা করার জন্য, সেবা পাবার জন্য নয়।
ঘ) বিশেষ আহ্বান যারা পায়, তাদের অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়। অনেক সমালোচনা ও অপবাদ সহ্য করতে হয়। তাঁদের অনেক ত্যাগস্বীকার করতে হয়। কখনো কখনো তাদের শারীরিক নির্যাতনও সহ্য করতে হয়।
ঙ) ঈশ্বর যাঁকে ডাকেন ও বিশেষ কাজের জন্য পাঠান তাঁকে ঐ কাজটি করার জন্য প্রয়োজনীয় গুণও দেন। কাউকে তা নিজের ব্যবহারের জন্য দেন না। যে যে-গুণ পেয়েছে, তা দিয়ে সে মণ্ডলী, সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করবে, এটাই ঈশ্বর চান।

বিশেষ আহ্বানে আহূত ব্যক্তিদেরকে অবশ্যই খাঁটি মানুষ ও খাঁটি খ্রীষ্টান হতে হবে। এরপর ঈশ্বর যদি চান তবে তিনি তাঁর বিশেষ কাজের জন্য আমাদেরকে বিশেষ আহ্বান করতেও পারেন। এই আহ্বানে সাড়া দেবার জন্য আমাদেরকে প্রতিদিনই ঈশ্বরের ডাক শুনতে হবে। প্রার্থনা, ধ্যান, বিভিন্ন ঘটনা, ঈশ্বরের বাণী ও বিভিন্ন আধ্যাত্মিক বই পড়া, বিভিন্ন আদর্শ ব্যক্তিদের জীবন ও পরামর্শ আমাদের এ বিষয়ে সহায়তা করতে পারে।

Content added By

প্রবক্তা ইসাইয়া একজন খাঁটি মানুষ ছিলেন। তিনি একজন খাঁটি ঈশ্বরভক্তও ছিলেন। এই পাঠে আমরা দেখব ইসাইয়া স্বর্গের একটি দৃশ্য দেখতে পেয়েছিলেন। সেখানে তিনি ঈশ্বরকে দেখেছেন। ঈশ্বরের কাছ থেকে কথা শুনেছেন। ঈশ্বরের দূত তাঁকে শুচি করেছেন। বিশেষ কাজের জন্য ঈশ্বর তাঁকে ডেকেছেন এবং তিনিও তাতে সাড়া দিয়েছেন।

ইসাইয়ার স্বর্গের দৃশ্য দর্শন

রাজা উজ্জিয়া যে বছর মারা গেলেন, সেই বছরে আমি একদিন দেখতে পেলাম, উঁচুতে বসানো এক মহাসিংহাসনে প্রভু বসে আছেন। তাঁর বসনের সুদীর্ঘ প্রান্তভাগ গোটা পুণ্যস্থান জুড়েই ছড়িয়ে রয়েছে। ঊর্ধ্বে রয়েছেন একদল সেরাফদূত। তাঁরা চিৎকার করে পরস্পরকে বলছেন: 'পুণ্য, পুণ্য, পুণ্য বিশ্বপ্রভু পরমেশ্বর! সারা পৃথিবী জুড়েই তাঁর মহিমা প্রকাশ!' তাঁরা একের পর এক এই যে চিৎকার করছিলেন, তাঁদের স্বর-ধ্বনিতে তখন মন্দিরের প্রবেশদ্বারের ভিত কেঁপে কেঁপে উঠছিল। আর সেই সঙ্গে মন্দিরটি ধোঁয়ায় ভরে উঠছিল। আমি তখন বলে উঠলাম: 'এবার আমার সর্বনাশ হলো! আর আমার রক্ষা নেই। অশুচি-মুখ মানুষ আমি, আবার বাস করি অশুচি-মুখ এক জাতিরই মাঝখানে! আর সেই আমি কি না নিজের চোখ দিয়ে স্বয়ং রাজা, সেই বিশ্বপ্রভু পরমেশ্বরকেই দেখে ফেললাম!'

তখন সেরাফদের একজন আমার কাছে উড়ে এলেন। তাঁর হাতে ছিল এক টুকরো জ্বলন্ত অঙ্গার। তা তিনি চিমটে দিয়ে যজ্ঞবেদির ওপর থেকেই তুলে এনেছিলেন। আমার মুখে সেই অঙ্গার একবার স্পর্শ করিয়ে তিনি বললেন: 'এই দেখ, এটা তোমার ঠোঁট স্পর্শ করছে। তোমার অপরাধও দূর করা হয়েছে। তোমার পাপও মুছে ফেলা হয়েছে।' তখন আমি শুনতে পেলাম, প্রভু বলছেন: 'কাকে পাঠাব আমি? আমাদের দূত হয়ে কে যাবে?' আমি উত্তর দিলাম: 'আমি তো রয়েছি! আমাকেই পাঠাও!'

ইসাইয়া স্বর্গের দৃশ্যে দেখেছিলেন

ক) স্বর্গের সিংহাসনে ঈশ্বর উপবিষ্ট আছেন।
খ) ঈশ্বরের গৌরবগান করছেন সেরাফদূতগণ। তাঁরা ধূপারতি দিয়ে ঈশ্বরের প্রশংসা করছিলেন। তাঁদের প্রশংসায় মন্দিরের প্রবেশদ্বার কেঁপে উঠছিল।

ইসাইয়ার প্রতিক্রিয়া: ঈশ্বরকে দেখে ইসাইয়া ভয় পেলেন। কারণ তখনকার মানুষ মনে করত ঈশ্বরকে দেখা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ মানুষ অপবিত্র কিন্তু ঈশ্বর পবিত্র। তাই ইসাইয়া মনে করলেন, এবার বোধ হয় তিনি মারাই যাবেন।
ইসাইয়ার শুচীকরণ: ইসাইয়া বললেন, তাঁর মুখ ও চোখ অশুচি বা অপবিত্র। তিনি ঈশ্বরের কাছে সম্পূর্ণ অযোগ্য। কিন্তু ঈশ্বরের একজন দূত আগুন দিয়ে তাঁর মুখ পবিত্র করে তুললেন। এরপর দূত তাঁকে নিশ্চিন্ত হতে বললেন, কারণ এখন থেকে তিনি পবিত্র এক মানুষ বলে গণ্য হবেন।

ইসাইয়াকে ঈশ্বর আহ্বান করেন : ইসাইয়া শুচি হওয়ার পর ঈশ্বর একটি প্রশ্ন রাখলেন। ঈশ্বর বললেন: 'কাকে পাঠাব আমি? আমাদের দূত হয়ে কে যাবে?' এই প্রশ্নের মাধ্যমে ঈশ্বর ইসাইয়াকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিলেন। তিনি তাঁর কাজে যাওয়ার জন্য ইসাইয়াকে জোর করলেন না।

ইসাইয়ার উত্তর: প্রবক্তা ইসাইয়া ঈশ্বরের প্রশ্ন নিয়ে চিন্তা করলেন। এরপর তাঁর মনে ও হৃদয়ে ঈশ্বরের সেবাকাজ করার জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা জেগে উঠল। উত্তরে তিনি বললেন, 'আমি তো রয়েছি! আমাকেই পাঠাও!'

এভাবে ইসাইয়া প্রবক্তা হওয়ার জন্য ঈশ্বরের কাছ থেকে আহ্বান পেলেন। তিনি স্বাধীনভাবে ঈশ্বরের আহ্বানে সাড়া দিলেন। ঈশ্বর প্রবক্তা ইসাইয়াকে শুচি বা পবিত্র করলেন ইসাইয়ার নিজের জন্য নয়। বরং তিনি যেন ঈশ্বরের কাজ করতে পারেন, সে জন্যে ঈশ্বর তাঁকে পবিত্রতার এই সুন্দর গুণটি দিয়েছেন।

কাজ: ১। ঈশ্বর তোমাকে কোনো বিশেষ কাজের জন্য আহ্বান করছেন কিনা সে বিষয়ে তোমার অনুভূতি সম্পর্কে লেখ।
কাজ: ২। ইসাইয়ার স্বর্গের দৃশ্য দর্শন একটি দলে অভিনয় করে দেখাও।
Content added By

ঈশ্বর নিজের ইচ্ছায় ইসাইয়ার কাছে নিজেকে প্রকাশ করলেন। কিন্তু ইসাইয়া ঈশ্বরের সাথে দেখা করতে ভীত ও দ্বিধাগ্রস্ত হলেন। তাঁর নিজের ব্যক্তিগত অপবিত্রতা ও অযোগ্যতা এবং সমগ্র ইস্রায়েল জাতির পাপময়তা ছিল তাঁর এই ভয় ও দ্বিধার প্রধান কারণ। তাই তিনি বললেন, তিনি অশুচি। আর অন্যদিকে ঈশ্বর তাঁকে শুচি বা পবিত্র করে নিলেন। এরপর ঈশ্বর তাঁকে বিশেষ কাজের দায়িত্ব দিলেন। এখানে আমরা কয়েকটি ধাপ দেখতে পাই:

ক) ঈশ্বর তাঁর কাজের জন্য ইসাইয়াকে ডাকেন। তাই তিনি ইসাইয়ার কাছে দেখা দেন।
খ) ইসাইয়া ঈশ্বরের কাজ করতে দ্বিধাবোধ করেন। কারণ তিনি নিজেকে দুর্বল, পাপী ও অশুচি বলে মনে করেন। এতে তাঁর অনুতাপ প্রকাশ পায়।
গ) ঈশ্বর ইসাইয়ার অনুতপ্ত হৃদয়ের পাপ ক্ষমা করেন, তাঁকে পবিত্র করেন।
ঘ) এরপর ইসাইয়া ঈশ্বরের সাথে আলাপ করতে নিজেকে প্রস্তুত মনে করেন।
ঙ) ঈশ্বর ইসাইয়ার সামনে একটা বিশেষ দায়িত্বের কথা বলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, 'কাকে পাঠাব? কে যাবে?'
চ) ইসাইয়া জানতেন, এই বিশেষ কাজটি বেশ কঠিন। তবুও তিনি ঈশ্বরের আহ্বানে সাড়া দিলেন। তিনি ঈশ্বরের বাণীপ্রচার কাজে আত্মনিবেদন করলেন।

মানুষের শুচিতার বিষয়ে প্রভু যীশুর শিক্ষা

ঈশ্বরের কাজ করার জন্য মানুষের শুচিতার ব্যাপারে প্রভু যীশুর কয়েকটি উক্তি নিম্নরূপ:

  • যীশু অষ্টকল্যাণ বাণীতে বলেন, ‘অন্তরে যাঁরা পবিত্র, ধন্য তাঁরা- তাঁরাই পরমেশ্বরকে দেখতে পাবে।’
  • ‘আমি তোমাদের বলে রাখছি, শাস্ত্রী ও ফরিসিদের চেয়ে তোমাদের ধর্মনিষ্ঠা যদি গভীরতর না হয়, তাহলে তোমরা কখনো স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না।’
  • 'তোমাদের স্বর্গনিবাসী পিতা যেমন সম্পূর্ণ পবিত্র, তেমনি তোমাদেরও হতে হবে সম্পূর্ণ পবিত্র।'

বাস্তব জীবনে আমরা দেখতে পাই

১। ইসাইয়ার মতো আমাদের সকলের অন্তরেও পবিত্র হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে। আমরা যখন পাপ করি, তখন নিজেকে অপবিত্র বা অশুচি মনে করি।
২। আমরা প্রতিবছর বড়দিনে মুক্তিদাতা যীশুকে বরণ করার পূর্বে আগমনকাল পালন করি। তখন নিজেদের পরিবর্তিত করে দেহ-মন-আত্মায় পবিত্রতা এনে প্রস্তুত হই। এভাবে আমাদের বড়দিন আনন্দের হয়। যীশুর পুনরুত্থান পর্ব পালন করার আগেও আমরা তপস্যাকাল পালন করি। কপালে ছাই মেখে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি শুরু করি। এর মাধ্যমে নিজেদের পবিত্রতা বা শুচিতা ফিরিয়ে আনি।
৩। দীক্ষাস্নান গ্রহণের মাধ্যমে আমরা আদিপাপের ক্ষমা পাই। পবিত্রভাবে খ্রীষ্টপ্রসাদ গ্রহণের পূর্বে আমরা পাপস্বীকার সাক্রামেন্ত গ্রহণ করি। তাছাড়া খ্রীষ্টযাগে যোগ দিয়ে প্রথমে আমরা ক্ষমা প্রার্থনা করে নিই। হস্তার্পণ, বিবাহ ও যাজকবরণ প্রভৃতি সাক্রামেন্ত মানুষ পবিত্রভাবে গ্রহণ করে।
৪। গ্রামের প্রার্থনা পরিচালকগণ, কুমারী মারীয়ার সন্তানগণ, সাধু আন্তনীর গানের দলের সদস্যগণ পবিত্র জীবন যাপন করার চেষ্টা করেন।
৫। ব্রতধারীগণ ও ঈশ্বরের বাণীপ্রচার কাজে আত্মনিবেদিত ব্যক্তিগণ পবিত্র জীবন যাপন করার সাধনা করেন।
৬। যজ্ঞ উৎসর্গকারী যাজকগণ পবিত্র জীবন যাপন করার ও পবিত্রভাবে যজ্ঞ উৎসর্গ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন।
প্রবক্তা ইসাইয়া ঈশ্বরের কাজ করার জন্য নিজেকে পবিত্র হওয়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। ঈশ্বর তাঁকে পবিত্র করে বিশেষ কাজের আহ্বান দিয়েছিলেন। আমরাও যদি ঈশ্বরের বিশেষ কাজের আহ্বানে সাড়া দিতে চাই, আমাদেরও তেমনি পবিত্র জীবন যাপন করতে হবে।

কাজ: পবিত্র জীবন যাপন করার জন্য তোমার কী কী করণীয় তা নিজের খাতায় লেখ ও ছোট দলে আলোচনা কর।
Content added By

শূন্যস্থান পূরণ কর:

১. পুণ্য, পুণ্য, পুণ্য ………………….. পরমেশ্বর।
২. সেরাফদের হাতে ছিল এক টুকরো ………………….. অঙ্গার।
৩. এই দেখ, এটা তোমার ………………….. স্পর্শ করছে।
8. তোমার ………………….. মুছে ফেলা হয়েছে।
৫. আমি তো রয়েছি ………………….. পাঠাও।

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. কীভাবে আমরা প্রকৃত খ্রীষ্টান হওয়ার আহবানে সাড়া দিতে পারি?
ক. ঈশ্বরের বাণী শুনে
খ. নিয়মিত প্রার্থনা করে
গ. খ্রীষ্টের আজ্ঞা মেনে
ঘ. খ্রীষ্টকে অনুসরণ করে
২. একজন আহূত ব্যক্তিকে মনে রাখতে হবে যে, ঈশ্বর তাকে ডেকেছেন
ক. উপাসনা করতে
খ. সেবা করতে
গ. ঈশ্বর ও মানুষের সেবা করতে
ঘ. সকলকে ভালোবাসতে

নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
অসীম একজন সৎ ও ধার্মিক শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক একদিন অসীমকে অফিসে ডাকলেন। অসীম ভাবলেন কোনো কাজে অবহেলার জন্য হয়ত তিরস্কার করবেন। তাই তিনি ভীত কিন্তু প্রধান শিক্ষক তাকে যোগ্য শিক্ষক হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ দিলেন।

৩. প্রধান শিক্ষক অসীমের মধ্যে ইসাইয়ার যে গুণটি খুঁজে পেয়েছেন?
i. পবিত্রতা
ii. বিশ্বস্ততা
ভালোবাসা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. ii ও iii

8. ইসাইয়ার ন্যায় প্রধান শিক্ষক অসীমকে বেছে নিলেন কেন?
ক. উৎসাহ দিতে
খ. সাহস দিতে
গ. দায়িত্ব দিতে
ঘ. তিরস্কার করতে

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. বিনয় খুব সুন্দর করে কথা বলে। তাই সকলেই তাকে পছন্দ করে। সে সত্যবাদী ও দুঃখীদের প্রতি সমব্যথী। সর্বদা প্রার্থনা করে ঈশ্বরের অনুগ্রহ পাওয়ার জন্য। তার এ ব্যবহার ও অভিজ্ঞতার কারণে সে আহ্বান পেল পুরোহিত হবার। বিনয় প্রথমে রাজি হলো না, কারণ সে নিজেকে পাপী মনে করে। এ বিরাট দায়িত্ব পালন করার জন্য সে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিল। সে প্রার্থনা করতে থাকল। পরে ঈশ্বরের ইচ্ছা বুঝতে পেরে সে এ পদ (পুরোহিত পদ) গ্রহণ করল।
ক. আহ্বান কথার অর্থ কী?
খ. স্বর্গরাজ্যে প্রবেশের জন্য আমাদের কী করতে হবে?
গ. তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন শিক্ষায় অনুপ্রাণিত হয়ে বিনয় পুরোহিত পদ গ্রহণ করল?
ঘ. 'ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করাই বিনয়ের কর্তব্য'- উক্তিটির মূল্যায়ন কর।

২. অসীম পরিবারের একজন বাধ্য ও মেধাবী ছেলে। সে দীক্ষাস্নান গ্রহণ করেছে। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে থাকে। মানুষের সেবা করে। মিশনের ফাদারদের সাথে কাজ করতে করতে খাঁটি মানুষ হয়ে ঈশ্বরের বিশেষ আহ্বান পায়। সে জানে, ঈশ্বরের কাজের জন্য শুচিতার প্রয়োজন রয়েছে। তাই মণ্ডলী তাকে বিশেষভাবে মনোনীত করেছেন।
ক. কে স্বর্গদূতের দর্শন পেয়েছেন?
খ. ইসাইয়া (যিশাইয়) কেমন লোক ছিলেন?
গ. অসীম কী ধরনের জীবনযাপন করে ব্যাখ্যা দাও।
ঘ. অসীম ও ইসাইয়ার (যিশাইয়ের) শুচিকরণের মিল ও অমিল দেখাও।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...