ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা (১.১)

মুক্তিদাতা যীশুর জন্ম ও শৈশব - খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

177

আমরা জানি, আমাদের আদি পিতা-মাতা আদম ও হবা ঈশ্বরের অবাধ্য হয়ে পাপ করেছিলেন। তাই ঈশ্বর তাঁদেরকে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করেছিলেন ও পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এভাবে স্বর্গ থেকে আমাদের আদি পিতা-মাতার পতন হলো। অর্থাৎ পাপের ফলে স্বর্গীয় সুখ ও শান্তি থেকে তাঁরা বঞ্চিত হলেন। ঈশ্বর মানুষকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। তাদের দিয়েছিলেন ভালো ও মন্দ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা। মানুষ ভালোটাকে বেছে না নিয়ে মন্দটাকেই বেছে নিল। ঈশ্বর মানুষের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করেননি। তাই তিনি খুবই দুঃখ পেলেন। স্বর্গীয় উদ্যানে অর্থাৎ ঈশ্বরের সান্নিধ্যে মানুষের থাকা আর সম্ভব হলো না।

স্বাধীন ইচ্ছার বলে এমন সিদ্ধান্তের কারণেই মানুষের উপর নেমে এলো শাস্তি। তবুও অসীম দয়ালু ও প্রেমময় ঈশ্বর রাগ করে তাদেরকে চরম শাস্তি দিলেন না। অর্থাৎ তাঁদেরকে একেবারে ধ্বংস করে ফেললেন না। বরং তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন যে তিনি পতিত মানুষকে মুক্ত করার জন্য জগতে একজন মুক্তিদাতাকে পাঠিয়ে দিবেন। ঈশ্বর তাঁর প্রতিজ্ঞা রক্ষা করলেন। তিনি নিজের পুত্রকে আমাদের জন্য পাঠালেন। এভাবে মুক্তিদাতা যীশু খ্রীষ্ট পৃথিবীতে এলেন।

দুই হাজার বছরেরও আগে মুক্তিদাতা যীশু খ্রীষ্ট এ পৃথিবীতে এসেছেন। অদৃশ্য ঈশ্বর দৃশ্যমান হয়েছেন। তিনি মানুষেরই মতো দেহধারণ করেছেন, আমাদের খুব কাছে এসেছেন। আমাদের মতোই জীবন যাপন করেছেন। মানবজাতির মুক্তির উদ্দেশ্যে ঈশ্বরের পরিকল্পনার কথা তিনি জানিয়েছেন।

Content added || updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...