ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্মের উদ্দেশ্য (দ্বিতীয় অধ্যায়)

খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

473

ঈশ্বর জগৎ ও জীবনের সৃষ্টিকর্তা। তিনি সুন্দর ও পবিত্র। তিনি রয়েছেন বিশ্বময়। তিনি শূন্যতা থেকে সমস্ত কিছুই সৃষ্টি করেছেন এবং তা করেছেন তাঁর গৌরবের জন্য। ঈশ্বরের সব সৃষ্টিই উত্তম। তাঁর সকল সৃষ্টির মাঝে রয়েছে একটি পারস্পরিক যোগাযোগ ও নির্ভরশীলতা। সৃষ্টির প্রতি যত্ন নেওয়া মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য। সৃষ্টিকে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে আমরা সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারি।

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা:

  • শূন্যতা থেকে ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্মের বর্ণনা করতে পারব
  • ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্মের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে পারব
  • সৃষ্টজীবের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • সৃষ্টির যত্ন ও দেখাশোনা করার জন্য ঈশ্বর কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্বের কথা বর্ণনা করতে পারব
  • সৃষ্টিকে ভালোবাসার মাধ্যমে ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারব
  • রোগীদের সেবা করব
  • গাছ লাগাব ও তার যত্ন নিব।
Content added By

সৃষ্টির পূর্বে জগত গভীর অন্ধকারময় ছিল। জগত ছিল শূন্য, খালি বা ফাঁকা। তখন জগতে কোন কিছুরই অস্তিত্ব ছিল না। এই অস্তিত্বহীন শূণ্যতাকে ঈশ্বর পূর্ণতা দিয়েছেন বিশ্বভ্রমান্ড সৃষ্টির মাধ্যমে। তিনি বিশ্বভ্রমান্ডের অধিশ্বর একমাত্র সৃষ্টিকর্তা। এই সৃষ্টিকর্মের কাহিনী পবিত্র বাইবেলের প্রথম গ্রন্থ আদিপুস্তকের প্রথম তিনটি অধ্যায়ে বিশদভাবে বর্ণনা আছে। এখানে বর্ণনা করা হয়েছে যে ঈশ্বর ছয় দিনে সমস্ত সৃষ্টি সমাপ্ত করেছেন। সপ্তম দিনে তিনি বিশ্রাম করেছেন। কাজেই আমরা দৃঢ়বিশ্বাস সহকারে বলতে পারি, সমস্ত সৃষ্টির পূর্ব থেকেই ঈশ্বর আছেন। তিনিই সমস্ত সৃষ্টির উৎপত্তি। তিনিই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা। সমস্তই সৃষ্ট হয়েছে তাঁর দ্বারা এবং তাঁর ইচ্ছায়। নিজের পূর্ণতার জন্য তিনি সৃষ্টি করেননি। বরং জগতের পূর্ণতার জন্য তিনি এসব করেছেন। সেই সৃষ্টির মাধ্যমে ঈশ্বর তাঁর সর্বময় ক্ষমতা প্রকাশ করেছেন। সকল সৃষ্টির পিছনে তাঁর মূল কারণ ছিল ভালো এবং মঙ্গলময়তা। এই মঙ্গলময়তার মধ্যেই তাঁর গৌরব প্রকাশিত হয়। প্রতিদিনের সৃষ্টির পর ঈশ্বর বলেছেন, 'উত্তম' হয়েছে। ষষ্ঠ দিনে সব সৃষ্টি শেষ হওয়ার পর তিনি বলেছেন, 'সবই অতি উত্তম হয়েছে।' সপ্তম দিনে তিনি সৃষ্টিকর্ম থেকে বিরতি নিয়েছেন। তিনি বিশ্রাম করেছেন। তাঁর বিশ্রামের দিনটি পবিত্র। এই দিনটি প্রভুর উদ্দেশে নিবেদিত। এই বিশ্রামদিনে আমরা সৃষ্টিকে নিয়ে ধ্যান করার সুযোগ পাই।
সৃষ্টিকে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে আমরা সৃষ্টিকর্তাকে ভালোবাসার সুযোগ পাই। তাই সৃষ্টিকে নিয়ে আমাদের ধ্যান করার প্রয়োজন আছে। আমাদের জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম গানের মধ্যে বলেছেন:

অনাদিকাল হ'তে অনন্ত লোক গাহে তোমারই জয়।
আকাশ বাতাস রবি গ্রহ তারা চাঁদ
হে প্রেমময় গাহে তোমারি জয়।।
সমুদ্র-কল্লোল, নির্ঝর-কলতান, হে বিরাট, তোমারি উদার জয়গান
ধ্যান-গম্ভীর কত শত হিমালয় তোমারি জয়, গাহে তোমারি জয়।।

ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্মের উদ্দেশ্য
তব নামের বীণা বাজায় বনের পল্লব
জনহীন প্রান্তর স্তব করে নীরব
সকল জাতির কোটি উপাসনালয় গাহে তোমারি জয়।।
আলোকের উল্লাসে আঁধারের তন্দ্রায় তব জয়গান বাজে অপরূপ মহিমায়
কোটি যুগ যুগান্ত সৃষ্টি প্রলয় তোমারি জয়, গাহে তোমারি জয়।।

কাজ: সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের প্রশংসার জন্য তোমার খাতায় একটি প্রশংসামূলক প্রার্থনা লেখ।
Content added By

পবিত্র বাইবেলের সর্বপ্রথম লাইনটিতে ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্মের কথা বলা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, 'আদিতে পরমেশ্বর আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির কাজ শুরু করলেন' (আদি ১:১)। এ কথার দ্বারা বলা হয়েছে যে পরমেশ্বর স্বর্গ ও মর্তের স্রষ্টা এবং দৃশ্য ও অদৃশ্য সবকিছুরই সৃষ্টিকর্তা। প্রথম অধ্যায়ে ঈশ্বর সম্বন্ধে আমরা জেনেছি। তিনি ধীরে ধীরে মানুষের কাছে নিজেকে প্রকাশ করেছেন, সে কথাও আমরা জেনেছি। এই অধ্যায়ে আমরা জানতে পারব তাঁর সৃষ্টিকর্মের উদ্দেশ্য ও রহস্য।
রহস্য কথার অর্থ হলো, এমন কোনো বিষয়, যা সহজে ও পুরোপুরিভাবে বোঝা বা ব্যাখ্যা করা যায় না। ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্ম আমাদের কাছে একটি রহস্য। তাই আমরা বলি ঈশ্বর এগুলো সৃষ্টি করেছেন তাঁরই গৌরবের জন্য। আমাদের খ্রীষ্টীয় জীবনে সৃষ্টির রহস্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই রহস্যটি আমাদের পরিত্রাণের সাথে সম্পর্কযুক্ত। কারণ সৃষ্টির শুরুতেই ঈশ্বর আমাদের মুক্তির জন্য একটি পরিকল্পনা করেছেন। ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্মের সাথে আমাদের মুক্তির ইতিহাসের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আমরা আগেই জেনেছি, ঈশ্বরের সব সৃষ্টিই উত্তম। কিন্তু মানুষ তাঁর পাপ দ্বারা সৃষ্টির সৌন্দর্য নষ্ট করে ফেলেছে। সৃষ্টি কলুষিত বা মলিন হয়েছে। আর এই বিনষ্টের হাত থেকে মানুষকে উদ্ধার করতেই ঈশ্বর তাঁর একমাত্র পুত্রকে প্রেরণ করেছেন। পুত্র ঈশ্বর এসে সৃষ্টির সৌন্দর্য আবার ফিরিয়ে এনেছেন। তাঁর আগমনে সৃষ্টির রহস্য পূর্ণ হয়েছে। সেই সৃষ্টির শুরু থেকেই ঈশ্বর স্থির করে রেখেছিলেন যে তিনি তাঁর পুত্রের মধ্য দিয়ে সমস্ত সৃষ্টি নতুন করে গড়ে তুলবেন। এভাবে তিনি সৃষ্টির রহস্য পূর্ণ করবেন। তাই দীক্ষাপ্রাপ্ত প্রত্যেক খ্রীষ্টভক্তের এই সৃষ্টির রহস্য জানা ও বোঝা দরকার।
ঈশ্বর সবকিছু নিপুণভাবে সাজিয়ে রেখেছেন। তাই এসব নিয়ে আমাদের কোনো কিছুই ভাবতে হয় না। আমাদের জানা দরকার, আমরা কোথা থেকে এসেছি আর কোথায় যাচ্ছি। আমাদের আরও জানা দরকার, এ জগতে দৃশ্য ও অদৃশ্য যা-কিছু আছে, সে-সবই বা কোথা থেকে আসে আর কোথায় যায়।

পবিত্র বাইবেলে এই সৃষ্টি সম্বন্ধে স্পষ্ট বর্ণনা করা হয়েছে। সৃষ্টি থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে ঈশ্বর নিজেকে মানুষের কাছে প্রকাশ করেছেন। নিজেকে আরও পরিপূর্ণভাবে প্রকাশের জন্য তিনি একটি জাতি গঠন করেছেন। সেই ঈশ্বরই একমাত্র ঈশ্বর। তিনিই সবকিছুর স্রষ্টা।

কাজ: সৃষ্টির উপর নির্মিত একটি চলচ্চিত্র ক্লাসের সময় শিক্ষার্থীদের দেখানো যেতে পারে। নতুবা সৃষ্টি সম্পর্কিত কিছু ছবি দেখানো যেতে পারে। আর তাও সম্ভব না হলে বাইরে গিয়ে সৃষ্টির উপর একটি চিত্র অঙ্কন করতে দেওয়া যেতে পারে।
Content added By

সৃষ্টি করেই ঈশ্বর তাঁর কাজ শেষ করেননি। এই সৃষ্টিকে তিনি প্রতিনিয়ত রক্ষা করেন। সৃষ্টির সবকিছুই পরস্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত ও নির্ভরশীল। সূর্য, চাঁদ, তারা, নক্ষত্র, জীবজন্তু, পাহাড়পর্বত, সমুদ্র, নদীনালা, মাটি, বায়ু, প্রকৃতি ইত্যাদি সবই একে অপরের পরিপূরক। একটি ছাড়া অন্যটির অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। প্রকৃতি ছাড়া মানুষের অস্তিত্ব অকল্পনীয়। আবার প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার ও যত্নের জন্য মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সৃষ্টিলগ্ন থেকেই ঈশ্বর ও মানুষের মাঝে একটি নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। অন্যদিকে মানুষ ও অন্যান্য সমস্ত সৃষ্টির মাঝেও একটা পারস্পরিক সম্পর্ক ও নির্ভরশীলতা রয়েছে। শুধু তাই নয়, সব সৃষ্টিই পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। এর কয়েকটি উদাহরণ নিয়ে আলোচনা করা যাক।

৩.১ সূর্যের আলোতে সব সৃষ্টিই প্রাণবন্ত ও সজীব হয়। গাছপালা, শাকসবজি, ফসলাদি বেড়ে উঠে। সূর্যের আলোতে সমুদ্র ও জলাশয়ের পানি বাষ্প হয়ে আকাশে ওঠে। এরপর তা মেঘ হয়ে বৃষ্টির আকারে পৃথিবীতে নেমে আসে।

সেই বৃষ্টির পানি আবার ভূমির উর্বরতা বাড়ায়, সবকিছুর মধ্যে একটা সজীবতা আনে। মানুষের দেহের জন্য সূর্যের আলো শক্তি যোগায় ও স্বাস্থ্য ভালো রাখে। শীতের সময় সূর্যের আলো আমাদের উষ্ণতা দান করে। এমনকি রাতের বেলায় আমরা চাঁদের যে আলো পাই, তা-ও সূর্যের কাছ থেকে ধার করা।

৩.২ মানুষের সাথে আমরা কত কিছুর সম্পর্কই না দেখতে পাই! আমাদের চারিদিকে অনেক গাছপালা রয়েছে। সেগুলো থেকে বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন, দৈনিক খাবার, পোশাক-পরিচ্ছদ, ঔষধ, জ্বালানি কাঠ, আসবাবপত্র ইত্যাদি পাই। লতাপাতা, ঘাস, খড় ইত্যাদি খেয়ে প্রাণী বাঁচে এবং সেই প্রাণীরা আমাদের উপকার করে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য গাছপালা অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
৩.৩ কোনো কোনো পোকা আমাদের বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি করে। কিন্তু পাখিরা সেই পোকাগুলো খেয়ে জীবন ধারণ করে। এভাবে আমাদের ফসলগুলো পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়। আর আমরা আনন্দের সাথে ফসলগুলো ঘরে তুলে আনি। ধানক্ষেতে প্রায়ই দেখা যায় ইঁদুর গর্ত করে এবং ধান কেটে নিয়ে যায়। কিন্তু সাপ এসে যদি ইঁদুরের গর্তে ঢোকে তখন গর্ত ছেড়ে ইঁদুর পালিয়ে যায়। তাতে আমাদের ফসল রক্ষা পায়।
৩.৪ প্রকৃতির সবকিছুতেই ঈশ্বর বিরাজমান। সবকিছুতেই তাঁর জীবনীশক্তি আছে। প্রকৃতির দান খাবার ও পানীয় গ্রহণ করে আমরা জীবন ধারণ করি। সেই খাবার ও পানিতে ঈশ্বর জীবনীশক্তি দিয়েছেন। খাদ্য ও পানীয়ের মধ্য দিয়ে আমরা ঈশ্বরকে আমাদের জীবনে গ্রহণ করি। কাজেই আমাদের জীবনের সাথে সম্পর্কিত খাদ্য, পানীয় ও বাতাস সবকিছুর মধ্যে ঈশ্বর আছেন।
৩.৫ নানা রকম পাখি, প্রজাপতি, ফড়িং আমাদের প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। পাখিদের দেখে ও তাদের মধুর গান শুনে আমরা আনন্দ পাই। কোকিল, দোয়েল, মাছরাঙা, কবুতর, ঘুঘু এবং এরকম হরেক রকমের পাখি, প্রজাপতি ইত্যাদির কথা আমরা নানা গল্প, কবিতা, উপন্যাস ও নাটকে দেখতে পাই। কাক ও শকুনেরা অনেক পচা জিনিস, ময়লা ইত্যাদি খেয়ে আমাদের পরিবেশ পরিষ্কার রাখে।
৩.৬ প্রকৃতির বিচিত্র ফুল সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং মনে বৈচিত্র্য ও আনন্দ আনে। উপাসনায় আমরা ফুল দিয়ে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে হৃদয়ের ভক্তি নিবেদন করি। ফুল দিয়ে আমরা সাজসজ্জা করি, অতিথি বরণ করি, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই, ফুলের সুরভিতে আমাদের মন পুলকিত হয়। ফুল থেকে মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করে এবং সেই মধু আমরা খাদ্য ও অনেক সময় ঔষধ হিসেবে গ্রহণ করি। ফুলের সৌন্দর্য ও পবিত্রতা আমাদের সকলের মন আকৃষ্ট করে।

এভাবে সৃষ্টিগুলোর পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও যোগাযোগ দেখতে ও তা বুঝতে পেরে আমরা পরিতৃপ্তি ও আনন্দ পাই। এর জন্য আমাদের দরকার প্রজ্ঞা ও আস্থাশীলতা। প্রজ্ঞাপুস্তকে বলা হয়েছে: 'কেননা যা- কিছু আছে, তুমি সেই সব ভালোবাস; যা-কিছু গড়েছ, সেগুলোর তুমি কিছুই ঘৃণা কর না। যেহেতু কোনো কিছুর প্রতি যদি তোমার ঘৃণা থাকত, তা তুমি গড়তে না! তুমি ইচ্ছা না করলে কেমন করেই বা কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকতে পারবে? অস্তিত্বের উদ্দেশে তোমার আহ্বান না থাকলে তা কেমন করেই বা বেঁচে থাকবে? তুমি বরং সবকিছু বাঁচাও, কারণ, হে জীবনপ্রেমিক প্রভু, সবই তোমার' (প্রজ্ঞা ১১:২৪-২৬)।

কাজ: তুমি কোন কোন সৃষ্টির মধ্য দিয়ে ঈশ্বরকে গ্রহণ করছ তা প্রথমে নিজের খাতায় লেখ এবং পরে দলের অন্যদের সাথে সহভাগিতা কর।
Content added By

ঈশ্বর মানুষকে দায়িত্ব দিয়েছেন সৃষ্টির যত্ন নিতে ও তাঁর উপর প্রভুত্ব করতে। প্রভুত্ব করার অর্থ পালন ও রক্ষা করা, ধ্বংস করা নয়। উদাহরণস্বরূপ, ঈশ্বর আমাদের প্রভু। তিনি আমাদের রক্ষা ও পালন করেন, ধ্বংস করেন না। সৃষ্টির উপর প্রভুত্ব করার অর্থ হলো আমরা যেন সৃষ্টিকে রক্ষা ও পালন করি-এই দায়িত্বই ঈশ্বর আমাদের দিয়েছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মানুষকে অবশ্যই সর্বপ্রথমে মনে রাখতে হবে যে ঈশ্বর সব সৃষ্টিকে উত্তম করে সৃষ্টি করেছেন। তাই মানুষ যেন তার নিজের উত্তমতা সুদৃঢ় রাখে। নতুবা সে অন্যান্য উত্তম সৃষ্টিকে উত্তমতার পথে পরিচালিত ও যত্ন করতে পারবে না। সৃষ্টিকে যত্ন করার দায়িত্ব একটি পবিত্র দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমরা ঈশ্বরের দাস হই না, বরং তাঁর সৃষ্টিকর্ম দেখাশোনার কাজে সহকর্মী হই। মানুষ সৃষ্টির যত্ন নিবে। আবার সৃষ্টিও মানুষের যত্ন নিবে। কারণ সৃষ্টিকে ঈশ্বর এই উদ্দেশ্যেই রচনা করেছেন। সৃষ্টির কাছ থেকে মানুষ সেবা নিবে, অন্তত এই কারণে হলেও মানুষ যেন সৃষ্টির যত্ন নেয়।
মানুষ যেন লোভ ও ভোগ-বিলাসিতার উদ্দেশ্যে ভূমি, জল, বায়ু ইত্যাদি প্রাকৃতিক সম্পদকে শোষণ ও অপব্যবহার না করে। পৃথিবীর জন্য এগুলোর প্রয়োজন ও গুরুত্ব আছে। একেকটা সৃষ্টির একেকটা নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে, নিজস্ব জীবন আছে।

সৃষ্টিগুলোর এই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও জীবন রক্ষা করার দায়িত্ব মানুষের উপর। ভূমি, জল, বায়ু ইত্যাদি প্রাকৃতিক সম্পদ নিজেদেরকে বিলিয়ে দিচ্ছে অপরের জন্য, নিজের জন্য নয়।
কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রকৃতিকে নানাভাবে অত্যাচার, নির্যাতন ও শোষণ করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃতিতে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বর্তমান যুগ হলো শিল্পায়নের যুগ। এই যুগে ভূমি, জল, বায়ু ইত্যাদি প্রাকৃতিক সম্পদের বিশ্রাম প্রয়োজন। যদি এই সম্পদগুলো বিশ্রাম নিতে পারে, তবে এগুলো আরও ধনশালী হবে। তখন এগুলো মানুষেরই উপকারে আসবে। তাই কবি যথার্থই বলেছেন:

নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল,

তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল।

গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান,

কাষ্ঠ দগ্ধ হয়ে করে পরে অন্ন দান।

প্রকৃতির সম্পদ ব্যবহার করে মানুষ ভোগ-বিলাসিতার সামগ্রী উৎপাদন করে। এই বিষয়টি সীমিত রাখা বা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। এই কারণে মানুষের জীবনযাপন যেন আরও সহজ-সরল হয়। মানুষ যত পরিমাণে সহজ-সরল জীবনযাপন করবে, প্রাকৃতিক সম্পদও তত পরিমাণে রক্ষা পাবে। কিন্তু আজকাল ভূমি, জল, বায়ু অত্যধিক পরিমাণে দুষিত হয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিবেশ তার ভারসাম্য হারাচ্ছে। এর দ্বারা মানুষের সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন হারিয়ে যাচ্ছে।

কাজ: ১. তোমার প্রতিবেশী কেউ অসুস্থ হলে কীভাবে তার সেবা করবে লেখ।
কাজ: ২. ক্লাসের অংশ হিসেবে গাছ লাগানোর কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে।
Content added || updated By

শূন্যস্থান পূরণ কর:
১. ঈশ্বর জগৎ ও জীবনের ………………… ।
২. প্রতিদিনের সৃষ্টির পর ঈশ্বর বলেছেন' ………………… ' ………………… ।
৩. পুত্র ঈশ্বর এসে সৌন্দর্য আবার ফিরিয়ে ………………… এনেছেন।
8. বৃষ্টির পানি ভূমির ………………… বাড়ায়।
৫. সৃষ্টির কাছ থেকে মানুষ ………………… নিবে।

বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশের বাক্যাংশের মিল কর:

বাম পাশডান পাশ

১. ঈশ্বর মানুষকে দায়িত্ব দিয়েছেন

২. সৃষ্টির উপর প্রভুত্ব করার অর্থ হলো

৩. সব ভূমিই

৪. পরিবেশ ভারসাম্য হারাচ্ছে

৫. ফুলের সৌন্দর্য ও পবিত্রতা

  • আমরা যেন সৃষ্টিকে রক্ষা করি
  • পবিত্র
  • সৃষ্টির যত্ন নিতে
  • মানুষের নির্যাতনের ফলে
  • আমাদের সকলের মন আকৃষ্ট করে
  • সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১. পবিত্র বাইবেলের প্রথম গ্রন্থের নাম কী?
ক. মথি
খ. যাত্রাপুস্তক
গ. মার্ক
ঘ. আদিপুস্তক

২. মানুষের পাপ দ্বারা -
i. সৃষ্টির সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে
ii. সৃষ্টি কলুষিত ও মলিন হয়েছে
iii. সৃষ্টির রহস্য পূর্ণ হয়েছে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
গ. i ও iii
খ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:
সমাজসেবক জর্জ বিরাট একটি হাসপাতাল নির্মাণ করলেন, যেন ২০০০ লোকের কর্মসংস্থান হয় এবং গরিব রোগীদের সেবা দিতে পারেন। ঈশ্বরের অনুগ্রহের কারণেই তার জীবনের সকল কাজের উন্নতি হয়েছে।
৩. জর্জের সেবার মাধ্যমে প্রকাশ পায় -
i. ঈশ্বরের সৃষ্টির যত্ন
ii. ঈশ্বরের সেবা
নিজের গৌরব প্রকাশ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. ii ও iii

৪. জর্জের হাসপাতাল নির্মাণের উদ্দেশ্য হলো-
ক. জগতের পূর্ণতা
গ. নিজের গৌরব প্রকাশ
খ. অন্যের ভালো ও মঙ্গল সাধন
ঘ. নিজের পূর্ণতা প্রাপ্তি

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. জেমস তাঁর বাড়ির আশেপাশের বড় বড় গাছ কেটে আসবাবপত্র তৈরি করে কিন্তু কোনো গাছ লাগায় না। সে অবাধে পশুপাখি শিকার করে। অন্যদিকে সুবাস প্রকৃতিকে ভালোবাসে। সে নিজ বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের ফুল ও ফলের গাছ লাগায়। সে বাগানের তাজা ফল ও সবজি খেয়ে আনন্দ পায়। সকালে পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে তাঁর। সে সর্বদাই সুখী।
ক. শীতের সময় সূর্যের আলো আমাদের কী দান করে?
খ. ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্মের উদ্দেশ্য কী?
গ. জেমসের কর্মকাণ্ডের ফলে পরিবেশের কী ধরনের সমস্যা হবে- ব্যাখ্যা কর।
ঘ. সুবাস যেন ঈশ্বরের সৃষ্টির প্রতিনিধি উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

২. মিষ্টি হস্তশিল্পে দক্ষ। সে বিভিন্ন ছবি আঁকে, সেলাই করে, রঙ করে এবং মাটি দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করে। নিজের বাড়ি সাজিয়ে মনোরম করে তোলে ও অন্যদেরকে অবাক করে দেয়। এ ছাড়া সে বাড়িতে ফুল, ফল ও অন্যান্য জাতের গাছ লাগিয়ে পরিপূর্ণ একটি বাগানবাড়ি তৈরি করেছে। এভাবে মিষ্টি ঈশ্বরের সৃষ্টির যত্ন নিচ্ছে।
ক. প্রকৃতি ছাড়া কার অস্তিত্ব অকল্পনীয়?
খ. আমরা কীভাবে খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে ঈশ্বরকে গ্রহণ করতে পারি?
গ. তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন শিক্ষার আলোকে মিষ্টি এ কাজ করেছে?
ঘ. 'মিষ্টির সৃষ্টিশীল কাজের অনুপ্রেরণাই হলেন ঈশ্বর' উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...