একটি শিশু যেদিন মায়ের গর্ভে আসে, সেদিন তার জীবনের অস্তিত্ব শুরু হয়। কিন্তু নয় মাস পরে সে ভূমিষ্ঠ হয়, যদিও ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিনটাকেই আমরা শিশুর জন্মদিন বলে থাকি। খ্রীষ্টমণ্ডলীর বেলায়ও কথাটি প্রয়োগ করা যেতে পারে। খ্রীষ্টমণ্ডলীর জন্ম ধরা যায় পৃথিবীতে যীশু খ্রীষ্টের জন্মের সময়টাকেই। আর যেদিন পবিত্র আত্মার অবতরণ হলো সেদিনটাই মণ্ডলীর প্রকৃত জন্মদিন।
যীশুর মৃত্যুর পর তাঁর শিষ্যগণ ভয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। কিন্তু তিন দিন পরেই যীশু খ্রীষ্ট মৃত্যু থেকে পুনর্জীবিত হয়ে উঠলেন। এরপর তিনি শিষ্যদের কাছে বারবার দেখা দিলেন। যীশু যে বেঁচে উঠবেন, এটা তাঁরা আগে বুঝতে পারেননি। এখন জীবিত যীশুকে দেখতে পেয়ে শিষ্যদের মনে খুব সাহস হলো।
কিন্তু যীশু পুনরুত্থানের চল্লিশ দিন পর স্বর্গে চলে গেলেন। যাওয়ার আগে যীশু তাঁর প্রেরিতশিষ্যদের কাছে কথা দিলেন, তিনি একজন সহায়ক আত্মাকে তাঁদের জন্য পাঠিয়ে দিবেন। সেই আত্মা এসে তাঁদের সান্ত্বনা, সাহস ও সবরকম সহায়তা দিবেন। তাঁর সেই আত্মা যত দিন না আসেন তত দিন তিনি শিষ্যদের ঐ শহরে থাকতে বললেন। এর পর যীশু স্বর্গে চলে গেলেন। এদিকে শিষ্যগণ যীশুর আত্মার অপেক্ষায় থাকতে লাগলেন। সেই দিনটি খুব তাড়াতাড়ি ঘনিয়ে এলো।
স্বর্গারোহণের পর যীশুর শিষ্যগণ একটি বদ্ধ ঘরে সমবেত হয়ে প্রার্থনা করছিলেন। আর সেই সময় হঠাৎ প্রচণ্ড বেগে বাতাস বইয়ে যাওয়ার মতো একটা শব্দ হলো। যে বাড়িতে তাঁরা সমবেত হয়ে প্রার্থনা করছিলেন সেই বাড়িটা শব্দে ভরে গেল। তাঁরা দেখতে পেলেন, কতকগুলো আগুনের জিহ্বা আলাদা আলাদা হয়ে তাঁদের মাথার উপর নেমে আসছে। এভাবে তাঁরা পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হলেন। পবিত্র আত্মা তাঁদের একেকজনকে একেক ভাষায় কথা বলার শক্তি দিলেন। আগে তাঁরা যে ভাষা জানতেন না, সেই ভাষায়ই তাঁরা এখন কথা বলার শক্তি পেলেন। সেই নতুন শক্তি অনুসারে তাঁরা কথা বলতে লাগলেন।

এরপর তাঁরা আর ভয়ে ঘরে লুকিয়ে থাকলেন না। তাঁরা রাস্তায় বের হয়ে পড়লেন। পবিত্র আত্মা তাঁদের যে রকম বিভিন্ন ভাষায় কথা বলার শক্তি দিয়েছিলেন, তাঁরা সেভাবে কথা বলতে লাগলেন। রাস্তায় তখন নানান দেশ থেকে আগত বিভিন্ন ভাষার লোক ছিল। তারা শিষ্যদেরকে ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলতে শুনে আশ্চর্য হয়ে গেল। কারণ তাঁরা নিজ নিজ ভাষায় শিষ্যদের কথাগুলো বুঝতে পেরেছিল। কিন্তু তাঁরা এই ঘটনার কোন অর্থ বুঝতে পারছিল না।
তারা মনে করল, শিষ্যরা মদ খেয়ে মাতাল হয়েছেন। তাই তাঁরা অমনভাবে কথা বলছেন। এভাবে লোকেরা শিষ্যদের নিয়ে ঠাট্টা করতে লাগল। পিতর ছিলেন শিষ্যদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাহসী। তিনি লোকদের উদ্দেশে একটা ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, শিষ্যরা মদ খেয়ে মাতাল হননি। এই ঘটনা যে ঘটবে তা বহু আগে প্রবক্তা (নবী) যোয়েলের মধ্য দিয়ে ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। ঈশ্বর এই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে পবিত্র আত্মা এভাবে আসবেন ও তাঁর জনগণকে আশীর্বাদ ও সহায়তা করবেন। তিনি তাঁদের আরও বললেন যে ইহুদিরা মুক্তিদাতা যীশুকে নির্মমভাবে হত্যা করে পাপ করেছে। এভাবে তাঁরা ঈশ্বরের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কাজ করেছে।
পিতরের কথাগুলো লোকদের হৃদয় স্পর্শ করল। তাই তাঁরা পিতর ও অন্য শিষ্যদের জিজ্ঞেস করলেন, এখন তাঁদের কী করা উচিত। পিতর তখন বললেন, এখন তাদের পাপ থেকে মন ফেরাতে হবে ও যীশুর নামে দীক্ষাস্নান গ্রহণ করতে হবে। যদি তাঁরা তা করে, তবে তাঁদের উপর পবিত্র আত্মা নেমে আসবেন এবং তাঁরা পবিত্র আত্মার দান গ্রহণ করবে। একথা শুনে সেদিন তিন হাজার লোক মন পরিবর্তন করল ও যীশুর নামে দীক্ষাস্নান গ্রহণ করল। এভাবে তাঁরা সেদিন যীশুর মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের উপাসনা করতে শুরু করল ও একটা নতুন সমাজ গঠন করল। দিনে দিনে নতুন নতুন লোক এই দলে যোগদান করতে লাগল। এভাবে খ্রীষ্টমণ্ডলীর যাত্রা শুরু হলো।
Read more