পবিত্র পরিবার: পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মর্যাদা ও ভালোবাসার আদর্শ (পাঠ ৪)

মানুষ সৃষ্টি - খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

233

যীশু, মারীয়া ও যোসেফের পরিবার হলো পবিত্র পরিবার। আমরা এই পরিবার থেকে বিভিন্ন শিক্ষা গ্রহণ করি। সকল নারী ও পুরুষের জন্য পবিত্র পরিবারের শিক্ষা ও আদর্শ অনুকরণীয়। মারীয়া ও যোসেফের মধ্যে গভীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মর্যাদাবোধ ও ভালোবাসা ছিল। তাঁরা কীভাবে এই গুণগুলো অর্জন করেছিলেন, তা নিয়ে আমরা এখানে আলোচনা করব।

৪.১ ঈশ্বরের প্রতি মারীয়ার ছিল গভীর বিশ্বাস। মহাদূত গাব্রিয়েল সংবাদ দিয়ে তাঁকে বলেছিলেন যে তিনি ঈশ্বর পুত্রের মা হবেন। তখন তিনি খুব ভয় পেয়েছিলেন। কারণ তখনও তাঁর বিয়ে হয়নি। কিন্তু দূত তাঁকে বলেছিলেন, তাঁর গর্ভধারণ হবে পবিত্র আত্মার প্রভাবে। এতে তিনি রাজি হয়েছিলেন। তিনি সমাজের কাছে অপমানিত হতে পারেন এবং যোসেফের সাথে তাঁর বিয়ে ভেঙে যেতে পারে, এই ভয় তাঁর ছিল। তবুও তিনি সবই গ্রহণ করেছিলেন। কারণ সেটি ছিল ঈশ্বরের আহ্বান। এতে আমরা বুঝতে পারি, মারীয়ার মধ্যে ঈশ্বরের প্রতি গভীর বিশ্বাস ও আস্থা ছিল। ঈশ্বরের প্রতি এই বিশ্বাস, আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধ থেকেই তিনি যোসেফ এবং অন্য সকল মানুষের শ্রদ্ধা ও সম্মানবোধ অর্জন করেছিলেন।
৪.২ মারীয়ার প্রতি যোসেফের গভীর শ্রদ্ধা ছিল। বিয়ের অনেক আগে মারীয়ার সাথে যোসেফের বাগদান হয়েছিল। এরপর যোসেফ জানতে পারলেন যে মারীয়া গর্ভবতী। তাই তিনি মারীয়াকে গোপনে ত্যাগ করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কারণ তিনি মারীয়াকে সমাজের কাছে লজ্জায় ফেলতে চাননি। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, মারীয়ার প্রতি যোসেফের কত গভীর শ্রদ্ধা ছিল।

৪.৩ যোসেফের মধ্যেও ঈশ্বরের প্রতি গভীর বিশ্বাস, আস্থা ও শ্রদ্ধা ছিল। যোসেফ যখন মারীয়াকে ত্যাগ করার কথা ভাবছিলেন, তখন স্বর্গদূত স্বপ্নে যোসেফকে দেখা দিয়ে বললেন, মারীয়ার গর্ভে যা এসেছে তা পবিত্র আত্মারই প্রভাবে। তাই যোসেফ যেন মারীয়াকে ঘরে তুলতে ভয় না পান। যোসেফ সেই নির্দেশ গভীর বিশ্বাস নিয়ে গ্রহণ করলেন। তিনি মারীয়াকে জীবনের সঙ্গী হিসেবে বরণ করে নিলেন। এতে আমরা বুঝতে পারি যোসেফের মধ্যে ঈশ্বরের প্রতি কত গভীর বিশ্বাস, ভক্তি ও বাধ্যতার মনোভাব ছিল। এই মনোভাব তাঁকে মারীয়া ও অন্য সকলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তুলেছিল।

৪.৪ মারীয়া ও যোসেফের মনের মধ্যে গভীর ভালোবাসা ও মনের মিল ছিল। এ জন্য কষ্টের সময় তাঁরা পরস্পরের পাশে থাকতে পেরেছিলেন। যীশুর জন্মের সময় কাছে এসে গেল। অথচ স্বামী হয়ে যোসেফ তাঁর স্ত্রী মারীয়ার জন্য বেথেলহেমে কোথাও একটি ভালো স্থান খুঁজে পেলেন না। মারীয়া তাঁর স্বামী যোসেফের অবস্থা বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি তাঁর স্বামীকে কোনোরকম দোষারোপ বা তিরস্কার করেননি, বরং খুশি মনে সবকিছু গ্রহণ করেছেন। এতে আমরা বুঝতে পারি তাঁরা পরস্পরকে কত শ্রদ্ধা ও সম্মান করতেন।
৪.৫ যোসেফ ও মারীয়া উভয়ের মধ্যেই গভীর ধর্মীয় ভাব ছিল। প্রতিবছর যোসেফ ও মারীয়া যেরুসালেম (জেরুজালেম) মন্দিরে যেতেন। সেখানে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ পথ তাঁদের হাঁটতে হতো। তাঁদের গ্রামের সকলে দল বেঁধে একত্রে হাঁটতে হাঁটতে সেখানে যেতেন। সব কাজ ফেলে রেখে যোসেফ ও মারীয়া একত্রে প্রতিবছর পর্ব পালন করতে যেতেন। এর মধ্য দিয়ে আমরা বুঝতে পারি, তাঁদের অন্তরে ছিল গভীর ধর্মীয় ভাব ও ঐশ্বরিক বিশ্বাস। এ কারণেই তাঁরা পরস্পরকে ভালোবাসতে, শ্রদ্ধা ও সম্মান করতে পেরেছিলেন।

৪.৫ যোসেফ ও মারীয়া উভয়ের মধ্যেই গভীর ধর্মীয় ভাব ছিল। প্রতিবছর যোসেফ ও মারীয়া যেরুসালেম (জেরুজালেম) মন্দিরে যেতেন। সেখানে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ পথ তাঁদের হাঁটতে হতো। তাঁদের গ্রামের সকলে দল বেঁধে একত্রে হাঁটতে হাঁটতে সেখানে যেতেন। সব কাজ ফেলে রেখে যোসেফ ও মারীয়া একত্রে প্রতিবছর পর্ব পালন করতে যেতেন। এর মধ্য দিয়ে আমরা বুঝতে পারি, তাঁদের অন্তরে ছিল গভীর ধর্মীয় ভাব ও ঐশ্বরিক বিশ্বাস। এ কারণেই তাঁরা পরস্পরকে ভালোবাসতে, শ্রদ্ধা ও সম্মান করতে পেরেছিলেন।
৪.৬ তাঁদের মধ্যে একতা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ ছিল। সন্তানের প্রতিও তাঁদের ছিল অপরিসীম স্নেহ ও ভালোবাসা। যেরুসালেম মন্দিরে যীশু হারিয়ে যাওয়ার পর মারীয়া ও যোসেফ যীশুর খোঁজ করেছেন ও তাঁকে ফিরে পেয়েছেন। দুঃখ-বিপদের সময় তাঁরা পরস্পরের পাশে থেকেছেন। কেউ কাউকে দোষারোপ করে দায়িত্ব অন্যজনের উপর চাপিয়ে দেননি। ভালোবাসার কারণেই তাঁরা যেরুসালেমে ফিরে এসে যীশুকে খুঁজে পেয়েছিলেন।

কাজ: পবিত্র পরিবার ও তোমার পরিবারের মধ্যেকার মিলগুলো নিজের খাতায় দুটি কলামে লেখ।
Content added || updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...