সর্বশক্তিমান ঈশ্বর স্বর্গদূতদের সৃষ্টি করেছেন তাঁর আরাধনা করার জন্য। ঈশ্বরের মতো তাঁদেরও শুধু আত্মা আছে, দেহ নেই। তাঁদেরকে ঈশ্বর স্বাধীন ইচ্ছা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাঁদেরকে তিনি সর্বোত্তমরূপে সৃষ্টি করেছেন। তাঁরা সারাক্ষণ ঈশ্বরের প্রশংসায় মেতে থাকেন এবং থাকেন সবচেয়ে সুখের স্থানে। তাঁদের মধ্য থেকে একজনের নাম ছিল লুসিফের। সে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল। তার দলে আরও কয়েকজন যোগ দিল। এভাবে তারা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করল এবং তাদের পতন হলো। যাদের পতন হলো তারা শয়তানে পরিণত হলো। শয়তান লুসিফেরকে এখন দিয়াবল নামে ডাকা হয়।
শয়তান বা দিয়াবলের পতনের মূল কারণ হলো, সে ঈশ্বরের রাজত্বকে মেনে নিতে চায়নি। তার দলে যারা যোগ দিয়েছিল, তারাও একইভাবে অহংকার করেছিল ও ঈশ্বরের অবাধ্য হয়েছিল। তাই ঈশ্বর তাঁদের জন্য একটি জ্বলন্ত আগুনের নরক প্রস্তুত করে সেখানে নিক্ষেপ করেছেন। সেখানে তারা অনন্তকাল জ্বলেপুড়ে কষ্ট পেতে থাকবে। তাদের পতনের মূল কারণ হলো, তাদেরকে ঈশ্বর যে স্বাধীন ইচ্ছা দিয়েছেন, তার অপব্যবহার করে তাঁরা ঈশ্বরকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা নিজেদের বড় মনে করেছিল। তারা ঈশ্বরের সমান হয়ে উঠতে চেয়েছিল এবং ঈশ্বরের বিরোধিতা করেছিল।
দিয়াবল বা শয়তান আমাদের আদি পিতা-মাতাকে পাপের প্রলোভন দেখিয়েছিল। শয়তানের ধ্বংসাত্মক কাজের মধ্যে এই প্রলোভনটি ছিল সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী। আমাদের আদি পিতা-মাতা সেই প্রলোভন জয় করতে না পেরে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করেছিলেন। দিয়াবল বলেছিল- 'তোমরা যদি এই গাছের ফল খাও, তবে তোমরা ঈশ্বরের মতোই হয়ে উঠবে, তোমরা ভালো-মন্দ জ্ঞান লাভ করবে।' তার এই কথার মধ্যে আমরা দেখতে পাই, সে একটা মস্ত বড় মিথ্যাবাদী। সমস্ত মিথ্যার জন্মদাতাও এই দিরাবল।
বিদ্রোহী স্বর্গদূতেরা তাদের পতনের পূর্বে তাদের স্বাধীন ইচ্ছার দ্বারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই কারণে তাদের পাপ ক্ষমার অযোগ্য। তাদের পতনের পর সেখানে ঈশ্বর স্বর্গদূতদের জন্য অনুতাপের কোনো সুযোগ দেননি।
আদি থেকেই তার নাম দেওয়া হয়েছে নরঘাতক। সে এতই ধ্বংসাত্মক যে, সে যীশুকেও পাপে ফেলার চেষ্টা করেছিল। যীশুকে সে স্বর্গীয় পিতার অবাধ্য হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। যীশু পিতার কাছ থেকে যে কাজের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন, শয়তান সেই কাজ থেকে তাঁকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
সাধু যোহন তাঁর প্রথম পত্রে বলেছেন- 'যে পাপকাজ করে, সে শয়তানেরই লোক। কারণ শয়তান সেই আদি থেকেই পাপ করে আসছে। শয়তান যা-কিছু করেছে, পরমেশ্বরের পুত্র তা নিষ্ফল করে দেবার জন্যই এজগতে এসেছিলেন' (১ যোহন ৩:৮)।
তবে আমরা জানি, ঈশ্বর সর্বশক্তিমান। শয়তানের কাজ কোনোক্রমেই সীমাহীন নয়। সে তো একজন সৃষ্টজীব মাত্র। আর ঈশ্বর হলেন তার সৃষ্টিকর্তা। প্রভু যীশু যে ঐশরাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে এ জগতে এসেছিলেন, তা শয়তান কোনোক্রমেই দমিয়ে রাখতে পারবে না। আমরা স্পষ্টই দেখতে পাই যে শয়তান এই জগতে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করে থাকে। খ্রীষ্ট যে ঐশরাজ্যের কাজ শুরু করেছেন তা বিনষ্ট করার জন্যও শয়তান সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে। কারণ সে ঈশ্বরের রাজ্যের বিস্তারকাজ সহ্য করতে পারে না। শয়তান মানুষকেও পাপে ফেলার জন্য সর্বদা চেষ্টা করছে। এভাবে সে মানুষের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত করছে। তবে যারা ঈশ্বরকে ভালোবাসে তারা শয়তানকে পরিত্যাগ করবে। এভাবে শয়তানের কাজকে তারা একদিন ব্যর্থ করে দিবে।
| কাজ: বর্তমান জগতে আমরা শয়তানের কী কী কাজ দেখতে পাই? কাজগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত কর। শয়তানের কাজ পরিহার করার জন্য তোমার করণীয় কী কী? |
Read more