যীশুর শিষ্যদের মধ্যে পিতরের বিশ্বাস খুব দৃঢ় ছিল। একবার যীশু শিষ্যদের কাছে নিজের নির্যাতিত হয়ে মৃত্যুবরণ করার কথা বলছিলেন। তখন পিতর বলেছিলেন, তিনি তাঁর জীবন থাকতে যীশুকে নির্যাতিত হতে দিবেন না। তিনিই যীশুকে সবার আগে খ্রীষ্ট বলে চিনতে পেরেছিলেন। তাঁর গভীর বিশ্বাস দেখে যীশু বলেছিলেন, 'তুমি পিতর অর্থাৎ পাথর, আর এই পাথরের উপরেই আমি আমার মণ্ডলী স্থাপন করব। পৃথিবীর কোনো শক্তিই তার উপর বিজয়ী হতে পারবে না।' আর একবার যীশু পিতরকে জিজ্ঞেস করলেন 'তুমি কি আমাকে ভালোবাস?' পিতর উত্তর দিয়েছিলেন, 'হ্যাঁ, আপনি তো জানেন, আমি আপনাকে ভালোবাসি।' যীশু পিতরকে তখন বলেছিলেন, আমার মেষদের দেখাশোনা কর। যীশু পর পর তিনবার পিতরকে এই কথা বলেছিলেন।
পুনরুত্থানের পর যীশু তাঁর শিষ্যদের কাছে বারবার দেখা দিয়েছিলেন। তিনি তাঁদের উপর ফুঁ দিয়ে বলেছিলেন, 'তোমরা পবিত্র আত্মাকে গ্রহণ কর। যাদের পাপ তোমরা ক্ষমা করবে, তাদের পাপ ক্ষমা করা হবে। যাদের পাপ ধরে রাখবে, তাদের পাপ ধরেই রাখা হবে।' স্বর্গে চলে যাবার আগে যীশু তাঁর এগারো জন প্রেরিতশিষ্যকে নিয়ে গালিলেয়ায় সমবেত হলেন। সেখানে তিনি তাঁর শিষ্যদের প্রেরণকর্ম সম্পর্কে নির্দেশ দিলেন। তিনি তাঁদের বললেন, স্বর্গে ও পৃথিবীতে পূর্ণ অধিকার আমাকে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা জগতের সর্বত্রই যাও। বিশ্বসৃষ্টির কাছে তোমরা ঘোষণা কর মঙ্গলসমাচার। তোমাদের আমি যা কিছু আদেশ দিয়েছি, তাদের তা পালন করতে শেখাও। সকল জাতির মানুষকে আমার শিষ্য কর। পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে তাদের দীক্ষাস্নাত কর। যে বিশ্বাস করবে আর দীক্ষাস্নাত হবে, সে পরিত্রাণ পাবে। বিশ্বাসীরা আমার নামে অপদূত তাড়াবে, তারা নতুন নতুন ভাষায় কথা বলবে, তাঁরা রোগীদের উপর হাত রাখলেই রোগীরা ভালো হয়ে যাবে। আর জেনে রাখ, জগতের অন্তিমকাল পর্যন্ত আমি সর্বদাই তোমাদের সঙ্গে আছি।
তিনি তাঁদের কাছে আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি স্বর্গ থেকে পিতার প্রতিশ্রুত দান অর্থাৎ পবিত্র আত্মাকে পাঠাবেন। স্বর্গ থেকে নেমে আসা পবিত্র আত্মার শক্তিতে তখন তাঁরা আচ্ছাদিত হবেন। পবিত্র আত্মা তাঁদের উপর নেমে না আসা পর্যন্ত তাঁদেরকে তিনি গালিলেয়া শহরেই অপেক্ষা করতে বললেন।
প্রভু যীশু তাঁর শিষ্যদের প্রতি যে বিশেষ বাণীগুলো রেখেছেন তার অর্থ এ রকম:
খ্রীষ্টের মণ্ডলী দেখাশোনা ও বাণী প্রচার করার জন্য প্রেরিতশিষ্যদের অন্তরের বিশ্বাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। পিতর হলেন সেই বিশ্বাসী প্রেরিতদের মধ্যে প্রধান। তাঁকে যীশু মণ্ডলী দেখাশোনা করার প্রধান দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
যীশু তাঁর শিষ্যদের পাপ ক্ষমা করার অধিকার দিলেন। এই পাপ তাঁরা ক্ষমা করবেন পবিত্র আত্মার শক্তিতে। শিষ্যদের মধ্য দিয়ে ঈশ্বর মানুষের পাপ ক্ষমা করবেন।
তিনি শিষ্যদের নিশ্চিত করতে চান যে তাঁরা যীশুর বিশেষ ক্ষমতা লাভকরবেন। জগতের সমস্ত কিছুই তাঁর অধীনস্থ। মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো মৃত্যু। কিন্তু সেই মৃত্যু তিনি নিজে বরণ করেছেন এবং সেই শক্তিশালী মৃত্যুকে তিনি জয় করেছেন। কাজেই সমস্ত শক্তিই তাঁর পদতলে। তিনি সকল শক্তির প্রভু। খ্রীষ্টের প্রভুত্ব নিয়ে এখন আর কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ নেই।
যীশু তাঁর কাজগুলো করার জন্য শিষ্যদেরকে সারা জগতে পাঠালেন। তিনি তাঁদের যা কিছু শিক্ষা দিয়েছেন তা সকল জাতির মানুষের কাছে শিক্ষা দিতে বললেন। সকল জাতির মানুষকে তাঁর শিষ্য করতে বললেন। তিনি যেসব শিক্ষা দিয়েছেন অর্থাৎ মঙ্গলসমাচারে যে শিক্ষা বা মূল্যবোধগুলো আমরা পাই, তা সকল মানুষ যেন শিখে ও সেই অনুসারে জীবন যাপন করে।
যীশুর মৃত্যুর পর শিষ্যগণ ভেবেছিলেন, ঐ শত্রুরা হয়ত যীশুর মতো করে তাঁদেরও হত্যা করবে। এই ভীতিজনক অবস্থায় শিষ্যগণ তাঁদের গুরুকে ছাড়া জগতের সর্বত্র যাওয়ার সাহস পাবেন না। কারণ তাঁর কাজে সহায়তা করার জন্যই তো তিনি তাঁদের ডেকেছিলেন। আর তাঁরাও সবকিছু ত্যাগ করে তাঁর সঙ্গ নিয়েছিলেন। তাঁদের সাথে তাঁর একটা বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। তিনি তাঁদেরকে ভালোবাসেন। তাঁরাও তাঁদের গুরুকে ভালোবাসেন। কাজেই তিনি তাঁর প্রিয় শিষ্যদেরকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেননি।
এরপর প্রভু যীশু স্বর্গারোহণ করলেন। শিষ্যগণ প্রভু যীশুর নির্দেশমতো গালিলেয়া শহরেই অপেক্ষা করতে লাগলেন। সেখানে তাঁরা পবিত্র আত্মার অবতরণের অপেক্ষায় রইলেন।
Read more