ঈশ্বর আমাদের ভালোবাসেন। তাই আমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত-বলি হওয়ার জন্য তিনি নিজ পুত্রকে প্রেরণ করলেন। তাঁর পুত্র জন্ম নিলেন জগতের ত্রাণকর্তারূপে, পাপ হরণকারীরূপে। তিনি আসলেন পৃথিবীর সকল দেশের সকল মানুষের জন্য। যারা মুক্তিদাতার মুক্তির পথ গ্রহণ করে, তারা পরিত্রাণ লাভ করে। এই অধ্যায়ে আমরা আমাদের প্রিয় মুক্তিদাতার জন্ম ও শৈশব সম্পর্কে আলোচনা করব। একই সাথে আমরা তাঁর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক গভীরতর করে তোলার চেষ্টা করব।

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
- ঈশ্বর কর্তৃক তাঁর পুত্র যীশুকে পৃথিবীতে প্রেরণের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে পারব
- ঈশ্বরপুত্রের মানব হয়ে জন্মগ্রহণ করার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে পারব
- যীশুর শৈশবকাল বর্ণনা করতে পারব
- যীশুর শৈশব জীবন কীভাবে মানুষকে সুন্দর জীবন গঠনের বিষয়ে শিক্ষা দেয় তা ব্যাখ্যা করতে পারব
- নম্র ও বিনীত জীবন যাপন করব।
ঈশ্বর সমগ্র বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা। তিনি সর্বশক্তিমান ও একই সময়ে তিনি সব জায়গায় বিদ্যমান। তিনি সকল ভালো, মঙ্গলময়তা, পবিত্রতা ও জ্ঞানের উৎস। তিনি তাঁর সৃষ্ট জগতের সকল জীবের মধ্যে, বিশেষভাবে মানুষের মধ্যে জ্ঞান ও শক্তি দিয়েছেন যেন তারা তাঁর পরিচয় পেতে পারে। ঈশ্বর মানুষকে সকল সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ মানুষকে তিনি বিবেক ও আত্মা দিয়েছেন। তাকে দিয়েছেন স্বাধীন ইচ্ছা ও ভালোবাসা।
আমরা জানি, আমাদের আদি পিতা-মাতা আদম ও হবা ঈশ্বরের অবাধ্য হয়ে পাপ করেছিলেন। তাই ঈশ্বর তাঁদেরকে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করেছিলেন ও পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এভাবে স্বর্গ থেকে আমাদের আদি পিতা-মাতার পতন হলো। অর্থাৎ পাপের ফলে স্বর্গীয় সুখ ও শান্তি থেকে তাঁরা বঞ্চিত হলেন। ঈশ্বর মানুষকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। তাদের দিয়েছিলেন ভালো ও মন্দ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা। মানুষ ভালোটাকে বেছে না নিয়ে মন্দটাকেই বেছে নিল। ঈশ্বর মানুষের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করেননি। তাই তিনি খুবই দুঃখ পেলেন। স্বর্গীয় উদ্যানে অর্থাৎ ঈশ্বরের সান্নিধ্যে মানুষের থাকা আর সম্ভব হলো না।
স্বাধীন ইচ্ছার বলে এমন সিদ্ধান্তের কারণেই মানুষের উপর নেমে এলো শাস্তি। তবুও অসীম দয়ালু ও প্রেমময় ঈশ্বর রাগ করে তাদেরকে চরম শাস্তি দিলেন না। অর্থাৎ তাঁদেরকে একেবারে ধ্বংস করে ফেললেন না। বরং তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন যে তিনি পতিত মানুষকে মুক্ত করার জন্য জগতে একজন মুক্তিদাতাকে পাঠিয়ে দিবেন। ঈশ্বর তাঁর প্রতিজ্ঞা রক্ষা করলেন। তিনি নিজের পুত্রকে আমাদের জন্য পাঠালেন। এভাবে মুক্তিদাতা যীশু খ্রীষ্ট পৃথিবীতে এলেন।
দুই হাজার বছরেরও আগে মুক্তিদাতা যীশু খ্রীষ্ট এ পৃথিবীতে এসেছেন। অদৃশ্য ঈশ্বর দৃশ্যমান হয়েছেন। তিনি মানুষেরই মতো দেহধারণ করেছেন, আমাদের খুব কাছে এসেছেন। আমাদের মতোই জীবন যাপন করেছেন। মানবজাতির মুক্তির উদ্দেশ্যে ঈশ্বরের পরিকল্পনার কথা তিনি জানিয়েছেন।
আদি পিতা-মাতার পাপের ফলে পৃথিবীর সমগ্র মানবজাতি পাপের ছায়ায় বাস করছিল। মানুষ অসত্যের অর্থাৎ শয়তানের কবলে পড়েছিল। সেই অসত্যের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য যীশু পৃথিবীতে এলেন। তিনি মানবজাতিকে এতই ভালোবাসলেন যে তাদেরকে পাপ থেকে রক্ষা করার জন্য তিনি জীবন দিলেন। যীশু বলেন, 'আমি আলো হয়েই এই জগতে এসেছি, যাঁরা আমার প্রতি বিশ্বাসী, তাঁরা যেন অন্ধকারে না থাকে' (যোহন ১২:৪৬)।
| কাজ: শিক্ষার্থীরা কীভাবে শয়তানের কবলে পড়ে, তা ছোট ছোট দলে বসে সহভাগিতা কর। শয়তানের হাত থেকে যীশু তোমাকে কীভাবে রক্ষা করেন, তাও সহভাগিতা কর। |
যীশু নিজেই এ জগতে তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছেন। যোহনের লিখিত মঙ্গলসমাচারে (৬:৩৮) তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আমার নিজের ইচ্ছা পালন করতে নয়, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁর ইচ্ছা পালন করতে আমি স্বর্গ থেকে নেমে এসেছি।' পিতার ইচ্ছা হলো: পিতা তাঁর হাতে যাদের তুলে দিয়েছেন তাঁদের সকলকে পাপ থেকে মুক্ত করা। ঈশ্বরের সাথে মানুষের বিচ্ছিন্ন সম্পর্ক পুনরায় গড়ার জন্য তিনি জীবন দিলেন।
যীশু নিজে তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও বলেন, 'প্রকৃতপক্ষে যা হারিয়ে গেছে, তা খুঁজতে ও পরিত্রাণ করতেই মানবপুত্র এসেছেন' (লুক ১৯:১০)। পাপের ফলে আমরা সকলেই ঈশ্বরের ভালোর আশ্রয় থেকে হারিয়ে গিয়েছিলাম। তিনি আমাদেরকে সেই ভালোর বন্ধনে ফিরিয়ে আনার জন্যই পৃথিবীতে এসেছেন।
যীশু বলেন, 'আমি পথ, সত্য ও জীবন।' তাঁর মধ্য দিয়ে আমরা ঈশ্বরের কাছ থেকে কৃপা ও আশীর্বাদ লাভ করি। তিনি এখন পিতা ঈশ্বর ও জগতের মানুষের মাঝখানে মধ্যস্থতাকারী হয়েছেন। আমাদের সকল প্রয়োজনের কথা তিনি পিতার কাছে তুলে ধরেন। আবার পিতার কৃপা-আশীর্বাদ তিনি আমাদের কাছে দান করেন।
| কাজ: তুমি কীভাবে ঈশ্বরের কাছ থেকে হারিয়ে যাও এবং কীভাবে ঈশ্বরের সাথে পুনর্মিলিত হও তা জোড়ায় জোড়ায় আলোচনা কর। |
যীশু খ্রীষ্ট আমাদের পাপ থেকে মুক্ত করার জন্য এই পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছেন। এ বিষয়ে আমরা আগেই জেনেছি। তাঁর জন্যের ঘটনাটিও আমরা জানি। এবার আমরা তাঁর জন্মের তাৎপর্য বা গুরুত্ব সম্বন্ধে আলোচনা করব। আমরা দেখতে পাব, যীশুর জন্ম আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
প্রভু যীশুর জন্ম আমাদের জন্য একটি গভীর অর্থপূর্ণ বিষয়। কারণ প্রবক্তা ইসাইয়ার মধ্য দিয়ে ঈশ্বর আগেই তাঁর সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। প্রবক্তা বলেছিলেন যে, একটি কুমারী কন্যা গর্ভবতী হবে ও একটি পুত্র সন্তান প্রসব করবে। তাঁর নাম রাখা হবে ইম্মানুয়েল। ইম্মানুয়েল কথার অর্থ হলো 'ঈশ্বর আমাদের সঙ্গেই আছেন' (ইসা ৭:১৪)।
প্রবক্তা ইসাইয়ার মুখ দিয়ে এ কথাও বলা হয়েছিল যে একটি বালক আমাদের জন্য জন্মেছেন। একটি পুত্রকে আমাদের জন্য দেওয়া হয়েছে। তাঁরই কাঁধের উপর কর্তৃত্বভার থাকবে। তাঁর নাম হবে 'আশ্চর্য মন্ত্রণাদাতা, বিক্রমশালী ঈশ্বর, সনাতন পিতা, শান্তিরাজ' (ইসা ৯:৬-৭)।
প্রবক্তা মিখার মুখ দিয়ে ঈশ্বর বলেছিলেন, ইস্রায়েলের কর্তা হওয়ার জন্য বেথেলহেমে একজন জন্ম নিবেন। তাঁর রাজত্ব আদি থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত। তিনি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত মহান হবেন (মিখা ৫:২-৫)।
প্রবক্তার মুখ দিয়ে ঈশ্বর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা পূর্ণ হতে চলল। যোসেফের কাছে প্রভুর এক দূত স্বপ্নে দেখা দিলেন। দূত বললেন, মারীয়ার গর্ভে যিনি জন্মেছেন, তিনি পবিত্র আত্মারই প্রভাবে। তিনি পুত্র সন্তানের জন্ম দিবেন। তুমি তাঁর নাম যীশু রাখবে। 'যীশু' নামের অর্থ 'ত্রাণকর্তা' (মথি ১:১৮-২১)।
দীক্ষাগুরু যোহনের মধ্য দিয়ে আমরা ঈশ্বরের কথা শুনতে পাই। তিনি বলেন, যীশু হলেন ঈশ্বরের মেষশাবক, জগতের পাপ যিনি হরণ করেন। লোকেরা মেষশাবককে মন্দিরে এনে ঈশ্বরের নামে বলি দিত। তাঁরা বিশ্বাস করত যে, ঐ মেষ বলিদানের মধ্য দিয়ে ঈশ্বর তাদের পাপ ক্ষমা করে দেন। যোহন বললেন, ঠিক মেষশাবকের মতো করে যীশু একদিন বলিকৃত হবেন। তাঁর মধ্য দিয়ে ঈশ্বর জগতের সকল মানুষের পাপ ক্ষমা করে দিবেন (যোহন ১:২৯)।

মারীয়ার কাছে মহাদূত গাব্রিয়েল দেখা দিয়ে বললেন, মারীয়া যেন তাঁর গর্ভের শিশুটির নাম রাখেন 'যীশু'। তিনি মহান হবেন। তিনি হবেন পরমেশ্বরের পুত্র। তাঁর পিতৃপুরুষ দাউদের সিংহাসন প্রভু ঈশ্বর তাঁকে দান করবেন। তিনি যাকোব বংশের উপর চিরকাল রাজত্ব করবেন। তাঁর রাজ্য হবে অন্তহীন।
যীশু এই পৃথিবীতে এলেন ঐশরাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে। রাখালদের কাছে দূত দেখা দিয়ে যীশুর আগমন সংবাদ জানালেন। এই সংবাদটিকে দূত আনন্দ-সংবাদ বললেন। কারণ মানুষেরা মুক্তিদাতার আগমনের অপেক্ষায় ছিল যুগ যুগ ধরে। তাই দূত বললেন, দাউদ-নগরীতে আজ তোমাদের ত্রাণকর্তা জন্মেছেন।
তিনি খ্রীষ্ট প্রভু। তাঁর মধ্য দিয়ে মানুষের অন্তরে নেমে আসবে শান্তি।' মানুষের অন্তরে শান্তি আসে পাপ ক্ষমার মধ্য দিয়ে। খ্রীষ্ট মানুষের পাপ ক্ষমা করে অন্তরে শান্তি দিবেন।
| কাজ: এমন একটি ঘটনা দলের সকলের সাথে সহভাগিতা কর, যার মধ্য দিয়ে তুমি বুঝতে পেরেছ যে ঈশ্বর তোমার সঙ্গেই আছেন। |
প্রভু যীশুর জন্মের পরে ও দীক্ষাস্নান গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত পবিত্র বাইবেল থেকে আমরা তাঁর সম্বন্ধে মাত্র কয়েকটি ঘটনা জানতে পারি। ঘটনাগুলো হলো: (ক) মন্দিরে প্রভু যীশুকে নিবেদন করা; (খ) মিশর দেশে পলায়ন: (গ) মিশর দেশ থেকে ইস্রায়েল দেশে ফিরে আসা; (ঘ) নাজারেথে যীশুর শৈশবকাল যাপন; (ঙ) মন্দিরে বালক যীশুর হারিয়ে যাওয়া; এবং (চ) মা-বাবার সাথে নাজারেথে যীশুর ফিরে যাওয়া। এই ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে আমরা প্রভু যীশুর শৈশব সম্পর্কে কিছু কথা জানতে চেষ্টা করব।
যীশুর জন্মের চল্লিশ দিন পর যোসেফ ও মারীয়া শিশু যীশুকে যেরুসালেম মন্দিরে উৎসর্গ করতে নিয়ে গেলেন। ইহুদিদের এই বিশ্বাস ছিল যে সন্তান জন্ম দেওয়ার মধ্য দিয়ে একজন মহিলা অশুচি হয়ে যায়।

তাই তাকে শুচি হওয়ার জন্য মন্দিরে যেতে হতো। পুত্রসন্তানের জন্ম হলে মাকে চল্লিশ দিন পরে মন্দিরে যেতে হতো। আর কন্যা সন্তানের জন্ম হলে যেতে হতো আশি দিন পরে। সেখানে গিয়ে শিশুটিকে উৎসর্গ করতে হতো। শিশুটির পরিবর্তে একটি মেষশাবক উৎসর্গ করে বাবা-মা শিশুটিকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারত। কিন্তু তারা দরিদ্র বলে মেষশাবকের পরিবর্তে এক জোড়া ঘুঘু বা পায়রার ছানা উৎসর্গ করতে পারত। কাজেই যীশুর জন্মের চল্লিশ দিন পর যোসেফ ও মারীয়া তাঁদের শিশুপুত্র যীশুকে নিয়ে যেরুসালেম মন্দিরে গেলেন। দরিদ্র ছিলেন বলে তাঁরা মন্দিরে উৎসর্গ করলেন এক জোড়া ঘুঘু। মন্দিরে সিমিয়োন নামে একজন ধর্মগুরু ছিলেন। তিনি ছিলেন খুবই ধার্মিক ও ভক্তিপ্রাণ মানুষ।
তিনি মুক্তিদাতার আগমন নিজের চোখে দেখে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। যোসেফ ও মারীয়া শিশু যীশুকে মন্দিরে নিয়ে আসা মাত্রই সিমিয়োন চিনে ফেললেন যে ইনিই হলেন সেই মুক্তিদাতা, যাঁর অপেক্ষায় ইস্রায়েল জাতি এত দিন ধরে দিন গুনছিল। কাজেই সিমিয়োন শিশু যীশুকে কোলে নিয়ে ঈশ্বরের প্রশংসা করলেন। তিনি মুক্তিদাতাকে দেখতে পেয়েছেন বলে হৃদয়ে প্রশান্তি অনুভব করলেন।
পূর্ব দেশ থেকে তিনজন পণ্ডিত এসে নবজাত রাজার অর্থাৎ যীশুর খোঁজ করছিলেন। তাঁরা হেরোদের কাছে গিয়ে এ সম্পর্কে জানতে চাইলেন। রাজা হেরোদ বললেন, তিনি এখনো সেই রাজার সম্পর্কে জানেন না। তাই তিনি তিনজন পণ্ডিতকে বললেন, তাঁরা গিয়ে যেন নতুন রাজার খোঁজ করেন। পেলে পর খবরটা তাঁরা যেন রাজা হেরোদকেও জানান। যাতে তিনি (হেরোদ) গিয়ে শিশু রাজাকে প্রণাম জানাতে পারেন। আসলে রাজা হেরোদ নতুন রাজার আগমনের সংবাদ পেয়ে ভয় পেয়েছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন হয়তো তাঁর রাজত্ব শেষ হয়ে গেছে। তাই তিনি তাঁর অঞ্চলের দুই বছরের কম বয়সী সব শিশুকে হত্যা করার হুকুম দিলেন। আর সৈন্যরা সব শিশুকে হত্যা করতে শুরু করে দিল। এদিকে পণ্ডিতগণ নবজাত শিশু যীশুকে প্রণাম জানিয়ে অন্য পথে নিজেদের দেশে চলে গেলেন। রাতে ঈশ্বরের এক দূত স্বপ্নে যোসেফকে দেখা দিলেন। দূত তাঁকে বললেন, শিশুটিকে ও তাঁর মাকে নিয়ে মিশর দেশে পালিয়ে যাও। আমি না বলা পর্যন্ত সেখানেই থাক। কারণ রাজা হেরোদ শিশু যীশুকে হত্যা করার জন্য খোঁজ করছে। তাই যোসেফ ঐ রাতেই শিশু যীশু ও মারীয়াকে নিয়ে মিশর দেশে পালিয়ে গেলেন।
যীশুর বয়স যখন প্রায় চার বছর তখন রাজা হেরোদের মৃত্যু হয়। এরপর ঈশ্বরের দূত আবার স্বপ্নে যোসেফকে দেখা দিলেন। দূত তাঁকে নির্দেশ দিলেন তিনি যেন শিশু যীশু ও মারীয়াকে সঙ্গে নিয়ে ইস্রায়েল দেশে ফিরে যান। দূতের নির্দেশ অনুসারে যোসেফ তা-ই করলেন। তিনি যীশু ও মারীয়াকে নিয়ে আবার ফিরে এলেন ইস্রায়েল দেশে। এখানে এসে তিনি শুনতে পেলেন যে হেরোদের জায়গায় তাঁর ছেলে আর্থেলিউস রাজত্ব করছেন। এতে তিনি আবার ভয় পেলেন। কারণ এই রাজাও হয়ত তাঁর পিতা হেরোদের মতো করে শিশু যীশুকে খুঁজতে পারেন। তাই তাঁরা গালিলেয়ায় চলে গেলেন। সেখানে গিয়ে তাঁরা নাজারেথ নামে একটি শহরে বাস করতে লাগলেন।
যীশুর জন্মের পর ইহুদি নিয়ম অনুসারে যা যা করণীয় ছিল, যোসেফ ও মারীয়া তার সবই করলেন। এরপর তাঁরা শিশু যীশুকে নিয়ে নাজারেথে ফিরে গেলেন। কারণ নাজারেথ ছিল তাঁদের আপন শহর। এই শহরেই যীশুর শৈশবকাল কেটেছিল। আর এই কারণে সকলেই যীশুকে 'নাজারেথের যীশু' নামে চিনত। এই শহরের সকলের সাথে যীশুও খুব পরিচিত ছিলেন। এই শহরের মানুষের সঙ্গে যীশুর বন্ধুত্ব হতে লাগল। এখানকার আলো-বাতাসে তিনি ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতে থাকলেন। এই সমাজের নিয়মকানুনও তিনি আয়ত্ত করলেন। দৈহিক দিক দিয়ে তিনি যেমন বড় হতে লাগলেন, তেমনি করে অন্তরে ভালোবাসা, স্নেহ-মমতা, সহানুভূতি ইত্যাদি গুণের জন্ম হতে লাগল।
ইহুদিরা প্রতিবছর উদ্ধারপর্ব বা নিস্তারপর্ব নামে একটি মহাপর্ব পালন করত। এই পর্বটি বহুকাল আগের একটি ঘটনার স্মরণে পালন করা হতো। ইহুদিরা মিশরীয়দের হাতে বন্দী ছিল। তাদের হাত থেকে ঈশ্বর মোশী ও আরোনের নেতৃত্বে ইহুদিদের উদ্ধার করেছিলেন। সেখান থেকে মুক্ত হয়ে তাঁরা প্রতিশ্রুত দেশে গিয়ে বাস করতে শুরু করেছিল। সেই উদ্ধার বা নিস্তার লাভের ঘটনাটি তাঁদের জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই প্রতিবছর তাঁরা এটিকে মহাপর্ব হিসেবে পালন করত। পর্বটি পালন করার জন্য তাঁরা যেরুসালেম মন্দিরে সমবেত হতো। পর্বে এসে তাঁরা তাদের সেই উদ্ধার বা নিস্তার লাভের ঘটনার স্মরণে মেষ বলি দিত ও আনন্দের সাথে ভোজ উৎসব করত। যেরুসালেম মন্দিরের চারদিকে ১৫ মাইলের মধ্যে যেসব ইহুদি বাস করত তাঁদের মধ্যে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্করা নিস্তারপর্বে প্রতিবছর যোগ দিতে বাধ্য ছিল। তাছাড়া, সারা পৃথিবীতে যত ইহুদি আছে, তারা জীবনে অন্তত একবার এই পর্বে যোগ দিত। যীশু, মারীয়া ও যোসেফের বাড়ি নাজারেথ শহরে ছিল। এই শহর যেরুসালেমের ১৫ মাইলের মধ্যেই ছিল।
এই হিসেবে যীশুর মা-বাবাও প্রতিবছর যোগ দিতেন। আরও একটি প্রথা ছিল, যেসব পুরুষ সন্তানের বয়স ১২ বছর হয়েছে, তারাও এই পর্বে যোগ দিবে। কাজেই যীশুর ১২ বছর পূর্ণ হওয়ার পর প্রথমবারের মতো তিনি যোসেফ ও মারীয়ার সাথে পর্বে যোগ দিতে গেলেন। এই পর্বে বহু লোকের সমাগম হতো।
পর্ব শেষ হওয়ার পর লোকেরা দলে দলে হেঁটে বাড়ি ফিরত। কারণ এলাকাটি ছিল পাহাড়ি। রাতের বেলায় শুধু মহিলারা একা ভ্রমণ করত না। কারণ চোর-ডাকাতের ভয় ছিল। তবে মহিলারা রওনা দিত একটু আগে। কারণ তাঁরা হাঁটতো ধীরে ধীরে। পুরুষরা একটু পরে রওনা দিত, কারণ তাঁরা দ্রুত হাঁটতো। পাহাড়ি অঞ্চলের কাছে এসে পুরুষরা মহিলাদের দলে যোগ দিত। এই কারণে মারীয়া রওনা দেওয়ার আগে ভেবেছিলেন, যীশু হয়তো যোসেফের সাথে আছেন। আবার যোসেফ ভেবেছিলেন, যীশু হয়ত মারীয়ার সাথে চলে গেছেন। এই ভেবে তারা যীশুকে মন্দিরেই ফেলে রেখে চলে এসেছিলেন। সন্ধ্যাবেলায় যখন মারীয়া ও যোসেফের একত্রে দেখা হলো, তখন তাঁরা বুঝতে পারলেন, যীশু তাঁদের কারও সাথে বা কোনো আত্মীয়স্বজনদের সাথেও নেই। এতে তাঁরা ভীষণ চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন। তাই তাঁরা যীশুকে খোঁজার জন্য দ্রুত রওনা দিলেন যেরুসালেমের দিকে।
পর্ব শেষ হয়ে গেলেও শাস্ত্রবিষয়ক পণ্ডিতগণ একত্রিত হয়ে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আরও কিছু আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যেতেন। মন্দিরে বসে পণ্ডিতগণ আলোচনা করছিলেন। যীশু সেই পণ্ডিতদের মাঝখানে বসে তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্ন করছিলেন ও শুনছিলেন। যীশুর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও জ্ঞান দেখে তাঁদের সকলেই খুব আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলেন।
ঠিক এই সময়ে মারীয়া ও যোসেফ ওখানে গিয়ে হাজির হলেন। তাঁরা দেখতে পেলেন যীশু পণ্ডিতদের মাঝখানে বসে আলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন। মারীয়া যীশুকে ফিরে পেয়ে জড়িয়ে ধরলেন। তিনি বললেন, 'খোকা, এটা তোমার কেমন ব্যবহার? ভেবে দেখ তো, তোমার বাবা ও আমি কত উদ্বিগ্ন হয়েই না তোমাকে খুঁজছিলাম!' এতে যীশু যে উত্তর দিলেন তাতে তাঁরা সবাই স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। যীশু বললেন, 'তোমরা কেন আমাকে খুঁজছিলে? তোমরা কি জানতে না যে আমাকে আমার পিতার গৃহেই থাকতে হবে?' এই কথার অর্থ তাঁরা কেউ তখন কিছুই বুঝলেন না।
যীশু বলেছেন, তাঁকে পিতার গৃহে থাকতে হবে। এই কথার দ্বারা আমরা বুঝতে পারি, পিতা ঈশ্বর হলেন তাঁর প্রকৃত পিতা, আর যোসেফ হলেন তাঁর পালক পিতা। কুমারী মারীয়ার গর্ভে যীশুর জন্ম হয়েছিল পবিত্র আত্মার প্রভাবে। তিনি ঈশ্বরের সন্তান। যীশু পূর্ণ মানুষ হয়ে জন্ম নিয়েছেন কিন্তু তিনি নিজে পূর্ণ ঈশ্বর। তাঁকে পিতার গৃহে থাকতে হবে এই কথার দ্বারা তিনি যোসেফ ও মারীয়াকে বোঝালেন যে তিনি পিতার কাজে জীবন উৎসর্গ করতেই জন্ম নিয়েছেন।
মারীয়া ও যোসেফের ঘরে তিনি জন্ম নিয়েছেন। তাঁদের আদর-যত্নে তিনি বড় হয়েছেন। বাবা-মায়ের প্রতি বাধ্যতার মতো প্রয়োজনীয় গুণটি তাঁর মধ্যে ছিল। তাই তিনি মন্দিরের আলোচনা ফেলে রেখে বাবা-মায়ের সাথে নাজারেথে ফিরে গেলেন। পরিবারের সমস্ত কাজকর্মে তিনি অংশগ্রহণ করতেন। তিনি দৈহিকভাবে বড় হতে লাগলেন। এর পাশাপাশি তিনি বিদ্যাশিক্ষা, ধর্মীয় জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাও লাভ করতে লাগলেন। ঈশ্বরের ও মানুষের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়তে লাগল। ঈশ্বরের কাছ থেকে পেতে লাগলেন প্রজ্ঞা আর মানুষের কাছ থেকে পেতে লাগলেন স্নেহ-ভালোবাসা। এভাবে তিনি একজন পরিপক্ব মানুষ হতে লাগলেন।
| কাজ: যীশুর শৈশবের সাথে তোমার শৈশবের কোন কোন দিকে মিল খুঁজে পাও তা নিজের খাতায় । |
শৈশবকালে সকলের জীবনেই মহান ব্যক্তিদের আদর্শ অনেক সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। আমাদের সামনে সবচেয়ে সুন্দর আদর্শ হলেন বালক যীশু। তাঁর শৈশবের ঘটনাগুলো থেকে আমরা আমাদের জীবনের জন্য সুন্দর আদর্শ গ্রহণ করতে পারি।
যীশু বারো বছর বয়সে মন্দিরে গিয়েছিলেন যোসেফ ও মারীয়ার সাথে। মারীয়া ও যোসেফ নিজ নিজ দলের সাথে বাড়ির পথে অনেক দূর চলে এসেছিলেন। যীশু মন্দিরে রয়ে গিয়েছিলেন। তাঁরা আবার মন্দিরে গিয়ে যীশুকে ফিরে পেলেন। মারীয়া যীশুকে বলেছিলেন, 'খোকা, এটা তোমার কেমন ব্যবহার? ভেবে দেখ তো, তোমার বাবা ও আমি কত উদ্বিগ্ন হয়েই না তোমাকে খুঁজছিলাম!' কিন্তু যীশু উত্তর দিয়েছিলেন, 'তোমরা কেন খুঁজছিলে আমাকে? তোমরা কি জানতে না যে আমাকে আমার পিতার গৃহেই থাকতে হবে?' এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি, স্বর্গীয় পিতার কাছ থেকে তিনি এসেছেন। সেই পিতার সঙ্গে সময় কাটানোতে বালক যীশুর অনেক আগ্রহ ছিল। পিতার প্রতি তাঁর একটা আকর্ষণ ছিল।
আমাদেরও একই রকম আগ্রহ থাকা প্রয়োজন। আমরাও পিতার কাছ থেকে এসেছি। একদিন আমরা আবার পিতার কাছে ফিরে যাব। এই পৃথিবীতে আমরা যত দিন থাকি, আমরা যেন পিতার সাথে প্রতিদিন সময় কাটাই। অর্থাৎ আমরা যেন প্রতিদিনই বাড়িতে প্রার্থনা করি। যদি বাড়িতে এই রীতি না থেকে থাকে, তবে আমরা যেন মা-বাবাকে নিয়ে প্রতিদিনই প্রার্থনা করার অভ্যাস গড়ে তুলি।
মন্দিরে বালক যীশু পণ্ডিতদের সঙ্গে বসে ধর্মীয় বিষয়ে বক্তব্য শুনছিলেন। তাঁদের তিনি বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করছিলেন ও তাঁদের উত্তর শুনছিলেন। এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি, ধর্মীয় বিষয়ে জানার জন্য যীশুর কত আগ্রহ ছিল। ধর্ম বিষয়ে তাঁর এত জ্ঞান দেখে সকলেই আশ্চর্য হয়েছিলেন। আমরাও ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান লাভের অনেক সুযোগ পেয়ে থাকি। আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতে পবিত্র বাইবেল আছে। যদি না থাকে তবে আমরা একটা সংগ্রহ করতে পারি। প্রতিদিন বাইবেল পাঠ করতে পারি। এছাড়া সাধুসাধ্বীদের জীবনী বা অন্যান্য আধ্যাত্মিক বইও সংগ্রহ করে পাঠ করতে পারি। নিজের ধর্ম সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান থাকা একান্ত প্রয়োজন। আমরা বালক যীশুর কাছ থেকে এই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি।
মন্দিরে যোসেফ ও মারীয়ার কাছে যীশু বলেছিলেন, তাঁকে পিতার গৃহে থাকতে হবে। তবুও তিনি তাঁদের সাথে নাজারেথে তাঁদের বাড়িতে ফিরে গেলেন। সেখানে তিনি তাঁদের বাধ্য হয়ে থাকতে লাগলেন। সারা জীবন পিতার ইচ্ছা পালন করাই যীশুর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।
মা-বাবা, শিক্ষক ও গুরুজনদের প্রতি বাধ্যতা আমাদেরও অবশ্যই থাকতে হবে। বাধ্যতা আমাদের জীবনে মঙ্গল বয়ে আনে। বাধ্য থাকলে আমরা জীবনে অনেক উন্নতি করতে পারি। অনেক বিপদ-আপদ থেকেও আমরা রক্ষা পেতে পারি বাধ্যতার মাধ্যমে। বালক যীশু আমাদের সামনে এ বিষয়ে অনেক সুন্দর আদর্শ দেখাতে পারেন।
যোসেফ ও মারীয়ার প্রতি বালক যীশুর গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছিল। মায়ের গর্ভে তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন, তাঁর স্নেহ-ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন। এই মাকে তিনি গভীরভাবে ভালোবেসেছেন। যে পালক পিতা তাঁকে ভরণপোষণ করেছেন, বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেছেন, আদর-যত্ন করেছেন, তাঁকে তিনি অবশ্যই শ্রদ্ধা করেছেন ও ভালোবেসেছেন।
বালক যীশুর মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আমাদের জন্য একটি আদর্শ। আমাদেরও অবশ্যই নিজ নিজ মা-বাবাকে শ্রদ্ধা করতে হবে ও ভালোবাসতে হবে। ঈশ্বর আমাদেরকে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তাঁদের মধ্য দিয়ে। তাঁদের আদর-যত্ন, স্নেহ-ভালোবাসা না পেলে আমরা বাঁচতে পারতাম না। তাই তাঁদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা যেন সর্বদা অটুট থাকে।
যীশু তাঁর মা-বাবার প্রতি বাধ্যতা ও ভালোবাসা শুধু কথার মধ্য দিয়ে দেখাননি। তিনি কাজের মধ্য দিয়ে এগুলো প্রকাশ করেছেন। তিনি ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত বাড়িতে কাটিয়েছেন। এ সময়ে নিশ্চয়ই তিনি মা-বাবার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। বাড়িতে তিনি কোনোক্রমেই শুয়ে-বসে কাটাননি। মা-বাবাকে তিনি তাঁদের কাজে সহায়তা করেছেন। দৈনন্দিন কাজকে তিনি কখনো ঘৃণা বা অবহেলা করেননি।
আমাদের জীবনেও এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে আমরা যেন মা-বাবাকে তাঁদের কাজে যথাসাধ্য সাহায্য করি। এতে আমাদের সম্মান কমে যাবে না বরং দৈহিক পরিশ্রম আমাদের দেহ ও মনের স্বাস্থ্য অটুট রাখবে। তাতে পড়াশোনায়ও আমাদের মন বসবে। কাজে সহায়তা করে আমরা মা-বাবার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বাধ্যতার প্রমাণ দিতে পারি।
| কাজ: বালক যীশুর কোন কোন গুণ তোমার কাছে অনুকরণীয় মনে হয় তার একটি তালিকা প্রস্তুত কর। |
শূন্যস্থান পূরণ কর:
১. আমি আলো হয়েই এই ………………… এসেছি।
২. ঈশ্বর মানুষকে সকল সৃষ্টির ………………… জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।
৩. মানুষকে তিনি বিবেক ও ………………… দিয়েছেন।
8. ঈশ্বর তাঁর ………………… রক্ষা করলেন।
৫. মুক্তিদাতা যীশু খ্রীষ্ট ………………… আসলেন।
বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশের বাক্যাংশের মিল কর:
| বাম পাশ | ডান পাশ |
১. যারা আমার প্রতি বিশ্বাসী ২. একটি কুমারী কন্যা গর্ভবর্তী হবে ৩. ঈশ্বর জগতের সকল মানুষের ৪. যীশু হবেন ৫. দাউদ নগরীতে আজ |
|
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১. ইম্মানুয়েল কথার অর্থ কী?
ক. ঈশ্বর আমাদের সঙ্গেই আছেন
খ. ঈশ্বর পরিত্রাণ করেন
গ. অভিষিক্ত ব্যক্তি
ঘ. যাকে পাঠানো হলো
২. যীশুর আগমনের উদ্দেশ্য -
i. পিতার ইচ্ছা পালন করা
ii. যা হারিয়ে গেছে তা খোঁজা
iii. ঈশ্বরের গৌরব প্রকাশ করা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. iও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
পলাশ একজন প্রাপ্তবয়স্ক যুবক। পরিবারের প্রয়োজনে সে সব ধরনের কাজে সাহায্য করে। তাছাড়াও ধর্মীয় শিক্ষা ও সাধুসাধ্বীর জীবনী পাঠ করে সে একজন আধ্যাত্মিক মানুষ হয়ে উঠেছে।
৩. পলাশের মধ্যে যীশুর কোন গুণটি ফুটে উঠেছে?
i. বাধ্যতা
ii. শ্রদ্ধা
iii. আনুগত্য
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
৪. উক্ত গুণগুলো পলাশকে অনুপ্রাণিত করে-
ক. নিয়মিত পড়াশোনা করতে
খ. আধ্যাত্মিক মানুষ হতে
গ. ধর্মীয় জ্ঞান লাভ করতে
ঘ. সামাজিক কাজ করতে
সৃজনশীল প্রশ্ন
১. সমীরের বাবা-মা অত্যন্ত ধার্মিক ছিলেন। সমীর বাবা-মার কথা অনুযায়ী সময়মতো ঘুম থেকে উঠে প্রার্থনা, পড়াশোনা এবং প্রতিদিনের অন্য কাজগুলো করত। কিন্তু সমীর কিছুটা অলস ছিল বলে তার বাবা-মার কাজে সাহায্য করতে চাইত না এবং বাইবেল পাঠে আগ্রহী ছিল না।
ক. যীশু কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলেন?
খ. ইহুদিরা কেন নিস্তারপর্ব পালন করত?
গ. সমীরের কাজে যীশুর কোন গুণটি প্রকাশ পেয়েছে ব্যাখ্যা কর।
ঘ. যীশুর কাজের সাথে সমীরের কাজের মিল অমিল খুঁজে বের করে তুলনামূলক আলোচনা কর।
২. অজয় ও প্রমিলা সুখী দম্পতি। বাবা খুব শখ করে সুন্দর একটি কারখানা তৈরি করে অজয়কে কারখানার পরিচালক পদে দায়িত্ব দিল। ধীরে ধীরে কারখানাটি অনেক বড় হলো। অজয় অন্যের কথা শুনে কারখানার অনেক ক্ষতি করে ফেলে। বাবা যখন দেখতে পেল ছেলে তাঁর অবাধ্য হয়েছে সে খুবই দুঃখ পেল। পরিশেষে অজয়কে সহকারী করে ঐ কারখানাতেই রাখা হলো।
ক. যীশুর পালক পিতার নাম কী?
খ. দৈনন্দিন জীবনে যীশু কীভাবে মা-বাবাকে সাহায্য করেছেন?
গ. কার প্ররোচনায় অজয় এ কাজটি করেছে তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
ঘ. 'অজয়ের বাবা যেন ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি'- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন
১. যীশু কত বছর বাড়িতে কাটিয়েছেন?
২. ইম্মানুয়েল শব্দের অর্থ কী?
৩. যীশু কাদের সাথে নাজারেথে ফিরে আসেন?
8. 'আমি পথ, সত্য ও জীবন' উক্তিটি কার?
৫. যীশুকে যেরুসালেম মন্দিরে উৎসর্গ করতে নিয়ে যায় কেন?
বর্ণনামূলক প্রশ্ন
১. মুক্তিদাতা যীশুর জন্মের তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর?
২. যীশুকে নিয়ে মিশর দেশে পলায়নের কারণ বিশ্লেষণ কর।
৩. শৈশবকালে যীশু পরিবারের কাজে অংশগ্রহণ করেন কেন?
Read more