শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন আমাদের সকলের জন্যই অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের জীবন আমাদের অবশ্যই গঠন করতে হবে। কিন্তু তা গঠনের পূর্বে আমাদের একটু ভালো করে শৃঙ্খলাবোধ সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। শৃঙ্খলাবোধ বলতে বোঝায় আত্মসংযম, আত্মশাসন, আত্মনিয়ন্ত্রণ। এর দ্বারা আমরা আরও বুঝি আত্মনির্ভরতা ও স্বাধীনতা। সেই সব শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবোধ আছে যারা:
ক) যথাসময়ে ও সঠিকভাবে তাদের বাড়ির কাজ সম্পন্ন করে।
খ) একটা কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত লেগে থাকে।
গ) একটা কাজ শেষ হলে আরেকটা কাজ যোগাড় করে নেয়।
ঘ) নিজের ব্যক্তিগত জীবন সঠিক পথে পরিচালনা করে।
ঙ) যাদের সাথে বাস করে সেই সমাজের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে।
চ) একবার কাজে সফলতা না আসলে বারবার চেষ্টা করে।
ছ) বন্ধুদের চাপে পড়ে কোনো কাজ করে না, বরং নিজের বিবেক যা বলে তা মেনে চলে।
জ) উৎপাদনশীল কাজে অর্থাৎ যে কাজ দিয়ে নিজের ও সমাজের উন্নয়ন হয়, তা করে।
ঝ) ধ্বংসাত্মক কাজ অর্থাৎ যে কাজ নিজের ও সমাজের ধ্বংস ডেকে আনে, তা পরিহার করে চলে।
ঞ) নিজের মেজাজ ঠান্ডা রেখে চলে।
আমরা যদি দৃঢ় শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন গড়ে তুলতে ইচ্ছা করি, তবে আমাদের নিম্নোক্ত কাজগুলো করা দরকার:
ক) দৃঢ়সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর যে তুমি অবশ্যই একজন দৃঢ় শৃঙ্খলাপূর্ণ মানুষ হতে ইচ্ছা কর। তোমার এই আকাঙ্ক্ষাই তোমাকে শৃঙ্খলার পথে চলতে অনুপ্রাণিত করবে।
খ) ব্যক্তিগতভাবে প্রতিজ্ঞা কর যে তুমি প্রতিদিন নিজের মধ্যে কিছু কিছু গুণ বপন করবে এবং সেগুলো শক্তিশালী করে তুলবে।
গ) কোনটা ভালো ও সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং কোনটা মন্দ ও সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়, তা ভালো করে জানতে থাক।
ঘ) কর্তৃপক্ষের কাছে সব সময় জবাবদিহি করার অভ্যাস রাখ। নিজের ভালো বা মন্দ কাজের যেকোনো ফল গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাক। নিজের ভুলের জন্য অন্যকে দোষারোপ কোরো না।
ঙ) শৃঙ্খলা চর্চা বা অনুশীলন করতে থাক। কারণ অনুশীলন করতে করতে মানুষ উন্নতি করতে পারে। সারা দিনের জন্য একটা রুটিন প্রস্তুত কর এবং সে অনুসারে চলার আপ্রাণ চেষ্টা কর।
চ) ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার করে চল। উদাহরণস্বরূপ মন্দ বই পড়া, মন্দ ফিল্ম দেখা, মন্দ বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক রাখা, ধূমপান করা ইত্যাদি থেকে বিরত থাক।
ছ) যারা তোমার মতো শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন ভালোবাসে, তাদের সাথে বন্ধুত্ব কর ও মাঝে মাঝে তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা কর।
Read more