সত্যবাদিতা (পাঠ ১)

সত্যবাদিতা, শৃঙ্খলা ও সেবা - খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

316

সত্যবাদিতা অর্থ হলো সত্য কথা বলা। সত্যবাদিতা বলতে বিশ্বস্ত, বিশ্বাসযোগ্য, মর্যাদাবান, পক্ষপাতহীন, খাঁটি ও আচরণে সরল মানুষকে বোঝায়।

ঈশ্বরের দশ আজ্ঞার অষ্টম আজ্ঞায় আছে: 'তোমার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যাসাক্ষ্য দিবে না' (যাত্রা ২০:১৬)। মিথ্যাসাক্ষ্য না দেওয়ার মাধ্যমে বোঝায় সত্যবাদিতা, অর্থাৎ সর্বদা সত্য কথা বলা। যে ব্যক্তি সত্য কথা বলে সে সত্য মানুষ হয়। যে মানুষ সত্য, সে সর্বদা সত্য কথা বলে। ঈশ্বর সত্যময়। আমাদের জানা ও পরিচিত সত্য বিষয়গুলো সত্যময় ঈশ্বরের কাছ থেকে আসে। যারা সত্য কথা বলে তারা সত্যময় ঈশ্বরের সাক্ষ্য দেয়। তাঁরা নিজের জীবনে সত্য কামনা করে। সত্য কামনা করার অর্থ হলো সর্বদা সত্যকে ভালোবাসা। সত্যকে ভালোবাসার অর্থ হলো সত্য কথা বলার বা সত্য মানুষ হওয়ার ফল গ্রহণ করা। অর্থাৎ সত্যকে ভালোবাসার ফলে যদি পুরস্কার পাওয়া যায়, তা তো আমরা অবশ্যই গ্রহণ করি। কিন্তু যদি আমাদের অপমান বা অত্যাচার সহ্য করতে হয়, তবে তা-ও গ্রহণ করতে হবে।

যারা মিথ্যা কথা বলে বা মিথ্যার আশ্রয় নেয়, তারা সত্যের বিরুদ্ধে পাপ করে। তারা সত্যময় ঈশ্বরের অপমান করে। মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার অর্থ অনৈতিক কাজ করা। যে কাজগুলো তাদের করা উচিত নয়, তারা তা-ই করে। এভাবে তারা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে অবিশ্বস্ত হয়। এর মাধ্যমে ঈশ্বরের সাথে তাদের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়।

একজন সত্যবাদী শিক্ষার্থী:

ক) সর্বদা সত্য কথা বলে, এর ফলে তার কোনো কষ্ট ভোগ করতে হবে কি না তা নিয়ে সে চিন্তা করে না।
খ) নিজের অনুভূতি অন্যের সাথে সহভাগিতা করে।
গ) নিজের মতামত প্রকাশের সময় অন্যেরা যেন আঘাত না পায় এমন সুরে কথা বলে।
ঘ) ইতিবাচকভাবে এবং একই সাথে ভালো ও মন্দ- দুই দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে নিজের মতামত প্রকাশ করে।
৬) শুধু প্রয়োজন হলে অন্যের বিরুদ্ধে মতামত প্রকাশ করে।
চ) সত্য কথা বলার পর তার ভিতরে কোন অপরাধবোধ থাকে না।
ছ) সহপাঠীদের ও শিক্ষকদের ভালো করে জানে ও তাদের জন্য সেবার কাজ করে।

উদাহরণ: সান্ত্বনা নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ছিল। সে একদিন তার স্কুলের টিফিনের সময় বারান্দায় একটি সুন্দর ঘড়ি পেল। সেটা পেয়ে সে তার শিক্ষকের কাছে জমা দিল। ক্লাস চলাকালে শেলী কান্নাকাটি করছিল। কারণ সে একটা ঘড়ি হারিয়ে ফেলেছে। ঐ ঘড়িটা তার মা তাকে বড়দিনের উপহার হিসেবে দিয়েছিল। শিক্ষক বুঝতে পারলেন ঐ ঘড়িটা শেলীরই। তখন তিনি শেলীকে ঘড়িটা দিলেন। তাতে তার কান্নাও থেমে গেল। শিক্ষক শেলীকে বললেন সে যেন সান্ত্বনাকে ঘড়িটা পেয়ে জমা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানায়। শেলী সান্ত্বনাকে জড়িয়ে ধরে তাকে ধন্যবাদ দিল ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল।

সত্য মানুষ সমাজের অন্যান্য মানুষের সাথে সুসম্পর্ক রচনা করতে পারে। যারা সত্য বলে তাদের অন্তরে কোনো ভয় থাকে না। কিন্তু যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় তারা ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে। সত্যের প্রতি ভালোবাসা যত বৃদ্ধি পায়, মানুষের মনের ভয়ও তত পরিমাণে দূরীভূত হয়।

উদাহরণ: সুব্রত আর জনি একই ক্লাসে পড়ে। তাদের শিক্ষক তাদেরকে ক্লাসরুমে সব বিষয় খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দেন। কিন্তু জনি তার মা-বাবাকে বলল যে তার শিক্ষক স্কুলে ভালো করে পড়ান না। তাই তার প্রাইভেট পড়তে হবে। তার বাবা তাকে প্রতি মাসে টাকা দিত। সে তা নিয়ে বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে জুয়া খেলত। ক্লাসে এসে সে খুব চুপচাপ থাকত। অন্য কারও সাথে মেলামেশা করত না। তার চোখেমুখে তাকালে বোঝা যেত যে সে সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকে। অন্যদিকে সুব্রত এ রকম কোনো কাজ করত না। সে সবসময় হাসিখুশি থাকত। সকলের সাথে সে মেলামেশা করতে পারত। তার মনে কোনো ভয় ছিল না।

কাজ: কোন কোন কাজকে মিথ্যার কাজ আর কোন কোন কাজকে সত্যের কাজ বলা যায় তা প্রথমে নিজের খাতায় তালিকাবদ্ধ কর এবং পরে ছোট ছোট দলে অন্যদের সাথে সহভাগিতা কর।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...