hsc

খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০-১৯২৪ খ্রি.) (৩.১৭)

ইতিহাস ১ম পত্র - ইতিহাস - এইচএসসি | NCTB BOOK

33

The Khilafat and the Non Co-operation Movement (1920-1924 AD.)

খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। যুগপৎ এ আন্দোলনে ভারতের সর্বস্তরের জনসাধারণ বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সৃষ্টি করেছিল। নানাবিধ কারণে এ আন্দোলন ব্যর্থ হয়, তথাপিও এ আন্দোলন পরবর্তীকালে ভারতে হিন্দু ও মুসলমানদের এক বৃহত্তর সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করেছিল।

খিলাফত আন্দোলন (Khilafat movement)

তুরস্কের খিলাফত রক্ষার জন্য (১৯২০-১৯২৪ খ্রি.) ভারতবর্ষের মুসলমানদের নেতৃত্বে যে আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল তাই ইতিহাসে খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত। খোলাফায়ে রাশেদীনের খলিফাগণ, উমাইয়া এবং আব্বাসীয় শাসকবর্গ ১২৫৮ পর্যন্ত খিলাফত বজায় রাখেন। ১৫১৭ খ্রিষ্টাব্দে তুর্কি সুলতান প্রথম সেলিম মামলুক বংশ ধ্বংস করে আব্বাসীয় খলিফা আল মুতাওয়াক্কিলকে তুরস্কে নিয়ে এসে খিলাফতের সমস্ত ক্ষমতা ও মর্যাদা সেলিম গ্রহণ করেন। ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে কামাল আতাতুর্ক কর্তৃক খিলাফত উচ্ছেদ পর্যন্ত তা বজায় ছিল। ভারতের মুসলমান সম্প্রদায় তুরস্কের সুলতানকে 'খলিফা' বা ধর্মগুরু বলে শ্রদ্ধা করতেন। তাকে ইসলামের রক্ষক মনে করতেন। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের সুলতান জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করলে ভারতের মুসলমানদের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কারণ একদিকে তারা তুরস্কের সুলতানের প্রতি ধর্মীয়ভাবে অনুগত ছিল, অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি অনুগত ছিল। ব্রিটিশ সরকারের প্রতিশ্রুতিতে শেষ পর্যন্ত ভারতের মুসলমানরা ব্রিটিশদের সহযোগিতা করতে থাকে। কিন্তু যুদ্ধাবসানে তুরস্ক জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করার অপরাধে ব্রিটিশ তথা মিত্র শক্তি 'সেভার্সের সন্ধি-১৯২০' দ্বারা তুরস্ককে খণ্ড-বিখণ্ড করে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। ফলে মুসলমানদের মধ্যে বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তারা খিলাফতের সম্মান ও অস্তিত্ব রক্ষার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। 'খিলাফত' আন্দোলনের কারণ হিসেবে 'রম্যা রল্যা' মন্তব্য করেছেন যে, ভারতীয় মুসলমানরা বিবেকের একটি কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন। এমতাবস্থায় ব্রিটিশ সরকার তুরস্কের সুলতান বা খলিফার স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখার প্রতিশ্রুতি দিলে, ভারতীয় মুসলমানগণ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। কিন্তু বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটেন এ প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় খিলাফত আন্দোলন শুরু হয় যাকে রম্যা রল্যা "খিলাফত বিদ্রোহ' বলে অভিহিত করেন।

মহাত্মা গান্ধীর পরিচালিত সত্যাগ্রহ আন্দোলনের সময় হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। ঐ সময় হিন্দু নেতাগণ মসজিদে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রিতও হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় হিন্দু-মুসলিম ঐক্যে বিশ্বাসী মহাত্মা গান্ধী খিলাফত আন্দোলনকে সমর্থন করেন এবং আন্দোলনে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেন। জুডিথ ব্রাউনের মতে, ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দের মাঝামাঝি হতে গান্ধীজী প্রত্যক্ষভাবে খিলাফত আন্দোলনের সমর্থনে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। ভারতীয় মুসলমানরাও গান্ধীজীর সমর্থনকে শ্রদ্ধার সাথে স্বীকার করে। ২৩ নভেম্বর ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় খিলাফত-সম্মেলনে মুসলমানরা গান্ধীজীকে সভাপতি নির্বাচিত করে। এ সম্মেলনে প্রস্তাব গৃহীত হয় যে, তুরস্কের প্রশ্নে মুসলমানদের পক্ষে সন্তোষজনক না হলে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে বয়কট ও অসহযোগিতার অস্ত্র প্রয়োগ করা হবে।

১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ ভাইসরয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে মুসলমানদের অভিযোগগুলো তুলে ধরেন। কিন্তু ভাইসরয় তাদের স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, জার্মানির পক্ষে অস্ত্র ধারণ করার জন্য তুরস্ককে ফলভোগ করতেই হবে। এ অবস্থায় মার্চ মাসে গান্ধীজী অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের এক ফতোয়া জারি করেন। ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে তুরস্কের সাথে মিত্রপক্ষের সেভার্সের শান্তি চুক্তি নামে কঠোর শর্তগুলো তুরস্কের ওপর চাপিয়ে দিলে মুসলমানদের মধ্যে দারুণ বিক্ষোভের সঞ্চার হয়। কেন্দ্রীয় খিলাফত কমিটি মুসলমানদের দাবির পুনরাবৃত্তি করে অহিংস-অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাব গ্রহণ করে। জুন মাসে অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা হয়-(১) সরকারি খেতাব ও অবৈতনিক পদ বর্জন করা (২) সরকারের বে-সামরিক পদগুলো হতে ইস্তফা দেওয়া (৩) পুলিশ ও
সেনাবাহিনী হতে পদত্যাগ করা (৪) খাজনা বন্ধ করা।

মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা শওকত আলী, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে খিলাফত আন্দোলন চলতে থাকে। ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ অক্টোবর খিলাফত দিবস পালিত হয়। ভারতবর্ষে এ খিলাফত আন্দোলন জাতীয় আন্দোলনের সাথে মিলিত হয়ে দেশব্যাপী এক দুর্বার ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামের সূত্রপাত ঘটায়। তুরস্কের মুসলিম জাহানের খিলাফত মর্যাদা রক্ষার জন্য এ আন্দোলন হয়েছিল বলে এটি খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।খিলাফত আন্দোলনে ৪টি দাবি ছিল- (১) তুরস্কের অখণ্ডতা বজায় রাখা (২) ইসলাম ধর্মের স্বার্থ রক্ষা করা (৩) আরবীয় দ্বীপের উপর মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণ ও (৪) পূর্বের ন্যায় খলিফারাই পবিত্র স্থানগুলো তদারকি করবে।

খিলাফত আন্দোলনের গুরুত্ব: বিভিন্ন কারণে খিলাফত আন্দোলন ব্যর্থ হলেও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে খিলাফত আন্দোলন এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
প্রথমত, এ আন্দোলন সর্বপ্রথম ভারতে হিন্দু-মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে শামিল হতে প্রস্তুত করে।
দ্বিতীয়ত, ইংরেজ সরকারের 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতির বিরুদ্ধে ভারতবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়।
তৃতীয়ত, মধ্যবিত্ত ও বুদ্ধিজীবী মুসলমানদের মধ্যে ব্রিটিশ বিরোধী রাজনৈতিক চেতনার সৃষ্টি হয়।
চতুর্থত, এ আন্দোলনই পরবর্তীতে ভারতের মুসলমানদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সহায়ক হয়।
পঞ্চমত, এ আন্দোলন নগরের শিক্ষিত মুসলিম যুব সম্প্রদায়ের ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে যা তাদের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করে।

অসহযোগ আন্দোলন (Non-co-operation movement)

খিলাফত আন্দোলনের পাশাপাশি ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে অসহযোগ আন্দোলনের গতি সঞ্চার হতে থাকে। ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ন্যায্য বিবেচনা লাভ করার সকল আশা যখন তিরোহিত তখন মহাত্মা গান্ধী ব্রিটিশ শাসন কর্তৃপক্ষের প্রতি ভারতীয়দের সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাহার করে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ রাজত্ব বিপন্ন করে তোলার জন্য যে কর্মসূচি গ্রহণ করেন তাই ইতিহাসে অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০) নামে পরিচিত।

অসহযোগ আন্দোলনের কারণ: অসহযোগ আন্দোলনের মূল কারণ ছিল-

(ক) রাওলাট আইন ১৯১৮: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারতে সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন এবং বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলন প্রতিহত
করার জন্য ব্রিটিশ সরকার কতগুলো দমনমূলক আইন চালু করেন। তন্মধ্যে রাওলাট আইন অন্যতম। এই কুখ্যাত আইন দ্বারা সংবাদপত্রের কণ্ঠ রোধ করা হয় এবং যেকোনো লোককে যেকোনো মুহূর্তে কারণ না দর্শিয়ে গ্রেপ্তার বা বিনা বিচারে কারাদণ্ড কিংবা আটক রাখা যেত। এ আইনের সমালোচনা করে গান্ধীজী বলেছেন, "আপীল নেহি, দলিল নেহি, উকিল নেহি"। এ আইনের প্রতিবাদে গান্ধীজীর নেতৃত্বে দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়, যা অসহযোগ আন্দোলনে রূপ নেয়।

(খ) জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড: রাওলাট আইন প্রতিবাদের চরম পরিণতি ছিল জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড। পাঞ্জাবে কুখ্যাত রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে জনগণের শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রায় পুলিশ গুলি চালিয়ে কিছু লোককে হত্যা করে। এর প্রতিবাদে ১৩ এপ্রিল, ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে অমৃতসরে জালিয়ানওয়ালাবাগের উদ্যানে ১০,০০০ মানুষ প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়। জেনারেল ডায়ারের নির্দেশে পুলিশ উক্ত সভায় গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই ৩৭৯ জন নিহত এবং ১২০০ জন আহত হয়। এই ঘটনায় রবীঠাকুর ব্রিটিশদের দেওয়া 'নাইট' উপাধি বর্জন করেন। এ ঘটনা অসহযোগ আন্দোলনের অন্যতম কারণ।

(গ) ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দের মন্ট-ফোর্ড সংস্কার আইন অসহযোগ আন্দোলনের আর একটি কারণ ছিল ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে মন্ট-ফোর্ড সংস্কার আইন প্রবর্তন। ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে মন্ট-ফোর্ড সংস্কার আইন ভারতবাসীকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। সর্বোপরি ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ভারতীয় মুসলমানদের খিলাফত আন্দোলন মহাত্মা গান্ধী তথা কংগ্রেসকে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করতে উৎসাহিত করে।

অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল- (১) বিদেশি পণ্য বর্জন ও স্বদেশী পণ্য ব্যবহার (২) খেতাব পদবি বর্জন (৩) সরকার মনোনীত ভারতীয় আসনসমূহ থেকে পদত্যাগ (৪) সরকারি কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অসম্মতি (৫) স্কুল-কলেজ বর্জন (৬) নতুন কাউন্সিল নির্বাচন ও ভোট দান বর্জন।
বয়কটের নেতিবাচকের পাশাপাশি গান্ধীজী ইতিবাচক স্বদেশীর ওপর জোর দেন। গান্ধীজীর নেতৃত্বে আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে। ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল বর্জন থেকে শুরু করে যাবতীয় অফিস-আদালত বর্জনের হিড়িক পড়ে যায়। বিদেশি পণ্য বর্জন ও পুড়িয়ে ফেলা শুরু হয়। দেশব্যাপী এ ধরনের আন্দোলন দেখে শাসকগোষ্ঠী ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ব্যাপক দমন নীতির আশ্রয় গ্রহণ করে। হাজার হাজার লোক কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয়, চলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ।

অসহযোগ আন্দোলনের গুরুত্ব: ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলনের অবসান ঘটে। প্রায় দু'বছর নিরস্ত্র ভারতবাসী অর্থ-সম্পদে ও সামরিক শক্তিতে বলীয়ান এক বিদেশি সরকারের বিরুদ্ধে অসম-সংগ্রামে লিপ্ত থাকে। সংগ্রামী ভারতবাসীর একমাত্র অস্ত্র ছিল উদ্দীপনা। এ সংগ্রামকে গান্ধীজী "আত্মশক্তি" ও বৈষয়িক শক্তির মধ্যে সংগ্রাম বলে অভিহিত করেছিলেন। এ আন্দোলন স্বরাজ অর্জনে ব্যর্থ হলেও ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সৃষ্টি হয়। অসহযোগ আন্দোলনের গুরুত্ব হিসেবে বলা যায়-

প্রথমত, এ আন্দোলনের ফলে ভারতের জনগণের মধ্যে অভূতপূর্ব রাজনৈতিক জাগরণের সৃষ্টি হয়।
দ্বিতীয়ত, উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়ে এ আন্দোলনে কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ ক তৃতীয়ত, এ আন্দোলনের ফলে জাতীয় কংগ্রেসের শক্তি ও প্রচার প্রসারিত হয় এবং কংগ্রেস সর্বভারতীয় রাজনৈতিক মর্যাদা লাভ করে। নেহেরু বলেছেন, "অসহযোগ আন্দোলনটি ভারতীয় জাতীয়তাবোধের ক্ষেত্রে নব প্রাণের সঞ্চার কে
চতুর্থত, এ আন্দোলনে কংগ্রেস দুটি উপদলে বিভক্ত হয়। 'স্বরাজ পার্টি' নামে পৃথক একটি দলের সৃষ্টি হয়।
পঞ্চমত, হিন্দু-মুসলমান যেমন ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল তেমনি শেষ পর্যন্ত ঐক্য বিনষ্টও হয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি ভারতবাসীর প্রতি ইংরেজদের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়।

যে কারণে খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে

অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলন দুটি পাশাপাশি পরিচালিত হয়। উভয় আন্দোলনই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ক্রমশ উভে হতে থাকে। আন্দোলন অহিংস থেকে সহিংস হয়ে ওঠে। যে কারণে মহাত্মা গান্ধী আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয় সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো:

১। চৌরি চৌরার ঘটনা আন্দোলনের প্রচণ্ডতায় উত্তেজিত জনতা গোরখপুরের চৌরি চৌরা নামক থানায় অগ্নিস করে একজন দারোগাসহ ২৩ জন পুলিশকে পুড়িয়ে হত্যা করে। গান্ধীজী সম্পূর্ণ অহিংসভাবেই সংগ্রাম চালাবার ি দেওয়া সত্ত্বেও চৌরি চৌরার ঘটনায় তিনি মর্মাহত হন এবং ঘটনার তাৎক্ষণিক গুরুত্ব অনুধাবন করে আন্দোলন প্রত্যা ঘোষণা দেন। যেহেতু খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন একত্রে পরিচালিত হয়েছিল সেহেতু গান্ধীজীর ঘোষণার আন্দোলন দুটি স্থমিত হয়ে যায় এ ঘোষণায় মতিলাল নেহেরু এবং লালা লাজপাতরায় মন্তব্য করেন যে, "একটি একটি জনতার পাপের জন্য গান্ধীজী সমগ্র দেশকে দণ্ডিত করেন।"

২। ব্রিটিশ সরকারের নিপীড়ন ও দমননীতি: ব্রিটিশ সরকার আন্দোলনকারীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন ও নিপীড়ন শুরু করে হাজার হাজার লোককে কারাগারে নিক্ষেপ করে। এক পর্যায় আন্দোলন স্তিমিত হয়।

৩। কামাল আতাতুর্কের খিলাফত বিলুপ্তি ঘোষণা: তুরস্কের জনক মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতায়
অধিষ্ঠিত হয়ে খিলাফত বিলুপ্ত করেন এবং তুরস্ককে আধুনিক প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে ঘোষণা দেন। ফলে খিলাফত আন্দোলনের মূল ভিত্তি নষ্ট হয় এবং এ আন্দোলন বলবৎ রাখার প্রয়োজনও ফুরিয়ে যায়। ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন সম্পূর্ণ থেমে যায়।

ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসন: ব্রিটিশ আমল মো. এনায়েত হোসেন (কাজল) স্যার এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...