পাঠ-৯.৩: বর্ণবাদবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন।

ইতিহাস ২য় পত্র - ইতিহাস - এইচএসসি | NCTB BOOK

24

শ্বেতকায় ঔপনিবেশিক শাসকরা অশ্বেতকায়দের দমন-পীড়নের জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে। অশ্বেতকায়রা অর্থাৎ কৃষ্ণাঙ্গরা বিভিন্ন প্রভাবকের প্রভাবে রাষ্ট্রযন্ত্র কর্তৃক প্রবর্তিত ও অনুসৃত নীতির বিরুদ্ধে, সচেতন হয়। তাদের মনোচৈতন্য থেকে পূর্ববর্তী সময়ে লালন করা ধারণা দূরীভূত হয়। কৃষ্ণকায় দাসদের মনে এরূপ ধারণা কার্যকর ছিল যে, তারা দাস, তাই উন্নত কাজগুলোর জন্য তারা উপযুক্ত নয়। রাষ্ট্রযন্ত্র ও বর্ণবাদবিশ্বাসী নৃবিজ্ঞানীদের তত্ত্বগুলো কৃষ্ণকায়দের ভাবতে শেখায় যে, তারা শ্বেতকায়দের চেয়ে নিকৃষ্ট। তাদের মনোচৈতন্য থেকে এ ধারণা দূর করতে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের পথিকৃৎত্রা ভূমিকা নিলে তারা ধীরে ধীরে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। তারা সমানাধিকার অর্থাৎ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিবাদ করতে শেখে। অশ্বেতকায়রা বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়ে আন্দোলন শুরু করলে

শ্বেতকায় শাসক ও শ্বেতকায় নাগরিকদের সাথে তাদের দূরত্ব ও প্রভেদ আরও বৃদ্ধি পায়। বর্ণবাদ ও বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র হলে ঔপনিবেশিক শ্বেতাঙ্গ সরকারের অনুসৃত নীতি প্রথম দিকে আরও কঠোর হয়। জনমত বিশেষত আন্তর্জাতিক জনমত নিপীড়িত অশ্বেতকায়দের পক্ষে অবস্থান নিলে শ্বেতকায় ঔপনিবেশিক সরকারের অনুসৃত নীতিতে নমনীয়তা আসে। কাজেই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন কখনো তীব্র হয়েছে, আবার কখনো এর তীব্রতা হ্রাস পেয়েছে।

বর্ণবাদ সমর্থন করে- এমন অনেক আইন আফ্রিকায় অনেক আগে থেকেই প্রচলিত ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে 'অ্যাপার্থাইড' নীতি গ্রহণ করলে বর্ণবাদ আইনগত ভিত্তি পায়। ঔপনিবেশিক আফ্রিকায় নিগ্রোদের দমনের জন্য এগুলো প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়। আমেরিকায়ও আফ্রো-আমেরিকানদের দমনের জন্য অর্থাৎ নিগ্রোদের বিরুদ্ধে প্রয়োগের জন্য আফ্রিকায় প্রণয়নকৃত আইনগুলো ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। বর্ণবাদী আইনগুলোই বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের জন্ম দেয়। এগুলোর প্রয়োগই আন্দোলনের বিকাশ ঘটায়। সংক্ষিপ্তভাবে এ আইনগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো-১৭

১৯১১ খ্রিষ্টাব্দের 'শ্রম ও খনি আইন'। এ আইনে অশ্বেতকায়দের খনি ও প্রকৌশলবিদ্যার মতো বিষয়ে দক্ষতার সনদ নেওয়ার বিধান ছিল। 'কালার বার অ্যাক্ট' দ্বারা (১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দ) খনি ও শিল্পে অশ্বেতকায়দের কিছু কিছু পদে চাকরি করা নিষিদ্ধ করা হয়। অনৈতিক আইন (১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দ)-এ শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের শারীরিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীকালে (১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ আইন আরও কঠোর করে শ্বেতাঙ্গ-অশ্বেতাঙ্গ বিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়। ভূমি আইন (১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দ) দ্বারা কৃষ্ণাঙ্গদের নির্দিষ্ট সংরক্ষিত এলাকা ছাড়া অন্যত্র জমির মালিক হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। গ্রুপ এলাকা আইন (১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ) দ্বারা দক্ষিণ আফ্রিকার জনগোষ্ঠীকে শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গে বিভক্ত করে প্রত্যেক কৃষ্ণাঙ্গকে কোনো না কোনো গ্রুপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। গ্রুপভিত্তিক ভাগ করে তাদের নির্দিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বানানো হয়। জায়গা-জমি ক্রয়-বিক্রয়ে শ্বেতাঙ্গ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়। গ্রুপভিত্তিক এলাকাই স্বতন্ত্র নির্বাচনি এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনকে বিধিবদ্ধ করা হয়।

১৯১১ খ্রিষ্টাব্দের 'শ্রম ও খনি আইন'। এ আইনে অশ্বেতকায়দের খনি ও প্রকৌশলবিদ্যার মতো বিষয়ে দক্ষতার সনদ নেওয়ার বিধান ছিল। 'কালার বার অ্যাক্ট' দ্বারা (১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দ) খনি ও শিল্পে অশ্বেতকায়দের কিছু কিছু পদে চাকরি করা নিষিদ্ধ করা হয়। অনৈতিক আইন (১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দ)-এ শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের শারীরিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীকালে (১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ আইন আরও কঠোর করে শ্বেতাঙ্গ-অশ্বেতাঙ্গ বিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়। ভূমি আইন (১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দ) দ্বারা কৃষ্ণাঙ্গদের নির্দিষ্ট সংরক্ষিত এলাকা ছাড়া অন্যত্র জমির মালিক হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। গ্রুপ এলাকা আইন (১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ) দ্বারা দক্ষিণ আফ্রিকার জনগোষ্ঠীকে শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গে বিভক্ত করে প্রত্যেক কৃষ্ণাঙ্গকে কোনো না কোনো গ্রুপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। গ্রুপভিত্তিক ভাগ করে তাদের নির্দিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বানানো হয়। জায়গা-জমি ক্রয়-বিক্রয়ে শ্বেতাঙ্গ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়। গ্রুপভিত্তিক এলাকাই স্বতন্ত্র নির্বাচনি এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনকে বিধিবদ্ধ করা হয়।

চামড়া এবং বর্ণসংকরদের জন্য পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। ভাষার ক্ষেত্রেও বৈষম্য রাখা হয়। তাছাড়া শ্বেতাঙ্গদের শিক্ষা ছিল অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক, অথচ অশ্বেতাঙ্গদের শিক্ষা ছিল বৈতনিক ও স্বেচ্ছামূলক। আইন প্রণয়ন দ্বারা বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন কর্মসূচি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। এভাবে দেখা যায়, আফ্রিকার জনসংখ্যার ৭৩% কৃষ্ণাঙ্গ হলেও জমির মালিক ছিল মাত্র ১৩%। সর্বক্ষেত্রেই তারা ছিল অধিকারবঞ্চিত। উপরিউক্ত আইনগুলোই বর্ণবিদ্বেষের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে বর্ণবাদকে প্রতিষ্ঠিত করে। ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রণীত 'দি ব্ল‍্যাক অ্যাক্ট'-এর বিরুদ্ধে যে আন্দোলন সত্যাগ্রহী শিষ্যদের দ্বারা গড়ে তুলেছিলেন তা সভ্যাগ্রহ আন্দোলন নামে পরিচিত। এ আইনে বলা হয়, দক্ষিণ ট্রান্সভালে অবস্থানরত প্রত্যেক ভারতীয়কে এমনকি সাত বছরের বেশি বয়সের শিশুদের ঐ দেশে বাস করতে হলে নাম নিবন্ধনপূর্বক সনদ নিতে হবে। পুলিশ চাইলেই সনদ দেখাতে হবে। গান্ধী এ অবমাননাকর বৈষম্যমূলক আইনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হওয়ার আহ্বান জানান। নির্যাতিত ভারতীয় ও নিগ্রোরা তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাদের বিক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় সত্যাগ্রহ আন্দোলনের মাধ্যমে। সত্যাগ্রহ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল শ্বেতাঙ্গ সরকারের বর্ণবাদী ও স্বতন্ত্র অবস্থাননীতির অবসান করা। এ আন্দোলন দীর্ঘ আট বছর চলার পর শ্বেতাঙ্গ সরকার ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে এ আইন বাতিল করতে বাধ্য হয়। ফলে সত্যাগ্রহ আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণ হয়।

মার্টিন লুথার কিং-এর আন্দোলন

নিগ্রোদের প্রতি নানা বৈষম্য ও বর্ণবিদ্বেষ দেখে লুথার কিং প্রথম জীবন থেকে আন্দোলনমুখী ছিলেন। বর্ণবিদ্বেষের শিকার দাদা রেভারেন্ড ড্যানিয়েলের নিগ্রোদের অধিকার রক্ষায় প্রতিষ্ঠিত NAACP-এর সভাপতি হয়ে কালো মানুষদের অধিকার আদায়ে সংকল্পবদ্ধ হন। বলা যায়, কিং-এর আন্দোলনে শামিল হওয়া উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। তার আন্দোলনের মধ্যে মন্টগোমারি বাস ধর্মঘট ও আটলান্টার খাবার হোটেলে নিগ্রোদের প্রবেশাধিকার প্রতিষ্ঠা করা উল্লেখযোগ্য। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে মন্টগোমারিতে সমস্ত নিগ্রোর পক্ষ থেকে বাস ধর্মঘটের ডাক দিয়ে দাবি তোলা হয়- ০১. বাসে শ্বেতাঙ্গ ও অশ্বেতাঙ্গদের বসার আসনে বৈষম্য দূর করে সমতা আনতে হবে। ০২. বাসে যে আগে উঠবে সে আগে বসবে। ০৩. নিগ্রোদের সাথে ভালো আচরণ করতে হবে। ০৪. নিগ্রো এলাকা দিয়ে চলাচলকারী বাসে নিগ্রো ড্রাইভার নিয়োগ করতে হবে। এ সমস্ত দাবিদাওয়ার পক্ষে ধর্মযাজকরা অংশ নেন। তার ডাকে সকল নিগ্রো বাসে ওঠা বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘ এক বছর বাস ধর্মঘট চলার পর সুপ্রিম কোর্ট বর্ণবিদ্বেষী এ ব্যবস্থা সংবিধানবিরোধী বলে রায় দেন। সমস্ত দাবি মেনে নেওয়া হয়। ফলে কিং-এর জয় হয়। যেকোনো বাসে বসার অধিকার নিগ্রোরা পায়।
আমেরিকার বিভিন্ন প্রদেশে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যান্টিনে কৃষ্ণাঙ্গ ছাত্ররা শ্বেতাঙ্গ ছাত্রদের সাথে বসে খাবার খেতে পারত না। এর বিরুদ্ধে নিগ্রো ছাত্ররা আন্দোলন গড়ে তুললে কিং ছাত্রদের দাবি সমর্থন করে পাশে দাঁড়ান। কয়েক মাস এ আন্দোলন চলার পর প্রতিটি প্রদেশে এ ঘৃণ্য প্রথা বিলুপ্ত করা হয়। কিন্তু তখনো আটলান্টা প্রদেশে একটি বিখ্যাত দোকানে এ বর্ণবিদ্বেষী প্রথা চালু ছিল। সেখানকার ক্যান্টিনে কৃষ্ণাঙ্গদের খাবার খাওয়ার অধিকার ছিল না। কিং ৭৫ জন ছাত্রকে নিয়ে ঐ ক্যান্টিনে গিয়ে খাবার চাইলে খাবার দেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে নিগ্রোদের বিক্ষোভ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। শান্তিভঙ্গের অভিযোগে তাকেসহ কিছু ছাত্রকে বন্দি করা হয়। কেনেডির হস্তক্ষেপে তিনি মুক্ত হন। এবার নিগ্রো স্কুলের ছাত্ররা বিদ্রোহে অংশ নিতে শুরু করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল স্কুলে প্রচলিত শ্বেতাঙ্গ ও অশ্বেতাঙ্গ বিভেদ দূর করা।। বর্ণবৈষম্যমূলক ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষ তুলে নিতে বাধ্য হয়।

নেলসন ম্যান্ডেলার আন্দোলন

কালো মানুষের ও বিশ্বমানবতার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার কারাগারজীবন ২৭ বছর। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে ন্যাশনালিস্ট দল ক্ষমতায় এসে বর্ণবিদ্বেষী কিছু নীতি প্রণয়ন করলে ম্যান্ডেলা রাজনীতিতে সক্রিয় হন। কাজেই তার কারাগারমুক্ত আন্দোলনের আয়ু ছিল মাত্র ১৪ বছর। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে আফ্রিকার ন্যাশনাল কংগ্রেসের অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা হিসেবে পরিচিতি পান। মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতি গ্রহণ করে বর্ণবাদের বিরোধিতা করতে থাকেন। শ্বেতাঙ্গ সরকারের দমননীতি তাকে অহিংস নীতির পরিবর্তে সহিংস আন্দোলনের নীতি গ্রহণে বাধ্য করে। ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে বর্ণবাদবিরোধী সশস্ত্র সংগঠন (MK) গঠন করেন, যা ছিল এএনসি'র সামরিক সহযোগী সংগঠন। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলনকে নিতান্তই শেষ চেষ্টা বলে তিনি অভিহিত করেন। দক্ষিণ আফ্রিকান শ্বেতাঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন থেকে চলতে থাকা নিপীড়ন ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে অহিংসার মাধ্যমে সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয় বিধায় সশস্ত্র আন্দোলনের পথ বেছে নেন। তার প্রদর্শিত পথ ধরেই তার অনুসারীরা আন্দোলন চালিয়ে যায় এবং অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। তিনি বীরের বেশে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।

ডেসমন্ড টুটুর আন্দোলন

ডেসমন্ড টুটু বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লেখনি ধারণ করেন। তিনি বর্ণবাদকে ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে পাপাচার এবং ঈশ্বরের সৃষ্ট মানুষের প্রতি এক ধরনের জঘন্য পাপ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য এবং বর্ণবাদ নির্মূলের জন্য বিশ্বের বিবেকবান মানুষের নিকট আহ্বান জানান। নেলসন ম্যান্ডেলার মুক্তির পূর্ব পর্যন্ত তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের শক্তির ও প্রেরণার উৎস। তিনি রক্তপাতহীন আন্দোলনের পক্ষপাতী ছিলেন। তিনি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে বর্ণবৈষম্যের অবসান ঘটাতে দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের সুয়েটা দাঙ্গার বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী কেপটাউনে শান্তিপূর্ণ মিছিলের নেতৃত্ব দেন। এই মিছিলে ত্রিশ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেন। তিনি বর্ণবাদ বিরোধী সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বর্ণবাদী সরকার কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য এক দশমাংশ অর্থ ব্যয় করতে থাকলে তিনি এর বিরোধিতা করেন। ফলে কৃষ্ণাঙ্গদের শিক্ষার উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গৃহীত হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার অভ্যন্তরে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি যে বৈষম্যনীতি চালু ছিল তা অবসানের লক্ষ্যে তিনি আন্তর্জাতিক সাহায্য কামনা করেন। তার প্রচারের ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বৈষম্যের বিষয়ে অবগত হয়। আন্দোলনের পক্ষে বৈশ্বিক প্রচার প্রচারণার ফলে আন্দোলন আরো জনপ্রিয় হতে থাকে। এই সময় সরকার কঠোর নীতি অবলম্বন করে অনেককে গ্রেপ্তার করেন। তিনি রাজবন্দী ও তাদের পরিবারকে সাহায্যের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সরকারের উপর অর্থনৈতিক অবরোধের পক্ষে যুক্তি দেন। যদিও এই অবরোধ তাদের জন্য অভিশাপ কিন্তু মুক্তির জন্য কাম্য। দেশের অভ্যন্তরীণ আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক চাপে বর্ণবাদী সরকার বর্ণবৈষম্যের অবসান ঘটাতে বাধ্য হয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসন উচ্ছেদ, দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন শ্রেণি ও ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টিতে অসামান্য অবদান রাখেন। তার আন্দোলন ছিল বহুমাত্রিক। তিনি শুধু বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন না; বরং তিনি সর্বক্ষেত্রেই সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে একজন অগ্রসরমান সৈনিক। । তার কার্যক্রম এখনো থেমে নেই।

বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন-ড. সৈয়দ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী স্যারে এর লেখা বই

Content added || updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...