The English East India Company Setting up Predominance in India
ভারতবর্ষে বাণিজ্য বৃদ্ধির পর ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬৮৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে রাজ্য স্থাপন ও শাসনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। জব চার্নক ১৬৯০ সালে সুতানটি, কালিকট এবং গোবিন্দপুর এই তিনটি গ্রাম নিয়ে কলকাতা নগরীর গোড়াপত্তন করেন। অতঃপর ইংরেজ কোম্পানির সুরক্ষার জন্য ১৭০০ সালে কলকাতায় একটি দুর্গ নির্মাণ করে। তৎকালীন ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের নামানুসারে এ দুর্গের নামকরণ করা হয় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ। ঐ বছর বাংলার ইংরেজ কুঠিগুলো নিয়ে একটি কাউন্সিল গঠন করা হয়। নবগঠিত এই কাউন্সিলের সদর দফতর স্থাপিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে। চার্লস আইয়ার সর্বপ্রথম এর গভর্নর নিযুক্ত হন। ইতোমধ্যে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে অন্যান্য ইউরোপীয় জাতিকে বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হারিয়ে ক্রমশ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারতবর্ষে বাণিজ্য বিস্তার তথা শক্তিশালী হওয়ার ক্ষেত্রে বেশি অবদান রেখেছে 'ফররুখ শিয়ার' কর্তৃক প্রদত্ত ছাড়পত্র। মোগল সম্রাট ফররুখ শিয়া একবার কঠিন রোগে আক্রান্ত হন। রাজ্যের ডাক্তার-হেকিমরা অনেক চেষ্টা করেও তার রোগ মুক্তির ব্যবস্থা করতে পারলেন না-। এসময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ডাক্তার
হ্যামিলটনের চিকিৎসায় ফররুখ শিয়া সুস্থ হয়ে ওঠেন। সম্রাট রোগ মুক্তির প্রতিদান দিতে চাইলে সুচতুর হ্যামিলটন নিজের জন্য কিছু না চেয়ে কোম্পানির জন্য কিছু বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা প্রার্থনা করলেন। ১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে ফররুখ শিয়া এক ফরমান জারি করে বাৎসরিক মাত্র তিন হাজার টাকার বিনিময়ে বিনা শুল্কে বাংলায় একচেটিয়া বাণিজ্য করার অনুমতি প্রদান করেন। এই ফরমান বলে কলকাতার ইজারাসহ বিনা শুল্কে মাদ্রাজ ও মুম্বাই শহরেও বাণিজ্য করার অনুমতি লাভকরেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্য প্রসারে এই ফরমান এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, ঐতিহাসিক রবার্ট ওর্ম এই ফরমানকে (সনদ) 'ম্যাগনাকার্টা' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে (১) মোগল সম্রাটদের দুর্বলতা; (২) নাদির শাহের আক্রমণ; (৩) প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং (৪) ইউরোপীয় বণিকদের বাণিজ্য ও রাজনৈতিক তৎপরতা প্রভৃতি কারণে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়ে। এ সময় দক্ষিণ ভারতের সুবেদারের অধীনে কর্ণাটক নামে একটি প্রদেশ ছিল। এর রাজধানী ছিল আরকট। নবাব পদমর্যাদার শাসনকর্তা স্বাধীন ছিলেন। কর্ণাটকের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে ইংরেজ ও ফরাসি বণিক সম্প্রদায় এ অঞ্চলে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। ডুপ্লের নেতৃত্বে ফরাসিরা এবং ক্লাইভের নেতৃত্বে ইংরেজরা দক্ষিণ ভারতে প্রভাব বিস্তারের জন্য অগ্রসর হয়। ফলে প্রকাশ্য যুদ্ধ আরম্ভ হয়। এই যুদ্ধ ইতিহাসে 'কর্ণাটকের যুদ্ধ' নামে পরিচিত। এখানে ১৭৪৬ থেকে ১৭৬৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধের অবশ্যম্ভাবী ফল ছিল ভারতবর্ষে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ফরাসিদের বিলুপ্তি এবং পরাক্রমশালী ইংরেজদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা।
কর্ণাটকের প্রথম যুদ্ধ
অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি অস্ট্রিয়ার সিংহাসনের উত্তরাধিকার নিয়ে ইংরেজ ও ফরাসিদের মধ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। সেই সূত্রে দক্ষিণ ভারতে ইংরেজ ও ফরাসিদের মধ্যে যুদ্ধ উপস্থিত হয়। তাছাড়া ইংরেজ সেনাপতি জোরপূর্বক কয়েকটি ফরাসির রণপোত দখল করলে উপমহাদেশে ইংরেজ ও ফরাসিদের মধ্যে প্রত্যক্ষ দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। ১৭৪৫ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজরা ফরাসিদের বাণিজ্য কেন্দ্র পণ্ডিচেরী আক্রমণ করতে উদ্যত হলে ডুপ্লের পরামর্শক্রমে কর্ণাটকের নবাব আনোয়ার উদ্দীন তার রাজ্যে ইংরেজদের যুদ্ধ করতে নিষেধ করেন। এ সময় ডুপ্লের সাথে কর্ণাটকের নবাব আনোয়ার উদ্দীনের চুক্তি হয়, ইংরেজদের কাছ থেকে মাদ্রাজ অধিকৃত হলে তা আনোয়ার উদ্দীনকে দেওয়া হবে। কিন্তু মাদ্রাজ অধিকৃত হলে তা নবাবকে না দিয়ে ডুপ্লে তার নিজ অধিকারে রাখেন। এতে নবাব আনোয়ার উদ্দীন ক্ষুব্ধ হয়ে ফরাসিদের বিরুদ্ধে ১০ হাজার সৈন্য নিয়ে যুদ্ধ যাত্রা করেন। কিন্তু মাত্র ৫০০ ফরাসি সৈন্যের নিকট নবাব পরাজিত হন। এটাই ইতিহাসে কর্ণাটকের প্রথম যুদ্ধ নামে পরিচিত। এ যুদ্ধে পরাজয়ে কর্ণাটকের নবাবের দুর্বলতা প্রমাণিত হয়। এর ফলে ফরাসি এবং ইংরেজ উভয়ই উপমহাদেশে সাম্রাজ্য স্থাপনে উৎসাহিত হয় এবং দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। অবশ্য ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে ইউরোপে আইলা-স্যাপল সন্ধির দ্বারা উভয় দেশের মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান ঘটলে ভারতেও দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে।
কর্ণাটকের দ্বিতীয় যুদ্ধ
প্রথম কর্ণাটক যুদ্ধের স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির মধ্যে দ্বিতীয় কর্ণাট যুদ্ধের বীজ নিহিত ছিল। সুচতুর ডুপ্লে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন যে, ফরাসিদের ক্ষমতা শুধু কর্ণাটের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে বঙ্গদেশ ও মুম্বাইয়ে ইংরেজদের শক্তিশালী ঘাঁটি রয়েছে। দাক্ষিণাত্যের রাজনৈতিক অরাজকতা এবং রাজন্যবর্গের অন্তর্দ্বন্দ্ব উচ্চাভিলাষী ডুপ্লেকে যুদ্ধে অংশ নিতে উৎসাহিত করে।
১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে হায়দারাবাদের নিজাম-উল-মুলকের মৃত্যু হলে নিজাম পদের জন্য তার দ্বিতীয় পুত্র নাসির জং ও দৌহিত্র মোজাফফর জং-এর মধ্যে এবং কর্ণাটকের নবাব পদের জন্য আনোয়ার উদ্দীন ও চাঁদ সাহেবের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়। এই সুযোগে ডুপ্লে কর্ণাটকের চাঁদ সাহেব ও হায়দারাবাদের মুজাফফর জং-এর পক্ষ অবলম্বন করে। ফলে দ্বিতীয় কর্ণাটক যুদ্ধের বহ্নিশিখা প্রজ্বলিত হয়। অম্বরের যুদ্ধে আনোয়ার উদ্দীন নিহত হলে কর্ণাটক চাঁদ সাহেবের হস্তগত হয়। ফলে ফরাসিদের প্রভাব বেড়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে নাসির জং ও মোজাফফর জং-এর মৃত্যু হলে ঘটনা প্রবাহ নতুন মোড় নেয়। ক্লাইভ ১৭৯১ খ্রিষ্টাব্দে ফরাসিদের পরাজিত করে আরকট ও ত্রিচিনোপলী অধিকার করে মুহম্মদ আলীকে সিংহাসনে বসান। ইতোমধ্যে ফরাসি সরকারের সাথে ডুপ্লের মতবিরোধ হলে তাকে স্বদেশে ডেকে পাঠানো হয় (১৭৫৪ খ্রি.)। ফলে ইংরেজদের আধিপত্য বিস্তারে আর কোনো বাধা রইল না। ১৭৫৮ খ্রিষ্টাব্দে ডুপ্লের পরিবর্তে কাউন্ট লালী পণ্ডিচেরীর শাসনকর্তা হয়ে ভারতে আসেন।
কর্ণাটকের তৃতীয় যুদ্ধ
তৃতীয় কর্ণাটকের যুদ্ধ উপমহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধসমূহের অন্যতম। এটিই উপমহাদেশে ইঙ্গ-ফরাসি যুদ্ধের সর্বশেষ পর্ব। ইউরোপে সপ্ত বছরব্যাপী যুদ্ধ (১৭৫৬-১৭৬৩) আরম্ভ হলে দাক্ষিণাত্যে ইংরেজ ও ফরাসিদের মধ্যে পুনরায় যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে। ইতোমধ্যে ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজরা সাফল্য পেয়ে বাংলায় প্রভুত্ব স্থাপন করে ১৭৫৮ খ্রিষ্টাব্দে ডুপ্লের পরিবর্তে কাউন্ট লালী পণ্ডিচেরীর শাসনকর্তা নিযুক্ত হয়ে উপমহাদেশে আগমন করেন। তিনি ইংরেজদের মাদ্রাজ কুঠি আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। কিন্তু ১৭৫৯ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজগণ ফরাসিদের মসলিমপট্টম দখল করে। ইংরেজ আক্রমণের বিরুদ্ধে পণ্ডিচেরী রক্ষা করা অসম্ভব দেখে সেখানকার ফরাসিরা আত্মসমর্পণ করে। ১৭৬৩ খ্রিষ্টাব্দে 'প্যারিস সন্ধি' মোতাবেক ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বের অবসান ঘটলে ভারতীয় উপমহাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। ফরাসিরা তাদের হারানো কুঠি ফিরে পেল বটে, কিন্তু সাম্রাজ্য স্থাপনের স্বপ্ন চিরতরে বিলীন হয়ে গেল। ফলে ইংরেজদের পথ প্রশস্ত হলো। লালী স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করলে তাঁকে কস্টিলের দুর্গে দুই বছর বন্দি জীবনযাপন করতে হয় এবং বন্দি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
ইংরেজদের সাফল্যের কারণ
ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য স্থাপনে ফরাসিদের ব্যর্থতা ও ইংরেজদের সাফল্যের কারণগুলোর মধ্যে ছিল-
(১) ইংরেজ কোম্পানি ফরাসি কোম্পানির তুলনায় সম্পদ ও সংগঠনে শ্রেষ্ঠ।
(২) ইংরেজদের নৌশক্তির শ্রেষ্ঠত্ব।
(৩) ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, অপরপক্ষে ফরাসি কোম্পানি ছিল রাষ্ট্রীয় সাহায্য-সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল।
(৪) বঙ্গদেশে ইংরেজদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পর বিশেষ করে পলাশীর যুদ্ধে জয়ের পর তারা অনেক অর্থের অধিকারী হয়, যা বিপদের দিনে তাদেরকে রক্ষা করে।
(৫) বুদ্ধিমত্তা ও রণনৈপুণ্যে ক্লাইভ বা তার সহকর্মীদের অপেক্ষা ফরাসি ডুপ্লে বা লালীরা শ্রেষ্ঠ ছিল না এবং ফরাসিদের মধ্যে ঐক্যেরও অভাব ছিল।
(৬) ইংরেজ কোম্পানি ভারতীয় রাজনীতিতে অংশ নিলেও বাণিজ্যিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। কিন্তু ফরাসিরা বাণিজ্যিক আদর্শ থেকে দূরে সরে যায়।
(৭) ইংরেজদের মুম্বাই, মাদ্রাজ ও কলকাতার ন্যায় ফরাসিদের পণ্ডিচেরী ও চন্দননগর সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল না।
(৮) কর্ণাটকের যুদ্ধাবস্থায় ফরাসি সরকার যোসেফ ডুপ্লের মতো একজন বিজ্ঞ ব্যক্তিকে স্বদেশে ডেকে পাঠিয়ে ভুল করেন, যা ফরাসিদের পরাজয় ডেকে আনে।
(৯) ফরাসি সরকারের ঔদাসীন্য ও অসহযোগিতা ভারতবর্ষে ফরাসিদের পরাজয় ডেকে আনে।
(১০) ইউরোপীয় জাতিগুলোর মধ্যে ফরাসিরাই সর্বশেষে ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করে। সুতরাং তারা ইংরেজ কোম্পানির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিপুল সংখ্যক বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের সুযোগ পায়নি। যার কারণে আর্থিক প্রাচুর্যও লাভ করতে পারেনি।
(১১) ইংরেজ জাতি বরাবরই নৌ শক্তিতে বলীয়ান ছিল। নৌ শক্তির সাফল্য ইংরেজদের সাফল্যের অন্যতম কারণ। ফরাসি নৌবাহিনী অপেক্ষা ইংরেজ নৌবাহিনী শক্তিশালী হওয়ায় দক্ষিণ সমুদ্রে ইংরেজরা একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেছিল।
(১২) ফরাসিগণ অনেকাংশে ভারতীয় রাজন্যবর্গের সাহায্য-সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ইংরেজরা কখনোই ভারতীয় রাজন্যবর্গের ওপর নির্ভরশীল ছিল না।
(১৩) ফরাসি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত কোন্দল, চারিত্রিক দুর্বলতা এবং ঐক্যের অভাব তাদের পতনকে ত্বরান্বিত করে। অন্যদিকে, ইংরেজরা ছিল ঐক্যবদ্ধ জাতি যার প্রমাণ তারা ভারতবর্ষেও রেখেছে। তারা একতাবদ্ধ হয়ে ফরাসিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং সাফল্য অর্জন করে।
ডুপ্লের চরিত্র ও কৃতিত্ব (The character and achievements of Duplay)
ইউরোপ মহাদেশ থেকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আগত বণিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ফরাসি প্রতিনিধি যোসেফ ডুপ্লে অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও কূটনৈতিক জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তিনি ১৭৩১ খ্রিষ্টাব্দে চন্দননগরের শাসনকর্তা নিযুক্ত হয়ে সর্বপ্রথম ভারতবর্ষে আগমন করেন। তার মেধা এবং দক্ষতার জন্যই ১৭৪১ খ্রিষ্টাব্দে তাকে পণ্ডিচেরীর গভর্নর নিযুক্ত করা হয়। ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি ভারতীয় রাজন্যবর্গের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এদেশে ফরাসি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু ইংরেজরা তার স্বপ্ন ভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইংরেজদের অনেক পরে এসেও তিনি নিজ মেধা ও কৌশল দিয়ে চন্দননগর, মাহে, কালিকট ও পণ্ডিচেরীতে শক্তিশালী ফরাসি বাণিজ্য কুঠি প্রতিষ্ঠা করেন। ইংরেজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করতে তিনি নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি ব্যর্থ হন। তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় কর্ণাটকের যুদ্ধে জয়লাভ করেছিলেন। তিনি ইংরেজদের প্রায় নাস্তানাবুদ করে ফেলেন। কিন্তু তার দুর্ভাগ্য স্বদেশ থেকে তিনি আশানুরূপ সাহায্য ও সহযোগিতা পাননি। পেলে হয়তো তিনি ইংরেজদের ভারত থেকে বিতাড়িত করতে পারতেন। তাহলে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস অন্যভাবে লিখতে হতো। সে যাইহোক, গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তে ভুল বুঝে তাকে স্বদেশে ডেকে পাঠানো হয়। ডুপ্লের প্রস্থানের সাথে সাথে ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষ করে দাক্ষিণাত্যে ফরাসি প্রভাব বিনষ্ট হয় এবং ইংরেজগণ পরাক্রমশালী হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে ফরাসি সরকার তার ভুল বুঝতে পেরে তার পদচ্যুতি প্রত্যাহার করলেও তখন আর সময় ছিল না। সুতরাং বলা যায়, ভারতবর্ষে ডুপ্লের ব্যর্থতার জন্য ফরাসি সরকারই দায়ী।
ঐতিহাসিক ম্যানসন ডুপ্লের কূটনৈতিক জ্ঞান, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং সাংগঠনিক শক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনিই উপমহাদেশের সাম্রাজ্যবাদ নীতির প্রবক্তা। ইংরেজরা তাকে অনুসরণ করে সাম্রাজ্যবাদ নীতি গ্রহণ করে এবং উপমহাদেশে ইংরেজ সাম্রাজ্য কায়েম করে।
Read more