৪.১২. অমর একুশের পূর্ব-পর ঘটনাপুঞ্জ

ইতিহাস ১ম পত্র - ইতিহাস - এইচএসসি | NCTB BOOK

6

Pre and Post Events of Omare 21

১৯১৮ সালে বিশ্বভারতীয় এক সভায় রবিঠাকুরের উপস্থিতিতে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছিলেন, "শুধু ভারত কেন সমগ্র এশিয়া মহাদেশেই বাংলা ভাষার স্থান হবে সর্বোচ্চ।" তখন থেকেই বাংলা ভাষার গুরুত্ব উঠে আসে।
১৯৪৭/১ সেপ্টেম্বর 'তমদ্দুন মজলিস' প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন।
১৯৪৭/ ডিসেম্বর তমদ্দুন মজলিস কর্তৃক প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন।
১৯৪৮/২৫ ফেব্রুয়ারি গণপরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব।
১৯৪৮/১১ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে ধর্মঘট।
১৯৪৮/২১ মার্চ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রেসকোর্স ময়দানে, ২৩ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রভাষা উর্দু ঘোষণা।
১৯৪৮/১১ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যু। ১৯৪৯/১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা দিবস পালিত
১৯৫০/ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান কর্তৃক উর্দু রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা।
১৯৫১/ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের মৃত্যু।
১৯৫২/২৬ জানুয়ারি খাজা নাজিমউদ্দীন প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ। ১৯৫২/৩০ জানুয়ারি ছাত্র ধর্মঘট।
১৯৫২/৩১ জানুয়ারি ঢাকায় সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদ গঠন এবং আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা।
১৯৫২/২০ ফেব্রুয়ারি, এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি।
১৯৫২/২১ ফেব্রুয়ারি মিছিলের ওপর পুলিশের গুলি, ৪ জন নিহত (রফিক, জব্বার, সালাম, বরকত) এবং ২১ জন আহত।
১৯৫২/২২ জানুয়ারি গায়েবানা জানাজায় ৩০,০০০ লোকের উপস্থিতি।
১৯৫২/২৩ জানুয়ারি প্রথম শহিদ মিনার তৈরি।
১৯৫২/২৪ জানুয়ারি মেডিকেল কলেজের সামনে শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন শহিদ শফিউরের পিতা মাহাবুবুর রহমান।
১৯৫২/২৭ জানুয়ারি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিশ্রুতি।
১৯৫৩/২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম শহিদ দিবস পালন।
১৯৫৪/৯ মে পাকিস্তান গণপরিষদ বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান (বাংলাপিডিয়া)।
১৯৫৬/২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম সরকারিভাবে শহিদ দিবস পালন।
১৯৫৯/ আইয়ুব খানের সামরিক সরকার ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি এবং দিবস পালন বাতিল।
১৯৭১/ স্বাধীনতার পর সরকারিভাবে ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস পালন শুরু।
১৯৯৯/১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা।
২০০০/২১ ফেব্রুয়ারি ১৮৮টি রাষ্ট্র প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন।

সারসংক্ষেপ

দ্বিজাতিতত্ত্ব: "ভারতে একটিমাত্র জাতি আর সেটা হলো হিন্দু জাতি", হিন্দু উগ্রবাদী নেতাদের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জনক কায়দে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন, যে যোগ্যতার ভিত্তিতে হিন্দুরা ভারতের জাতি সেই একই যোগ্যতায় মুসলমানও ভারতের একটি জাতি। সুতরাং ভারতে দুটি জাতি 'হিন্দু জাতি' ও 'মুসলমান জাতি' এটাই মি. জিন্নাহর দ্বিজাতিতত্ত্ব।

আওয়ামী লীগ: মুসলমানদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে নবাব স্যার সলিমুল্লাহর উদ্যোগে ১৯০৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে মুসলিম লীগ নেতাদের অগণতান্ত্রিক আচরণ ও চরম বৈষম্যের প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানের উদরপন্থি কতিপয় নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে ১৯৪৯ সালের ২৩-২৪ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে "আওয়ামী মুসলিম লীগ" নামক একটি রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল জনগণের জন্য দলটি উন্মুক্ত করতে ১৯৫৫ সালে 'মুসলিম' শব্দটি তুলে দিয়ে নামকরণ করা হয় 'আওয়ামী লীগ'। এভাবে ইতিহাসের বিভিন্ন বাঁক পেরিয়ে জনগণের দল হিসাবে 'আওয়ামী লীগ' দলটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

তমদ্দুন মজলিস: পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর উর্দুকে নতুন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী ঘোষণা দেন। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহসহ বাংলার বুদ্ধিজীবীগণ এর প্রতিবাদ জানায়। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে 'তমদ্দুন মজলিস' নামে একটি ভাষা সংগঠন গড়ে ওঠে। এটাই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।

ভাষা শহিদ: মায়ের ভাষা রক্ষার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছে। ১৯৫২ সালের ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা রক্ষায় আন্দোলনরত ছাত্রদের মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে রফিক, শফিক, ছালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকে শাহদৎ বরণ করেন এরাই ভাষা শহিদ। আর যারা ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল তারা ভাষা সৈনিক।

শহিদ মিনার: বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে যে সকল বাংলা মায়ের সূর্য সন্তানরা জীবন উৎসর্গ করেছে তাদের স্মৃতি ধরে রাখার স্তম্ভ। দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার রয়েছে, যা দেখে বর্তমান প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে। সর্বপ্রথম ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসের সামনে শহিদ মিনার তৈরি করা হয়। বর্তমান শহিদ মিনার তিন স্তর বেদির ওপর মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: পৃথিবীর ইতিহাসে মাতৃভাষার জন্য জীবন দিয়েছে বাঙালিরা। এই সার সত্যকে ধারণ
করে কানাডা প্রবাসী বাঙালি রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রূপে ঘোষণা দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের নিকট দাবি তোলে। অবশেষে ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ (ইউনেস্কো কর্তৃক) ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রূপে ঘোষণা দেয়। তাই আজ আমাদের ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

পাকিস্তানি আমলে বাংলা ভাষা আন্দোলন ও এর গতি-প্রকৃতি-ড. মোঃ ওয়াহেদুল ইসলাম স্যার এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...